Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৩৫ অপরাহ্ণ

মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা
বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় মাধ্যমিক স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেতু হিসেবে কাজ করে। তবে দৈনিক পত্রিকা ও বিভিন্ন শিক্ষা গবেষণায় দেখা গেছে, দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলো বর্তমানে নানামুখী কাঠামোগত ও গুণগত সমস্যায় জর্জরিত-
১. দক্ষ শিক্ষকের অভাব ও অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ
  • দক্ষতার ঘাটতি: অনেক বিদ্যালয়ে বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায় সৃজনশীল বা নতুন শিক্ষাক্রম অনুযায়ী পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষ শিক্ষকের তীব্র অভাব রয়েছে।
  • প্রশিক্ষণের সীমাবদ্ধতা: শিক্ষকদের যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়, তা অনেক ক্ষেত্রেই অপর্যাপ্ত এবং দীর্ঘমেয়াদে ক্লাসরুমে তার সঠিক প্রতিফলন ঘটে না।
  • আর্থিক ও পদোন্নতি বৈষম্য: বেসরকারি ও সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের মধ্যে বেতন-ভাতা, প্রমোশন ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বড় ধরনের বৈষম্য রয়েছে, যা তাদের পেশাগত আগ্রহ কমিয়ে দেয়।
২. অনুপাতিক শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত
  • অতিরিক্ত শিক্ষার্থী: মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে গড়ে প্রতি ৫২ জন শিক্ষার্থীর জন্য মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। কোনো কোনো বড় ক্লাসরুমে এই সংখ্যা ৬০ বা তারও বেশি।
  • ব্যক্তিগত নজরদারির অভাব: শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থীর সংখ্যা অতিরিক্ত হওয়ায় শিক্ষকরা প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধা ও দুর্বলতা অনুযায়ী আলাদাভাবে নজর দিতে পারেন না। 
৩. অবকাঠামোগত ও প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা
  • ল্যাব ও লাইব্রেরির অভাব: বেশির ভাগ বিদ্যালয়ে উন্নত বিজ্ঞানাগার (সায়েন্স ল্যাব) এবং সমৃদ্ধ লাইব্রেরির অভাব রয়েছে।
  • আইসিটি সুবিধার ঘাটতি: অনেক স্কুলে কম্পিউটার ল্যাব ও প্রজেক্টর থাকলেও দক্ষ শিক্ষক বা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে ডিজিটাল বা মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের সঠিক ব্যবহার হয় না।
  • শ্রেণিকক্ষের সংকট: গ্রামীণ ও প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলগুলোতে পর্যাপ্ত বসার জায়গা, স্বাস্থ্যসম্মত স্যানিটেশন ও বিশুদ্ধ পানির সংকট রয়েছে।
খেলার মাঠের অভাব: দেশে ফ্ল্যাট বাড়িতে গড়ে উঠা স্কুল গুলোর শিক্ষার্থীরা খাঁচা পদ্ধতি পাঠদান কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করে থাকে। যা তাদের স্বাভাবিক শারীরিক ও মানসিক বিকাশে বাধা।


৪. মুখস্থ নির্ভরতা ও পরীক্ষাকেন্দ্রিক মানসিকতা
  • সৃজনশীলতার অভাব: আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা এখনো বোঝার চেয়ে মুখস্থ করার ওপর বেশি জোর দেয়। পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার তীব্র প্রতিযোগিতার কারণে শিক্ষার্থীরা বিষয়বস্তু গভীরভাবে অনুধাবন করতে পারে না।
  • কোচিং ও গাইড বইয়ের ওপর নির্ভরতা: মূল ধারার ক্লাসরুমে সঠিক পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা গাইড বই এবং বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের ওপর মারাত্মকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।
৫. ঝরে পড়ার উচ্চ হার
  • অর্থনৈতিক সংকট: দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা মাধ্যমিক স্তরে (বিশেষ করে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণিতে) আসার পর পড়ালেখা ছেড়ে উপার্জনে বা পারিবারিক কাজে যুক্ত হতে বাধ্য হয়।
  • বাল্যবিয়ে: গ্রামাঞ্চলে মেয়ে শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ মাধ্যমিক স্তর শেষ করার আগেই বাল্যবিয়ের শিকার হয়ে বিদ্যালয় থেকে ছিটকে পড়ে।
৬. ঘন ঘন শিক্ষাক্রম পরিবর্তন ও সমন্বয়ের অভাব
  • নীতিমালার অস্থিরতা: শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নের নামে ঘন ঘন কারিকুলাম বা শিক্ষাক্রম পরিবর্তন করা হয়, যার সাথে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা সহজে খাপ খাওয়াতে পারেন না। এটি পুরো শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে এক ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করে।
  • স্বতন্ত্র অধিদপ্তরের অভাব: মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষকরা দীর্ঘদিন ধরে একটি আলাদা ও স্বতন্ত্র 'মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর' গঠনের দাবি জানিয়ে আসছেন, যাতে এই স্তরের প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন ও তদারকি আরো গতিশীল হয়।
মন্তব্য করুন