Loading..

ব্লগ

রিসেট

১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ

#প্রিয়তম_নবীজির_শারীরিক_বিবরণ_ﷺ পড়ুন আর সুকুন নিন।

প্রিয়তম_নবীজির_শারীরিক_বিবরণ ইহা এক দীর্ঘ বর্ণনার খন্ড নামমাত্র, যাহা পড়ার সৌভাগ্য আপনি লাভ করেছেন তো? পড়ুন আর সুকুন নিন...

হিজরতের সময় নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উম্মু মাবাদ আল-খুযাইয়া নামক এক মহিলার ডেরায় কিছুক্ষণ অবস্থান করেন। এরপর রওনা হয়ে যান মদিনার পথে। তার চলে যাওয়ার পর উম্মু মাবাদ তার স্বামীর কাছে নবিজির দৈহিক বিবরণ দিতে গিয়ে বলেন—উজ্জ্বল গায়ের রং, নূরানি চেহারা, সুন্দর গঠন, স্ফীতন দেহ। একেবারে সোজাও নয়; আবার কুঞ্চিতও নয়। অসাধারণ সৌন্দর্যের পাশাপাশি মনোমুগ্ধকর শারীরিক গঠন, ঘন কপাল, লম্বা ঘাড়, সুরমা-মাখানো সাদা-কালো চোখ, কুচকুচে কালো পাপড়ি, সরু ও জোড়া ভ্রূ, বল্লমের মতো কালো চুল।
নীরব থাকলে ব্যক্তিত্ব ফুটে ওঠে, কথা বললে আকর্ষণীয় লাগে, দূর থেকে মনে হয় সবার চেয়ে উজ্জ্বল ও সৌন্দর্যপূর্ণ; কাছ থেকে দেখলে সুদর্শন ও প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার প্রকাশভঙ্গি সুস্পষ্ট, কথা খুব সারগর্ভ, কথা বলার সময় মনে হয় যেন মুক্তো ঝরছে। দেহের উচ্চতা মধ্যম। বেঁটেও নন আবার লম্বাও নন, এই দুটোরই মাঝামাঝি। সুন্দর,সুসমা সহচররা ঘিরে থাকে তাকে। তার কথা খুব মনোযোগ দিয়ে শোনে। তিনি কোনো আদেশ করলে, তারা ছুটে গিয়ে তা পালন করে। সবাই তার সেবা করে, তার চতুর্দিকে জড়ো হয়ে থাকে। তিনি কারো নিন্দা করেন না, কারো প্রতি তাচ্ছিল্য প্রকাশ করেন না।
আলি ইবনু আবি তালিব বলেন, তিনি অতি দীর্ঘকায় ছিলেন না; আবার একেবারে খাটোও নন; বরং ছিলেন তিনি মাঝারি গড়নের। তার মাথার চুল খুব বেশি কোঁকড়ানো ছিল না, আবার একেবারে সোজাও নয়, কিছুটা ঢেউ খেলানো। তিনি স্থূলকায় নন, তার মুখাবয়ব কিছুটা গোলাকার, তবে পুরোপুরি গোলগাল নয়। তার গায়ের রং হলদে ফর্সা।
ভ্রূ-যুগল সরু ও দীর্ঘ। তার হাতের গ্রন্থিগুলো বেশ মজবুত, বাহু-দুটিও যথেষ্ট মাংসল। তার দেহে অতিরিক্ত লোম ছিল না, বুক থেকে নাভি পর্যন্ত নেমে গিয়েছিল হালকা একটি লোমের রেখা। তার হাতের তালু ও পায়ের পাতা ছিল গোশতে পূর্ণ। যখন হাঁটতেন, দৃঢ় পদক্ষেপে হাঁটতেন, যেন ওপর থেকে অবতরণ করছেন। কারও দিকে তাকালে গোটা দেহ ঘুরিয়ে তাকাতেন। তার দুই কাঁধের মধ্যবর্তী স্থানে ছিল নবুয়তের মোহর। নবিদের আগমনধারা তার মাধ্যমেই সমাপ্ত হয়েছে।
নবিজি ছিলেন উদার, দানশীল, সাহসী, সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত। তার হৃদয় ছিল কোমল আর মনন ছিল অভিজাত্যপূর্ণ। প্রথম দেখাতেই তার প্রতি সমীহ জেগে ওঠে মনের গভীরে। আর পূর্বপরিচয় থাকলে, প্রতি সাক্ষাতে তার ভালোবাসায় ব্যাকুল হয়ে যায় হৃদয়। কেউ তার শারীরিক গঠনের বর্ণনা দিতে গেলে বলতে বাধ্য হয়, ‘তার আগে কিংবা পরে তার মতো সুদর্শন কাউকে দেখিনি কখনো।’
অন্য একটি বর্ণনায় আলি বলেন, তার মাথা কিছুটা বড়, পেশি চওড়া। বুক থেকে নাভি পর্যন্ত পশমের একটি সরু রেখা বিদ্যমান। পথ চলার সময় সামনের দিকে কিছুটা ঝুঁকে থাকতেন, যেন কোনো উঁচু স্থান থেকে নিচে নামছেন।
