সহকারী অধ্যাপক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৩৮ অপরাহ্ণ
নিজের জন্য যা চাই মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
নিজের জন্য যা চাই
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
"তোমাদের কেউ প্রকৃত মুমিন হতে পারবে না, যতক্ষণ না সে নিজের জন্য যা ভালোবাসে, তার ভাইয়ের জন্যও তা-ই ভালোবাসে।"—বুখারী,
নিজের সুখের রঙিন ভোর,
অন্যের জীবনেও হোক সে ঘোর।
নিজের মুখে হাসির আলো,
ছড়িয়ে দাও সবার ভালো।
নিজে যদি চাও শান্তির দেশ,
অন্যের ঘরেও ফুটুক সে রেশ।
নিজের প্রাণে সুখের গান,
অন্যের বুকেও উঠুক তান।
নিজের ক্ষুধায় ব্যথা লাগে,
অন্যের ক্ষুধাও তেমনি জাগে।
নিজের চোখে অশ্রুর ঢেউ,
অন্যের কান্নাও ভুলো না কেউ।
নিজে যদি চাও সম্মান পেতে,
অন্যকেও দাও সম্মান দিতে।
নিজের হৃদয় ভালোবাসায় ভরে,
সেই প্রেম ছড়াও ঘরে ঘরে।
ঈর্ষা নয়, হিংসা নয়,
মানবতার দীপটি জ্বলে রয়।
ক্ষমা, মায়া, দয়া, প্রীতি—
এসবেই গড়ে ঈমানের রীতি।
যে জন নিজের সুখের সাথে,
অন্যের সুখও রাখে হাতে;
তার অন্তরে ঈমান জাগে,
রহমতের ফুল ফুটে অনুরাগে।
নিজের জন্য চাই যে আলো,
অন্যের জীবনেও হোক তা ভালো।
নিজের জন্য চাই যে দান,
অন্যের হোক তেমনি সম্মান।
ভালোবাসা যদি হয় সত্য,
ভাঙবে না কোনো হৃদয়ের সেতু।
স্বার্থ ভুলে যে হাত বাড়ায়,
আল্লাহ তাকে ভালোবাসায়।
দরিদ্র দেখে ফিরিও না মুখ,
তারও আছে হাসি আর দুঃখ।
এতিম শিশুর মলিন চোখে,
আশার প্রদীপ জ্বালো বুকে।
পথের ক্লান্ত পথিক যদি
চায় এক ফোঁটা স্নেহের নদী,
তোমার হাতে দাও সে জল,
তবেই হবে হৃদয় উজ্জ্বল।
প্রতিবেশী ক্ষুধায় কাঁদে,
আর তুমি সুখের সাধে—
এ কেমন ঈমানের পরিচয়?
রাসুলের শিক্ষা তা তো নয়।
মুমিন সে-ই, যার হৃদয়,
কল্যাণ ছড়ায় নির্ভয়।
নিজের সুখে নয় যে মগ্ন,
মানবসেবায় সদা লগ্ন।
মুখের হাসি সদকা যখন,
মধুর কথা ইবাদত তখন।
সুন্দর আচরণ, কোমল প্রাণ—
এসবই ঈমানের পরিচয় মহান।
কঠিন কথায় দিও না ব্যথা,
মিষ্টি বচন জান্নাতের পথটা।
অন্যের ভুলে করো না হাসি,
ক্ষমাই মুমিনের সত্য ভাষী।
দ্বেষের আগুন নিভাও মনে,
ভালোবাসা রাখো জীবনে।
যে ক্ষমা করে অপমান সয়ে,
আল্লাহ তার সাথেই রয়ে।
নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ যেমন,
অন্যের শিশুর স্বপ্নও তেমন।
নিজের ঘরে শিক্ষা চাই,
অন্যের ঘরেও ছড়িয়ে যাই।
নিজের জন্য ন্যায়বিচার,
অন্যের বেলায়ও একই অধিকার।
নিজের প্রাণে সত্যের আলো,
অন্যের জীবনেও জ্বালো ভালো।
ধনী-গরিব ভেদ যে করে,
ঈমান থাকে না তার অন্তরে।
