সহকারী অধ্যাপক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:০৫ পূর্বাহ্ণ
শিক্ষক ও শিক্ষার্থী - মোঃ মুজিবুর রহমান
শিক্ষক ও শিক্ষার্থী
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
জ্ঞান হলো আলোর প্রদীপ, অজ্ঞান ঘোর অন্ধকার,
জ্ঞানী হলে খুলে যায় যে সত্য-পথের দ্বার।
জ্ঞান দিয়ে মানুষ গড়ে, জ্ঞানেই বাড়ে মান,
জ্ঞানহীন জীবন যেন দিশাহারা প্রাণ।
জ্ঞান অর্জন ইবাদতসম—নিয়ত যদি শুদ্ধ,
সত্য পথে চলার তরে মন যদি হয় বদ্ধ।
কুরআনের প্রথম বাণী—“পড়ো” মহান আহ্বান,
জ্ঞানচর্চায় জেগে উঠুক মানুষের বিবেক-প্রাণ।
“ইকরা”—পড়ো, জ্ঞানের পথে এগিয়ে চলো সবাই,
স্রষ্টার নামে জ্ঞান শিখে সত্যের আলো পাই।
কলম হাতে মানুষ গড়ো, জ্ঞানের মর্যাদা,
জ্ঞানীর পথে সম্মান রাখো—এই হোক অঙ্গীকার সাদা।
শিক্ষক হলেন জ্ঞানের দীপ, আলোর দিশারি,
অজ্ঞতার আঁধার ভেঙে হন পথের সহযাত্রী।
শুধু তিনি পাঠ পড়ান না, গড়েন মানুষের মন,
জীবনপথে সত্য শেখান, জাগান বিবেক-চেতন।
শিক্ষক কখনো পথপ্রদর্শক, কখনো অভিভাবক,
ভুলের মাঝে সঠিক পথে করেন শিক্ষার্থীকে চালক।
কখনো তিনি স্নেহময়, কখনো দৃঢ় গুরু,
শাসনের মাঝেও থাকে কল্যাণেরই সুর।
শিক্ষক যদি হন সৎ, আমানতদার, বিনয়ী,
তাঁর আচরণে শিক্ষার্থী হয় চরিত্রে ধনী।
মুখের কথার চেয়ে বেশি শেখায় তাঁর জীবন,
আদর্শ দেখে গড়ে ওঠে ছাত্রের মনন।
শিক্ষক বলেন—“সত্য বলো, মিথ্যার পথে নয়,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করো না কোনো ভয়।
সময়কে মূল্য দাও, পরিশ্রমকে মানো,
জ্ঞানকে নিয়ে অহংকার নয়—বিনয় বুকে আনো।”
শিক্ষার্থী তখন মাথা নত করে বলে—“গুরুজন,
আপনার প্রতি শ্রদ্ধা আমার হৃদয়ের আপন ধন।
আপনার দেওয়া জ্ঞান আমি রাখব যতনে,
সত্য ও ন্যায়ের পথে চলব জীবনের প্রতিক্ষণে।”
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বন্ধন কোনো সাধারণ নয়,
এ বন্ধনে জ্ঞান মেশে, আদব মেশে, মমতা মেশে রয়।
আস্থা যদি থাকে মাঝে, ভয় থাকে না মনে,
প্রশ্ন জাগে, উত্তর আসে—জ্ঞান বাড়ে ক্ষণে ক্ষণে।
যে শিক্ষার্থী প্রশ্ন করে, সে-ই জ্ঞানের পথে,
কৌতূহল জাগে যার, সে এগিয়ে যায় রথে।
ভুল করলে ভয় নয়, ভুল থেকে শিক্ষা নাও,
জিজ্ঞাসার দরজা খুলে জ্ঞানের আলো পাও।
শিক্ষক বলুন—“প্রশ্ন করো, দ্বিধা রেখো না মনে,
জ্ঞান খুঁজে নাও যুক্তি দিয়ে, সত্যের অনুসন্ধানে।”
শিক্ষার্থী বলুক—“শুনব আমি মন দিয়ে সব কথা,
সত্য বুঝে গ্রহণ করব—এটাই আমার ব্যথা।”
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা হোক হৃদয়ের অলংকার,
তাঁর কথা শুনে শিখুক ছাত্র জ্ঞানের ব্যবহার।
কিন্তু শ্রদ্ধা মানে নয় যে প্রশ্ন করা বন্ধ,
সত্য জানার আগ্রহটুকুই জ্ঞানের পবিত্র ছন্দ।
ইসলাম শেখায়—জ্ঞানীর মর্যাদা অনেক ঊর্ধ্বে,
আল্লাহ জ্ঞানীদের মর্যাদা বাড়ান আপন কৃপায়।
কুরআনে এসেছে—জ্ঞানী আর অজ্ঞ কি সমান?
