সহকারী অধ্যাপক
২২ জুলাই, ২০২৬ ০৪:৩৩ পূর্বাহ্ণ
হাল ছেড়ো না - মোঃ মুজিবুর রহমান
হাল ছেড়ো না
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা,কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
পথের শেষে আলো জ্বলে, আঁধার যতই ঘন,
ধৈর্যের ডানায় উড়ে চলে সফলতার রথগমন।
ঝড়ের পরে রঙিন আকাশ, বৃষ্টির পরে ভোর,
হাল না ছাড়া প্রাণের কাছে হার মানে অন্ধ ঘোর।
কত যে স্বপ্ন ভেঙে গেছে মাঝপথেরই বাঁকে,
কত যে আশা হারিয়ে গেছে অবসাদের ফাঁকে।
কেউ বা ভেবেছে—"হবে না আর, শেষ হয়েছে সব",
অথচ তখন সাফল্য ছিল হাতের খুবই কাছাকাছি রব।
মাটির নিচে বীজটি যখন নীরব থাকে চুপ,
ভেবো না সে মরে গেছে, শেষ হয়েছে রূপ।
অদৃশ্য সেই প্রস্তুতিতে গড়ে নতুন প্রাণ,
সময় হলে সবুজ হয়ে ভরায় ধরার প্রাণ।
শামুকবুকে লুকিয়ে থাকে অমূল্য মুক্তাদান,
পাথর ঘষে দীপ্তি পায় হীরের সম্মান।
আগুন ছুঁয়ে সোনা যেমন খাঁটি রূপে জ্বলে,
দুঃখ সয়ে মানুষ তেমনি মহিমায়ই ফলে।
একটি নদী থামে না তো পাথর পেলে পথ,
ধৈর্য নিয়ে ঘুরে দাঁড়ায়, গড়ে নতুন রথ।
সাগরপানে ছুটে চলে নিরন্তর অভিযানে,
বাধা পেরোনো শিক্ষাটিই জয় এনে দেয় প্রাণে।
পাহাড় দেখে ভয় পেলে কি শিখর হবে জয়?
অলস বসে থাকলে কভু পূরণ হবে নয়।
যে ঘাম ঝরায় কর্মপথে নিষ্ঠা বুকে নিয়ে,
তারই কপাল দীপ্ত হয়ে ওঠে আলো ছড়িয়ে।
জীবন যেন পরীক্ষাক্ষেত্র মহান রবের দান,
ধৈর্য, চেষ্টা, ঈমান নিয়ে চলাই মুমিনের প্রাণ।
আল্লাহ বলেন—ধৈর্যধারী পায় অশেষ ফল,
বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলো, দূর হবে সব ছল।
বিপদ যখন ঘিরে ধরে, মনকে কোরো দৃঢ়,
আল্লাহরই রহমতে হবে দুঃখের রাত সুদূর।
যে বান্দা তাওয়াক্কুলে রাখে নিজের প্রাণ,
তারই জন্য খুলে যায় রহমতেরই দ্বার মহান।
হাল ছেড়ে দিও না বন্ধু, যতই আসুক ক্ষতি,
রাতের পরে সূর্য ওঠে—এটাই সৃষ্টির গতি।
বুকের মাঝে আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখো সদা,
নৈরাশ্যের অন্ধকারে হারিয়ে যেও না।
অনেকেই তো ফিরেছে ঘরে অপূর্ণ স্বপ্ন নিয়ে,
শেষ মুহূর্তে থেমে গেছে ক্লান্তি বুকে নিয়ে।
একটি মাত্র পদক্ষেপেই মিলত হয়তো জয়,
অধৈর্যেরই কারণে আজ ইতিহাসে নেই পরিচয়।
কৃষক যেমন বীজ বপনে রাখে অগাধ ভরসা,
মেঘ না এলেও হারায় না তার শ্রমের ভাষা।
ঋতু ঘুরে ফসল যখন হাসে সোনার ক্ষেতে,
ধৈর্যেরই সে অমর কাব্য ফুটে ওঠে মেতে।
শিক্ষার্থীও জ্ঞানের পথে পড়ে বারবার,
ভুলকে শুধরে শেখে সে নতুন দিনের দ্বার।
পরিশ্রমের প্রতিটি ক্ষণ অমূল্য পাথেয় হয়,
জ্ঞান-আলোয় আলোকিত হয় ভবিষ্যতের জয়।
ব্যর্থতা নয় শেষ কথা, শিক্ষা তারই নাম,
প্রতিটি ক্ষত শেখায় মানুষ জীবন জয়ের দাম।
যে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়, সে-ই জেতে শেষে,
অলস যারা বসে থাকে, হারায় নীরব দেশে।