জাবির ইবনু সামুরাহ বলেন, আল্লাহর রাসুলের মুখমণ্ডল কিছুটা বড়। চোখজোড়া লালচে। পায়ের গোড়ালি ছিল ছিপছিপে।
আবু তুফাইল বলেন,তিনি ছিলেন বেশ ফর্সা এবং লাবণ্যময় চেহারার অধিকারী। তার উচ্চতা মাঝারি ধরনের।
আনাস ইবনু মালিক বলেন, নবিজির হাতের তালু বেশ প্রশস্ত। গায়ের রং যথেষ্ট আকর্ষণীয়। তিনি কঙ্কণীদের মতো সাদা নন, আবার একেবারে গমের মতো বাদামিও নন। মৃত্যুর সময় তার মাথায় ও দাড়িতে সব মিলিয়ে ২০টি চুলও সাদা হয়নি। তিনি আরও বলেন, শুধু কান ও মাথার কয়েকটি চুল সাদা হয়েছিল।
আবু জুহাইফা বলেন, আমি রাসূলুল্লাহর নিচের ঠোঁটের নিচাংশে অর্থাৎ অধরে কয়েকটি সাদা দাড়ি দেখেছি।
আব্দুল্লাহ ইবনু বুসর বলেন, নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অধরে কয়েকটি শুভ্র দাড়ি ছিল।
বারা ইবনু আজিব বলেন, রাসূলুল্লাহ ছিলেন মাঝারি গড়নের মানুষ। উভয় কাঁধের মাঝখানে বেশ খানিকটা দূরত্ব ছিল। মাথার চুল কানের লতি পর্যন্ত। তাকে একটি লাল চাদরে আবৃত অবস্থায় দেখেছি। তার চেয়ে সুন্দর কিছু আমি কখনো দেখিনি।আগে তিনি আহলে কিতাবদের মতো চুল আঁচড়ানোর সময় সিঁথি করতেন না। পরবর্তীকালে সিঁথি করা শুরু করেন।
বারা ইবনু আজিব বলেন, আল্লাহর রাসূল সুন্দরতম চেহারা ও আকর্ষণীয় শারীরিক গঠনের অধিকারী ছিলেন। একবার তাকে জিজ্ঞেস করা হয়, আল্লাহর রাসূলের মুখমণ্ডল কি তরবারির মতো ছিল? তিনি বলেন, না বরং চাঁদের মতো।[৮] অন্য একটি বর্ণনায় এসেছে, তার চেহারা ছিল গোলাকৃতির।
রুবাইয়ি বিনতু মুয়াওয়িয বলেন, আল্লাহর রাসূলকে দেখলে মনে হতো সূর্য উদিত হয়ে গিয়েছে।
জাবির ইবনু সামুরা বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলকে চাঁদনি রাতে দেখেছিলাম। তার গায়ে তখন একটি লাল চাদর জড়ানো। আমি একবার তার দিকে তাকাচ্ছিলাম, আরেকবার চাঁদের দিকে তাকাচ্ছিলাম। শেষমেশ আমার মনে হলো, নবিজি চাঁদের চেয়েও অনেক বেশি সুন্দর।
আবু হুরাইরা বলেন, আমি আল্লাহর রাসুলের চেয়ে সুন্দর কিছু কখনো দেখিনি। তাকে দেখলে মনে হতো সূর্য যেন তার মুখমণ্ডল ছড়িয়ে আছে। আমি তারচেয়ে দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপে চলতেও দেখিনি কাউকে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে হাঁটতে আমাদের যথেষ্ট বেগ পেতে হতো। তিনি হেঁটে হেঁটে অনায়াসে বহু দূর চলে যেতেন আর আমরা শুধু তাকিয়ে তাকিয়ে দেখতাম।
কাব ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজি আনন্দিত হলে তার চেহারা ঝলমল করে উঠত। মনে হতো যেন এক টুকরো চাঁদ।
আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার কাছে অবস্থানকালে একবার তিনি জুতা সেলাই করছিলেন। এদিকে আয়িশা করছিলেন সুতা কাটার কাজ। এসময় নবিজি বেশ ঘেমে যান। তার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম ঝলমল করছিল। তখন তাকে দেখে আয়িশা মুগ্ধ হয়ে বলেন, আজ আর কবির আল-হুলি আপনাকে দেখলে বুঝত, তার এই কবিতাটি কেবল আপনার বেলায় যথার্থ।
এ বলে তিনি আবৃত্তি করতে থাকে—
পড়ল নজর যখনই তার ঝলমলে নূর চেহারায়
আঁধার রাতে মেঘের মাঝে বিজলি যেন চকচকায়।
আরু বকর রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখলে বলতেন—
