সহকারী অধ্যাপক
২১ জুলাই, ২০২৬ ০৮:১৬ অপরাহ্ণ
বৃষ্টির আড়ালে অশ্রু -মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
বৃষ্টির আড়ালে অশ্রু
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
আমি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোবাসি—
তাই নয় শুধু ভেজার সুখে;
বুকের ভাঙা নীরব কান্নাগুলো
হারিয়ে যায় বৃষ্টির মুখে।
ঝরঝর ধারা নামে আকাশ থেকে,
মুছে দেয় মনের দগ্ধ ক্ষত;
কে বুঝবে তখন কোনটি বৃষ্টি,
কোনটি অশ্রু, ব্যথার রথ।
অত্যাচারের ভারে নুয়ে পড়া প্রাণ,
বিরোধিতার তীব্র দহন;
অন্যায় দেখে প্রতিবাদ করলে
জোটে কতই তিরস্কার-গহন।
কাঁদলে মানুষ প্রশ্ন তোলে,
দেয় উপহাস, দেয় অবহেলা;
তাই তো বৃষ্টির নরম চাদর
ঢেকে রাখে হৃদয়ের বেলা।
মানুষ দেখে হাসির মুখ,
দেখে না বুকের গোপন ক্ষত;
বাহিরে রঙিন জীবনের ছবি,
ভেতরে জমে নীরব শোক।
যে কাঁদে নীরব রাতের শেষে,
সে-ই বোঝে অশ্রুর ভাষা;
বৃষ্টি তখন বন্ধুর মতো
জাগায় মনে নতুন আশা।
কত অভিযোগ জমে আছে,
বলবার মতো মানুষ কই?
স্বার্থের ভিড়ে আপনজনও
অনেক সময় আপন নয়।
তবু মুমিন হারে না কভু,
রবের দয়ায় রাখে ভরসা;
ঝড়ের পরে রঙিন আকাশ
দেয় নতুন দিনের ভাষা।
পবিত্র কুরআন শেখায় আমাদের—
কষ্টের সাথেই স্বস্তি আসে;
অন্ধকারের গভীর বুকেই
আলোর প্রদীপ জ্বলে ভাসে।
তাই যে হৃদয় ধৈর্য ধরে,
রাখে আল্লাহর প্রতি আশা;
তার প্রতিটি অশ্রুবিন্দু
হয়ে যায় ইবাদতের ভাষা।
বৃষ্টি কেবল প্রকৃতি নয়,
রহমতেরও এক নিদর্শন;
শুকনো মাটির প্রাণ জাগিয়ে
আনে নবজীবনের স্পন্দন।
তেমনি করে ভাঙা হৃদয়
রবের রহমে জেগে ওঠে;
নিঃস্ব প্রাণে ঈমানের আলো
নতুন সাহস বুনে রথে।
অত্যাচার যত দীর্ঘ হোক,
চিরদিন তা থাকে না ভাই;
অন্যায়কারীর শক্তি ক্ষণিক,
ন্যায়ের সূর্য ডুবতে চায় না তাই।
ধৈর্যের বীজ যে বপন করে,
ফল সে পায় একদিন ঠিক;
আল্লাহ ন্যায়ের মহান বিচারক,
তাঁরই হাতে শেষ দিগন্ত লিখ।
বৃষ্টি নামে, অশ্রু ঝরে,
দুটো যেন পাশাপাশি পথ;
একটি ধুয়ে দেয় ধুলোর পৃথিবী,
অন্যটি ধুয়ে অন্তরের ক্ষত।
চোখের জলে যদি থাকে
স্রষ্টার প্রতি অটল ভরসা,
সেই অশ্রুবিন্দু হারায় না—
লিখে রাখেন তিনি নিরন্তর আশা।
মানুষ যদি না-ও বোঝে,
রব তো জানেন অন্তরখানি;
নিঃশব্দ দোয়া, নীরব কান্না—
সবই পৌঁছে যায় তাঁরই পানে।