সত্যিই তারা সমান নয়—এ জ্ঞান মহান।
“হে আমার রব, আমার জ্ঞান বাড়িয়ে দাও”—
তাহা ২০:১১৪-এর শিক্ষা হৃদয়ে ধারণ করো।
জ্ঞান বাড়ুক, আমল বাড়ুক, বাড়ুক ঈমান,
জ্ঞান যেন হয় আল্লাহভীতির সুন্দর সোপান।
জ্ঞান যদি থাকে কিন্তু চরিত্র না থাকে সাথে,
সে জ্ঞান অনেক সময় বিপদ ডেকে আনে পথে।
তাই জ্ঞান চাই, সঙ্গে চাই তাকওয়া ও আদব,
জ্ঞানীর জীবন হোক যেন সুন্দরতম মাধুর্য।
শিক্ষক শেখান—“জ্ঞান শুধু পরীক্ষার জন্য নয়,
জীবন গড়ার পাথেয় এটি—এটাই সত্যময়।
শুধু নম্বর পেলেই হবে না, মানুষ হতে হবে,
সততা, ন্যায়, আমানতে জীবন সাজাতে হবে।”
শিক্ষার্থী শেখে—“শিক্ষা মানে সনদ নয় শুধু,
শিক্ষা মানে সুন্দর জীবন, চরিত্রে থাকা শুদ্ধ।
জ্ঞান দিয়ে মানুষের সেবা করব দিনরাত,
অসহায়ের পাশে দাঁড়াব—এই হবে আমার প্রভাত।”
শ্রদ্ধা থাকবে শিক্ষকের, থাকবে ভালোবাসা,
কিন্তু থাকবে শালীনতা, থাকবে সুন্দর ভাষা।
হাসি থাকবে, সৌহার্দ্য থাকবে, থাকবে মধুর আচরণ,
কথায় যেন না ফুটে ওঠে অহংকারের বিষণ্ন ক্ষরণ।
শিক্ষকও শিক্ষার্থীকে দেখবেন আপন মমতায়,
বৈষম্য নয়, ন্যায় করবেন প্রত্যেকের প্রতিই সদায়।
ধনী-গরিব, মেধাবী-দুর্বল—সবাই তাঁর ছাত্র,
প্রত্যেক শিশুর সম্ভাবনায় তিনি রাখবেন নজর।
কারও ভুলে উপহাস নয়, চাই সংশোধনের হাত,
কারও দুর্বলতায় তিরস্কার নয়, চাই সহমর্মিতার প্রভাত।
একটি কোমল বাক্য কখনো বদলে দিতে পারে জীবন,
একটি উৎসাহ জাগিয়ে দিতে পারে সুপ্ত প্রতিভার মন।
“তুমি পারবে”—এই কথাটি কত শক্তিশালী,
ভাঙা মনে জাগায় আশা, করে জীবন আলোকময়ী।
শিক্ষকের একটি হাসি মুছে দিতে পারে ভয়,
স্নেহমাখা একটি বাক্য শিক্ষার্থীর শক্তি হয়।
শিক্ষার্থীও মনে রাখুক—শিক্ষক মানুষ, ফেরেশতা নন,
তাঁরও ভুল হতে পারে—তাই রাখো সুন্দর মন।
ভুল দেখিলে শালীনভাবে বলো সত্য কথা,
