সহকারী অধ্যাপক
২১ জুলাই, ২০২৬ ০৭:০৫ অপরাহ্ণ
মহৎ চরিত্রের পূর্ণতা -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
মহৎ চরিত্রের পূর্ণতা
“আমি তো প্রেরিত হয়েছি উত্তম চরিত্রকে পূর্ণতা দান করার জন্য।”
— (মুআত্তা ইমাম মালিক; অন্যান্য হাদিস গ্রন্থেও বর্ণিত)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
মানুষ যদি মানুষ হয়, চরিত্র যদি দীপ,
সত্যের আলো ছড়িয়ে পড়ে ভাঙে অন্ধকার-সীপ।
ধন-সম্পদে নয় যে গৌরব, নয় কীর্তির ভার,
মহৎ চরিত্র গড়ে তোলে জীবনেরই দ্বার।
এসেছিলেন বিশ্বনবী, করুণার অবতার,
অন্ধকারে জ্বালতে এসে আলোর অগ্নিধার।
বললেন তিনি—"এসো সবাই, সত্যপথে চলো,
চরিত্র যদি সুন্দর হয়, জীবন হবে ভালো।"
রাগের আগুন দমিয়ে রাখো, ক্ষমার পথে চলো,
মানুষকে দাও ভালোবাসা, হৃদয়খানি খোলো।
মিথ্যার পথে ক্ষণিক লাভ, শেষে শুধু ক্ষতি,
সত্যের মাঝে লুকিয়ে থাকে শান্তিরই গতি।
অহংকারের অট্টালিকা ভেঙে পড়ে একদিন,
নম্র হৃদয় জয় করে নেয় শত মানুষের ঋণ।
হাসিমুখে যে কথা বলে, জয় করে সে মন,
মধুর বাণী সেতু গড়ে, মুছে দেয় বিভাজন।
প্রতিবেশীর সুখে হাসো, দুঃখে হও সাথি,
মানবসেবার মাঝেই লুকায় আল্লাহরই প্রীতি।
ক্ষুধার্ত মুখে অন্ন তুলে দাও যদি একদিন,
সদকার সেই ক্ষুদ্র দানও হবে মহামূল্য ঋণ।
ক্ষমাশীলের হৃদয়জুড়ে প্রস্ফুটিত ফুল,
বিদ্বেষ যারা বুকে পোষে, তাদের জীবন ভুল।
ভালোবাসা জয় করে যে কঠিন পাষাণ প্রাণ,
সেই তো সত্য মুমিনেরই উজ্জ্বল পরিচয়খান।
মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা রেখো, বাবার প্রতি মান,
শিক্ষকেরও মর্যাদা দাও, বাড়বে জ্ঞানের ধ্যান।
ছোটদের দাও স্নেহের ছায়া, বড়দের সম্মান,
এভাবেই তো গড়ে ওঠে সভ্যতারই প্রাণ।
অঙ্গীকারে অটল থেকো, ভেঙো না বিশ্বাস,
বিশ্বাসহীন মানুষ যেন শুষ্ক মরুর ঘাস।
আমানত যার হাতে থাকে, ফিরিয়ে দেবে ঠিক,
এ শিক্ষাতেই গড়ে ওঠে চরিত্র মহাশিখর।
লোভের আগুন নিভিয়ে ফেলো, সন্তোষ রাখো প্রাণে,
অল্প নিয়ে সুখী হও, শান্তি ফুটুক টানে।
হিংসা যদি হৃদয়ে থাকে, জ্বলে নিজের ঘর,
ভ্রাতৃত্ব যদি মনে জাগে, ফুটে সুখের ডর।
বিচারক হলে ন্যায় করো, ভয় কোরো না কভু,
সত্যের তরে মাথা নত—এটাই মুমিন রূপ।