যে মাথা নত করে সিজদায়,
তার পরাজয় কখনো নয়;
ধৈর্যের শেষে বিজয়ের মালা
রবই পরান আপনময়।
তাই আজও বৃষ্টিতে হাঁটি,
নয় লুকোতে শুধু চোখের জল;
বরং মনে জাগাই প্রতিজ্ঞা—
সত্যের পথে হব অবিচল।
যতই আসুক দুঃখের মেঘ,
যতই উঠুক বিরোধের ঢেউ;
আল্লাহ আছেন—এই বিশ্বাসেই
জীবন আমার এগিয়ে নেয়।
বৃষ্টি মুছে দেয় মুখের অশ্রু,
মুছে না ঈমানের আলো;
ধৈর্য, দোয়া, সত্যের পথে
চলুক জীবন নির্ভয় ভালো।
মানুষ দেখুক কিংবা না-ই দেখুক,
রব তো জানেন হৃদয়খানি;
তাঁরই রহমত, তাঁরই আশায়—
ফুটুক সুখের ভোরের বাণী।
***
বৃষ্টির আড়ালে অশ্রুর ভাষা
আমি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোবাসি—
ভেজার নেশায় নয় যে তাই;
চোখের কোণে জমে থাকা ব্যথা
বৃষ্টিধারায় মিশে যায় ভাই।
ঝরঝর ধারা নামে আকাশ হতে,
ধুয়ে দেয় পথ, ধুয়ে দেয় ধূলি;
কে-ই বা বলবে—কোনটি বর্ষা,
কোনটি বুকের নীরব বুলি?
অত্যাচারের কঠিন প্রহর,
বিরোধিতার তীক্ষ্ণ তীর;
সত্যের পথে দাঁড়াতে গেলে
সহ্য করতে হয় কত নীর।
কান্না যদি চোখে ধরা পড়ে,
উপহাসে ভরে চারিধার;
তাই তো বৃষ্টি আপন সাথী—
ঢেকে রাখে অন্তরভার।
মানুষ দেখে মুখের হাসি,
দেখে না মনের ক্ষতচিহ্ন;
বুকের ভেতর নিঃশব্দ আগুন,
বাহিরে তবু জীবন শান্ত।
কত অভিযোগ, কত আর্তি,
কত যে দীর্ঘ নিশ্বাস;
সবই মিশে বর্ষার জলে,
জাগায় নীরব বিশ্বাস।
স্বার্থের ভিড়ে আপন মানুষ
অনেক সময় দূরে যায়;
তবু রবের দরবারে যে
ভাঙা হৃদয় আশ্রয় পায়।
বন্ধ দুয়ার খুলে দেন তিনি,
শোনেন নীরব প্রার্থনা;
ধৈর্যের বুকে ফুটিয়ে তোলেন
আশার শুভ অর্ঘ্যনা।
কুরআন শেখায়—কষ্টের পরে
স্বস্তির আলো ফুটবেই আবার;
ঘন অন্ধকার ভেদ করে শেষে
উঠবেই প্রভাত রৌদ্রোজ্জ্বল।
ধৈর্যধারী মুমিনের অশ্রু
হারায় না কোনো কালে;
রহমতেরই মুক্তাবিন্দু হয়ে
ঝলমল করে রবের তলে।
বৃষ্টি নামে রহমত হয়ে,
জাগে মাটির নতুন প্রাণ;
তেমনি দুঃখ শেষে আল্লাহ
খুলে দেন সুখের দিগন্তজান।
শুকনো ডালে কুঁড়ি যেমন
ফোটে নবীন বসন্তে;
তেমনি আশা জেগে ওঠে
ঈমানভরা অন্তরেতে।
অন্যায় যত শক্তি দেখাক,
স্থায়ী সে তো কখনো নয়;
সত্যের সূর্য মেঘে ঢাকে,
নিভে না তার আলোকময়।
যে অন্যায়ে হাসে আজ,
কাল সে লজ্জায় নত হবে;
রবের বিচারে ন্যায়ের পাল্লা
সত্যের পক্ষেই ঝুঁকে রবে।
বৃষ্টি নামে, অশ্রু ঝরে—
দুটি স্রোতের এক ইতিহাস;
