Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ জুলাই, ২০২৬ ১১:৩০ অপরাহ্ণ

বিজ্ঞানের বিস্ময়: পৃথিবীর কিছু 'অমর' ও 'দীর্ঘজীবী জীব'

শ্রদ্ধেয় শিক্ষক মণ্ডলী


শুভকামনা

শিক্ষক বাতায়নের পাতায় বিজ্ঞানের এক চমকপ্রদ রহস্য নিয়ে আজকের এই ব্লগে আপনাদের স্বাগত জানাই।

মহাবিশ্ব প্রকৃতির বুকে ছড়িয়ে আছে অজস্র অজানা রহস্য। আমরা সাধারণত জানি, জন্ম হলে মৃত্যু অবশ্যম্ভাবী। কিন্তু প্রকৃতির বুকে এমন কিছু অদ্ভুত জীব আছে, যারা যেন এই চিরন্তন নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়েছে! জীববিজ্ঞানের ভাষায় এদের বলা হয় "Biologically Immortal" বা জৈবিকভাবে অমর। অর্থাৎ, রোগবালাই বা কোনো দুর্ঘটনা না ঘটলে, কেবল বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে এরা কখনো মারা যায় না।

আজকের ব্লগে আমরা এমনই কিছু অবিশ্বাস্য জীবের কথা জানব, যা আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সাথেও শ্রেণিকক্ষে বিজ্ঞানের আনন্দ পাঠ হিসেবে শেয়ার করতে পারি।


প্রকৃতির বুকে চিরযৌবনা দীর্ঘজীবী কিছু জীব


. অমর জেলিফিশ (Turritopsis dohrnii)

অমর জীবের তালিকায় সবচেয়ে প্রথমে আসে এই জেলিফিশের নাম। এদের জীবনচক্র বিজ্ঞানের এক পরম বিস্ময়।

  • রহস্য: এরা যখন বুড়ো হয়ে যায় বা কোনো প্রতিকূল পরিবেশের (যেমন- খাবার অভাব বা আঘাত) মুখোমুখি হয়, তখন এরা নিজেদের কোষকে আবার একদম প্রাথমিক অবস্থায় (Polyp stage) ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারে। সহজ কথায়, একজন বৃদ্ধ মানুষ যেভাবে হুট করে আবার নবজাতক শিশুতে রূপান্তরিত হয়ে জীবন শুরু করতে পারে, এরাও ঠিক তা- করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় Transdifferentiation তাত্ত্বিকভাবে, এই চক্র অনন্তকাল চলতে পারে, তাই এদের "অমর জেলিফিশ" বলা হয়।

. হাইড্রা (Hydra)

মিঠা পানির এই ছোট্ট ক্ষুদ্র জীবটি জীববিজ্ঞানীদের গবেষণার অন্যতম প্রধান বিষয়।

  • রহস্য: হাইড্রার শরীরে প্রচুর পরিমাণে 'স্টেম সেল' (Stem Cells) থাকে, যা অনবরত বিভাজিত হয়ে নতুন কোষ তৈরি করে। এদের শরীর থেকে প্রতিনিয়ত পুরনো কোষ ঝরে যায় এবং নতুন কোষে তা প্রতিস্থাপিত হয়। ফলে এদের শরীরে বার্ধক্য বা বুড়ো হয়ে যাওয়ার কোনো লক্ষণই দেখা দেয় না।

. টারডিগ্রেড বা জল ভাল্লুক (Tardigrade)

এরা পুরোপুরি অমর না হলেও, এদের টিকে থাকার ক্ষমতা অমরত্বের কাছাকাছি। এরা পৃথিবীর সবচেয়ে সহনশীল জীব।

  • রহস্য: চরম ঠাণ্ডা (মাইনাস ২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে শুরু করে ফুটন্ত গরম, এমনকি মহাকাশের মহাশূন্যতা তীব্র বিকিরণের মধ্যেও এরা বছরের পর বছর বেঁচে থাকতে পারে। প্রতিকূল পরিবেশে এরা নিজেদের শরীরের সব পানি শুকিয়ে ফেলে বিপাকীয় প্রক্রিয়া প্রায় বন্ধ করে দেয় (Cryptobiosis) এরপর পরিবেশ অনুকূলে এলে পানি পেয়ে আবার জ্যান্ত হয়ে ওঠে।

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনার গুরুত্ব

শ্রেণিকক্ষে যখন আমরা শিক্ষার্থীদের এই ধরনের অজানা রহস্যগুলো জানাব, তখন তাদের মধ্যে বিজ্ঞানের প্রতি কৌতূহল অনুসন্ধিৎসু মন তৈরি হবে। কেবল পাঠ্যবইয়ের থিওরি মুখস্থ না করিয়ে প্রকৃতির এই জীবন্ত বিস্ময়গুলোর গল্প বললে বিজ্ঞানের ক্লাসগুলো হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত আকর্ষণীয়।



উপসংহার: প্রকৃতির এই রহস্যগুলো আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বিজ্ঞান যত দূর এগিয়েছে, জানার পরিধি এখনও তার চেয়ে অনেক বেশি বাকি। আমাদের শিক্ষার্থীদের মনের ভেতরে এই জানার আগ্রহের বীজ বুনে দেওয়াই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

বিজ্ঞান বিষয়ের সম্মানিত শিক্ষকগণ এই ধরনের আরও কোনো জানা-অজানা তথ্য ক্লাসে ব্যবহার করেন কিনা, কমেন্ট বক্সে জানালে আনন্দিত হব।



ব্লগটি পড়ার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ।

 

মন্তব্য করুন