সহকারী অধ্যাপক
১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৩:১০ পূর্বাহ্ণ
সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা -সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা
|
|
সৃষ্টিজগতের স্রষ্টা
আকাশজুড়ে নীলের মেলা, নক্ষত্র ঝরে রাতে,
কে সাজাল এই বিশ্বভুবন অপরূপ প্রভাতে?
কে দিল সূর্য আলোর দীপ, চাঁদকে দিল জ্যোতি,
কে রাখে সব সৃষ্টিকে আজ নিজ হুকুমের গতি?
কে বানাল এই বিশাল আকাশ, কে বানাল এই ধরা,
কে দিল সাগর, নদী, পাহাড়, সবুজ বনের ছায়া?
কে দিল পাখির কণ্ঠে সুর, ফুলে দিল সুবাস,
কে দিল প্রাণের স্পন্দন জাগা—কে দিল শ্বাস-প্রশ্বাস?
তিনি আল্লাহ—এক ও অদ্বিতীয়, সবার রব মহান,
তাঁরই হাতে সৃষ্টির শুরু, তাঁরই হাতে প্রাণ।
তিনি স্রষ্টা, তিনি মালিক, তিনি পালনকর্তা,
তাঁরই হুকুমে চলছে বিশ্ব, তিনিই সর্বকর্তা।
আসমান-জমিন সৃষ্টি করেছেন পরম প্রজ্ঞাময়,
তাঁরই জ্ঞানে ক্ষুদ্র-বৃহৎ কোনো কিছু নয় অগোচর।
দৃশ্য-অদৃশ্য সবকিছুরই তিনি পরম জ্ঞাতা,
তাঁর জ্ঞানকে ছাড়িয়ে যাওয়ার শক্তি নেই কারও, কোথা।
কিছুই ছিল না—তখন ছিলেন আমাদের রব একা,
নিজ ক্ষমতায় সৃষ্টি করলেন জগতের এই রেখা।
কোনো সঙ্গী, কোনো সহায় তাঁর প্রয়োজন হয়নি,
নিজ কুদরতে সৃষ্টি করলেন—কারও সাহায্য নেননি।
ছয় দিনে আসমান-জমিন সৃষ্টি করলেন রব,
সৃষ্টির মাঝে ফুটে উঠল তাঁর কুদরতের রূপ।
দিন-রাত আসে, দিন-রাত যায়, নিয়ম চলে ঠিক,
তাঁর নির্ধারিত বিধানেই বিশ্বজগত স্থির।
সূর্য ওঠে পূর্ব আকাশে, পশ্চিমে যায় ডুবে,
চাঁদটি হাসে রাতের বুকে রূপালি আলো ছড়িয়ে।
নক্ষত্রগুলো শোভা পায় নীল আকাশের গায়ে,
সবই চলে রবের হুকুমে নির্ধারিত নিয়মে।
গ্রহ-নক্ষত্র, চন্দ্র-সূর্য, আকাশের বিশালতা,
সবকিছুতেই প্রকাশ পায় আল্লাহর মহত্ত্বতা।
কেউই নিজের ইচ্ছামতো চলে না এ সংসারে,
সবাই তাঁর বিধান মেনে নিজ নিজ পথ ধরে।
পাহাড় দাঁড়িয়ে দৃঢ় হয়ে, মেঘ ভাসে আকাশে,
বাতাস বয়ে যায় নিঃশব্দে মাঠের ঘাসের পাশে।
বৃষ্টি নামে শুকনো মাটির বুকের গভীর তলে,
মৃত জমিনে প্রাণের সাড়া সবুজ পাতায় দোলে।
কে বর্ষণ করেন মেঘের পানি, কে দেন শস্যদান?
কে করেন ফুল-ফল উৎপন্ন, কে দেন রিজিক-প্রাণ?
কে দেন খাদ্য, কে দেন পানি, কে দেন জীবনের আলো?
আল্লাহ ছাড়া এমন দাতা আর কে আছে বলো?
মাটির বুকে বীজটি যখন অন্ধকারে থাকে,
কে তাকে জাগিয়ে তোলে রোদ-বৃষ্টির ডাকে?
ক্ষুদ্র বীজে বৃক্ষের ছবি কে রেখেছেন ভরে?
কে তাকে বড় করে তোলেন শাখা-পাতা ধরে?