অপমান নয়, সংশোধনই হোক জ্ঞানের প্রথা।
কটু কথা নয়, বিদ্রূপ নয়, নয় অবমাননা,
শ্রদ্ধাশীল ভাষায় হোক জ্ঞান-অন্বেষণের সাধনা।
শিক্ষক যদি ভুল করেন, সত্য হবে সত্যই,
তবে সত্য বলার ভঙ্গিটিও সুন্দর হওয়া চাই।
শ্রেণিকক্ষ হোক যেন জ্ঞানের পবিত্র বাগান,
শিক্ষক সেখানে মালী, ছাত্র ফুলের প্রাণ।
স্নেহের জলে সিঞ্চিত হয়ে, জ্ঞানের আলো পেয়ে,
ফুলগুলো একদিন ফুটবে সমাজজুড়ে হেসে।
কেউ হবে ডাক্তার, কেউ হবে শিক্ষক, কেউ হবে কৃষক,
কেউ হবে গবেষক, কেউ হবে সমাজের সেবক।
কেউ গড়বে সেতু, কেউ গড়বে নতুন জ্ঞান,
কেউ মানবতার সেবায় রাখবে নিজের প্রাণ।
তাই শিক্ষকের দায়িত্ব শুধু পাঠ শেষ করা নয়,
প্রতিটি প্রাণে সম্ভাবনার প্রদীপ জ্বালানো হয়।
শিক্ষার্থীর দায়িত্ব শুধু বই মুখস্থ করা নয়,
শেখা জ্ঞান জীবনে প্রয়োগ করাই শিক্ষার জয়।
শিক্ষক বলুন—“সময় নষ্ট কোরো না, সময় অমূল্য ধন,
আজকের শ্রমই গড়বে তোমার আগামী জীবন।
অলসতার ঘুম ভেঙে ওঠো, পরিশ্রমী হও,
সৎ পথে অটল থেকে নিজের স্বপ্ন বুনো।”
শিক্ষার্থী বলুক—“গুরুজন, আপনার কথা মানব,
জ্ঞান ও চরিত্র গড়ার পথে প্রতিদিনই চলব।
পরিশ্রমকে সঙ্গী করে ভয়কে করব জয়,
আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে চলব নির্ভয়।”
কুরআন শেখায়—“যারা জানে আর যারা জানে না, তারা কি সমান?”
জ্ঞানীর মর্যাদা বোঝায় এই প্রশ্নেরই বাণী মহান।
জ্ঞান অর্জন তাই হোক ইখলাসভরা সাধনা,
জ্ঞান দিয়ে যেন না বাড়ে অহংকারের বাসনা।
জ্ঞান যত বাড়ে, বিনয় তত বাড়ুক অন্তরে,
সত্য যত জানি, ভয় তত জাগুক পরম করুণাকরে।
নিজেকে বড় ভাবা নয়—সত্যের কাছে নত,
জ্ঞানীর প্রকৃত পরিচয় বিনয়ী, শান্ত, সতত।
শিক্ষক যেন বলেন—“আমি শুধু জ্ঞানের মালিক নই,
আমিও প্রতিদিন শিখি—শেখার শেষ তো কই!”
