সহকারী অধ্যাপক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০২:৫৮ পূর্বাহ্ণ
আসহাবে ফীল - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
আসহাবে ফীল
মোঃ মুজিবুর রহমান
মানুষ যতই শক্তিশালী, শক্তি তার সীমিত,
অর্থ-অস্ত্র-জনবল যত—সবই ক্ষণিকভিত্তিক।
রাজ্য-সাম্রাজ্য, পদ-পদবি, জ্ঞান-বিজ্ঞানের জোর,
আল্লাহরই কুদরতের কাছে—সবই অতি ক্ষুদ্র ভোর।
যিনি আকাশ সৃষ্টি করেছেন, সৃষ্টি করেছেন ধরণী,
তাঁরই হুকুমে চলে জগত, রাত-দিনের রথখানি।
সাগর-নদী, পাহাড়-পর্বত, গ্রহ-তারা যত,
তাঁরই হুকুমে স্থির রয়েছে—সব সৃষ্টি অবনত।
মানুষ ভাবে—“আমি পারি, আমার আছে বল,”
ভুলে যায় সে, আল্লাহ ছাড়া নেই কারও আসল চল।
যে শক্তিকে নিজের ভাবে, শক্তির সেই দম্ভ,
আল্লাহ চাইলে মুহূর্তে হয় ধূলিসাৎ সে গর্ব।
শোনো তবে ইতিহাসের এক বিস্ময়ের কথা,
অহংকারে অন্ধ হলে আসে কী পরিণতি ব্যথা।
ইয়ামানের শাসক আব্রাহা করল মনে পণ,
কাবা ঘর ধ্বংস করবে—এ ছিল তার সংকল্পণ।
বিশাল বাহিনী সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে গেল সে দূর,
হাতির শক্তি সামনে রেখে ভাবল—“আমি সুর।”
মক্কার পথে চলল তারা দম্ভভরা মন,
ক্ষমতারই প্রদর্শনে কাঁপল যেন গগন।
হাতি ছিল, বাহিনী ছিল, ছিল ক্ষমতার বল,
ছিল তার মনে বিজয়েরই অন্ধ অহংকার-জল।
কিন্তু সে তো ভুলেই গেল—সর্বশক্তিমান কে?
আল্লাহ আছেন—এই সত্যটি গেল তার অন্তর থেকে।
আল্লাহ বলেন কুরআনে, শিক্ষা দিয়ে প্রাণ—
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ فَعَلَ رَبُّكَ بِأَصْحَابِ الْفِيلِ
“তুমি কি দেখনি তোমার রব কী করেছিলেন হাতিওয়ালাদের?”
কুরআনের এই প্রশ্ন জাগায় ঘুমন্ত হৃদয়-মাঝে।
কী করেছিল সেই বাহিনী? কী ছিল তাদের পণ?
পবিত্র কাবা ধ্বংস করা—ছিল তাদেরই মন।
কিন্তু আল্লাহ দেখিয়ে দিলেন ক্ষমতার প্রকৃত মান,
মানুষ যতই বড় হোক না কেন—আল্লাহ মহান।
أَلَمْ يَجْعَلْ كَيْدَهُمْ فِي تَضْلِيلٍ
ষড়যন্ত্র যত বড় হোক, আল্লাহ চাইলে ক্ষয়,
অন্যায়ের সে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায়।
যে পরিকল্পনা জুলুমে গড়া, সত্যবিরোধী পথ,
আল্লাহ চাইলে মুহূর্তে তার মুছে যায় রথ।
অর্থ-সম্পদ, ক্ষমতা, প্রভাব, জনবল যতই থাক,
অন্যায়ের পথে চললে শেষে ধ্বংস হবে পাক।
মানুষ ভাবে—“আমার হাতে সবকিছুরই চাবি,”
আল্লাহ বলেন—“আমার হুকুম ছাড়া কিছুই নয় স্থায়ী।”
তারপর এল বিস্ময়ভরা আল্লাহরই হুকুম,
আকাশপথে দেখা দিল পাখির ঝাঁক অনুপম।