আল্লাহ দেখেন অন্তরখানি,
সেখানেই লুকায় মানবগুণের বাণী।
একটি হাসি, একটি দান,
একটি মধুর সম্ভাষণ;
একটি সান্ত্বনার কোমল বাণী—
হতে পারে জান্নাতের পাথেয়খানি।
ভাইয়ের সুখে হাসতে শেখো,
দুঃখে গিয়ে পাশে থেকো।
স্বার্থহীন যে ভালোবাসা,
তাতেই মেলে জান্নাতের আশা।
মানুষ যদি মানুষ হয়,
ঘুচে যাবে বিভেদের ভয়।
প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হবে,
কলহ-বিদ্বেষ দূরে রবে।
রাসুল দিলেন শ্রেষ্ঠ শিক্ষা—
ভালোবাসাই ঈমানের দীক্ষা।
নিজের জন্য যা চাও প্রাণে,
অন্যের জন্যও রাখো টানে।
হিংসা মুছে, ঘৃণা ভোলো,
সবার প্রতি মমতা ঢালো।
এ পথেই মুমিন গড়ে,
এ পথেই শান্তি ভরে।
হৃদয় হবে নির্মল নদী,
করুণা হবে জীবনের সাথি।
মানবতার এই আহ্বান—
ইসলামের চিরন্তন জ্ঞান।
এসো সবাই শপথ করি,
অন্যের সুখে সুখী ধরি।
নিজের জন্য যা চাই মনে,
তাই চাইব সকল জনে।
এভাবেই গড়বে সমাজ,
মিটবে হিংসা, ঘুচবে লাজ।
ভালোবাসার পবিত্র ঋণ—
পূর্ণ করবে মুমিন-জীবন।
আল্লাহ যেন দেন সে মন,
ভালোবাসায় ভরে প্রতিক্ষণ।
নিজের জন্য যা ভালো চাই,
অন্যের জন্যও চাই যেন তাই।
তখনই হবে ঈমান পূর্ণ,
হৃদয় হবে আলোকময়, সুগন্ধি, শুদ্ধ, সম্পূর্ণ।
রাসুলের দেখানো পথের ধারা—
মানবতার শ্রেষ্ঠ সোনালি সারা।
নিজের জন্য যা চাই
নিজের জন্য চাই যে সুখ,
মুছে যাক সকল দুঃখ;
অন্যের জীবনও হোক তেমনি
আনন্দভরা, নির্মল, ধন্য।
নিজের বুকে শান্তির নীড়,
অন্যের ঘরেও ফুটুক ভোর।
নিজের মুখে হাসির ফুল,
অন্যের মুখেও উঠুক কূল।
নিজে যদি চাও স্নেহের ছায়া,
দাও সকলকে মমতার মায়া।
নিজে যদি চাও সম্মানখানি,
সম্মান দাও প্রতিটি প্রাণী।
নিজের সুখে ভুলো না কভু
অসহায়ের নীরব রব।
যার চোখেতে অশ্রুধারা,
সান্ত্বনা দাও ভালোবাসা ভরা।
মুমিন সে নয় কেবল নামে,
ঈমান থাকে যার কর্মধামে।
অন্যের সুখে হাসে যে প্রাণ,
তাকেই ডাকে কুরআন-ইমান।
নিজের জন্য জান্নাত চাই,
অন্যের তরে দোয়া তাই।
নিজে বাঁচি—এ ভাব নয়,
সবাই বাঁচুক—মুমিন কয়।
হিংসা-বিদ্বেষ আগুনসম,
পুড়িয়ে ফেলে হৃদয়ভূমি।
ভালোবাসার নির্মল জল
নিভিয়ে দেয় সে বিষের দল।
ক্ষমার আলো হৃদয় জুড়ে,
রহমতের ফুল ফুটে ঘুরে।
করুণার যে নির্মল স্রোত,
সেই তো জান্নাতেরই পথ।
ধনী-গরিব ভেদ নয় কভু,
মানুষ সবার স্রষ্টা এক রব।
রঙের ভিন্ন, ভাষার ভিন্ন,
তবু সবার রক্ত লাল চিরদিন।
আল্লাহ দেখেন অন্তরখানি,
সৎকর্মই তাঁর কাছে বাণী।
অহংকারে নয় যে বড়,
তাকওয়াতেই মানুষ ঘরে।
প্রতিবেশী ক্ষুধায় কাঁদে,
আর তুমি সুখের সাধে—
কেমন তবে ঈমান তোমার?
কোথায় রাসুলের উপহার?