শিক্ষার্থীও যেন শেখে—“শেখার নেই অবসান,
জীবনভর জ্ঞান অন্বেষণ—এটাই জ্ঞানের গান।”
শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—দুই তীরে এক নদী,
এক তীরে অভিজ্ঞতা, অন্য তীরে নব প্রজন্মের গতি।
দুই তীর মিললেই নদী পায় পূর্ণতার রূপ,
দুই প্রজন্ম মিললেই সমাজ হয় আলোকময় অনুপম।
শিক্ষকের জ্ঞান আর ছাত্রের প্রশ্ন যখন মেশে,
নতুন সম্ভাবনার সূর্য তখন আকাশে ওঠে হেসে।
অভিজ্ঞতা দেয় দিশা, কৌতূহল দেয় গতি,
দুইয়ের মিলনে গড়ে ওঠে উন্নত সভ্যতা ও সংস্কৃতি।
শিক্ষক হোন ন্যায়বান, ছাত্র হোক শৃঙ্খলিত,
দুজনের সম্পর্ক হোক বিশ্বাসে সুদৃঢ়, পবিত্র, নির্মল।
ভয় নয়—থাকুক শ্রদ্ধা; দূরত্ব নয়—মমতা,
আদেশের সঙ্গে থাকুক যুক্তি, ভালোবাসা ও সহমর্মিতা।
শিক্ষকের কণ্ঠে থাকুক সত্য, কাজে থাকুক আদর্শ,
শিক্ষার্থীর আচরণে ফুটুক শিষ্টতা ও হর্ষ।
শিক্ষাঙ্গনে ছড়িয়ে পড়ুক সৌহার্দ্যের সুবাস,
জ্ঞান, নৈতিকতা, ঈমান—হোক জীবনের নিঃশ্বাস।
মনে রেখো—শিক্ষককে সম্মান করা মহৎ গুণ,
তবে মানুষকে সম্মান করাই ইসলামেরও অনুপম বাণী পূর্ণ।
বয়োজ্যেষ্ঠের মর্যাদা, কনিষ্ঠের প্রতি স্নেহ,
এভাবেই সুন্দর হয় সমাজ, দূর হয় সব ক্লেশ।
শিক্ষক বলুন—“কাউকে ছোট কোরো না কোনোদিন,
মানুষের মর্যাদা রাখো সকাল, সন্ধ্যা, রাত্রিদিন।
দুর্বলকে সাহায্য করো, ক্ষুধার্তকে দাও আহার,
অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াও—এটাই মুমিনের অহংকার।”
শিক্ষার্থী বলুক—“শিখব আমি মানুষের হক,
অন্যের প্রতি করব না কোনো জুলুম বা প্রতারণার দোষ।
জ্ঞান দিয়ে উপকার করব, ক্ষতি করব না কারও,
সুন্দর চরিত্র সঙ্গে নিয়ে চলব জীবনভর।”
শিক্ষা যদি মানুষকে মানুষ না করে তো কী লাভ?
সনদ যদি চরিত্রহীন হয়, কোথায় তার প্রভাব?
বড় পদে বসেও যদি হৃদয় থাকে কালো,
তবে সেই শিক্ষার প্রদীপ কীভাবে ছড়াবে আলো?
শিক্ষা হবে বিবেক জাগানো, শিক্ষা হবে ন্যায়,
শিক্ষা হবে সত্যের পথে অটল থাকার দায়।
শিক্ষা হবে মায়ের প্রতি মমতা, পিতার প্রতি মান,
শিক্ষা হবে প্রতিবেশীর প্রতি সদাচরণের দান।
শিক্ষা হবে শিক্ষককে সম্মান, ছোটকে স্নেহ করা,
শিক্ষা হবে মিথ্যা ছেড়ে সত্যের পথে দাঁড়ানো।
শিক্ষা হবে আমানত রক্ষা, প্রতিশ্রুতি পালন,
শিক্ষা হবে আল্লাহভীতি—এটাই শিক্ষার প্রাণ।
“যে ব্যক্তি কুরআন শেখে ও শেখায়”—
হাদিসে তার মর্যাদা এসেছে মহান।