একটি ধোয় ধুলোমাখা ধরার মুখ,
একটি ধোয় হৃদয়ের হতাশ।
যে চোখ ভেজে রবের ভয়ে,
সে চোখ অমূল্য দান;
সেই অশ্রুতে ধুয়ে যায়
অহংকারের সব অবসান।
মানুষ যদি বুঝতে না-ও চায়,
আল্লাহ জানেন অন্তরগাঁথা;
নিঃশব্দ কান্না, নীরব দোয়া
পৌঁছে যায় তাঁরই কাছে যথা।
সিজদার মাটিতে ঝরা অশ্রু
ব্যর্থ হয় না কোনো দিন;
রহমতের দরজা খুলে দেন
করুণাময় রবুল আলামিন।
তাই আজও আমি বৃষ্টিতে হাঁটি—
হার মানিবার জন্য নয়;
বরং বুকে নতুন সাহস নিয়ে
সত্যের পথে চলি নির্ভয়।
ঝড়ের পরে যেমন আকাশ
নীলিমাতে হাসে আবার;
তেমনি মুমিন দুঃখ পেরিয়ে
দেখে রহমতের অপার দ্বার।
অশ্রু লুকায় বৃষ্টিধারা,
ঈমান লুকায় না কভু;
যার অন্তরে আল্লাহর স্মরণ,
সে-ই প্রকৃত সুখের প্রভু।
কষ্ট আসে পরীক্ষা হয়ে,
সবর হয় তার জবাব;
দোয়ার ডানায় ভর করে মানুষ
পায় অনন্ত কল্যাণের স্বাদ।
চোখের জলে হার মানি না,
বৃষ্টিতে খুঁজি শক্তির দিশা;
রবের প্রতি অটল ভরসাই
জীবনের শ্রেষ্ঠ প্রত্যাশা।
মানুষ দেখুক কিংবা না-ই দেখুক,
রব তো জানেন সবই;
তাঁর রহমতে ভোরের সূর্য
অন্ধকার ভেঙে রবে জ্বলি।
আমি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোবাসি—
কারণ সে লুকায় অশ্রুধারা;
তবু লুকায় না ঈমানের দীপ,
লুকায় না রবের করুণা।
অত্যাচার, বিরোধ, অপবাদ যত—
সবই ক্ষণিক, সবই ক্ষয়;
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে
সত্যের পথেই হোক পরিচয়।
ধৈর্যের বীজ বুনে যে প্রাণ,
সে-ই একদিন ফসল কাটে;
বৃষ্টির আড়ালে ঝরা অশ্রুও
রহমতের ফুল হয়ে ফুটে ওঠে।
***
বৃষ্টির আড়ালে অশ্রু
আমি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোবাসি—
ভেজা শুধু নয় আমার সাধ;
অশ্রুর ভাষা লুকিয়ে রাখে
বর্ষার নীরব অবিরাম বাদ।
ঝরঝর ধারা নামে আকাশে,
ধুয়ে দেয় ধরণির ধূলি;
কে-ই বা জানে—কোনটি বর্ষণ,
কোনটি হৃদয়ের নীরব বুলি?
অত্যাচারের ভারী শৃঙ্খল,
বিরোধিতার কঠিন ক্ষত;
সত্যের পথে চলতে গেলে
সহ্য করতে হয় শত আঘাত।
কাঁদলে মানুষ প্রশ্ন তোলে,
কেউ বা করে উপহাস;
তাই তো বৃষ্টি আপন সখা,
ঢেকে রাখে মনের নিশ্বাস।
হাসিমুখ দেখে সবাই শুধু,
দেখে না বুকের গোপন ক্ষয়;
ফুলের নিচে কাঁটার মতো
লুকিয়ে থাকে কত যে ভয়।
বাহিরে যেন শান্ত নদী,
ভেতরে উত্তাল ঢেউ;
চোখের ভাষা পড়তে পারে
এমন মানুষ ক'জন আর কেউ?