এক মুঠো ভাত, একটুকু জল,
হতে পারে অমূল্য ফল।
একটি হাসি, একটি সালাম,
পাল্টে দিতে পারে অবিরাম।
এতিম শিশুর নীরব মুখ,
বলে কত না লুকানো দুঃখ।
তার মাথায় রাখো হাত,
সেটাই হবে উত্তম দান।
বৃদ্ধ যদি হাঁটতে না পারে,
ধরো তার হাত পথের ধারে।
মানবসেবা ইবাদত যখন,
খুশি হন দয়াময় রহমান।
বন্ধুর সুখে ঈর্ষা নয়,
তার উন্নতিতে খুশি হয়।
যে হৃদয়ে হিংসা মরে,
রহমত নামে অন্তরে।
অন্যের দুঃখ নিজের ভেবে
ছুটে যায় যে সেবার নেবে,
সে-ই তো সত্য মুমিনজন,
ঈমান যার জীবন্ত মন।
নিজের সন্তান যেমন প্রিয়,
অন্যের শিশুও তেমনি দিও
শিক্ষা, স্নেহ, ভালোবাসা,
উজ্জ্বল হোক ভবিষ্যৎ আশা।
নিজের ঘরে আলোর প্রদীপ,
অন্যের ঘরেও জ্বলুক দীপ।
নিজের পথে জ্ঞানের ফুল,
অন্যের জীবনেও ফুটুক কূল।
মধুর ভাষা সোনার চেয়ে
মূল্যবান যে অনেক বেয়ে।
কটু বাক্য হৃদয় ভাঙে,
মিষ্টি কথা আশা জাগে।
সালাম দাও, হাসিমুখে চলো,
অভিমানীর মনটি ভোলো।
ভালোবাসা ছড়াও প্রাণে,
শান্তি ফুটুক বিশ্বময় টানে।
মসজিদ ভরে নামাজে যদি,
বাইরে থাকে হিংসার নদী—
সে ইবাদত পূর্ণ নয়,
রাসুলের শিক্ষা অন্য কয়।
ইবাদতের সাথে চাই
মানবতার অমল ঠাঁই।
অন্তর হবে নির্মল, পবিত্র,
তবেই জীবন হবে চিত্র।
যে নিজের তরে ভালোবাসে,
অন্যকেও সেই ভালোবাসে।
যে নিজের তরে সুখের গান,
অন্যের তরে করে দান।
এমন মানুষ সমাজ গড়ে,
প্রীতির আলো ঘরে ঘরে।
ভ্রাতৃত্ব যার জীবনের ধন,
সফল তার ঈমান-জীবন।
এসো আজ করি অঙ্গীকার,
ঘুচাব সব বিভেদভার।
জাতি, বর্ণ, ধন বা মান—
সবাই মানুষ, সবার প্রাণ।
দ্বেষের দেয়াল ভেঙে ফেলি,
প্রীতির পতাকা হাতে তুলি।
মানুষ হবে মানুষের ভাই,
ইসলাম এ শিক্ষাই দেয় তাই।
নিজের জন্য যা চাই মনে,
চাই তা যেন সকল জনে।
নিজের সুখে নয় কেবল,
সবার সুখেই জীবন সফল।
এই হোক মোদের জীবনের বাণী,
এই হোক হৃদয়ের পুণ্যগানই।
রাসুলের পথে চলুক মন,
পূর্ণ হোক সবার ঈমান।
স্বার্থ ভুলে ভালোবাসা,
ইসলামের শ্রেষ্ঠ ভাষা।
পরের সুখে সুখী যে হয়,
মুমিন সে-ই—হাদিস কয়।
নিজের জন্য যা চাই প্রাণে,
তাই চাই সবার জীবনে।
এই আদর্শ বুকে লই—
আল্লাহর সন্তুষ্টি যেন পাই।
***
ঈমানের আয়না
আলো হতে চাইলে আগে,
জ্বালো হৃদয় প্রেমের রাগে।
নিজের সুখের রঙিন ফুল,
দাও না সবার জীবনকূল।
নিজের ঘরে হাসির মেলা,
অন্যের ঘরেও সুখের খেলা।
নিজের মুখে ভোরের গান,
অন্যের বুকে জাগুক প্রাণ।
মুমিন সে নয় শুধু নামে,
ঈমান যার কর্মধামে।
মানুষ দেখে মানুষ হাসে,
স্রষ্টার প্রেমে হৃদয় ভাসে।
নিজের ক্ষুধা যেমন জ্বলে,
অন্যের ক্ষুধাও তেমনি বলে।
