Loading..

ব্লগ

রিসেট

১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৪৪ পূর্বাহ্ণ

মস্তিষ্কের ভূগোল মনের ঠিকানা



বিজ্ঞান বলে, মস্তিষ্কই আমাদের চেতনার কেন্দ্রবিন্দুছবি: মিডিয়াম


আপনি এখন ঠিক কোথায় আছেন? চারপাশে তাকালে হয়তো ঘরের দেয়াল, জানালার ফাঁক দিয়ে ঢুকে পড়া বিকেলের আলো, কিংবা দূরের গাড়ির শব্দ বা কোনো ল্যান্ডমার্ক নিশ্চিত করে দেবে—আপনি কোন শহরের কোন ঠিকানায় আছেন। জিপিএস লোকেশন দিয়ে আপনার অবস্থান সুনির্দিষ্ট করা তো এখন জলভাত। আসলে আপনার দৈহিক অবস্থান নিয়ে সন্দেহ নেই। সেটা জানতে চাই না। প্রশ্নটা একটু ঘুরিয়ে আরেকটু গভীরে যাই—আপনার আসল ‘আপনি’ কোথায় আছে?


আসলে আপনার হাত-পা, বুক-পিঠ—এগুলো তো স্রেফ একটা হাড়-মাংসের খাঁচা। শরীরটা তো নশ্বর এক আধার মাত্র। এই আধারের ভেতরে যে সত্তাটি নিজেকে ‘আমি’ বলে দাবি করে, সে কোথায় থাকে? যে সত্তাটা অহোরাত্রি দিকবিদিক ছুটে বেড়ায়, আলোর চেয়ে বেশি গতিতে ঘুরে আসতে পারে গোটা মহাবিশ্বের আনাচে-কানাচে, তার ঠিকানা কোথায়? যে সত্তা আশা করে, ভয় পায়, ভালোবাসে, অপছন্দ করে, সিদ্ধান্ত নেয়, ভুল করে, অনুতপ্ত হয়, দেহের কোন সীমানায় তার ঘর-বাড়ি? আপনার রুচি, বিশ্বাস, দ্বিধা—সব মিলিয়ে যে ‘ব্যক্তিসত্তা’ আপনাকে মানুষ হিসেবে অনন্য করে তুলেছে, তার পোস্ট কোডটা কী?


উত্তরে হয়তো নিজের মাথায় টোকা দিয়ে বলবেন—‘কেন? সব তো এখানেই! আমার মগজে।’


আপাতদৃষ্টিতে উত্তরটা সহজ মনে হলেও, এর পেছনের গল্পটা কিন্তু মোটেও সরলরৈখিক নয়। আবার উত্তরটাও পুরো নয়, আংশিক সত্যি। পুরোটা জানলে কিছুক্ষণ পর আপনিও সে কথা স্বীকার করবেন।


জটাজালই আমাদের প্রত্যেককে ব্যক্তিত্বে, মননে অন্যদের চেয়ে অনন্য করে তোলে। কিন্তু কীভাবে? কোটি কোটি নিউরনের এক বৈদ্যুতিক ঝড়ের মধ্যে ‘আপনি’ নামক সত্তাটি ঠিক কীভাবে এনকোড হয়ে থাকে?


এই প্রশ্নের উত্তরের খোঁজে মানুষকে পাড়ি দিতে হয়েছে হাজার বছরের এক দীর্ঘ পথ। সেই পথচলাকে বলা চলে এককথায় শ্বাসরুদ্ধকর। সেখানে ভুল সূত্র, ব্যর্থতা ও সফলতার টানাপোড়েন এবং মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো অপ্রত্যাশিত ঘটনা—সবই ছিল। চলুন, সেই ইতিহাসের ধুলো ঝেড়ে আমরাও শরিক হই সেই রোমাঞ্চকর অভিযানে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