ধানের শীষে সোনার হাসি, গমের দানায় প্রাণ,
ফলবাগানে মিষ্টি ফলে ভরে ওঠে প্রাণ।
সবজি ফলে ক্ষেতের মাঝে, ফুলে রঙের খেলা,
রবের দানে ভরে ওঠে পৃথিবীর এই মেলা।
মৌমাছি যায় ফুলের বনে, মধু সংগ্রহ করে,
পাখি ফিরে নীড়ের কোণে সন্ধ্যা নামার পরে।
পিঁপড়ে চলে সারি বেঁধে, মাছ সাঁতরে জলে,
অসংখ্য প্রাণী জীবন পায় রবের দেওয়া বলে।
স্থলভাগ আর জলভাগজুড়ে কত প্রাণের বাস,
জঙ্গলে কত জীবের জীবন, সাগরে কত শ্বাস!
ক্ষুদ্র পোকা, বৃহৎ প্রাণী—সবই তাঁর সৃষ্টি,
তাঁর কুদরতের নিদর্শনে ভরা বিশ্বসৃষ্টি।
মানুষ সৃষ্টি করেছেন তিনি মাটি থেকে একদিন,
দিয়েছেন জ্ঞান, বিবেক, বুদ্ধি, দিয়েছেন দুই নয়ন।
শুনতে দিয়েছেন দুই কান, কথা বলার ভাষা,
চিনতে দিয়েছেন ভালো-মন্দ, দিয়েছেন আশা-ভরসা।
মানুষ ভাবে—“আমি করি”, “আমি সবই জানি”,
ভুলে যায় সে—রবের দানে পেয়েছে জ্ঞানখানি।
শক্তি, বুদ্ধি, সম্পদ, স্বাস্থ্য—সবই তাঁর দান,
তাঁর অনুগ্রহ ছাড়া কারও নেই কোনো ক্ষমতা-প্রাণ।
শিশুর মুখের মিষ্টি হাসি, মায়ের স্নেহধারা,
বাবার শ্রমে সংসার গড়া—সবই দানের ধারা।
ভাইয়ের ভালোবাসা মধুর, বন্ধুর স্নেহময়,
সব নিয়ামত আল্লাহর দান—তাঁরই অনুগ্রহময়।
তিনি জীবন দেন, মৃত্যু দেন, আবার করবেন হাশর,
তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে—এটাই সত্য খবর।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণিক মাত্র, স্থায়ী নয় এ ধাম,
সৎকর্ম নিয়ে চলতে হবে—এটাই মুমিনের কাম।
তিনি রব, তিনি পালনকর্তা, তিনি দয়াময়,
তাঁর রহমতের সীমা কত—কেউ কি তার হিসাব কয়?
বান্দা যখন ভুলের পথে ফিরে আসে কাঁদতে,
তওবার দরজা খোলা থাকে দয়ার রবের কাছে।
তিনি কারও মতো নন, তাঁর তুলনা নেই,
তিনি একক, অদ্বিতীয়—সমকক্ষ তাঁর নেই।
তিনি জন্ম নেননি, কাউকে জন্মও দেননি,
তাঁর সমতুল্য কেউ নেই—এ সত্য কখনো বদলায়নি।
তাঁরই জন্য ইবাদত হবে, তাঁরই কাছে নত,
তাঁরই কাছে চাইব সাহায্য, তিনিই পরম গত।
সিজদা হবে এক আল্লাহর, দোয়া তাঁরই কাছে,
তাওহিদের এই নির্মল শিক্ষা মুমিন হৃদয়ে আছে।
সৃষ্টিকে ভালোবাসব আমরা, স্রষ্টাকে ভুলব না,
নিয়ামত পেয়ে অহংকারে রবকে কখনো ভুলব না।
মানুষ, পশু, পাখি, বৃক্ষ—সবকিছুর হক মানি,
আল্লাহর সৃষ্টি বলে তাদের প্রতি দয়া জানি।
নদী যদি দেয় স্নিগ্ধ জল, শুকায় তৃষ্ণার ক্ষত,
গাছ যদি দেয় ছায়া-ফল, রাখব তারও যত্ন।
পৃথিবী আল্লাহর আমানত—রাখব তাকে ভালো,
অন্যায় করে নষ্ট করব না তাঁর দেওয়া আলো।
সাগরের ঢেউ বলে যেন—“রবের কুদরত দেখো”,
পাহাড় যেন বলে—“স্রষ্টার মহিমা হৃদয়ে রেখো।”
আকাশ যেন নীরব ভাষায় জানায় তাঁর পরিচয়,
রাতের নীরব নক্ষত্রমালা বলে—“তিনি মহানময়।”
