প্রধান শিক্ষক
১৯ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৩০ অপরাহ্ণ
১৮ জুলাই ন্যালসন ম্যান্ডেলা দিবস।
১৯১৮ সালের ১৮ জুলাই দক্ষিণ আফ্রিকার ট্রান্সকেই অঞ্চলের এক ছোট্ট গ্রাম মভেজোতে জন্ম নিয়েছিলেন রোলিহ্লাহলা ম্যান্ডেলা, যাকে পরবর্তীতে গোটা পৃথিবী নেলসন ম্যান্ডেলা নামে চিনেছে। তিনি কোনো রাজবংশের উত্তরসূরি ছিলেন না, কিন্তু ন্যায় ও মানবতার জন্য লড়াই করতে গিয়ে তিনি নিজেই হয়ে উঠেছিলেন কোটি মানুষের আশ্রয়ের জায়গা।
যে সময়ে তিনি বড় হচ্ছিলেন, তখন দক্ষিণ আফ্রিকায় কৃষ্ণাঙ্গ মানুষদের নাগরিক অধিকার ছিল না বললেই চলে। "অ্যাপার্থাইড" নামের বর্ণবাদী আইন মানুষকে গায়ের রঙ দিয়ে ভাগ করে দিয়েছিল। স্কুল, হাসপাতাল, বাস এমনকি পার্কও ছিল আলাদা। তরুণ ম্যান্ডেলা আইন পড়তে গিয়ে বুঝলেন, শুধু বইয়ের পাতায় ন্যায়ের কথা লিখে রাখলে বাস্তব বদলাবে না। তাই তিনি আফ্রিকান ন্যাশনাল কংগ্রেসে যোগ দিলেন এবং অহিংস আন্দোলনের পথ বেছে নিলেন।
যখন সরকার আন্দোলনকে রক্ত দিয়ে দমন করতে শুরু করল, তখন তিনি বুঝলেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়া দরকার। ফলে তিনি ANC-র সামরিক শাখা গঠন করেন।
১৯৬২ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর রোবেন দ্বীপের একটি ছোট্ট সেলে তার জীবনের ১৮টি বছর কেটেছে। সেখানে তিনি পাথর ভেঙেছেন, কঠোর পরিশ্রম করেছেন, কিন্তু এক মুহূর্তের জন্যও নিজের আদর্শ থেকে সরে যাননি। জেলখানাই তার বিশ্ববিদ্যালয় হয়ে উঠেছিল। সেখানেই তিনি শিখেছিলেন কীভাবে ঘৃণার জবাব ভালোবাসা দিয়ে দিতে হয়, কীভাবে শত্রুকেও মানুষ হিসেবে দেখতে হয়।
অনেক দেশ এবং মানুষের চাপের মুখে ১৯০ সালে অবশেষে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। ২৭ বছর পর বেরিয়ে এসে তিনি প্রতিশোধের কথা বলেননি। বরং বলেছিলেন, একটি জাতিকে গড়তে হলে ক্ষমা করতেই হবে।
১৯৯৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অবাধ নির্বাচন হলো এবং বিপুল ভোটে তিনি দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলেন। ক্ষমতা পেয়ে তিনি প্রতিশোধ নেননি, বরং "ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন" গঠন করে পুরনো ক্ষতগুলোকে সামনে এনে আলোচনার মাধ্যমে জোড়া লাগানোর চেষ্টা করেছেন। তার প্রেসিডেন্সির পাঁচ বছরে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং দারিদ্র্য বিমোচনকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, "শিক্ষা হলো সেই সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র, যা দিয়ে পৃথিবীকে বদলে দেওয়া যায়।" তাই সারাজীবন তিনি শিশুদের স্কুলে পাঠানো এবং এইডস সচেতনতার কাজে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন।
২০১৩ সালের ৫ ডিসেম্বর তার জীবনাবসান ঘটে, কিন্তু রেখে যান এক অমূল্য শিক্ষা। ম্যান্ডেলা আমাদের শিখিয়েছেন যে সাহস মানে ভয়হীনতা নয়, বরং ভয়কে সঙ্গে নিয়েও সত্যের পথে হাঁটা।আফ্রিকার মানুষ আজও তাকে ভালোবেসে "মাদিবা" বলে ডাকে। এই নামের পেছনে আছে শ্রদ্ধা, কৃতজ্ঞতা এবং একটি দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস।
~কার্টেসি: বিজ্ঞানবর্ণালী
১৩
১৫ মন্তব্য