ইসলাম শেখায়—কর্ম করো, ভরসা রাখো রব,
সৎপথ ছেড়ে কখনো কভু করো না কোনো লোভ।
হালাল পথে চেষ্টা যারা করে অবিরাম,
আল্লাহ দেন উত্তম প্রতিদান, করেন সম্মান দান।
অহংকার নয়, বিনয় রাখো প্রতিটি আচরণে,
সত্যকে ভালোবেসে চলো জীবনেরই ক্ষণে।
অন্যায় পথে ক্ষণিক লাভ শেষমেশ আনে ক্ষয়,
সত্যপথেই স্থায়ী সুখ, সেখানেই প্রকৃত জয়।
তোমার চোখে যদি আজও অশ্রুর নোনা ঢেউ,
মনে রেখো—রহমতেরই বার্তা লুকায় সেই।
ধৈর্যের ফল মধুর হয়—চিরন্তন এ বাণী,
আল্লাহর দান কখনো হয় না বৃথা জানি।
তাই তো বলি, হাল ছেড়ো না—চেষ্টা রেখো জাগ্রত,
প্রতিটি প্রভাত নতুন আশা, নতুন পথের রথ।
সাফল্য হয় তাদেরই, যারা থামে না কভু,
প্রভুর নামে এগিয়ে চলে, রাখে অটল তবু।
শেষ নিশ্বাস পর্যন্ত মানুষ চেষ্টা করে যাক,
সৎকর্মে আর কল্যাণপথে জীবনভরই থাক।
দুনিয়াতেও সম্মান মেলে, আখিরাতেও জয়,
ধৈর্য, ঈমান, অধ্যবসায়—সফলতার পরিচয়।
***
হাল ছেড়ো না
রাত্রি যতই গভীর হোক, ভোর যে আসবেই শেষে,
আশার সূর্য উঠবেই আবার দিগন্তজোড়া হেসে।
কালো মেঘে ঢাকে যে আকাশ, চিরদিন কি রয়?
ধৈর্যের ডানায় উড়ে এসে আলোরই হয় জয়।
ক্লান্ত পায়ে থেমো না বন্ধু, পথ এখনও বাকি,
লক্ষ্যের দ্বারে পৌঁছতে হয় অগণিতই ফাঁকি।
একটি পদ আর বাড়ালেই খুলবে জয়ের দ্বার,
অধৈর্যেরই কারণে কত স্বপ্ন হয়েছে হার।
মাটির তলে নীরব বীজ অঙ্কুর লুকিয়ে রয়,
অদেখা সেই প্রস্তুতিতেই ভবিষ্যতের জয়।
সময় এলে সবুজ হয়ে শস্যে ভরে মাঠ,
ধৈর্যের ফল ফুটে ওঠে সুখের রঙিন ঘাট।
শামুকের বুকের গভীরেতে মুক্তার জন্ম হয়,
অগ্নিপরীক্ষা পেরিয়ে সোনা পায় খাঁটি পরিচয়।
হীরকখণ্ড দীপ্তি পায় অসংখ্য আঘাতে,
দুঃখ মানুষ গড়ে তোলে মহিমারই সাথে।
নদী থেমে থাকে না কভু পাথর এলে পথে,
নতুন বাঁকে বয়ে চলে সাগর খোঁজার রথে।
শিখর ডাকে অভিযাত্রীকে সাহস ভরা প্রাণে,
ভয়কে জয় করেই মানুষ পৌঁছে সাফল্যগানে।
ব্যর্থতা কোনো শেষ নয়, শিক্ষার প্রথম ধাপ,
হাজার ভুলের সিঁড়ি বেয়ে জাগে সফলতার ছাপ।
যে হার মেনে বসে থাকে, হারই তার পরিচয়,
যে উঠে দাঁড়ায় শতবার, তারই জীবনে জয়।
শিক্ষার্থী রাত জেগে পড়ে, কৃষক বোনে ধান,
শ্রমিক ঘামে ভিজিয়ে গড়ে উন্নতিরই গান।
মায়ের দোয়া, বাবার আশা, শিক্ষকের আহ্বান—
অধ্যবসায়েই পূর্ণ হয় প্রতিটি মহাপ্রাণ।
আল্লাহ বলেন—ধৈর্য ধরো, হারিও না মন,
কষ্টের সাথেই লুকিয়ে থাকে সহজতার ক্ষণ।
মুমিন কখনো নিরাশ নয় রবের রহমতে,
আশা নিয়ে এগিয়ে চলে সত্যেরই পথে।
তাওয়াক্কুলের দৃঢ় হাতে ধরো জীবনের হাল,
সৎকর্ম দিয়ে সাজাও প্রতিটি দিনের কাল।
হালাল রুজি, পবিত্র চিত্ত, বিনয়ভরা প্রাণ,
এসব নিয়েই গড়ে ওঠে মানুষের সম্মান।
ঝড়ের মুখে দীপ যে জ্বলে, সেই তো সত্য দীপ,
দুঃখসাগর পাড়ি দিয়েই সুখের আসে নীপ।
অন্ধকারে হার মানিলে আলো কেমন মেলে?