নিজের তৃষ্ণা যেমন ব্যথা,
অন্যের দুঃখও একই কথা।
নিজে যদি চাও সম্মান,
অন্যকে দাও সেই সম্মান।
নিজে যদি চাও ভালোবাসা,
দাও সকলকে সেই ভাষা।
অন্যের চোখে অশ্রু ঝরে,
মুমিন ছুটে যায় তার তরে।
সান্ত্বনারই কোমল বাণী,
হয় ইবাদতের অর্ঘ্যখানি।
ভাইয়ের সুখে ঈর্ষা নয়,
তাকেই দেখে হৃদয় কয়—
"হে আল্লাহ! দাও তার তরে,
আরও রহমত ঘরে ঘরে।"
স্বার্থ যদি দেয়াল গড়ে,
ঈমান থাকে কাঁদতে পড়ে।
ত্যাগ যেখানে সেতু গড়ে,
রহমতের ফুল সেথায় ঝরে।
দরিদ্র যদি ক্ষুধায় কাঁদে,
তুমি থেকো না সুখের সাধে।
এক মুঠো ভাত, একটুকু জল,
আল্লাহর কাছে অমূল্য ফল।
এতিম শিশুর শূন্য বুকে,
স্নেহের হাতটি রাখো সুখে।
বিধবার চোখে অশ্রুধারা,
মুছিয়ে দাও ভালোবাসা ভরা।
প্রতিবেশী যদি কষ্ট পায়,
তোমার ঘুম কি শান্তি চায়?
রাসুল শেখান—মুমিন সেই,
যে অন্যের ব্যথা নিজের লয়।
মিষ্টি ভাষা ফুলের মতো,
ঘৃণার আগুন নেভায় যত।
কঠিন বচন বিষের তীর,
ভেঙে দেয় যে হৃদয়-নীড়।
ক্ষমা যার অলংকার হয়,
তারই অন্তর জান্নাতময়।
রাগের আগুন নেভায় যে,
আল্লাহ ভালোবাসেন সে।
ধনী-গরিব ভেদ ভুলে,
এসো সবাই মিলি কূলে।
মানুষ সবার মর্যাদা এক,
তাকওয়াতেই শ্রেষ্ঠতার লেখ।
নিজের সন্তান যেমন প্রিয়,
অন্যের শিশুও তেমনি দিও
শিক্ষার আলো, স্নেহের ছায়া,
তবেই ফুটবে সুখের মায়া।
একটি সালাম, একটি হাসি,
হৃদয় করে ফুলের বাসি।
একটি দোয়া, একটি দান,
বাড়ায় ঈমান, বাড়ায় মান।
সত্যের পথে চলার ডাকে,
মুমিন থাকে সবার পাশে।
অন্যায়ের সাথে নয় আপস,
ন্যায়ের পথে তারই বাস।
ভাইয়ের বোঝা কাঁধে তুলে,
হাঁটে যে জন হাসিমুখে,
কিয়ামতের সেই সকালে
রহমত পাবে সবার আগে।
মানবতার বিশাল বৃক্ষ
দয়ার জলে বাড়ে নিরন্তর।
ভালোবাসার নির্মল ছায়া
ঢেকে দেয় সব দুঃখ-ব্যথা।
হিংসা যদি হৃদয় ভরে,
শান্তি থাকে না অন্তরে।
প্রীতির আলো জ্বালো তাই,
ঈমান তখন পূর্ণ হয়।
নিজের জন্য চাই যে জান্নাত,
অন্যের তরে করো মুনাজাত।
নিজের জন্য রহমত চাই,
অন্যের তরে দোয়া তাই।
নিজের সুখে সুখী নয়,
অন্যের সুখে সুখী হয়।
হাদিস শেখায় এই পরিচয়—
এমন হৃদয় মুমিনময়।
এসো গড়ি ভ্রাতৃত্বের দেশ,
মুছে যাক সব হিংসার রেশ।
ভালোবাসা হোক পরিচয়,
করুণা হোক জীবনের জয়।
রাসুল (সা.)-এর অমর বাণী,
ঈমানেরই সোনার খনি।
"নিজের জন্য যা চাই প্রাণে,
চাই তা যেন সকল জনে।"
এই আদর্শ হৃদয়ে লই,
অন্যের সুখে সুখী হই।
মানবপ্রেমে জীবন ভরি—
আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করি।
যেখানে মানুষ মানুষের তরে,
