সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি গঠনের নীতিমালায় আবারও পরিবর্তন
দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি গঠন ও পরিচালনার ক্ষেত্রে নতুন নীতিমালা আনতে যাচ্ছে সরকার। নতুন এই নীতিমালার আওতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে কমিটি গঠনের বিদ্যমান প্রক্রিয়ায় বেশ কয়েকটি পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হচ্ছে—বিধি মেনে এখন থেকে নিজ উপজেলার বাইরের ব্যক্তিরাও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
শনিবার শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল, সেটিকে ভিত্তি হিসেবে নিয়ে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। তবে আগের নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় কিছু পরিবর্তন ও সংশোধন আনা হচ্ছে। নীতিমালাটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পাওয়ার পরপরই প্রকাশ করা হবে বলে জানা গেছে।
অন্য উপজেলা থেকেও কমিটিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ
নতুন নীতিমালায় পরিচালনা কমিটিতে সদস্য বা সংশ্লিষ্ট পদে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা কিছুটা শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলার বাইরে থাকা ব্যক্তিদের সুযোগ সীমিত ছিল। বিশেষ করে নিজ উপজেলার বাইরে কাউকে মনোনয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা ছিল।
তবে নতুন নীতিমালা কার্যকর হলে বিধিবিধান মেনে অন্য উপজেলা থেকেও আগ্রহী ব্যক্তিরা কমিটিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ শুধু সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা নির্দিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যেই কমিটির সদস্য হওয়ার সুযোগ সীমাবদ্ধ থাকবে না। দেশের যেকোনো উপজেলা থেকে যোগ্য ব্যক্তি নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আবেদন করতে পারবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
এতে পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে যোগ্য ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গেজেটেড কর্মকর্তারাও যুক্ত হতে পারবেন
নতুন নীতিমালায় আরও একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। এবার গেজেটেড কর্মকর্তারাও ইচ্ছা করলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। আগের ব্যবস্থায় এ বিষয়ে যে সীমাবদ্ধতা ছিল, নতুন নীতিমালায় তা পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে গেজেটেড কর্মকর্তাদের কমিটিতে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রেও নির্ধারিত বিধিবিধান ও শর্ত অনুসরণ করতে হবে। অর্থাৎ শুধু কর্মকর্তা হলেই সরাসরি কমিটিতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ থাকবে না; নীতিমালায় নির্ধারিত প্রক্রিয়া ও যোগ্যতা পূরণ করতে হবে।
নিয়মিত কমিটি গঠনে গুরুত্ব
নতুন নীতিমালার অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠন নিশ্চিত করা। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি না থাকায় প্রশাসনিক ও একাডেমিক বিভিন্ন কার্যক্রমে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে সরকার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কমিটি গঠনের বিষয়ে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে।
ইতোমধ্যে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি নেই, সেসব প্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠনের মাধ্যমে নিয়মিত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
অ্যাডহক কমিটি গঠনে ফের তাগিদ
এরই মধ্যে গত ১৭ আগস্ট ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা কমিটি গঠন নিয়ে একটি চিঠি জারি করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রের আলোকে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এখনো অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে দ্রুত অ্যাডহক কমিটি গঠনের জন্য নতুন করে তাগিদ দেওয়া হয়।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানকে ওই চিঠি পাঠানো হয়েছে। চিঠিতে বিষয়টিকে ‘অতীব জরুরি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে হবে। এজন্য প্রতিষ্ঠানগুলোকে সর্বোচ্চ ১০ কর্মদিবস সময় দেওয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করা হয়।
অ্যাডহক কমিটির পরই নিয়মিত কমিটি
শিক্ষা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠনের আগে অ্যাডহক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। অর্থাৎ যেসব প্রতিষ্ঠানে এখনো কোনো কমিটি গঠন করা হয়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানের জন্য অ্যাডহক কমিটি গঠনই হবে পরবর্তী নিয়মিত কমিটি গঠনের প্রাথমিক ধাপ।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চিঠি জারির পরও বোর্ডের আওতাধীন অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়নি বলে জানা গেছে। ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেসব প্রতিষ্ঠান এখনো অ্যাডহক কমিটি গঠন করতে পারেনি, তাদের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অ্যাডহক কমিটি গঠনের পর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠন করতে হবে। এ ক্ষেত্রে অ্যাডহক কমিটি এড়িয়ে সরাসরি অন্য কোনো পদ্ধতিতে নিয়মিত কমিটি গঠনের সুযোগ থাকবে না।
নীতিমালা প্রকাশের পরই পরিষ্কার হবে বিস্তারিত
শিক্ষা প্রশাসনের সূত্র জানিয়েছে, নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের নীতিমালার খসড়ায় বেশ কিছু পরিবর্তন আনার বিষয় নিয়ে কাজ চলছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর নীতিমালাটি প্রকাশ করা হবে। তখন কমিটির সদস্য হওয়ার যোগ্যতা, মনোনয়ন, আবেদন, ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা, গেজেটেড কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণ এবং নিয়মিত কমিটি গঠনের সময়সীমাসহ সব বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা পাওয়া যাবে।
নতুন নীতিমালা প্রকাশের পর দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিচালনা কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন কাঠামো তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে কমিটি না থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোতেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিয়মিত পরিচালনা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার ওপর জোর দেওয়া হবে।
১
১ মন্তব্য