চেষ্টা যারা থামায় না কভু, বিজয় তাদের খেলায় মেলে।
পাহাড়সম বাধা এলেও থেমো না একবার,
সাহসীরা ইতিহাসে লেখে অমর অক্ষরধার।
যারা ভয়কে জয় করেছে সত্যের শক্তি ধরে,
মানবতার দীপ জ্বালিয়ে বেঁচে থাকে ঘরে ঘরে।
স্বপ্ন যদি ভেঙে যায়ও, নতুন স্বপ্ন গড়ো,
আশাহীনতার মরুভূমি ছেড়ে আলোর পথ ধরো।
আল্লাহর দান অশেষ বন্ধু, রহমত অপরিসীম,
ধৈর্যধারী বান্দার জীবন হয় কল্যাণময় মহান।
কর্মই মানুষ চিনিয়ে দেয়, নয় কেবল ভাষণ,
নিষ্ঠা, সততা, আত্মত্যাগ—এসব মহারত্ন।
যে নিজেকে গড়তে জানে, গড়ে মানবজীবন,
তারই হাতে প্রস্ফুটিত হয় উন্নতিরই ভুবন।
আজ যে পথে কাঁটা বিছানো, কাল সে পথে ফুল,
ধৈর্যের জল সিঞ্চন করলে মুছে যাবে ভুল।
সফলতা কোনো হঠাৎ পাওয়া অলৌকিক উপহার নয়,
সততা, শ্রম, ঈমান মিলেই গড়ে স্থায়ী জয়।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থেকো প্রভুরই ভরসায়,
তাঁর রহমতে দুঃখ মুছে হাসি ফুটবে আশায়।
যে কখনো হাল ছাড়ে না, সে-ই প্রকৃত বীর,
আল্লাহ তার পথের শেষে রাখেন শুভ নীড়।
দুনিয়াতে সম্মান মেলে, আখিরাতে নূর,
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে কাটে জীবনের সুর।
হাল ছেড়ো না, এগিয়ে চলো—এ জীবন অমূল্য দান,
ধৈর্য, ঈমান, অধ্যবসায়—সফলতারই গান।
***
হাল ছেড়ো না
যতই ঘনায় কালো আঁধার, ভোর কি থাকে দূর?
রাতের শেষে সূর্য ওঠে ছড়িয়ে সোনার নূর।
ঝড়ের পরে শান্ত আকাশ, বর্ষার পরে হাসি,
ধৈর্য যার অন্তরে জাগে, জয় তারই উদাসী।
থেমো না আর ক্লান্ত পায়ে, পথ এখনও বাকি,
লক্ষ্য যেন ডাকছে তোমায় আলোর সোনার ফাঁকি।
একটি ধাপ, আরেকটি ধাপ, তারপর বিজয়দ্বার,
হাল ছেড়ে যে ফিরে আসে, হারায় সে অধিকার।
মাটির বুকে বীজটি নীরব, ঘুমিয়ে থাকে ক্ষণ,
অদৃশ্য তার অন্তরজুড়ে নবজাগরণের মন।
সময় এলে অঙ্কুর ফোটে, সবুজ শস্য দোলে,
ধৈর্যেরই অমৃতধারা জীবনভূমি তোলে।
শামুকেরই বুকের ভেতর মুক্তা লুকায় চুপ,
অগ্নিপথে সোনা পায় যে নির্মল সোনার রূপ।
হীরকখণ্ড দীপ্তি ছড়ায় শত আঘাত সয়ে,
সংগ্রামী প্রাণ মহৎ হয় দুঃখের আগুন বয়ে।
নদী কি আর থেমে থাকে পাথর পেলে পথে?