ভোরের আলো, রাতের আঁধার, দিন ও রাতের পালা,
সবই যেন স্মরণ করায়—আল্লাহ রবের লীলা।
বজ্রধ্বনি, বৃষ্টির ধারা, মেঘের কালো মায়া,
সবকিছুরই অন্তরালে তাঁর কুদরতের ছায়া।
চোখ মেলে দেখো চারপাশে—কত নিদর্শন আছে,
চিন্তাশীল হৃদয় সেগুলো দেখে ঈমান বাড়ায় কাছে।
শুধু চোখে দেখা নয়, জ্ঞান দিয়ে ভাবতে হবে,
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার নিদর্শন চিনতে হবে তবে।
জ্ঞান যতই বাড়ুক মানুষের, বিনয় যেন থাকে,
সৃষ্টিকর্তার মহিমা যেন হৃদয় ভরে রাখে।
বিজ্ঞান যদি খুলে দেয় বিশ্বজগতের দ্বার,
স্রষ্টার প্রতি কৃতজ্ঞতা হোক ততই অপরিসীম আর।
নক্ষত্র গণে মানুষ আজ, মহাকাশে যায়,
সৃষ্টির রহস্য খুঁজতে গিয়ে বিস্মিত হয়ে চায়।
তবু যতই জ্ঞান অর্জন হোক মানবজাতির,
আল্লাহর জ্ঞান সীমাহীন—সীমা নেই তাঁর জ্ঞানের।
ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অণু থেকে বিশাল মহাকাশ,
সবকিছুরই স্রষ্টা তিনি, তাঁরই কুদরতের প্রকাশ।
কণার ভেতর নিয়ম আছে, বিশ্বজুড়ে শৃঙ্খলা,
এ শৃঙ্খলা স্মরণ করায়—রবের ক্ষমতা অসীম বলা।
তাই তো বলি—আল্লাহ মহান, আল্লাহ পরম রব,
তাঁরই হাতে জীবন-মরণ, তাঁরই হাতে সব।
তাঁরই কাছে মাথা নত, তাঁরই কাছে প্রার্থনা,
তাঁরই পথে জীবন গড়াই মুমিনের সাধনা।
হে মানুষ, অহংকার ছেড়ে রবের দিকে ফেরো,
অন্যায়-অবিচার ছেড়ে সত্যের পথে চলো।
নামাজ কায়েম, সত্য বলো, হালাল পথে চলো,
রবের দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া মনে বলো।
যে রব তোমায় সৃষ্টি করেছেন, ভুলে যেয়ো না তাঁকে,
দুনিয়ার মোহে হারিয়ে যেয়ো না ক্ষণিক সুখের ফাঁকে।
জীবন শেষে ফিরতে হবে তাঁরই দরবারে,
কাজের হিসাব দিতে হবে সেই মহাবিচারের দ্বারে।
সেদিন ধন-সম্পদ থাকবে না কোনো কাজে,
ক্ষমতা, অহংকার, পরিচয়—সবই যাবে লাজে।
সঙ্গে যাবে ঈমান, আমল, সত্য কর্মের ফল,
তাই তো আজই সৎ হও, দূর করো মনের মল।
আল্লাহ যিনি আসমানের, জমিনেরও রব,
সমস্ত সৃষ্টিজগতের একমাত্র মালিক সব।
তিনি স্রষ্টা, তিনি দাতা, তিনি পালন করেন,
তাঁরই হুকুমে বিশ্বজগৎ আপন পথে চলে।
তাঁর কুদরত সীমাহীন, তাঁর মহিমা অপরিসীম,
তাঁর স্মরণে প্রশান্ত হৃদয়, তাঁর বিধান জীবন-দীপ।
তাওহিদের এই সত্য বুকে রাখব অটুট করে,
আল্লাহর পথে জীবন গড়ব ভালোবাসা ভরে।
আকাশ-জমিন সাক্ষী হোক, সাক্ষী হোক প্রাণ,
আল্লাহই আমাদের রব—এটাই মুমিনের জ্ঞান।
সকল প্রশংসা তাঁরই জন্য, তিনি পরম মহান,
আলহামদুলিল্লাহ—তিনিই স্রষ্টা, তিনিই প্রাণের প্রাণ।
সৃষ্টি যত দেখি তত তাঁর কুদরত মনে পড়ে,
তাঁরই নামে হৃদয় জাগে, সত্যের আলো ঝরে।
আসমান-জমিন, প্রাণী, মানুষ—সব তাঁরই দান,
আল্লাহ তাআলাই একমাত্র স্রষ্টা, মালিক ও পরম রব মহান।
১৪
২২ মন্তব্য