তাই জ্ঞান শেখা, শেখানো—হোক সওয়াবের কাজ,
ইখলাসভরা শিক্ষায় খুলুক জান্নাতের পথ আজ।
শিক্ষক যদি জ্ঞান বিলান আল্লাহর সন্তুষ্টিতে,
শিক্ষার্থী যদি শেখে সত্য গ্রহণের নিয়তে,
তবে শ্রেণিকক্ষও হতে পারে নেক আমলের স্থান,
জ্ঞানচর্চার প্রতিটি ক্ষণে মিলতে পারে কল্যাণ।
তবে নিয়ত হোক নির্মল—খ্যাতির জন্য নয়,
প্রশংসা কিংবা পদ-মর্যাদা পাওয়ার জন্য নয়।
আল্লাহর সন্তুষ্টি যদি থাকে হৃদয়ের অন্তরালে,
শিক্ষার প্রতিটি পদক্ষেপ নেকির পথে চলে।
শিক্ষার্থী পরীক্ষায় ভালো করবে—এ আশা স্বাভাবিক,
কিন্তু চরিত্রে ভালো হওয়া তার চেয়েও অধিক।
নম্বর জীবনের একটি অংশ, মানুষ হওয়া মূল,
চরিত্রহীন বিদ্যা যেন সুবাসহীন ফুল।
শিক্ষকও যেন নম্বর দিয়ে বিচার না করেন প্রাণ,
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর আছে আলাদা সম্ভাবনার দান।
কেউ দ্রুত শেখে, কেউ একটু ধীরে,
স্নেহ ও শ্রম দিলে সেও উঠতে পারে শিখরে।
কেউ গণিতে ভালো, কেউ ভাষায় অনন্য,
কেউ শিল্পে, কেউ বিজ্ঞানে, কেউ নেতৃত্বে ধন্য।
কারও হাতে কারিগরি, কারও কণ্ঠে গান,
প্রতিভার বৈচিত্র্যই তো সৃষ্টির অনুপম দান।
শিক্ষক সেই প্রতিভাকে চিনবেন যতনে,
সঠিক পথে পরিচালিত করবেন স্নেহময় যতনে।
শিক্ষার্থীও নিজের শক্তি চিনে করবে সাধনা,
অন্যের সঙ্গে তুলনা নয়—নিজের উন্নতিই কামনা।
শিক্ষাঙ্গনে থাকবে না ভয়, থাকবে না অপমান,
থাকবে প্রশ্ন, আলোচনা, যুক্তি ও জ্ঞানের গান।
শিক্ষক বলবেন—“ভাবো”, ছাত্র বলবে—“কেন?”,
এভাবেই তো জ্ঞানের দ্বার খুলে যায় প্রতিক্ষণে।
শিক্ষক হবেন শ্রোতা, ছাত্রও শুনবে মন,
দুই পক্ষের সংলাপেই বাড়বে জ্ঞান-চেতন।
একতরফা কথায় শিক্ষা হয় অনেক সময় শুষ্ক,
পারস্পরিক অংশগ্রহণেই পাঠ হয় প্রাণময়, পুষ্ট।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক হোক আস্থায় ভরা,
ভুল হলে ক্ষমা চাওয়া, ভুল হলে ক্ষমা করা।
অহংকার নয়—বিনয়; রাগ নয়—সহনশীলতা,
এই গুণেই গড়ে ওঠে সুন্দর মানবিকতা।
কখনো শিক্ষক কঠোর হলে ছাত্র বুঝবে কারণ,
সংশোধনের উদ্দেশ্য থাকলে কঠোরতাও কল্যাণ।
তবে শাসন হবে ন্যায়সঙ্গত, অপমানহীন,
ভালোবাসার ছায়ায় থাকবে শাসনের প্রতিদিন।
শিক্ষার্থীও শৃঙ্খলা মানবে, সময়মতো আসবে,
পাঠ করবে মন দিয়ে, দায়িত্ব নিজে নেবে।
শিক্ষকের কথা শুনবে, কাজ করবে নিয়মে,
অলসতা দূরে রেখে এগোবে আপন গুণে।
শ্রদ্ধা থাকবে, তবে অন্ধ অনুসরণ নয়,