বাঁক বদলে ছুটে চলে সে সাগরেরই রথে।
বাধা শুধু শেখায় মানুষ নতুন পথের জ্ঞান,
সংকট পেরিয়ে ফুটে ওঠে বিজয়-অভিযান।
পাহাড় দেখে ফিরলে পিছু শিখর পাবে কে?
ঝুঁকি নিলে তবেই মানুষ গৌরব পায় বুকে।
যে ঘাম ঝরায় নিষ্ঠাভরে সত্যের কর্মপথে,
সাফল্যের ফুল ফোটে তার জীবনবাগানমতে।
ব্যর্থতা তো শেষ নয় গো, শিক্ষার প্রথম পাঠ,
হাজার ভুলের ইট গেঁথে সফলতার ঘাট।
পড়ে গিয়েও উঠতে শেখো, হার মানো না কভু,
দৃঢ় মনই মানুষ গড়ে, ভাঙে না সে তবু।
শিক্ষার্থী রাত জেগে পড়ে, কৃষক বোনে ধান,
শ্রমিক গড়ে সেতু-নগর, শিল্পীর জাগে গান।
মায়ের দোয়া, বাবার আশা, শিক্ষকের উপদেশ,
অধ্যবসায় সফল করে জীবনের পরিবেশ।
আল্লাহ বলেন—ধৈর্য ধরো, নিরাশ হয়ো না,
কষ্টের সাথে সহজ আছে—ভুলো না সে কথা।
মুমিন কভু আশা হারায় না রবের রহমতে,
সত্যের পথে অবিচল সে আলোরই অভিযাতে।
তাওয়াক্কুলে শক্ত হও, কর্মে থেকো দৃঢ়,
হালাল পথে জীবন গড়ো, মন হোক পবিত্র।
সততা আর ন্যায়ের পথে রাখো নিজের প্রাণ,
এসব দিয়েই গড়ে ওঠে মানুষের সম্মান।
অহংকারে নয় উন্নতি, বিনয় আনে জয়,
অন্যায় পথে ক্ষণিক লাভ স্থায়ী সুখ নয়।
সত্যের পথে চলতে গিয়ে কষ্ট এলেও হাসো,
আল্লাহরই সন্তুষ্টিতে জীবনের রঙ ভাসো।
ঝড়ের মাঝে দীপ জ্বলে যে, সেই তো সত্য দীপ,
দুঃখসাগর পাড়ি দিলেই সুখের মেলে নীপ।
অন্ধকারে ভয় না পেয়ে এগিয়ে চলো ধীর,
ধৈর্যবানই শেষ পর্যন্ত হয় প্রকৃত বীর।
স্বপ্ন যদি ভেঙে যায়ও, নতুন স্বপ্ন গড়ো,
হতাশার সব শৃঙ্খল ভেঙে আশার পতাকা ধরো।
মেঘের আড়াল ভেদ করেই সূর্য হাসে নিত্য,
বিশ্বাস রেখে এগিয়ে চলাই জীবনেরই নিত্য।
কর্মই মানুষ চিনিয়ে দেয়, কথায় নয় পরিচয়,
নিষ্ঠা, শ্রম আর আত্মত্যাগ স্থায়ী করে জয়।
নিজেকে যে জয় করেছে, জয় করেছে বিশ্ব,
তার জীবনেই ফুটে ওঠে সফলতার দিশা।
শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত থেকো আল্লাহরই ভরসায়,
রহমতেরই স্নিগ্ধ ছায়া মিলবে নিশ্চয় আশায়।
যে বান্দা হাল ছাড়ে না কভু সত্যপথের তরে,
রবের কৃপা নেমে আসে তারই অন্তরে।
দুনিয়াজুড়ে সম্মান মেলে, আখিরাতে নূর,
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে জীবন হয় ভরপুর।
হাল ছেড়ো না—চেষ্টা করো প্রতিটি নিশ্বাসে,
সফলতার ফুল ফুটবেই আল্লাহরই আশিসে।
একটি ব্যর্থতা কেবলই নতুন পথের দিশা,
অবিরাম প্রচেষ্টাতেই জাগে জয়ের আশা।
আজ যে কাঁদে সংগ্রামে, কাল সে হাসে জয়,
