Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:০৪ অপরাহ্ণ

Fermi Explorer Mission

মানুষ চাঁদে গেছে, মঙ্গল গ্রহে রোভার পাঠিয়েছে, সৌরজগতের সীমানা পেরিয়ে মহাকাশযানও পাঠিয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো মানবনির্মিত মহাকাশযানকে অন্য কোনো নক্ষত্রের উদ্দেশ্যে সরাসরি পাঠানো হয়নি।


এই বাস্তবতাই বদলাতে চায় নতুন একটি উদ্যোগ, যার নাম Fermi Explorer Mission। পরিকল্পনাটি অবিশ্বাস্যভাবে উচ্চাভিলাষী, আবার একই সঙ্গে অস্বাভাবিকভাবে সাশ্রয়ী। মিশনটির লক্ষ্য ২০২৯ সালের শেষ হওয়ার আগেই একটি ছোট মহাকাশযান উৎক্ষেপণ করা, যার গন্তব্য হবে আমাদের নিকটতম নক্ষত্রমণ্ডল Alpha Centauri।


কিন্তু এখানে রয়েছে সবচেয়ে আশ্চর্য বিষয়।মহাকাশযানটির Alpha Centauri পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে প্রায় ৭৭,৫০০ থেকে ৮০,০০০ বছর। অর্থাৎ এটি কোনো দ্রুতগতির আন্তঃনাক্ষত্রিক যান নয়। বরং এটি এমন একটি মহাজাগতিক বার্তা, যা আজকের মানুষ পাঠাবে ভবিষ্যতের মানুষের উদ্দেশ্যে।


Fermi Explorer-এর লক্ষ্য অন্তত ১ কিলোগ্রামের একটি পেলোড বহন করা এবং Alpha Centauri-এর প্রায় ৯৯ শতাংশ পথ অতিক্রম করা। পুরো মিশনটি নকশা, নির্মাণ, উৎক্ষেপণ ও পরিচালনাসহ ১৫ মিলিয়ন ডলারের কম খরচে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।


এত ছোট বাজেটে কীভাবে এমন দূরযাত্রা সম্ভব হবে?পরিকল্পনায় প্রচলিত, পরীক্ষিত প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত মিশন প্রোফাইলে মহাকাশযানটি সূর্যের কাছাকাছি গিয়ে একাধিকবার গতি বাড়াবে। এই perihelion pump কৌশলে সূর্যের তীব্র সৌরশক্তি এবং Oberth effect কাজে লাগিয়ে ধীরে ধীরে মহাকাশযানটির বেগ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।


প্রস্তাবিত মহাকাশযানটি উৎক্ষেপণের পর দীর্ঘ সময় ধরে সূর্যের চারপাশে কৌশলগত কক্ষপথে অবস্থান করতে পারে এবং শেষ পর্যন্ত ঘণ্টায় প্রায় ৫৫ হাজার মাইল সমতুল্য গতিতে সৌরজগত থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে যেতে পারে।


তবে এই মিশনের আসল উদ্দেশ্য শুধু Alpha Centauri-তে পৌঁছানো নয়। এর নাম এসেছে Enrico Fermi এবং তার বিখ্যাত Fermi Paradox থেকে যদি মহাবিশ্বে বুদ্ধিমান প্রাণের অস্তিত্ব এত সম্ভাব্য হয়, তাহলে আমরা এখনো তাদের কোনো নিশ্চিত প্রমাণ দেখি না কেন?


Fermi Explorer সেই প্রশ্নটিকেই মানুষের সামনে নতুনভাবে তুলে ধরতে চায়। মহাকাশযানে Golden Record-এর মতো মানবজাতির প্রতিনিধিত্বকারী তথ্য রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে। এমনকি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের শিশুদের নিজেদের ভাষায় ছোট বার্তা পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও মিশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।


সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই মহাকাশযান যখন Alpha Centauri-এর কাছে পৌঁছাবে, তখন আজকের পৃথিবী হয়তো আর থাকবে না। মানবসভ্যতা হয়তো সম্পূর্ণ বদলে যাবে। পৃথিবীর দেশ, ভাষা, প্রযুক্তি এগুলো হয়তো অচেনা হয়ে যাবে। তবুও একটি ছোট মহাকাশযান ছুটে চলবে। একটি প্রাচীন সভ্যতার ক্ষুদ্র স্মৃতি নিয়ে। একটি প্রশ্ন নিয়ে। আর হয়তো সেই কারণেই Fermi Explorer Mission-এর সবচেয়ে বড় অর্জন Alpha Centauri-তে পৌঁছানো নয়।


অর্জনটি হতে পারে আজ, ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে, মানুষ প্রথমবারের মতো এমন একটি যাত্রা শুরু করার সাহস দেখাচ্ছে, যার শেষ দেখার জন্য তাকে প্রায় ৮০ হাজার বছর অপেক্ষা করতে হবে। হয়তো এটি আমাদের জন্য কোনো যাত্রার শেষ নয়। হয়তো এটি ভবিষ্যৎ মানবজাতির জন্য রেখে যাওয়া প্রথম আন্তঃনাক্ষত্রিক পদচিহ্ন।


মন্তব্য করুন