সত্য ও ন্যায়ের মানদণ্ডেই হবে সব বিচারময়।
ইসলামের শিক্ষা হলো—সত্যের পথে দৃঢ় থাকা,
আল্লাহর বিধান মেনে ন্যায়কে বুকে রাখা।
শিক্ষক ও ছাত্র মিলে গড়ুক এমন সমাজ,
যেখানে জ্ঞান হবে শক্তি, চরিত্র হবে সাজ।
যেখানে মানুষ মানুষকে করবে না অবহেলা,
যেখানে সত্যের জয় হবে, মিথ্যার হবে মেলা—
না, মিথ্যার মেলা নয়—মিথ্যা হবে পরাজিত,
সত্যের আলোয় সমাজ হবে সুন্দর, নির্মল, উন্নত।
আজকের ছাত্র আগামী দিনের শিক্ষক হবে,
আজকের শিক্ষক একদিন স্মৃতির পাতায় রবে।
প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে জ্ঞানের এই প্রবাহ,
চলবে অবিরাম—এটাই মানবজীবনের চাওয়া।
আজ যে ছাত্র শিক্ষকের কথা শুনে শেখে,
কাল সে-ই হয়তো অন্য শিশুর পাশে থাকে দেখে।
একজনের জ্ঞান যখন আরেকজনের মাঝে যায়,
সভ্যতার প্রদীপ তখন প্রজন্ম পেরিয়ে জ্বলে যায়।
তাই শিক্ষককে সম্মান দাও, শিক্ষার্থীকে ভালোবাসো,
দুজনেই নিজের দায়িত্ব সুন্দরভাবে পালন করো।
শ্রদ্ধা, মমতা, আস্থা দিয়ে সম্পর্ক রাখো অটুট,
তবেই শিক্ষার বৃক্ষ হবে সবুজ, সুন্দর, ফলপ্রসূ ও সুদৃঢ়।
জ্ঞান হবে শিকড়, আদব হবে তার মাটি,
তাকওয়া হবে সেচের জল, সত্য হবে তার পাটি।
চরিত্র হবে কাণ্ড তার, আমল হবে ফুল,
মানবসেবার ফল ধরবে—এটাই শিক্ষার মূল।
এসো তবে শিক্ষক-ছাত্র একসঙ্গে আজ শপথ করি—
অজ্ঞতার আঁধার ভেঙে জ্ঞানের প্রদীপ ধরি।
মিথ্যার কাছে নত হব না, অন্যায় করব না,
কারও হক নষ্ট করে নিজের সুখ গড়ব না।
আল্লাহর নামে পড়ব, শিখব, জ্ঞানকে কাজে আনব,
সুন্নাহর সুন্দর আদর্শ হৃদয়ের মাঝে রাখব।
বিনয় হবে অলংকার, সত্য হবে প্রাণ,
মানবসেবার মাধ্যমে খুঁজব রবের সন্তুষ্টির দান।
শিক্ষক হবেন আদর্শ, ছাত্র হবে আদর্শবান,
দুজন মিলে গড়বে তারা সুন্দর শিক্ষাঙ্গন।
শ্রদ্ধার সঙ্গে ভালোবাসা, ভালোবাসার সঙ্গে শাসন,
শাসনের মাঝে প্রজ্ঞা, প্রজ্ঞার মাঝে মানবিক মন।
যেখানে শিক্ষক হাসিমুখে বলেন—“এসো, শিখি”,
যেখানে ছাত্র নির্ভয়ে বলে—“স্যার, বুঝিনি—আবার দেখি।”
যেখানে প্রশ্ন অপরাধ নয়, ভুলও নয় লজ্জা,
সেখানেই তো শিক্ষার আসল সৌন্দর্যের সজ্জা।
যেখানে দুর্বল ছাত্র পায় আরও একটু সময়,
যেখানে মেধাবী ছাত্র পায় বিনয়ের পরিচয়।
যেখানে শিক্ষক পক্ষপাতহীন, ছাত্র শৃঙ্খলিত,
সেই শিক্ষাঙ্গনই সত্যিকার অর্থে আলোকিত।
হে শিক্ষক! আপনার হাতে আগামী দিনের প্রাণ,
আপনার আচরণে শেখে শিশুরা জীবনের জ্ঞান।
