Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:২৩ পূর্বাহ্ণ

কোথায় চলেছ তুমি? (সূরা আত-তাকভীরের আলোকে কিয়ামত, জবাবদিহি ও সরল পথের মহাগাথা) মোঃ মুজিবুর রহমান

                                                                        কোথায় চলেছ তুমি?

(সূরা আত-তাকভীরের আলোকে কিয়ামত, জবাবদিহি সরল পথের মহাগাথা)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

জীবন যেন ক্ষণিকের ছায়া, সময় নদীর স্রোত,
হাসি-কান্নায় কেটে যায় যে দিন-রাত্রির ক্ষণজোট।
আজ যে মানুষ রাজপ্রাসাদে গড়ে সুখের ঘর,
কাল সে মানুষ মাটির নিচেথামবে জীবনের স্বর।

চোখের সামনে দুনিয়া যত সুন্দর, যত মায়া,
মৃত্যু এসে এক নিমিষে থামিয়ে দেবে ছায়া।
সম্পদ, ক্ষমতা, খ্যাতি, মানসবই হবে ক্ষয়,
থাকবে শুধু ঈমান-আমলসফলতার পরিচয়।

কোথা থেকে এসেছি আমরা, কোথায় হবে শেষ?
কেন তবে অহংকারে আজ ভরে ওঠে বেশ?
কেন মানুষ ভুলে থাকে রবের মহা বিধান?
কেন দুনিয়ার মোহে হারায় আখিরাতের জ্ঞান?

এসো তবে কুরআনের সেই বাণী করি শ্রবণ,
যে বাণীতে জাগে অন্তর, জাগে বিবেক-মন।
সূরা আত-তাকভীর আজ খুলে দিক সেই দ্বার
কিয়ামতের মহাদৃশ্যে জাগুক অন্তরবার।

যেদিন সূর্য গুটিয়ে যাবে মহাশক্তির মাঝে,
ভেঙে যাবে চেনা নিয়ম সৃষ্টিজগতের সাজে।
যে সূর্যের আলো পেয়ে পৃথিবী হাসে আজ,
সেদিন তারও বদলে যাবে পরিচিত সব কাজ।

যে আলোয় আজ সকাল নামে, জেগে ওঠে প্রাণ,
সেই সূর্যও আল্লাহরইতাঁরই বিধান।
মানুষ কেন অহংকারে নিজেকে ভাবে বড়?
যিনি সূর্য গুটিয়ে নেবেন, তাঁরই ভয়ে চলো।

নক্ষত্ররাজি খসে পড়বে মহাকাশের বুক,
ভেঙে যাবে পরিচিত সব সৌন্দর্যের সুখ।
যে আকাশে তারার মেলা দেখে মানুষ মুগ্ধ হয়,
সেই আকাশও রবের হুকুমে বদলে যাবে নিশ্চয়।

পাহাড় যাকে মনে হয় অটল, অচল, স্থির,
কিয়ামতের সেই মুহূর্তে হবে অস্থির।
শিলাময় পর্বত তখন চলবে আপন গতিতে,
মানুষ বুঝবেরবের শক্তি সবকিছুরই ঊর্ধ্বেতে।

যে পাহাড় দেখে মানুষ বলে—“কত দৃঢ়, কত মহান!
সেই পাহাড়ও আল্লাহর কাছে দুর্বল, ক্ষণপ্রাণ।
তবে মানুষ কেন নিজের শক্তিতে করে গর্ব?
সব শক্তিরই মূল যে আল্লাহতিনি বিশ্বজগতের রব।

দশ মাসের গর্ভবতী উট, মূল্যবান ধন,
সেদিন মানুষ ভুলে যাবে তারও প্রয়োজন।
যে সম্পদের যত্নে মানুষ ব্যস্ত থাকে দিন-রাত,
কিয়ামতের ভয়াবহতায় থাকবে না তার কথামাত।

আজ সম্পদের জন্য মানুষ ভুলে যায় বিবেক,
অন্যের হক নষ্ট করে, করে কতই না পাপ এক।
কেউ জমায় অঢেল ধন, কেউ গড়ে প্রাসাদ,
কিন্তু মৃত্যুর পরে সঙ্গে যাবে না সে সম্পদ।

হালাল পথে সম্পদ অর্জনইসলামের নয় নিষেধ,
কিন্তু সম্পদের মোহে যেন হারিয়ে না যায় ঈমানের বোধ।
সম্পদ হবে জীবনের সেবা, হৃদয়ের নয় রাজা,
রবের সন্তুষ্টি হারিয়ে ধন অর্জনকীসের সাজা!

বন্য পশুরা একত্র হবে, বদলে যাবে দৃশ্য,
কাঁপবে তখন পৃথিবীজুড়ে সৃষ্টি-জগতের নিঃশ্বাস।
সমুদ্র হবে উত্তাল, ভেঙে যাবে শান্তি,
চারদিকে শুধু রবের কুদরতভয় মহাক্রান্তি।

যে পৃথিবী আজ পরিচিত, আপন মনে হয়,
সেদিন তার রূপ বদলাবেথাকবে না কোনো ভয়?
ভয় তো থাকবে, তবে মুমিন জানবে রবের ক্ষমতা,
দুনিয়া ক্ষণিক, আখিরাতই চিরস্থায়ী সত্যতা।

কন্যাশিশুকে পুঁতে যারা করেছিল হত্যা,
জাহেলিয়াতের সেই নিষ্ঠুরতা ছিল ভয়াবহ ব্যথা।
কিয়ামতের দিন সেই শিশুকে করা হবে প্রশ্ন
কোন অপরাধে তোমাকে হত্যা করেছিল সেই মানুষ?”