ক্ষমতা যদি হাতে আসে, রেখো না অহংকার,
ন্যায়ের পথে দৃঢ় থাকাই সাফল্যের দ্বার।
জ্ঞান যারই যতই হোক, বিনয় তার শোভা,
অহংকারে জ্ঞানের ফুলও হারায় মধুর রূপা।
বিদ্যার সাথে চরিত্র যদি পাশাপাশি রয়,
সেই মানুষই সমাজজুড়ে সত্যিকার মহীয়।
কর্মে হোক সততা ভরা, কথায় হোক মাধুর্য,
হৃদয় জুড়ে থাকুক সদা ঈমানেরই সৌরভ।
নামাজ মানুষ শেখায় শৃঙ্খলা, রোজা শেখায় ধৈর্য,
যাকাত শেখায় দানের সুখ, হজে ঐক্যের ঐশ্বর্য।
ধৈর্যের ফল মিষ্টি হয়—শুনিয়েছেন রব,
সবরধারী মানুষেরই জয় হয় নিরবধি সব।
বিপদ যদি আসে জীবনে, ভেঙো না মনোবল,
আল্লাহর উপর ভরসা রাখো, মিলবে শুভ ফল।
সত্যের পথে কাঁটা থাকবে, থাকবে দুঃখ-শোক,
তবু যারা দৃঢ় থাকে, জয় করে সব লোক।
অন্যায় দেখে নীরব থেকো না কোনোদিন,
ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়াও সবাই—এই হোক প্রতিদিন।
হাসি একটি সদকা যেমন, মধুর ভাষাও তাই,
ভালোবাসার স্পর্শে মানুষ আপন হয়ে যায়।
দোষ নয়, গুণ খুঁজে নাও প্রতিটি মানবমনে,
সহমর্মিতা ফুটুক সদা প্রতিটি আপন জনে।
মিথ্যা অপবাদ দিও না আর, করো না কটুবাক্য,
সুন্দর কথা হৃদয় জুড়ায়, মুছে দেয় সব ফাঁক।
অপরের দোষ গোপন রেখে নিজের দোষ দেখো,
আত্মশুদ্ধির পথেই তবে সফলতার রেখো।
বিশ্বনবীর জীবনখানি চরিত্রেরই ফুল,
তাঁর আদর্শ আঁকড়ে ধরলে দূর হবে সব ভুল।
করুণা ছিল চোখের জলে, দয়ায় ভরা প্রাণ,
শত্রুকেও করেছেন তিনি ক্ষমার দান মহান।
তাই এসো আজ শপথ করি সত্যপথে চলি,
সদাচরণের সুগন্ধে জীবনখানি গড়ি।
মানুষ যেন মানুষ থাকে, জাগুক শুভ বোধ,
ভালোবাসায় রাঙুক ধরা, ঘুচুক ঘৃণার রোধ।
চরিত্র যদি হয় উজ্জ্বল, জ্বলে ঈমান-আলো,
দুনিয়া তখন ফুলের বাগান, জীবন লাগে ভালো।
আখিরাতের চিরসফল সেই মহামানব,
যার চরিত্র সাক্ষ্য দেবে—সে-ই আল্লাহর প্রিয় রব।
হে আল্লাহ! দাও আমাদের পবিত্র অন্তরখানি,
সত্য, ন্যায় আর দয়ার পথে রাখো চিরদিনই।
বিশ্বনবীর আদর্শে গড়ি জীবন অবিরাম—
মহৎ চরিত্রেই ফুটে উঠুক ইসলামেরই নাম।
***
মহৎ চরিত্রের পূর্ণতা
মানুষ যদি মানুষ হয়, চরিত্র তার প্রাণ,
সত্য-ন্যায়ের দীপ জ্বালিয়ে পায় সে সম্মান।
ধন-সম্পদ, ক্ষমতা, যশ—ক্ষণিক মরীচিকা,
চরিত্রহীন জীবন যেন শূন্য মরুভূমিকা।