ভালোবাসার প্রদীপ ধরে,
সেখানেই ঈমান পূর্ণ রয়,
সেখানেই ইসলামের জয়।
***
ঈমানের পূর্ণতা
যে হৃদয়ে জ্বলে প্রেমের দীপ,
সেই হৃদয়েই ঈমান দীপ্ত।
স্বার্থের দেয়াল ভেঙে যে জন,
ভালোবাসে বিশ্বজন।
নিজের সুখের নির্মল হাসি
অন্যের মুখেও ফুটুক খুশি।
নিজের ঘরে শান্তির নীড়,
অন্যের ঘরেও ভাসুক ভোর।
নিজের তৃষ্ণা যেমন জাগে,
অন্যের ব্যথাও তেমনি লাগে।
নিজের ক্ষুধা যেমন দহন,
অন্যের আহারও তেমনি প্রয়োজন।
নিজে যদি চাও স্নেহের ছায়া,
ছড়িয়ে দাও মমতার মায়া।
নিজে যদি চাও সম্মান পেতে,
সম্মান দাও সকলকে দিতে।
ভাইয়ের দুঃখ নিজের করে,
যে দাঁড়ায় তারই পাশে,
রহমতের বারিধারা নেমে
ঝরে তারই আশেপাশে।
হিংসার আগুন নিভে যায়,
প্রীতির নদী বয়ে যায়।
ক্ষমার ফুলে ভরে মন,
সেই তো সত্য মুমিনজন।
দরিদ্রের মুখে অন্ন দাও,
এতিম শিশুর মাথায় চাও
স্নেহের হাতটি রাখো গিয়ে,
আল্লাহ হাসেন ভালোবেসে।
প্রতিবেশী যদি ক্ষুধায় কাঁদে,
তুমি কীভাবে সুখে থাকো?
রাসুলের শিক্ষা স্মরণ করে
ভাগ করে নাও তোমার ভাতও।
একটি সালাম, একটি হাসি,
একটি মধুর সম্ভাষণ—
অসংখ্য কঠিন হৃদয় ভেঙে
জাগায় নতুন স্পন্দন।
কঠোর ভাষা তলোয়ারসম,
মধুর বাণী ফুলের মতো।
একটি কোমল বাক্য পারে
ঘুচাতে শত দুঃখ যত।
অন্যের সুখে খুশি হও,
অন্যের দুঃখ ভাগ করে নাও।
ঈর্ষা-ঘৃণার কালো মেঘ
হৃদয় হতে দূরে সরাও।
নিজের সন্তানের স্বপ্ন যেমন,
অন্যের শিশুর স্বপ্নও তেমন।
জ্ঞান, আদর্শ, স্নেহের আলো
পৌঁছে যাক প্রতিটি প্রাণে ভালো।
ধনী-গরিব, জাতি-বর্ণ,
এসব ভেদে নয় যে গৌরব।
তাকওয়ার আলো যার অন্তরে,
সেই-ই মহান রবের কাছে।
মানবতার সোনার সেতু
গড়ে ওঠে ভালোবাসায়।
পরের কল্যাণ নিজের সাধনা—
ঈমান তখন পূর্ণতায়।
নিজের জন্য জান্নাত চাও,
অন্যের জন্যও দোয়া দাও।
নিজের জন্য রহমত চাও,
অন্যের জীবনও সুখে ভরাও।
স্বার্থ নয়, পরার্থ হোক
জীবনপথের মূল পরিচয়।
রাসুল (সা.)-এর এই শিক্ষাই
মুমিন জীবনের শ্রেষ্ঠ জয়।
এসো তবে শপথ করি,
ভ্রাতৃত্বেরই পতাকা ধরি।
নিজের জন্য যা চাই প্রাণে,
চাই তা যেন সকল জনে।
ঘৃণার বদলে ভালোবাসা,
ক্রোধের বদলে ক্ষমার ভাষা।
দয়ার আলো, ন্যায়ের বাণী—
ইসলামের এ অমর খনি।
যে হৃদয়ে মানুষ জাগে,
স্রষ্টার প্রেমও সেথায় লাগে।
যে হৃদয়ে পরের স্থান,
সেই হৃদয়েই ঈমান।
হে আল্লাহ! দাও এমন মন,
দাও নির্মল ঈমান-ধন।
নিজের জন্য যা চাই আজ,
সকলের হোক সেই-ই সাজ।
তবেই গড়বে শান্তির ভুবন,
প্রীতিময় হবে মানবজীবন।
হাদিসের এ অমর বাণী—
মানবতার শ্রেষ্ঠ গল্পখানি।
১৩
১৫ মন্তব্য