বিশাল বাহিনী দেখল তারা, ভয় পেল না তবু,
আল্লাহর হুকুম সামনে থাকলে ভয় থাকে না কভু।
وَأَرْسَلَ عَلَيْهِمْ طَيْرًا أَبَابِيلَ
ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি এলো আকাশেরই পথে,
আল্লাহর হুকুম বহন করে ছুটল দ্রুত রথে।
ক্ষুদ্র পাখি—দেখতে তুচ্ছ, বাহিনী ছিল বড়,
কিন্তু আল্লাহ যাকে চান, তার মাধ্যমেই কাজ করে।
পাখি নয় মূল শক্তি—শক্তি পাখির রব,
যাঁর হুকুমে সৃষ্টি চলে, যাঁরই হাতে সব।
ক্ষুদ্র মাধ্যম বড় কাজ করে—এ শিক্ষা চিরন্তন,
স্রষ্টার কুদরত বুঝতে শেখো, জাগাও ঈমান-মন।
আল্লাহ বলেন—
تَرْمِيهِمْ بِحِجَارَةٍ مِنْ سِجِّيلٍ
পাখিরা নিক্ষেপ করল কঙ্কর আল্লাহর হুকুমে,
অহংকারের দুর্গ ভেঙে গেল সেই মুহূর্তে।
যে বাহিনী এসেছিল কাবা ধ্বংসের আশায়,
নিজেরাই হলো বিপর্যস্ত আল্লাহরই ছায়ায়।
বড় অস্ত্রের প্রয়োজন নেই মহান রবের কাছে,
একটি হুকুমই যথেষ্ট তাঁর অসীম ক্ষমতার মাঝে।
মানুষ দুর্গ বানায়, অস্ত্র রাখে, নিরাপত্তা গড়ে,
আল্লাহ চাইলে সবই ভেঙে যায় এক নিমিষের ঝড়ে।
শেষে কী হলো সেই বাহিনীর? কুরআন দিল জবাব—
فَجَعَلَهُمْ كَعَصْفٍ مَأْكُولٍ
ভক্ষিত শস্যপাতার মতো হলো তাদেরই দশা,
ক্ষমতার সব দম্ভ গেল, মুছে গেল আশা।
যে বাহিনী ছিল বিশাল, ছিল শক্তির ভার,
শেষে তারা হয়ে গেল অসহায় একাকার।
এই হলো অহংকারের শেষ, এই হলো দম্ভের ফল,
আল্লাহর বিরুদ্ধে গেলে ভেঙে যায় সব বল।
ক্ষমতার মুকুট মাথায় রেখে করো না অহংকার,
আজ যে শক্তিশালী, কাল সে হতে পারে অসহায় আবার।
সম্পদ পেলে অহংকার নয়—করো শোকর আদায়,
জ্ঞান পেলে মানুষকে শেখাও কল্যাণেরই দায়।
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো, দুঃখীর পাশে দাঁড়াও,
দুর্বল মানুষ কাঁদলে তার অশ্রু মুছে দাও।
পদ যদি পাও—ন্যায়বিচারের আলো জ্বালো প্রাণে,
প্রভাব যদি পাও—সত্য বলো নির্ভয়ে মানুষের টানে।
শক্তি যদি পাও—জুলুম কোরো না দুর্বলের ওপর,
মনে রেখো—আল্লাহ দেখেন অন্তরের সব খবর।
মানুষ তুমি যতই বড় হও পৃথিবীর এই মাঝে,
আল্লাহর বান্দা—এই পরিচয় রাখো হৃদয় সাজে।
দম্ভ ছেড়ে বিনয় ধরো, সত্যের পথে চলো,
আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করো।
ধন-সম্পদ শক্তি বটে—চূড়ান্ত শক্তি নয়,
জনবলও শক্তি বটে—স্থায়ী শক্তি নয়।
অস্ত্র-প্রযুক্তি, জ্ঞান-বিজ্ঞান—সবই শক্তির দান,
সবকিছুরই ঊর্ধ্বে আছেন পরম শক্তিমান।
সেনাবাহিনী, রাজ্য, ক্ষমতা—সবই ক্ষণস্থায়ী,
আজ যে রাজা, কাল সে হয়তো থাকবে না ভাই।
আজ যে ধনী, কাল সে হতে পারে নিঃস্ব,
