সহকারী শিক্ষক
২২ জুলাই, ২০২৬ ১২:২৪ অপরাহ্ণ
'একটা ঘর ও তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা হলে মরেও শান্তি পাইতাম' দুঃখ ভারাক্রান্ত মন নিয়ে এই কথা বলেছেন এক অসহায় ব্যক্তি
কবির উদ্দিন বলেন, এনআইডি কার্ড ছাড়া আমার আর কিছুই নেই। মরার আগে যদি একটা ঘর আর তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা হতো, তাহলে মরেও শান্তি পাইতাম। কাফনের কাপড় কেনারও সামর্থ্য নেই। যার কেউ নেই, তার আল্লাহ আছেন।
তার স্ত্রী নূর জাহান বেগম বলেন, ৭০ বছর মানুষের বাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়েছি। এখন আর কাজ করতে পারি না। ভিক্ষা করারও শক্তি নেই। নিজের কষ্টের চেয়ে বেশি কষ্ট লাগে, যখন বৃদ্ধ স্বামী ক্ষুধায় ছটফট করে। সরকারের অনেক সহায়তা আসে, কিন্তু আমাদের ভাগ্যে কিছুই জোটে না। গত ঈদেও কোনো সহায়তা পাইনি।
স্থানীয় বাসিন্দা লিটন সিদ্দিকী বলেন, আমাদের জমিতে প্রায় ৭০ বছর ধরে তারা বসবাস করছেন। পাঁচটি ভাঙা টিনের একটি ছাপড়া ছাড়া তাদের কোনো সম্পদ নেই। সরকার যদি তাদের জন্য একটু জমি, একটি ঘর এবং খাবারের ব্যবস্থা করে, তাহলে জীবনের শেষ সময়টা অন্তত মানবিকভাবে কাটাতে পারবেন।
মিয়াপাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক প্রধান শিক্ষক মাসুমুল হক সিদ্দিকী বলেন, জরাজীর্ণ ছাপড়াটির টিন ফুটো হয়ে গেছে। বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে। চারপাশে আবর্জনা থাকায় পোকামাকড় ও বিষধর সাপের উপদ্রব রয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই এই বৃদ্ধ দম্পতি সেখানে বসবাস করছেন।
এ বিষয়ে বকশীগঞ্জের সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক আসমা উল হুসনা বলেন, বিষয়টি আগে আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের জানানো হয়নি। জানলে আগেই প্রয়োজনীয় সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া যেত। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। পৌরসভার পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহায়তার সুযোগ থাকলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩
১৫ মন্তব্য