নির্বাচিত, কল্যাণকারী এবং আমানতদার
আপনি এমন পুণ্যচাঁদ, হটায় যা অন্ধকার।
উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু নবিজিকে দেখে কবি যুহাইরের একটি কবিতা আবৃত্তি করতেন।
এ কবিতাটি তিনি লিখেছিলেন হরম ইবনু সিনানকে উদ্দেশ্য করে—
অনেকিছু হতেন যদি
আপনি মানুষ বিনে,
চতুর্দশী কিরণ পেত
আপনার আলোর ঋনে।
কবিতাটি আবৃত্তির পর উমার বলতেন, এমনই ছিলেন আমাদের প্রিয় নবি।
নবিজি রাগান্বিত হলে তার চেহারা লাল হয়ে যেত। যেন তার দুই গালে আনারের রস ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে। জাবির ইবনু সামুরা বলেন,আল্লাহর রাসুলের পায়ের গোড়ালি ছিপছিপে। তিনি সাধারণত মুচকি হাসতেন। তাকে দেখে মনে হতো, তিনি দুচোখে সুরমা লাগিয়েছেন। অথচ তার চোখে কোনো সুরমা ছিল না।
উমার ইবনুল খাত্তাব রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নবিজির মুখ ছিল সবার চেয়ে সুন্দর।
আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস বলেন, আল্লাহর রাসুলের সামনের দুটি দাঁতের মাঝে সামান্য ফাঁকা ছিল। তিনি যখন কথা বলতেন, মনে হতো তার দুই দাঁতের মাঝখান থেকে আলোকরশ্মি বিচ্ছুরিত হচ্ছে।
তার গলদেশ রূপার পাত্রের মতো ঝকঝকে। চোখের পলক দীর্ঘ। ঘন দাড়ি, প্রশস্ত ললাট। ভ্রূ ছিল পৃথক। নাক সামান্য উঁচু। নাভি থেকে বুক পর্যন্ত ছিল হালকা লোমের রেখা। বাহুতে সামান্য পরিমাণে লোম দেখা যেত। তার পেট ও বুক ছিল এক বরাবর। বুকের ছাতি চওড়া। হাতের তালু প্রশস্ত। পথ চলার সময় কিছুটা সামনের দিকে ঝুঁকে পথ চলতেন। হাঁটার গতি ছিল মধ্যম প্রকৃতির।
আনাস বলেন, আল্লাহর রাসুলের হাতের তালুর চেয়ে মোলায়েম কোনো রেশম আমি কখনো স্পর্শ করিনি। তাছাড়া নবিজির শরীর থেকেও এক ধরনের সুগন্ধি ছড়াত। এই সুগন্ধির চেয়ে অধিক সুস্বাদু আমি পাইনি কখনো।
অপর বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহর রাসুলের গায়ের গন্ধের চেয়ে উৎকৃষ্ট সুগন্ধ আমি কোনো কস্তুরি বা মিশকের মাঝেও পাইনি।
আবু জুহাইফা বলেন, একবার আমি আল্লাহর রাসুলের হাত টেনে নিয়ে আমার মুখের ওপর বুলিয়ে দিলাম। তার হাত বরফের চেয়েও শীতল, শিশিরের চেয়েও স্নিগ্ধ এবং কস্তুরীর চেয়েও সুগন্ধিময়।
জাবির ইবনু সামুরাহ বলেন, আল্লাহর রাসুল আমার গালে একবার হাত বুলিয়ে দেন। আমি তখন এমন শীতল পরশ এবং মনমাতানো সুবাস পেয়েছি যেন তিনি আতরের পাত্র থেকে হাত বের করেছেন।
আনাস বলেন, আল্লাহর রাসুলের ঘাম ছিল মুক্তোর মতো। উম্মু সুলাইম বলেন, তার ঘাম সর্বোৎকৃষ্ট সুগন্ধিময়।
জাবির বলেন, আল্লাহর রাসুল কোনো রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে তার পরবর্তী লোকটি সেখানে সুগন্ধি পেয়েই বুঝে ফেলত, কিছুক্ষণ আগে এই রাস্তা দিয়ে কে হেঁটে গিয়েছেন।
তার পিঠের উপরিভাগে ছিল নবুয়তের মোহর। আকারে এটা বেশ ছোট। কবুতরের ডিমের সমান। দেখতে অনেকটা মুষ্টিবদ্ধ আঙুলের মতো। বাম কাঁধের নরম হাড়ের কাছে অবস্থিত। নবিজির গায়ের রঙের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় দূর থেকে বোঝা যায় না। তবে এর চারপাশে আঁচিলের মতো অনেকগুলো তিল রয়েছে।
মন্তব্য করুন

ব্লগ