আজ যে শক্তিশালী, কাল সে হতে পারে নিঃবল।
স্থায়ী কেবল আল্লাহরই কর্তৃত্ব ও বিধান,
তাঁরই হুকুমে ওঠে সূর্য, তাঁরই হুকুমে সন্ধ্যান।
তাই মুমিন শক্তি পেলে বিনয়ী হয়ে যায়,
নিয়ামতের মালিক আল্লাহ—এই বিশ্বাস হৃদয়ে রাখে চায়।
পবিত্র কাবা আল্লাহর ঘর—মর্যাদায় মহান,
মুসলিম উম্মাহর কিবলা, ঐক্যের প্রতীকস্থান।
পৃথিবীর যত মুসলিম আছে—এক কিবলার দিকে,
সালাতে দাঁড়ায় ঐক্যবদ্ধ হয়ে আল্লাহর ডাকে।
হজের সময় লাখো মানুষ কাবাকে ঘিরে আসে,
সাদা পোশাকে ভাইয়ে ভাইয়ে এক কাতারে হাসে।
দেশের ভেদ, বর্ণের ভেদ, ভাষার যত পার্থক্য,
আল্লাহর ঘরের সামনে সব হারায় তার বৈচিত্র্য।
তবে মনে রেখো—ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য,
কাবা হলো কিবলা—তাওহিদের শিক্ষা যার জন্য।
স্রষ্টা এক, শরিকহীন—এই বিশ্বাস অটুট রাখো,
কাবার মর্যাদা হৃদয় দিয়ে সম্মানের সাথে রাখো।
একমাত্র আল্লাহই রব, ইলাহ, মহান,
তাঁর কোনো শরিক নেই—এটাই ঈমানের প্রাণ।
সৃষ্টিকে কখনো স্রষ্টার সমকক্ষ কোরো না,
আল্লাহ ছাড়া কারও কাছে ইবাদত কোরো না।
পাখি উড়ে তাঁরই হুকুমে, বাতাস বয় তাঁর হুকুমে,
জীবন-মৃত্যু তাঁরই হাতে, সবই তাঁরই হুকুমে।
সৃষ্টি যত শক্তিশালী হোক, নিজে নয় স্বাধীন,
আল্লাহর ইচ্ছা ছাড়া কারও নেই কোনো নিশ্চিত দিন।
তাই বিপদ এলে হৃদয় নিয়ে তাঁরই কাছে যাও,
দোয়া করো, সালাত কায়েম করো, তাঁর ওপর ভরসা রাখো।
বৈধ উপায় গ্রহণ করে দায়িত্ব পালন করো,
ফলাফলটা আল্লাহর হাতে—তাঁর ওপর তাওয়াক্কুল করো।
তাওয়াক্কুল মানে নয় যে বসে থাকব ঘরে,
চেষ্টা ছাড়া সাফল্য আসবে—এ কথা ভুল করে।
চেষ্টা থাকবে, শ্রম থাকবে, পরিকল্পনাও চাই,
বৈধ পথে উপায় খুঁজে দায়িত্ব পালন চাই।
তারপর হৃদয় বলবে—“হে আমার রব মহান,
আমার সাধ্য যতটুকু ছিল করেছি সাধন।
ফলাফল তোমার হাতে, তুমি করো মঙ্গল,”
এই বিশ্বাসেই মুমিন থাকে শান্ত, দৃঢ়, সরল।
ঝড় যদি আসে, ভয় পেও না—আল্লাহ আছেন পাশে,
রাত যতই গভীর হোক, ভোর তো আসবেই শেষে।
বিপদ যত বড় মনে হয়, আল্লাহ তার চেয়েও বড়,
তাঁর রহমতের দরজা খোলা—তাই হও না ভীরু।
অন্যায় করে কখনো ভেবো না—“আমি জিতব শেষ,”
জুলুম করে গড়ে তোলা জয় হয় না চিরশেষ।
অন্যের হক নষ্ট করে সুখের প্রাসাদ গড়ো না,
অন্যায়ের উপার্জনে জীবনকে রাঙিও না।
প্রতারণা, ষড়যন্ত্র, জুলুম—সবই অন্ধকার,
অন্যের চোখের অশ্রু একদিন করবে হিসাব-ধার।
আজ যদি দুর্বল কাঁদে, কাল হিসাব হবে,
আল্লাহর আদালতে কোনো জুলুম ঢাকা রবে?