এই ধরাতে এলেন যিনি রহমতেরই নূর,
দূর করিতে জাহিলিয়াত, ভাঙতে মিথ্যার সুর।
বললেন তিনি—এসো সবাই, সত্যপথে ফিরো,
চরিত্র গড়ো, হৃদয় গড়ো, আল্লাহর পথে চলো।
নয় তিনি এসেছিলেন রাজ্য জয়ের তরে,
নয় ধন-সম্পদ কুড়োতে কিংবা সুখের ঘরে।
এসেছিলেন মানুষ গড়তে, হৃদয় দিতে আলো,
অসৎ পথের অন্ধকারে সত্যের প্রদীপ জ্বালো।
ক্ষমাই যার অলংকার, দয়াই যার ভাষা,
নম্রতাতে প্রস্ফুটিত হয় ঈমানেরই আশা।
ক্রোধ যখন আগুন হয়ে জ্বালিয়ে দিতে চায়,
সবর তখন শীতল বৃষ্টি হয়ে প্রাণে ধায়।
মিথ্যার রঙ ঝলমলে, স্থায়ী নয় কভু,
সত্যের দীপ নিভে না কোনো ঝড়ের রাতের রব।
অল্প কথায় সত্য বলো, রাখো মধুর বাণী,
তাতেই ফুটে মানুষেরই সৌন্দর্যের বাণী।
অহংকারের উঁচু মিনার একদিন হয় ধূলি,
বিনয়ী জন মানুষেরই হৃদয়খানি দুলি।
নরম কথার একটি হাসি, স্নেহভরা দৃষ্টি,
শত্রুর বুকেও জাগিয়ে তোলে ভালোবাসার সৃষ্টি।
মায়ের সেবা জান্নাত-পথ, বাবার দোয়া ঢাল,
শিক্ষকেরই সম্মানেতে জ্ঞানের খুলে তাল।
ছোটদের দাও মমতার ছায়া, বড়দের সম্মান,
এভাবেই তো গড়ে ওঠে সভ্যতারই প্রাণ।
প্রতিবেশীর ক্ষুধা রেখে নিজে খেও না সুখে,
তারও আছে বাঁচার অধিকার, রেখো তাকে বুকে।
অসহায়ের অশ্রুবিন্দু মুছিয়ে দাও হাসি,
এমন দানেই রবের কাছে প্রিয় হয় উদাসী।
অঙ্গীকারের মূল্য রাখো, ভেঙো না বিশ্বাস,
বিশ্বাস ভাঙা মানুষেরই সবচেয়ে বড় সর্বনাশ।
আমানতকে আমানতই রেখো প্রাণের মতো,
এমন মানুষ আল্লাহরই নিকট অতি প্রিয়।
হিংসা যদি হৃদয়জুড়ে বাসা বাঁধে নীরব,
সুখের বাগান শুকিয়ে যায়, মুছে যায় সব রঙ।
ভালোবাসা নদীর মতো সবার বুকে বই,
মানুষ যেন মানুষেরই আপনজন হয়।
দুঃখ এলে ভেঙো না মন, ধরো ধৈর্যের হাত,
সবরের ফল মধুর হবে—রবের এই তো মাত।
তাওয়াক্কুলে ভরসা রেখে করো নেক আমল,
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, সে-ই পায় সফল।
ক্ষমতা যদি হাতে আসে, কোরো না অবিচার,
ন্যায়ের পথে অটল থেকো, এটাই সত্যিকার।
বিচারকের আসন শুধু দায়িত্বেরই নাম,
ইনসাফ ছাড়া ক্ষমতাতে নেই তো কোনো দাম।
জ্ঞান যদি হয় চরিত্রহীন, আলোহীন প্রদীপ,
মানবতার আকাশজুড়ে জ্বলে না তার দীপ।
বিদ্যার সাথে আদব যদি থাকে পাশাপাশি,
