সহকারী শিক্ষক
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে ৭ এসআরও, আইবাসে হবে নতুন বেতন নির্ধারণ

‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে সরকার। নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য সাতটি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করা হবে। পাশাপাশি নতুন কাঠামো অনুযায়ী বেতন পুনর্নির্ধারণের জন্য আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সাতটি পৃথক এসআরও জারি করা হবে। এতে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে।
এসআরওগুলো হবে— বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ।
অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা একটি জাতীয় দৈনিককে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বেতন নির্ধারণের পদ্ধতিতেও বড় পরিবর্তন আসছে। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন পুনর্নির্ধারণে আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
নতুন ব্যবস্থায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য অনলাইনে হালনাগাদ করা হবে। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে।
তথ্য পূরণ ও যাচাই শেষে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীর মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। এর ফলে নতুন কাঠামোয় কে কোন বেতন পাবেন, তা তথ্যের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।
গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নতুন বেতন কাঠামো ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
বর্তমানে সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন-পেনশন দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।
নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্টসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন বিধান থাকায় বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে।
অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো কাগজে-কলমে বেতন পুনর্নির্ধারণের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে নতুন বেতন নির্ধারণ করা। এতে বেতন নির্ধারণের জন্য হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। একই সঙ্গে ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা বা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।


১৪
২৪ মন্তব্য