সিনিয়র শিক্ষক
২০ জুলাই, ২০২৬ ১০:৫৯ পূর্বাহ্ণ
অভ্যাস, অনুভূতি, অপেক্ষা
অভ্যাস, অনুভূতি, অপেক্ষা....
সব কিছুরই একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে। সময় পেরিয়ে গেলে, সবচেয়ে গভীর আসক্তিটাও একদিন নিঃশব্দে ফিকে হয়ে যায়। তবু কিছু জায়গা, কিছু মানুষ, কিছু অনুভূতি সময়ের নিয়ম মানতে চায় না। তারা থেকে যায় হৃদয়ের গভীরে, এক অদ্ভুত মায়া হয়ে।
যতদিন, যতবার এই নদীর পাড়ে এসে বসেছি, ততবারই নিজেকে একই প্রশ্ন করেছি, এখানে এমন কী আছে, যার জন্য এত স্বাভাবিক হয়ে ওঠে শ্বাসপ্রশ্বাস?
কত শহরই তো ঘুরেছি। আভিজাত্য আর প্রাচুর্যে মোড়ানো অসংখ্য নগর দেখেছি। কত নদী, লেক, জলধারা চোখে পড়েছে। কিন্তু কোথাও এই নীরব প্রশান্তিটুকু খুঁজে পাইনি।
হয়তো শান্তি কোনো স্থানের মধ্যে থাকে না। থাকে সেই স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিতে, অনুভূতিতে, অপেক্ষায় আর কিছু না বলা গল্পে। এই নদী শুধু জল বয়ে নিয়ে যায় না, বয়ে নিয়ে যায় বুকের ভেতর জমে থাকা ক্লান্তি, দীর্ঘশ্বাস আর অব্যক্ত কথাগুলোও।
সৃষ্টিকর্তা যখন মানুষকে পৃথিবীতে পাঠান, তখন কাউকে অসম্পূর্ণ বা মূল্যহীন করে পাঠান না। প্রত্যেক মানুষই তাঁর এক অনন্য সৃষ্টি। কারও সৌন্দর্য তার হাসিতে, কারও ব্যবহারে, কারও মায়ায়, আবার কারও সৌন্দর্য তার নির্মল হৃদয়ে।
কিন্তু বড় দুঃখের বিষয়, অনেক সময় মানুষই মানুষকে নিজের চোখে অসুন্দর করে তোলে। কিছু কটু কথা, কিছু অবহেলা, কিছু তুচ্ছতাচ্ছিল্য, বাহ্যিক রূপ নিয়ে বিদ্রূপ... ধীরে ধীরে একজন মানুষের আত্মবিশ্বাসকে ভেঙে দেয়। অথচ মানুষের আসল সৌন্দর্য কখনো মুখে নয়, তার চরিত্রে, তার মানবিকতায়, তার ভালোবাসতে জানার ক্ষমতায়।
শেষ পর্যন্ত বুঝেছি, পৃথিবীর সবচেয়ে সুন্দর জিনিসগুলো চোখে দেখা যায় না, হৃদয়ে অনুভব করতে হয়। তাই কিছু নদী, কিছু মানুষ, কিছু সম্পর্ক আর কিছু স্মৃতি কখনো পুরোনো হয় না।
কারণ, সবকিছুর শেষে যদি কিছু থেকে যায়, তবে তার নামই হয়তো— মায়া।
১৩
১৫ মন্তব্য