স্বার্থের ভিড়ে আপন মানুষ
অনেক সময় দূরে যায়;
তবু করুণাময় রবের দ্বার
ভাঙা হৃদয় ফিরিয়ে নেয়।
নিঃশব্দ রাতে সিজদার মাঝে
অশ্রু ঝরে নিরালায়;
মানুষ না-ও শুনুক সে কান্না,
রব শুনেন আপন মহিমায়।
পবিত্র কুরআন শেখায় আমায়—
ধৈর্যের শেষে স্বস্তি মেলে;
অন্ধকার যত গভীর হোক,
সূর্য হাসে প্রভাতবেলায়।
যে হৃদয় রবের উপর
অটল ভরসা রাখে;
তার প্রতিটি অশ্রুবিন্দু
রহমতের মুক্তা হয়ে থাকে।
বৃষ্টি নামে রহমত হয়ে,
জাগায় মৃত ধরার প্রাণ;
তেমনি দুঃখ শেষে আল্লাহ
দান করেন নতুন ভোরের গান।
শুকনো ডালে কুঁড়ি যেমন
ফোটে নবীন বসন্তে;
আশার আলো তেমনি জ্বলে
ঈমানভরা অন্তরেতে।
অন্যায় যত মাথা তোলে,
স্থায়ী তার সাম্রাজ্য নয়;
সত্যের দীপ জ্বলে অবিরাম,
নিভিয়ে দিতে পারে না কেউ।
অত্যাচারী শক্তি ক্ষণিক,
ন্যায়ের জয় অনন্তকাল;
রবের বিচারে সত্যের পক্ষে
ঝুঁকে থাকে ন্যায়ের পাল।
বৃষ্টি নামে, অশ্রু ঝরে—
দুই স্রোতের এক ইতিহাস;
একটি ধোয় মাটির ধূলি,
একটি ধোয় হৃদয়ের হতাশ।
চোখের জল যদি ঝরে
আল্লাহর ভয় আর ভালোবাসায়;
সেই অশ্রু হারায় না কখনো,
রহমতের খাতায় লেখা রয়।
মানুষ যদি বুঝতে না-ও পারে,
রব তো জানেন অন্তরখানি;
নিঃশব্দ দোয়া, নীরব কান্না—
সবই পৌঁছে তাঁর দরবারে জানি।
সিজদার মাটিতে ঝরা অশ্রু
ব্যর্থ হয় না কভু;
ধৈর্যশীল বান্দার প্রতি
অশেষ দয়া করেন প্রভু।
তাই আজও আমি বৃষ্টিতে হাঁটি—
হার মানিবার জন্য নয়;
বরং বুকে ঈমানের দীপ
জ্বালিয়ে চলি নির্ভয়।
ঝড়ের শেষে যেমন আকাশ
নীলিমায় ভরে যায়;
তেমনি মুমিন কষ্ট পেরিয়ে
রহমতের আলো পায়।
বৃষ্টি লুকায় চোখের অশ্রু,
লুকায় না হৃদয়ের ঈমান;
যার অন্তরে আল্লাহর স্মরণ,
সে-ই সত্যিকারের ধনবান।
সবর যার জীবনের অলংকার,
দোয়া যার শক্তির ডানা;
দুনিয়ার সব ঝড় পেরিয়েও
সে খুঁজে পায় শান্তির ঠিকানা।
যদি কখনো ভেঙে পড়ে মন,
হতাশায় ঢেকে যায় পথ;
মনে রেখো—রবের রহমত
সবচেয়ে বড় আশ্রয়-শক্ত।
আমি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোবাসি—
তাই নয় শুধু চোখের জল লুকোই;
বরং প্রতিটি ফোঁটায় শুনি—
"ধৈর্য ধরো, আমি তোমার সঙ্গেই।"
বৃষ্টি থেমে যায়, মেঘও সরে,
ফিরে আসে সোনালি ভোর;
অশ্রুও একদিন হাসি হবে,
যদি থাকে রবের উপর ভর।
অত্যাচার, অপবাদ, বিরোধ যত—
সবই ক্ষণিক জীবনের পথ;
সত্য, ধৈর্য, ঈমান যার সাথী,
তারই জন্য অনন্ত জয়ের রথ।
***
বৃষ্টির আড়ালে অশ্রুর দোয়া
আমি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোবাসি—
ভেজার নেশায় নয় যে প্রাণ;
বর্ষার বুকে লুকিয়ে রাখি
হৃদয়ভাঙা নীরব গান।
ঝরো বৃষ্টির প্রতিটি ফোঁটা
মুছে দেয় ধুলিমাখা পথ;
আমার চোখের অশ্রুবিন্দুও
মিশে যায় তারই সঙ্গে রত।
কে-ই বা চিনবে কোনটি বৃষ্টি,
কোনটি বুকের ব্যথার জল?