তাই সত্য বলো, ন্যায় করো, আমানত রক্ষা করো,
মানুষের অধিকার নষ্ট করার পথ পরিহার করো।
ক্ষমতা যদি হাতে থাকে—ন্যায় প্রতিষ্ঠা করো,
দুর্বলের মুখে হাসি ফোটাও, মানবতার জয় করো।
ক্ষমতা পাওয়া গৌরব নয়—এ এক কঠিন পরীক্ষা,
ক্ষমতার সাথে আসে দায়িত্ব, জবাবদিহির রেখা।
তুমি কি ন্যায় করবে, নাকি করবে জুলুম?
তুমি কি সত্য বলবে, নাকি বাড়াবে মিথ্যার ধূম?
তুমি কি দুর্বল মানুষটির পাশে গিয়ে দাঁড়াবে?
নাকি নিজের স্বার্থের জন্য তার অধিকার কাড়বে?
তুমি কি আল্লাহকে স্মরণ করবে ক্ষমতারই মাঝে?
নাকি নিজের ক্ষমতাকেই রবের মতো সাজাবে?
মনে রেখো—পদ ক্ষণিক, ক্ষমতা ক্ষণিক,
মানুষের প্রশংসা ক্ষণিক, দুনিয়ার সুখ ক্ষণিক।
চিরস্থায়ী আল্লাহর রাজ্য, তাঁরই চূড়ান্ত হুকুম,
তাঁর সন্তুষ্টির পথেই আছে মুক্তির মহাসূচক।
শিশুদের বলো—“আল্লাহ আছেন, সর্বশক্তিমান,
তিনি দেখেন, তিনি জানেন—গোপন সবই প্রাণ।”
অন্যায় কোরো না কখনো, অহংকার কোরো না,
কাউকে কষ্ট দিয়ে নিজের সুখের ঘর গড়ো না।
বিপদ এলে আল্লাহর কাছে দোয়া করবে মন দিয়ে,
সৎ পথে চলবে সবসময় সাহস নিয়ে।
বড় হলে দুর্বল মানুষকে সাহায্য করবে ভাই,
আল্লাহর দেওয়া শক্তি দিয়ে কল্যাণ ছাড়া কিছু নাই।
পবিত্র স্থান সম্মান করবে, সত্যকে করবে মান,
সততা হবে জীবনেরই সবচেয়ে বড় ধন।
তাওহিদ, তাকওয়া, ন্যায়, বিনয়—হোক জীবনের আলো,
এই আদর্শে গড়ে উঠুক শিশুর ভবিষ্যৎ ভালো।
আজ নেই সেই হাতিবাহিনী—তবু আছে দম্ভ,
ক্ষমতার অপব্যবহারে বাড়ে মানুষের গর্ব।
কেউ সম্পদের অহংকারে মানুষকে করে হীন,
কেউ জ্ঞানের অহংকারে ভাবে—“আমি সবার ঊর্ধ্বে নই?”
কেউ পদমর্যাদা নিয়ে দুর্বলকে দেয় ভয়,
কেউ সামাজিক প্রভাব দিয়ে অন্যের অধিকার ক্ষয়।
কেউ শক্তির দাপট দেখায়, কেউ করে অন্যায়,
কেউ নিজের স্বার্থে মানুষের শান্তি কেড়ে নেয়।
হে মানুষ, থামো এবার—নিজের অন্তর দেখো,
ক্ষমতা কার দেওয়া তোমার—সত্যটি হৃদয়ে রেখো।
যে শক্তি আজ পেয়েছ তুমি, কাল তা নাও থাকতে,
আল্লাহ চাইলে জীবন বদলাবে এক মুহূর্তের সাথে।
বাড়ি যদি হয় বড়, তাই বলে বড় নও তুমি,
গাড়ি যদি দামি হয়, তাতে শ্রেষ্ঠ নও তুমি।
অর্থ যদি থাকে বেশি, তাতে মর্যাদা নয়,
আল্লাহর কাছে তাকওয়াই মানুষের শ্রেষ্ঠ পরিচয়।
জ্ঞান যদি পাও—বিনয় শেখো, জ্ঞানে দম্ভ নয়,
সম্পদ যদি পাও—দান করো, কৃপণতা নয়।
ক্ষমতা যদি পাও—ন্যায়ের পথে চলো,
মানুষের কল্যাণে নিজের জীবন ঢালো।
কারণ দুনিয়া ক্ষণিকের, মানুষ ক্ষণিক অতিথি,
আজ আছে হাসির জীবন, কাল হতে পারে রীতি।
যে জীবন আল্লাহমুখী, সেই জীবনই ধন্য,
আল্লাহর আনুগত্য ছাড়া সব গৌরবই ক্ষণস্থায়ী।
কুরআনের ইতিহাস শুধু গল্প শোনার নয়,
প্রতিটি ঘটনায় শিক্ষা আছে—জীবন গড়ার হয়।
আসহাবে ফীলের কাহিনি জাগায় ঈমান-প্রাণ,
অহংকারের ধ্বংস দেখায়, শেখায় আল্লাহর মহান।
প্রশ্ন করো নিজের মনে—“আমি কেমন মানুষ?
