Loading..

ব্লগ

রিসেট

০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ণ

কনসেপ্ট ম্যাপিং শিখন কৌশল

কনসেপ্ট ম্যাপিং শিখন কৌশল (Concept Mapping Learning Strategy) হলো একটি চাক্ষুষ বা দৃশ্যমান (Visual) শিক্ষাদান পদ্ধতি, যার মাধ্যমে কোনো নির্দিষ্ট বিষয় বা মূল ধারণার সাথে সম্পর্কিত অন্যান্য ধারণাগুলোকে ছক, চিত্র বা নেটওয়ার্কের মাধ্যমে যুক্ত করে সহজভাবে প্রকাশ করা হয়। ১৯৭০-এর দশকে জোসেফ ডি. নোোভাক (Joseph D. Novak) এই শিখন কৌশলের প্রবর্তন করেন।

এই কৌশলে একটি প্রধান বিষয়কে কেন্দ্রে বা শীর্ষে রেখে তার সাথে সম্পর্কিত ছোট ছোট শাখা-প্রশাখা এবং ধারণাগুলোকে রেখা ও সংযোগকারী শব্দ (Linking words) দিয়ে যুক্ত করা হয়।


১. কনসেপ্ট ম্যাপের মূল উপাদানসমূহ:

  • মূল ধারণা (Central Node): বিষয়টি বা মূল টপিক (যেমন: "উদ্ভিদ")।

  • উপ-ধারণা (Sub-concepts): মূল বিষয়ের প্রধান অংশগুলো (যেমন: "মূল", "কাণ্ড", "পাতা")।

  • সংযোগকারী রেখা ও শব্দ (Linking Lines & Words): দুটি ধারণার মধ্যে সম্পর্ক বোঝাতে রেখার ওপর শব্দ লেখা হয় (যেমন: "উদ্ভিদের" থাকে  "পাতা")।

  • প্রস্তাবনা (Propositions): দুটি ধারণা এবং তাদের সংযোগকারী শব্দ মিলে তৈরি হওয়া একটি অর্থপূর্ণ বাক্য।


২. এটি যেভাবে তৈরি করতে হয়:

১. কেন্দ্রীয় বিষয় নির্ধারণ: যে বিষয়টি শিখতে চান বা পড়াতে চান তা বাছাই করুন (যেমন: "পদার্থের অবস্থা")।

২. ধারণার তালিকা তৈরি: উক্ত বিষয়ের প্রধান শব্দ বা ধারণাগুলো তালিকাভুক্ত করুন (যেমন: কঠিন, তরল, বায়বীয়, আয়তন, আকার)।

৩. শ্রেণিবিন্যাস: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা বড় ধারণাটি উপরে/মাঝে রেখে বাকিগুলো গুরুত্ব অনুযায়ী শাখা হিসেবে সাজান।

৪. সংযোগ স্থাপন: রেখা টেনে একটি ধারণার সাথে অন্য ধারণার সম্পর্ক যুক্ত করুন এবং সংযোগস্থলে বিবরণ দিন।


৩. এই কৌশলের প্রধান সুবিধাসমূহ:

  • জটিল বিষয় সহজীকরণ: বড় বা জটিল অধ্যায়কে সংক্ষিপ্ত এবং দৃশ্যমান উপায়ে উপস্থাপন করায় বুঝতে সুবিধা হয়।

  • পূর্বজ্ঞানের সাথে নতুন জ্ঞানের সংযোগ: শিক্ষার্থীরা তাদের আগের জানা তথ্যের সাথে নতুন শেখা তথ্য সহজে মেলাতে পারে।

  • সৃজনশীলতা ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি: ছবি বা ছকের মাধ্যমে পড়ার কারণে পড়া দীর্ঘদিন মনে থাকে এবং চিন্তাশক্তি বাড়ে।

  • দ্রুত রিভিশন: পরীক্ষার আগে পুরো একটি অধ্যায় রিভিশন দেওয়ার জন্য কনসেপ্ট ম্যাপ অত্যন্ত কার্যকর।


৪. ব্যবহারিক ক্ষেত্র:

  • বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: বিভিন্ন চক্র (যেমন: জলচক্র, খাদ্যশৃঙ্খল) এবং গঠন ব্যাখ্যায়।

  • ইতিহাস ও ভূগোল: কোনো ঘটনার পর্যায়ক্রমিক ধারা বা ভৌগোলিক বিন্যাস সাজাতে।

  • ভাষা ও ব্যাকরণ: ব্যাকরণের নিয়মাবলী বা সাহিত্যিক প্লট ম্যাপ করতে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