আকাশ কাঁদে, আমিও কাঁদি—
দুজনারই নীরব ছল।
অত্যাচারের কঠিন বোঝা,
বিরোধিতার তীক্ষ্ণ বাণ;
সত্যের পথে হাঁটতে গিয়ে
রক্তাক্ত হয় কত প্রাণ।
অন্যায় দেখে কথা বললে
জোটে উপহাস, নিন্দার ঢেউ;
সত্যের কণ্ঠ রুদ্ধ করতে
উঠে আসে কত অশুভ ঢেউ।
তাই তো আমি বৃষ্টিতে হাঁটি,
লুকোই শুধু চোখের জল;
দুর্বলতার জন্য নয় তা—
ভাঙা হৃদয় রাখি সম্বল।
মানুষ দেখে হাসির মুখ,
দেখে না বুকের ক্ষতচিহ্ন;
অন্তরজুড়ে জমে থাকে
নীরব ব্যথার দীর্ঘ ঋণ।
স্বার্থের ভিড়ে আপন মানুষ
অনেক সময় দূরে যায়;
তবু একজন আছেন সদা—
বান্দার ডাকেই সাড়া দেন হায়।
রাতের শেষে সিজদার মাটিতে
যখন ঝরে অশ্রুধারা;
ফেরেশতারাও সাক্ষী থাকে,
শোনেন দয়াময় পরওয়ারা।
পবিত্র কুরআন শোনায় আশা—
কষ্টের সাথেই স্বস্তি রয়;
ধৈর্য যার জীবনের সাথী,
পরাজয় তার কখনো নয়।
ঝড় যতই দীর্ঘ হোক না,
থেমে যায় একদিন শেষে;
মেঘের আড়াল ভেঙে সূর্য
হাসে নতুন আলোর বেশে।
বৃষ্টি যেমন মৃত ধরায়
সবুজ জীবনের বার্তা আনে;
রবের রহম তেমনি নেমে
আশা জাগায় ভাঙা প্রাণে।
অশ্রু যদি ঝরে নীরবে
রবের ভয় আর ভালোবাসায়;
প্রতিটি ফোঁটা মুক্তা হয়ে
রহমতের খাতায় লেখা যায়।
মানুষ যদি না-ও বুঝুক,
রব তো জানেন অন্তরগাঁথা;
নিঃশব্দ দোয়া, নীরব কান্না—
সবই পৌঁছে তাঁরই কাছে যথা।
যে হৃদয় সবর শিখেছে,
সে-ই তো সত্য বীরের দল;
অভিমান নয়—দোয়াই তার
জীবনভরা শ্রেষ্ঠ সম্বল।
আমি বৃষ্টিতে হাঁটতে ভালোবাসি—
আজও সেই পুরোনো মতো;
কারণ বৃষ্টি শেখায় আমায়—
ধৈর্যই মুমিনের শ্রেষ্ঠ রথ।
অশ্রু লুকায় বৃষ্টিধারা,
লুকায় না ঈমানের দীপ;
যার অন্তরে আল্লাহর স্মরণ,
তার জীবনেই শান্তির নীড়।
অত্যাচার, অপবাদ, বিরোধ যত—
সবই ক্ষণিক, সবই ক্ষয়;
সত্যের পথে অটল যারা,
চূড়ান্ত বিজয় তাদেরই হয়।
যেদিন বৃষ্টি থেমে যাবে,
মেঘ সরিয়ে উঠবে ভোর;
সেদিন বুঝব—প্রতিটি কান্না
ছিল রহমতেরই এক সুর।
তাই আজও বৃষ্টিতে হাঁটি আমি,
হার মানিবার জন্য নয়;
রবের ওপর ভরসা রেখে
সত্যের পথেই হোক পরিচয়।
চোখের জল যদি লুকিয়েও যায়,
রবের কাছে লুকায় না কিছু;
তিনি জানেন প্রতিটি দীর্ঘশ্বাস,
প্রতিটি দোয়া, প্রতিটি পিছু।
বৃষ্টি তাই শুধু বর্ষণ নয়—
এ এক ধৈর্যের পবিত্র ভাষা;
যে ভাষায় লেখা থাকে চিরকাল
মুমিন হৃদয়ের নীরব আশা।
১৩
১৫ মন্তব্য