আমার হৃদয়ে অহংকার কি করেছে বাস?”
অন্যের হক রাখি কি আমি? সত্য কি বলি মুখে?
বিপদ এলে আল্লাহকে কি স্মরণ করি সুখে?
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করি? দুর্বলকে কি মানি?
নিজের ভুলের জন্য কি করি তাওবার বাণী?
যদি নিজের অন্তর দেখি কুরআনেরই আলোয়,
তবে জীবন সুন্দর হবে, মুছে যাবে কালোয়।
আসহাবে ফীলের ঘটনা শুধু ভয় পাওয়ার নয়,
আল্লাহর মহত্ত্ব বুঝে ঈমান বাড়ানোরই জয়।
আল্লাহকে ভয় করো, আবার রহমতের আশা রাখো,
অন্যায়ের সামনে সত্যের শক্তি হৃদয়ে জাগাও।
কাউকে নিজ হাতে আল্লাহর শাস্তির ফয়সালা দিও না,
নিজেকে সংশোধনের পথ কখনো ছেড়ে দিও না।
বিচারক সর্বশেষ আল্লাহ—তাঁরই চূড়ান্ত বিচার,
তাই নিজের আমল ঠিক করাই মুমিনের অধিকার।
মানুষের চোখ এড়িয়ে যদি অন্যায় করো গোপনে,
ভেবো না তা হারিয়ে যাবে সময়েরই স্রোতে।
আল্লাহ দেখেন অন্তর, জানেন মনের কথা,
তাঁর কাছে লুকানো নেই কোনো কর্মের ব্যথা।
তাই একা থাকলেও সৎ থেকো, অন্ধকারেও সত্য,
মানুষ না দেখলেও আল্লাহ দেখেন প্রত্যেক কৃত্য।
ভালো কাজ করো চুপে, দাও না তার প্রচার,
আল্লাহর কাছে গ্রহণযোগ্য হওয়াই জীবনের সার।
বিপদ এলে ভেঙে পড়ো না, কেঁদে বলো—“রব,
তুমি ছাড়া নেই তো আমার কোনো আশ্রয়-ভর।”
সালাতে দাঁড়াও, দোয়া করো, সবর করো প্রাণে,
হালাল পথে চেষ্টা করো, ভরসা রাখো আল্লাহর দানে।
দুনিয়ার সব দরজা যদি বন্ধ হয়ে যায় একদিন,
আল্লাহ চাইলে খুলে দিতে পারেন শত দরজার দিন।
মানুষ যদি ফিরেও যায়, আল্লাহ থাকেন সাথে,
অসহায়ের অশ্রু তিনি জানেন গোপন রাতে।
তাই হতাশ হয়ো না কখনো, হারিয়ো না আশা,
রহমতের রবের কাছে রাখো হৃদয়ের ভাষা।
যে বান্দা তাঁর ওপর ভরসা করে সৎ পথে রয়,
আল্লাহর হিকমতে তার জন্য কল্যাণই হয়।
শক্তি পেলে বলো না—“আমি সবার চেয়ে বড়,”
বলবে—“আমার রব দিয়েছেন, তাই তো আমি সবল।”
সম্পদ পেলে বলো—“এটি আল্লাহরই দান,”
দান করে সাহায্য করো অভাবী মানুষের প্রাণ।
জ্ঞান পেলে অজ্ঞ মানুষকে করো না অপমান,
জ্ঞান দিয়ে গড়ো মানুষ—এটাই জ্ঞানের মান।
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো, করো না অবিচার,
ক্ষমতার হিসাব দিতে হবে—ভুলো না একবার।
অহংকারে মাথা উঁচু করে যতই চলো পথে,
মৃত্যু এসে সব অহংকার মাটির সাথে মেশাবে।
যে হাত আজ নির্দেশ দেয়, কাল সে হাত স্থির,