তাই কথায়-কাজে রাখুন সত্য ও আমানত,
আপনার চরিত্র হোক শিক্ষার জীবন্ত দৃষ্টান্ত।
হে শিক্ষার্থী! তোমার হাতে আগামী দিনের দেশ,
তোমার জ্ঞানেই গড়বে ভবিষ্যৎ, মুছবে দুঃখ-ক্লেশ।
শিক্ষককে সম্মান করো, জ্ঞানকে করো মান,
চরিত্র দিয়ে প্রমাণ করো শিক্ষার মহিমান্বিত দান।
শিক্ষক-শিক্ষার্থী—দুই নাম, এক মহৎ পথ,
একজন দেন জ্ঞানের আলো, অন্যজন নেয় সেই রথ।
আস্থা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় সম্পর্ক হোক মহান,
তবেই পূর্ণ হবে শিক্ষার সত্যিকারের সম্মান।
দুনিয়ার শিক্ষা হোক আখিরাতের পাথেয়,
জ্ঞান হোক নেক আমল, সত্য হোক হৃদয়ের আশ্রয়।
আল্লাহর সন্তুষ্টি হোক জীবনের শেষ লক্ষ্য,
জ্ঞান-চরিত্র-তাকওয়ায় হোক জীবন সত্য সুন্দর, পবিত্র।
হে আল্লাহ! শিক্ষককে দিন হিকমত, ইখলাস, জ্ঞান,
শিক্ষার্থীকে দিন আদব, মেধা, আমল ও ঈমান।
শিক্ষাঙ্গনে দিন শান্তি, কল্যাণ, সৌহার্দ্য,
জ্ঞানকে করুন মানুষের জন্য রহমত ও সৌভাগ্য।
হে রব! শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বন্ধন করুন নির্মল,
হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ থেকে রাখুন অন্তর উজ্জ্বল।
জ্ঞান দিয়ে যেন কেউ না করে অন্যের ক্ষতি,
বরং জ্ঞান হোক মানবতার কল্যাণের শক্তি।
শিক্ষক হোক আলোর দিশা, ছাত্র হোক আলোকিত,
দুজন মিলে গড়ুক সমাজ—সত্যে সুপ্রতিষ্ঠিত।
আদব, আমল, জ্ঞান, তাকওয়া—হোক জীবনের গান,
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর বন্ধনে ফুটুক ইসলামের জ্ঞান।
জ্ঞান যেখানে আলো জ্বালে, আদব যেখানে ফুল,
সেখানে মানুষ গড়ে ওঠে—শিক্ষার সেটাই মূল।
শ্রদ্ধা যেখানে ভালোবাসার সঙ্গে বাঁধে প্রাণ,
সেখানেই শিক্ষক-শিক্ষার্থী সম্পর্ক পায় পূর্ণ সম্মান।
চলুক এই বন্ধন যুগের পর যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম,
জ্ঞান হোক উত্তরাধিকার, চরিত্র হোক মহত্তম।
শিক্ষক দেবেন আলোর দিশা, ছাত্র নেবে জ্ঞান,
সত্য, ন্যায়, মানবসেবায় গড়বে নতুন প্রাণ।
শিক্ষক ও শিক্ষার্থী—এক পবিত্র সম্পর্কের নাম,
জ্ঞান ও আদবের মিলনে যার বাড়ে মহিমান।
আস্থা, শ্রদ্ধা, ভালোবাসা—তিনটি হোক ভিত্তি,
এই বন্ধনেই গড়ে উঠুক আলোকিত মানবজাতি।
জ্ঞান হোক আলো, আদব হোক প্রাণ,
সত্য হোক পথ, তাকওয়া হোক মান;
শিক্ষক-শিক্ষার্থী চলুক পাশাপাশি—
দুনিয়ায় কল্যাণ, আখিরাতে নাজাতের আশায়।
৫
৫ মন্তব্য