সহকারী শিক্ষক
০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:৫০ পূর্বাহ্ণ
দেশে ২২ শতাংশ মানুষ এখনো নিরক্ষর

স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও দেশে সাত বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী জনসংখ্যার প্রায় ২২ শতাংশ নিরক্ষর। এই জনগোষ্ঠীর বড় অংশই বিদ্যালয়ের বাইরে থাকা বা ঝরে পড়া শিশু এবং শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী-পুরুষ।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই আজ ৮ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস। আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্যের সঙ্গে মিল রেখে বাংলাদেশে দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, 'মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা'।
দিবসটি সামনে রেখে গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাক্ষরতার বর্তমান পরিস্থিতি ও সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের তথ্য তুলে ধরেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সাত বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বর্তমানে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ৯ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ২২ দশমিক ১ শতাংশ জনগোষ্ঠী এখনো নিরক্ষর। উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনের জন্য তাদের সাক্ষরজ্ঞান ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদে রূপান্তর করা অত্যন্ত জরুরি।
দেশে নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে সাক্ষর করে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রকল্প বাস্তবায়ন করে আসছে সরকার। এসব কার্যক্রমের বড় অংশের বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো (বিএনএফই)। বিভিন্ন সময়ে প্রাথমিক সাক্ষরতা, ঝরে পড়া শিশু-কিশোর ও প্রাপ্তবয়স্কদের শিক্ষা, সাক্ষরতা-পরবর্তী শিক্ষা এবং জীবনমুখী দক্ষতা উন্নয়নের জন্য প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তবে প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ধরে রাখা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে আছে।
বিএনএফইর তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে গত ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ১২টি প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম বড় প্রকল্প ছিল মৌলিক সাক্ষরতা শিক্ষা (১৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী নিরক্ষর ও শিক্ষার সুযোগবঞ্চিত কিশোর-কিশোরী ও বয়স্ক 'নারী-পুরুষ)'। এ প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ লাখ মানুষকে সাক্ষরতার আওতায় আনা। বিএনএফইর দাবি, লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৪৪ লাখ ৫৯ হাজার মানুষের মৌলিক সাক্ষরতা অর্জন হয়েছে।
বর্তমানে দেশের ৫৮ জেলার সদর উপজেলায় 'কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ (প্রাক-বৃত্তিমূলক পর্যায়)' কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, এ কার্যক্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, শিক্ষা থেকে কর্মে উত্তরণের সুযোগ সৃষ্টি করা। ইতিমধ্যে বিশেষ কার্যক্রমের আওতায় নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন দক্ষ হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন শিক্ষার্থী কোনো না কোনো ধরনের চাকরির সংযোগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৬০৩ জন সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন।
বিশ্বজুড়ে সাক্ষরতার গুরুত্ব তুলে ধরতে ইউনেসকো ১৯৬৬ খ্রিষ্টাব্দে ৮ সেপ্টেম্বরকে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস ঘোষণা করে। পরের বছর ১৯৬৭ খ্রিষ্টাব্দে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালিত হয়। এরপর প্রতিবছর দিবসটি পালনের মধ্য দিয়ে সাক্ষরতার প্রয়োজনীয়তার পাশাপাশি শিক্ষা, দক্ষতা ও মানবিক উন্নয়নের সঙ্গে এর সম্পর্ক তুলে ধরা হচ্ছে।


১৪
২১ মন্তব্য