Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪০ পূর্বাহ্ণ

শনির বায়ুমন্ডলে র্‌হস্যময় দশ কোণাকৃতির তরঙ্গের সন্ধান

সৌরজগতের সবচেয়ে আকর্ষণীয় গ্রহ হয়তো শনি। চারপাশের বিশাল ও সুন্দর বলয়ের জন্য মহাকাশপ্রেমীদের কাছে এর কদর একটু বেশি। কিন্তু এবার সেই শনি গ্রহ এমন এক অদ্ভুত কাণ্ড ঘটিয়েছে, যা দেখে রীতিমতো চোখ কপালে ওঠার জোগাড়। গ্রহটির বায়ুমণ্ডলে, ঠিক দক্ষিণ মেরুর ওপর দিয়ে বিশাল এক তরঙ্গের সৃষ্টি হয়েছে। তবে এটি সাধারণ কোনো ঢেউ নয়, দেখতে একেবারে নিখুঁত দশভুজের মতো! মহাকাশের বুকে হঠাৎ এমন জ্যামিতিক আকার দেখে বিজ্ঞানীরা রীতিমতো বিস্মিত।


বিষয়টা একটু সহজ করে বলা যাক। পৃথিবীতে যখন কোনো ঘূর্ণিঝড় বা বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়, সেটি সাধারণত বৃত্তাকার হয় এবং স্থলভাগে আঘাত হানার পর ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যায়। কারণ পাহাড় বা মাটির ঘর্ষণে বাতাসের গতি বাধা পায়। কিন্তু শনির মতো গ্যাসীয় দানব গ্রহগুলোতে কঠিন মাটির কোনো অস্তিত্বই নেই! সেখানে পুরোটাই গ্যাস ও মেঘের রাজত্ব। ফলে সেখানে যখন কোনো ঝড় বা বায়ুপ্রবাহ তৈরি হয়, সেটি বাধাহীনভাবে বছরের পর বছর চলতে পারে। স্পেনের বিলবাও স্কুল অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পদার্থবিদ অগাস্টিন সানচেজ-লাভেগার মতে, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে এমন কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই, যার সঙ্গে শনির এই দশভুজ তরঙ্গের তুলনা করা চলে।


বিজ্ঞানীরা কেন দিশেহারা


হুট করে গ্রহটির দক্ষিণ মেরুতে কেন এমন দশ কোণবিশিষ্ট একটি বিশাল তরঙ্গের সৃষ্টি হলো, তা এক বিরাট রহস্য। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিতভাবে এখনো এর পেছনের কারণ বের করতে পারেননি। তবে তাঁদের ধারণা, গ্যাসের প্রবাহে কোনো বড় ধরনের গোলমালের কারণে এমনটা হতে পারে। হয়তো শনির ওই অঞ্চলে কোনো উচ্চচাপের বিশাল ঘূর্ণিঝড় তৈরি হয়েছে, ঠিক যেমনটা দেখা যায় বৃহস্পতি গ্রহের বিখ্যাত গ্রেট রেড স্পটের ক্ষেত্রে।



হুট করে গ্রহটির দক্ষিণ মেরুতে কেন এমন দশ কোণবিশিষ্ট একটি বিশাল তরঙ্গের সৃষ্টি হলো, তা এক বিরাট রহস্যছবি: নাসা


গবেষক সানচেজ-লাভেগা জানান, এটি ব্যাখ্যা করার মতো একক কোনো বৈজ্ঞানিক মডেল আপাতত তাদের হাতে নেই। হয়তো গ্রহটির প্রবল বায়ুপ্রবাহের অস্থিতিশীলতার কারণে এমনটা হয়েছে, অথবা গ্রহটির বায়ুমণ্ডলের অনেক গভীর থেকে কোনো শক্তিশালী ঢেউ ওপরের দিকে উঠে এসেছে। এই গবেষণার বিস্তারিত ফলাফল সম্প্রতি বিখ্যাত সায়েন্স অ্যাডভান্সেস বিজ্ঞান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

মন্তব্য করুন