অধ্যবসায়ীর জীবনগাঁথা যুগে যুগে অক্ষয়।
***
হাল ছেড়ো না
যতই ঘনায় দুঃখের মেঘ, ততই জাগে ভোর,
আশার দীপ নিভে না কভু, ঝড় যতই হোক ঘোর।
রাত্রি যতই দীর্ঘ হোক, ফুরোয় তারও কাল,
ধৈর্যের বুকেই ফুটে ওঠে সাফল্যেরই জ্যোতিজাল।
পাহাড় ডিঙায় যে অভিযাত্রী, সাগর পাড়ি দেয়,
হাল ছাড়েনি বলেই সে আজ ইতিহাসে ঠাঁই পায়।
কাঁটার পথে রক্ত ঝরে, তবু থামে না পা,
স্বপ্নবীণায় বাজে তখন জয়েরই ব্যাকুল সুরধ্বজা।
অনেকে ফিরে মাঝপথ থেকে, ভেবে—'শেষ আজ সব',
অথচ সামনে অপেক্ষায় ছিল সাফল্যেরই রব।
একটি ধাপ, একটি ক্ষণ, একটি সাহসী প্রাণ—
সেইটুকুতেই বদলে যেত জীবনেরই গান।
বীজটি যখন মাটির তলে অন্ধকারে রয়,
অজ্ঞ চোখে মনে হয়—তার বুঝি নেই আর জয়।
কিন্তু নীরব প্রস্তুতিতে সে গড়ে নতুন প্রাণ,
সময় এলে শস্য হয়ে ভরে সোনার ধান।
ঝিনুকবুকে মুক্তা গড়ে সাগরেরই তলে,
আগুন ছুঁয়ে সোনা হাসে নির্মল দীপ্তিজ্বলে।
আঘাত পেয়ে হীরকখণ্ড জ্বলে অনির্বাণ,
দুঃখ মানুষ গড়ে তোলে মহিমার সম্মান।
নদী শেখায়—বাধা এলে থামতে নেই কভু,
পাথর এড়িয়ে পথ বানাও, সাহস রেখো তবু।
ঈগল শেখায়—ঝড়ের বুকে উড়তে শেখো ভাই,
প্রতিকূলতাই শক্তি গড়ে, পরাজয় নয় তাই।
আল্লাহ বলেন—ধৈর্য ধরো, ভেঙো না অন্তর,
প্রতিটি কষ্টের পরেই আসে স্বস্তিরই প্রহর।
যে বান্দা রবের ওপর রাখে অটল ভরসা,
তার জীবনেই নেমে আসে রহমতেরই ভাষা।
তাওয়াক্কুলের মজবুত হাতে ধরো জীবনের হাল,
সত্যের পথে অটল থেকো সকাল-বিকেল-কাল।
হালাল রুজি, নির্মল মন, ন্যায়ের দীপ্তি সাথে—
এগুলোই তো মানুষ গড়ে ইহকাল-পরকালে।
ব্যর্থতা কোনো লজ্জা নয়, শেখার প্রথম পাঠ,
হাজার ভুলের ইট গেঁথে সাফল্যেরই ঘাট।
যে পড়ে গিয়ে উঠে দাঁড়ায়, জয় তারই হয়,
যে বসে থাকে ভয়ে কাঁপে, হারই তার পরিচয়।
বন্ধু শোনো, হাল ছেড়ো না, পথ এখনও বাকি,
লক্ষ্য তোমায় ডাকছে নীরব আলোর শুভ ফাঁকি।
শেষ পদক্ষেপ অনেক সময় বিজয়েরই দ্বার,
অধৈর্যেরই কারণে কত স্বপ্ন হয়েছে হার।
চেষ্টা করো শেষ নিশ্বাস, রাখো রবের নাম,
সবর, শোকর, তাওয়াক্কুলে উজ্জ্বল হোক প্রাণ।
দুনিয়াতে সম্মান মেলুক, আখিরাতে নূর—
ঈমান, শ্রম, অধ্যবসায় হোক জীবনের সুর।
হাল ছেড়ো না কখনো তুমি, কষ্ট যতই বাড়ে,
সাফল্যের সূর্য হাসে ধৈর্যেরই দ্বারে।
আল্লাহ যাকে ভালোবাসেন, পরীক্ষা দেন তাঁকে,
সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণরাই পৌঁছে মহিমার শিখরে।
১৩
১৫ মন্তব্য