Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৮ অপরাহ্ণ

বাড়িতে বসেই কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরির সহজ ও সঠিক নিয়ম

     বাড়িতে বসেই কম্পোস্ট বা জৈব সার তৈরির সহজ ও সঠিক নিয়ম

১. সার তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপাদান

কম্পোস্ট তৈরির জন্য প্রধানত দুই ধরণের উপাদান প্রয়োজন হয়:

  • সবুজ উপাদান (নাইট্রোজেন সমৃদ্ধ): রান্নাঘরের সবজি ও ফলের খোসা, চা পাতা, ডিমের খোসা, কাঁচা ঘাস এবং গাছের সবুজ পাতা।

  • বাদামী উপাদান (কার্বন সমৃদ্ধ): শুকনো পাতা, কাগজের টুকরো (কালি ছাড়া), কাঠের গুঁড়ো, শুকনা খড় বা নারিকেলের ছোবড়া।

⚠️ যা দেওয়া যাবে না: মাংস, মাছের কাঁটা, চর্বি, ডেইরি পণ্য (দুধ/পনির), প্লাস্টিক, কাঁচ এবং রোগাক্রান্ত গাছের অংশ। এগুলো দিলে দুর্গন্ধ হবে এবং ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া জন্মাতে পারে।

২. সার তৈরির সহজ ধাপসমূহ

ধাপ ১: পাত্র বা জায়গা নির্বাচন

বাড়ির উঠোনে বা বারান্দার এক কোণে একটি বড় প্লাস্টিকের বালতি, ড্রাম বা কম্পোস্ট বিন নিন। পাত্রটির নিচে বাতাস চলাচলের জন্য এবং অতিরিক্ত পানি বের হওয়ার জন্য ৩-৪টি ছোট ছিদ্র করে নিন।

ধাপ ২: স্তর তৈরি করা (Layering)

পাত্রের একদম নিচে প্রথমে ৩-৪ ইঞ্চি পরিমাণ শুকনো পাতা বা খড় (বাদামী উপাদান) দিন। এটি বাতাস চলাচলে সাহায্য করবে। এর ওপর রান্নাঘরের কাঁচা বর্জ্য (সবুজ উপাদান) দিন।

  • নিয়ম: সবসময় ২ ভাগ বাদামী উপাদানের জন্য ১ ভাগ সবুজ উপাদান ব্যবহার করবেন।

ধাপ ৩: দ্রুত পচানোর উপায়

উপাদানগুলোর ওপর সামান্য একটু সাধারণ মাটি বা পুরনো গোবর সার ছিটিয়ে দিন। মাটিতে থাকা অণুজীবগুলো বর্জ্য দ্রুত পচাতে সাহায্য করবে। এরপর হালকা পানি ছিটিয়ে দিন, যাতে মিশ্রণটি ভেজা স্পঞ্জের মতো আর্দ্র থাকে (খুব বেশি ভেজা বা কাদা করা যাবে না)।

ধাপ ৪: বাতাস চলাচল ও পরিচর্যা

পাত্রটি একটি ঢাকনা দিয়ে ঢেকে রাখুন। সপ্তাহে অন্তত একবার একটি লাঠি দিয়ে পুরো মিশ্রণটি ওপর-নিচ করে ওলট-পালট করে দিন। এতে ভেতরে অক্সিজেন পৌঁছাবে এবং দুর্গন্ধ হবে না।

৩. সার তৈরি হয়েছে কিনা বুঝবেন কীভাবে?

সাধারণত ২ থেকে ৩ মাসের মধ্যে কম্পোস্ট সার ব্যবহারের উপযোগী হয়ে যায়।

  • লক্ষণ: যখন দেখবেন মিশ্রণটির রঙ গাঢ় কালো বা বাদামী হয়ে গেছে, আসল উপাদানগুলো চেনা যাচ্ছে না এবং এটি থেকে সুন্দর বনের মাটির মতো গন্ধ বের হচ্ছে, তখন বুঝবেন সার তৈরি।

মন্তব্য করুন