সেই মানুষই আলোকিত করে দেশ-বিদেশবাসী।
মধুর ভাষা সদকা যেমন, হাসিও তেমন দান,
একটি ভালো কথাতেই জয় হয় শত প্রাণ।
কটু বাক্য ক্ষত বাড়ায়, ভালোবাসা শুকায়,
স্নিগ্ধ বাণী বসন্ত হয়ে মানুষের মন জুড়ায়।
অপরের দোষ খুঁজে আগে নিজেকে দেখো ভাই,
নিজের ভুলই সংশোধনের সবচেয়ে বড় ঠাঁই।
আত্মশুদ্ধির আলোকধারা অন্তরে আনো জ্বাল,
পাপের কালো মেঘ সরিয়ে ফুটুক ঈমানের জ্যোতিজাল।
লোভের নেশা আগুনসম, জ্বালিয়ে দেয় প্রাণ,
সন্তুষ্টির একফোঁটা জলেই আসে শান্তি দান।
অল্প পেয়ে শুকরিয়া করো, বাড়বে নেয়ামত,
কৃতজ্ঞতার জীবন গড়ে অফুরন্ত বরকত।
শ্রমিক, কৃষক, ব্যবসায়ী কিংবা জ্ঞানীজন,
সততারই এক মাপকাঠি সবার জীবনধন।
যে যেখানে কাজই করুক নিষ্ঠা হোক তার সাথি,
সৎ কর্মেই প্রস্ফুটিত হয় জীবনেরই গাথা।
রাসূল ছিলেন সত্যব্রতী, বিশ্বস্ত উপাধি,
শত্রুও জানত—মিথ্যা বলা ছিল না তাঁর সাধ্য।
তাই তো আজও যুগে যুগে কোটি কোটি প্রাণ,
তাঁরই আদর্শ বুকে নিয়ে খুঁজে নেয় সম্মান।
তায়েফেরই পাথরবৃষ্টি রক্তাক্ত করিল,
তবু তিনি বদদোয়ার বদলে দোয়াই করিলেন।
মক্কা জয়ের দিনটিতেও প্রতিশোধ নিলেন না,
ক্ষমার সুধায় ভরিয়ে দিলেন ইতিহাসের পাতা।
এমন চরিত্র গড়তে হলে চাই ঈমানের বল,
নফসের সাথে যুদ্ধ করে জয় করতে হবে চল।
নামাজ শেখায় শৃঙ্খলাকে, রোজা শেখায় ধৈর্য,
যাকাত শেখায় মানবপ্রেম, হজে ঐক্যের ঐশ্বর্য।
বন্ধুত্ব হোক সত্যভিত্তিক, ভালোবাসা পবিত্র,
মানুষ যেন মানুষ থাকে, চরিত্র থাকে চিত্র।
বংশ, ভাষা, বর্ণ নয়—শ্রেষ্ঠতার পরিচয়,
তাকওয়া আর সচ্চরিত্রেই মানুষের মহিমা রয়।
এসো তবে শপথ করি অন্তর করি শুদ্ধ,
সত্য-ন্যায়ের আলোকধারায় করি জীবন বদ্ধ।
রাসূলেরই সুন্নাহ মেনে চলি প্রতিক্ষণ,
চরিত্রেই হোক পরিচয়, চরিত্রেই হোক মন।
হে মহান রব! দাও আমাদের সত্যবাদী প্রাণ,
দাও আমানত রক্ষার শক্তি, দাও ক্ষমার জ্ঞান।
হিংসা, লোভ আর অহংকার করো দূর আজই,
নবীর মতো চরিত্র দাও—এই প্রার্থনা শুধু আজি।
দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ুক নৈতিকতার গান,
মানবতার সুবাসে ভরে উঠুক ধরণীখান।
চরিত্রবান মানুষ গড়াই হোক জীবনের লক্ষ্য,
এই শিক্ষাতেই লুকিয়ে আছে ইসলামের মহিমা অক্ষয়।
১৩
১৫ মন্তব্য