যে কণ্ঠ আজ গর্জে ওঠে, কাল সে হবে নীরব ধীর।
যে প্রাসাদ আজ আকাশ ছোঁয়, একদিন হবে ধূলি,
যে নাম নিয়ে দম্ভ করো, মুছে যেতে পারে বুলি।
তাই দুনিয়ার মোহে পড়ে ভুলে যেয়ো না রব,
আল্লাহর বান্দা হয়ে থাকাই মানুষের শ্রেষ্ঠ গৌরব।
ক্ষুদ্র পাখি কী করতে পারে—মানুষের হিসাব তাই,
কিন্তু আল্লাহ চাইলে ক্ষুদ্র মাধ্যমেই বিজয় আসে ভাই।
এতে শিক্ষা—মাধ্যম নয়, স্রষ্টার শক্তি বড়,
আল্লাহর হুকুম থাকলে অসম্ভবও হয় সহজতর।
তাই নিজের সামর্থ্য নিয়ে কখনো করো না গর্ব,
সামর্থ্যটুকু আল্লাহর দান—এই কথাটি রেখো স্মরণ।
তুমি চেষ্টা করবে শুধু, ফলের মালিক রব,
এই বিশ্বাসে জীবন হবে শান্ত, সুন্দর, সরল।
শুধু নিজের জন্য বাঁচা মানুষের পরিচয় নয়,
মানুষ সে-ই, যার হৃদয়ে অন্যের দুঃখের ভয়।
ক্ষুধার্তকে অন্ন দাও, অসহায়কে দাও হাত,
অশ্রুসিক্ত চোখে দাও ভালোবাসার প্রভাত।
দুর্বলের অধিকার রক্ষা করো ন্যায় দিয়ে,
অন্যায়ের প্রতিবাদ করো সত্যকে হৃদয়ে নিয়ে।
মানুষে মানুষে দূরত্ব কমুক, মুছে যাক সব ভেদ,
সত্য, ন্যায়, দয়া, ভালোবাসায় গড়ে উঠুক মানব-সেতু এক।
এক—আল্লাহ সব দেখেন, ভুলে যেও না তা,
দুই—অন্যায়ের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হতে পারে যা।
তিন—আল্লাহর সাহায্য আসে অচেনা কোনো পথে,
চার—অন্যায়কারীর জন্য হিসাব আছে পরকালে শেষে।
পাঁচ—অহংকারের পরিণতি ধ্বংস—এই শিক্ষা মনে রাখো,
তাওহিদ, তাকওয়া, ন্যায় ও বিনয়ের জীবন গড়ো।
মুমিনের জীবন হবে তাওহিদেরই আলো,
সত্যের পথে দৃঢ় থেকে করবে জীবন ভালো।
তাকওয়া হবে হৃদয়ের ঢাল, সবর হবে বল,
তাওয়াক্কুলে শান্ত হবে অন্তরেরই জল।
সালাত হবে জীবনেরই শক্তি ও পরিচয়,
কুরআনের শিক্ষা হবে চলার পথের জয়।
হালাল পথে উপার্জন, আমানতে অবিচল,
মানুষের কল্যাণে নিবেদিত হবে মুমিনের সকল বল।
হে মানুষ, ক্ষমতার দম্ভ ছেড়ে দাও আজ,
সত্যের পথে ফিরে এসো, সুন্দর করো কাজ।
অন্যের হক ফিরিয়ে দাও, মুছে দাও অন্যায়,
আল্লাহর দিকে ফিরে এসো—এই তো মুক্তির পথ ভাই।
অহংকারের মুকুট খুলে বিনয়ের মালা পরো,
জুলুম ছেড়ে ন্যায়ের পথে সত্যের পতাকা ধরো।
বিপদে সবর, সুখে শোকর—হোক জীবনের গান,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে রাখো ঈমান প্রাণ।
যে কাবা ঘর ধ্বংস করতে এসেছিল বাহিনী,
আল্লাহ রক্ষা করলেন—প্রকাশ পেল কুদরতের মহিমা অনন্যখানি।
