Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১০:০৭ অপরাহ্ণ

উপকারী মনে হলেও আসলে ক্ষতি করছে যেসব অভ্যাস


দুপুরের খাবার খাওয়ার সময় কাজ নিয়ে ভাবলেও মানসিক ক্লান্তি বাড়তে পারে।

 সকাল থেকে রাত পর্যন্ত একের পর এক কাজ, একসঙ্গে অনেক দায়িত্ব সামলানো, বিরতি না নেওয়া কিংবা সব অনুরোধে রাজি হয়ে যাওয়াকে কর্মদক্ষতার পরিচয় মনে করা হয়।

তবে এসব অভ্যাসই দীর্ঘমেয়াদে কর্মক্ষমতা কমিয়ে দেয়। আর ধীরে ধীরে বাড়ায় মানসিক চাপ, তৈরি করে ক্লান্তি এবং একসময় কাজ করে অবসাদ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উৎপাদনশীল হওয়ার জন্য সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকার প্রয়োজন নেই। বরং কিছু প্রচলিত অভ্যাস পরিবর্তন করে কম সময়েও ভালোভাবে কাজ করা সম্ভব।

একসঙ্গে অনেক কাজ করার অভ্যাস

অফিস বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি ফোনে বার্তার উত্তর দেওয়া, খাবার খেতে খেতে অফিসের কাজ করা কিংবা একসঙ্গে একাধিক কাজ শেষ করার চেষ্টা করা, এরকম কাজগুলো একই সময়ে করতে পারলে সময় বাঁচে- এই ধারণাকে স্বাভাবিক মনে করা হয়।

পেশাজীবনবিষয়ক মার্কিন প্রশিক্ষক ডা. কাইল এলিয়ট রিয়েলসিম্পল ডটকমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলেন, “একসঙ্গে একাধিক কাজ করার দক্ষতা খুব অল্পসংখ্যকই করতে পারেন। আর বেশিরভাগই একই সময়ে কয়েকটি কাজ শুরু করলেও কোনো কাজই পুরো মনোযোগ দিয়ে করতে পারেন না।

তার মতে, একসঙ্গে তিনটি কাজ মোটামুটি করার চেয়ে একটি কাজ পুরো মনোযোগ দিয়ে করা অনেক বেশি কার্যকর। এতে ভুল কম হয় এবং কাজ শেষ করতেও কম সময় লাগে।

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্ব-বিষয়ক প্রশিক্ষক শাইনা বার্গম্যান একই প্রতিবেদনে বলেন, “বারবার এক কাজ থেকে অন্য কাজে মনোযোগ সরাতে হলে মস্তিষ্ক দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। ফলে দিনের বাকি সময়ে মনোযোগ ধরে রাখা আরও কঠিন হয়ে যায়।”

বিরতি না নিয়ে কাজ করা

অনেকে দুপুরের খাবার খেতে খেতেও কাজ করেন। আবার কেউ নির্ধারিত বিশ্রামের সময়েও অফিসের বার্তা পড়েন বা নতুন কাজ শুরু করেন। তাদের ধারণা, এতে কাজ দ্রুত শেষ হবে।

দাম্পত্য ও পরিবার-বিষয়ক মার্কিন পরামর্শদাতা ইলানা গ্রিনস বলেন, “এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে বরং ক্ষতি করে।”

তার মতে, “যদি বিশ্রামের সময়টুকুও কাজের মধ্যে কাটিয়ে দেওয়া হলে, মস্তিষ্ক পুনরায় শক্তি সঞ্চয় করার সুযোগ পায় না। ফলে মনোযোগ কমে যায়, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয় এবং কাজের মানও খারাপ হতে শুরু করে।”

তাই বিরতির সময় সত্যিকারের বিশ্রাম নেওয়া উচিত।

শেষ না হওয়া কাজের তালিকা তৈরি করা

অনেকেই প্রতিদিন দীর্ঘ কাজের তালিকা বা ‘টু-ডু লিস্ট’ তৈরি করেন। তবে সেই তালিকা এত বড় হয় যে, দিনের শেষে তার অর্ধেকও শেষ করা সম্ভব হয় না। ফলে কাজ শেষ না হওয়ার হতাশা তৈরি হয়।

অর্থাৎ দীর্ঘ তালিকা অনেক সময় কাজের চেয়ে উদ্বেগই বেশি বাড়ায়।

ডা. এলিয়টের পরামর্শ হল, “প্রতিদিনের কাজের তালিকা ছোট রাখতে হবে এবং গুরুত্ব অনুযায়ী সাজাতে হবে। এতে গুরুত্বপূর্ণ কাজ আগে শেষ করা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপও কমে।”

সব সময় কাজের জন্য প্রস্তুত থাকা

অনেকেই অফিসের সময় শেষ হওয়ার পরও বার্তা দেখেন। ছুটির দিন, পারিবারিক অনুষ্ঠান কিংবা ভ্রমণেও কাজ থেকে পুরোপুরি দূরে থাকতে পারেন না।

শাইনা বার্গম্যান বলেন, “সব সময় কাজের জন্য প্রস্তুত থাকার মানসিকতা প্রতিনিয়ত সতর্ক অবস্থায় রাখে। এতে শরীর ও মন কখনোই পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না।”

কাইল এলিয়ট বলেন, “প্রযুক্তির কারণে যেকোনো সময় কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকা সহজ হয়েছে। তবে এই অভ্যাস মানসিক শক্তি কমিয়ে দেয়।”

সব অনুরোধে ‘হ্যাঁ’ বলা

কাউকে না বলতে পারা বা পরিবার, বন্ধু, সহকর্মী কিংবা পরিচিতজনদের যেকোনো অনুরোধে রাজি হয়ে যাওয়া সম্পর্ক ভালো করতে পারে না।

শাইনা বার্গম্যান বলেন, “সব অনুরোধে রাজি হওয়া সব সময় উদারতার পরিচয় নয়। এটি হতে পারে সংঘাত এড়ানোর অভ্যাস। তবে এর মূল্য পরে নিজের সময় ও শক্তি দিয়ে দিতে হয়।

কাইল এলিয়ট বলেন, “সব সময় ‘হ্যাঁ’ বলতে থাকলে ধীরে ধীরে অন্যদের কাছে সব কাজের ভরসার হয়ে উঠতে হয়। ফলে নিজের সময়ের ওপর নিয়ন্ত্রণ কমে যায়।”

তবে ‘না’ বলতে অসুবিধা হলে, শাইনা বার্গম্যানের একটি কৌশল ব্যবহার করা যায়।

তিনি বলেন, “সরাসরি রাজি হওয়ার বদলে শর্তযুক্ত সম্মতি দেওয়া যেতে পারে। আবার নিজের সামর্থ্য ও সময়ের সীমা স্পষ্ট করে জানিয়েও দিতে হবে। এতে অন্যকে সাহায্যও করা যায়, আবার নিজের ওপর অতিরিক্ত চাপও পড়ে না।”

মন্তব্য করুন

ব্লগ