হাতি ছিল, বাহিনী ছিল, ছিল ক্ষমতার বল,
কিন্তু আল্লাহর অনুমতি ছাড়া হলো না কোনো সফল।
পাখি ছিল ক্ষুদ্র, কঙ্কর ছিল অতি সামান্য,
আল্লাহর হুকুমে তবু হলো কার্যকারণ অনন্য।
তাই সৃষ্টি দেখে স্রষ্টাকে ভুলে যেও না আর,
আল্লাহর কুদরত স্মরণ করো—তাঁরই কাছে বারবার।
সূরা আল-ফীল ছোট হলেও শিক্ষা তার বড়,
অহংকারের দুর্গ ভাঙে, সত্যের আলো জ্বলে ঘর।
শক্তি যদি আসে হাতে—বিনয় রেখো প্রাণে,
সম্পদ এলে দান করো আল্লাহরই সন্তানে।
ক্ষমতা পেলে ন্যায় করো, দুর্বলকে দাও স্থান,
জ্ঞান পেলে মানুষের মাঝে ছড়াও কল্যাণ।
অন্যায় পথে পা বাড়িও না, ষড়যন্ত্র কোরো না,
আল্লাহর বান্দা হয়ে সত্যের পথ ছাড়ো না।
দুনিয়ার শক্তি সীমিত—আল্লাহর শক্তি অসীম,
মানুষের জ্ঞান সীমাবদ্ধ—আল্লাহর জ্ঞান মহিম।
মানুষের পরিকল্পনা ক্ষণিক—আল্লাহর হুকুম চির,
তাঁর আনুগত্যে জীবন হয় সুন্দর, শান্ত, স্থির।
আসহাবে ফীলের কাহিনি তাই হৃদয়ে রাখো জাগিয়ে,
অহংকারকে দূরে সরাও বিনয়ের আলো লাগিয়ে।
তাওহিদ, তাকওয়া, ন্যায়, সবর—হোক জীবনের মূল,
তাওয়াক্কুলে দৃঢ় হও—ভুলো না সেই কূল।
যে রব পাখিকে বানান শক্তির এক মাধ্যম,
যে রব রক্ষা করেন কাবা, যাঁর কুদরত অনুপম,
সেই রবেরই বান্দা আমরা—তাঁরই কাছে চাই,
দুনিয়া-আখিরাতের পথে সত্যের আলো পাই।
হে আল্লাহ, অহংকার থেকে আমাদের করো মুক্ত,
জুলুম-অন্যায় থেকে রাখো হৃদয়কে পবিত্র, যুক্ত।
তাওহিদের ওপর রাখো অটল, ঈমান দাও প্রাণে,
সত্য ও ন্যায়ের পথে রেখো—দিনের শেষে টানে।
বিপদে দাও সবর, সুখে দাও শুকরের মান,
তাওয়াক্কুলে ভরাও অন্তর, দৃঢ় করো ঈমান।
মানুষের হক রক্ষা করে কাটুক আমাদের দিন,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের সর্বোচ্চ ঋণ।
আসহাবে ফীলের শিক্ষা থাকুক হৃদয়ের মাঝে,
অহংকারের কালো মেঘ মুছে যাক জীবনের সাজে।
দম্ভ নয়, বিনয় চাই; জুলুম নয়, ন্যায়,
আল্লাহর আনুগত্যেই হোক আমাদের চূড়ান্ত জয়।
দুনিয়ার শক্তি ক্ষণিক—আল্লাহর শক্তি চির,
তাঁরই আনুগত্যে জীবন হোক শান্ত, সুন্দর, স্থির।
অহংকারের পথ ছেড়ে সত্যের পথে চলি,
আল্লাহরই সন্তুষ্টির জন্য জীবনখানি গড়ি।
আল্লাহু আকবার—তিনি সর্বশক্তিমান,
তাঁরই হাতে জগতের সব ক্ষমতা ও বিধান।
তাঁরই দিকে ফিরে যাই, তাঁরই কাছে চাই—
দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতার মহাজয়।
আমিন।
১৪
২৪ মন্তব্য