সে তো ছিল নিষ্পাপ শিশু, ছিল না কোনো দোষ,
তার ছোট্ট প্রাণ কেড়ে নেওয়া ছিল নির্মম রোষ।
আল্লাহর ন্যায়বিচারে কোনো অন্যায় ঢাকা নয়,
মজলুমের অশ্রু হারায় নারবের কাছে তারও হিসাব রয়।

তাই দুর্বলকে কষ্ট দিও না, নিপীড়ন কোরো না,
অন্যের অধিকার কেড়ে নিয়ে সুখের স্বপ্ন বুনো না।
আজ যদি ক্ষমতার জোরে অন্যায় করো ভাই,
কাল আল্লাহর আদালতে তার জবাব দিতেই হয় তাই।

যেদিন খুলে যাবে সবার জীবনের আমলখাতা,
সেদিন প্রকাশ পাবে গোপন যত কথা।
যা ভেবেছিলে লুকিয়ে রাখবে মানুষের চোখের আড়াল,
রবের কাছে কিছুই নয় অজানা বা গোপনকাল।

একটি কথা, একটি কাজ, একটি ছোট্ট ভুল,
সবই থাকবে হিসাবখাতায়থাকবে না কোনো ছল।
একটি হাসি, একটি দান, একটি ভালো আচরণ,
সেগুলোও হবে সেদিন নেকির মূল্যবান ধন।

তাই কথা বলার আগে ভাবো, কাজের আগে থামো,
কোন পথে আজ চলছ তুমিনিজেকে প্রশ্ন করো।
মানুষ না দেখলেও তোমার রব তো দেখেন সব,
তাঁর জ্ঞানের বাইরে নেই কোনো স্থান বা রব।

যেদিন জাহান্নাম হবে প্রজ্জ্বলিত ভয়ংকর,
পাপীর অন্তর কেঁপে উঠবেকোথায় যাব এবার?
দুনিয়াতে যে পাপকে মানুষ ভেবেছে তুচ্ছ,
সেদিন তারই পরিণাম হবে ভয়ংকর সত্য।

গুনাহকে ছোট ভেবো না, পাপকে হালকা কোরো না,
শয়তানের ধোঁকায় পড়ে নিজের জীবন হারিও না।
আল্লাহর রহমত অসীমতবু পাপে থেকো না ডুবে,
তাওবা করে ফিরে এসো রবের দয়ার রূপে।

অন্যদিকে জান্নাত হবে মুমিনের কাছে নিকট,
রহমতের সেই আবাস হবে চিরসুন্দর, চিরনির্মল।
যেখানে নেই মৃত্যু, নেই দুঃখ, নেই ভয়,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই হবে মুমিনের পরম জয়।

যে ব্যক্তি দুনিয়াতে রবের জন্য নিজেকে রাখে সংযত,
হারাম থেকে দূরে থাকে, নেক আমলে হয় নিয়ত,
যে সালাতে দাঁড়ায় বিনয়ে, কুরআন করে পাঠ,
তার জন্য আখিরাতে খুলবে রহমতেরই পথ।

সেদিন প্রত্যেক মানুষ জানবে স্পষ্ট করে,
কী পাঠিয়েছে সে নিজের জন্য আখিরাতের ঘরে।
কেউ পাঠাবে নেকি, কেউ পাপের ভার,
কেউ পাবে রহমত, কেউ হারাবে অধিকার।

আজ যে সময়কে মনে হয়—“ তো অনেক বাকি,
হঠাৎ মৃত্যু এসে বলবে—“চলো, সময় আর নাকি!
তাই আজকের কাজটি আজই করে নাও,
আখিরাতের পথে নিজের পাথেয় গড়ে নাও।

পিছু হটে চলা নক্ষত্র, গোপনে যায় হারিয়ে,
রাত যখন বিদায় নেয় অন্ধকার সরিয়ে।
সকাল যখন নিঃশ্বাস ফেলে আলো ছড়ায় ধীরে,
রবের কুদরত জেগে ওঠে পৃথিবীর প্রতিটি তীরে।

রাত আসে নিয়ম মেনে, সকাল আসে পরে,
দিনের পরে রাত নামে সৃষ্টির আপন ঘোরে।
শৃঙ্খলা বলে যেন—“রব আছেন, তিনি মহান,
তাঁর হুকুমেই চলছে সারা আকাশ-জমিনের প্রাণ।

এই কুরআন যে এসেছে সম্মানিত বাণীবাহকে,
জিবরাইল (.) বহন করেছেন আল্লাহর সেই বার্তাকে।
তিনি শক্তিশালী, মর্যাদাবান, বিশ্বস্ত ফেরেশতা,
রবের আদেশ পালন করাই তাঁর পবিত্র দায়িত্বতা।

কুরআনের প্রতিটি বাণী সত্য, হকের আলো,
মানবজাতির পথ দেখাতে এসেছে অতুল ভালো।
বাণী কোনো মানুষের মনগড়া কথা নয়,
আল্লাহর কালামসত্য এতে বিন্দুমাত্র ক্ষয় নয়।

 “তোমাদের সঙ্গী উন্মাদ নন”— ঘোষণা সত্য,
তিনি মুহাম্মদ , আল্লাহর প্রেরিত রাসুল মহান।
সত্যবাদিতা, আমানত, উত্তম চরিত্র তাঁর,
মানবজাতির জন্য তিনি আদর্শের দীপাধার।

যারা তাঁকে অপবাদ দিয়েছে, কুরআন দিল জবাব,
সত্যের আলো মুছে দিতে পারে না কোনো মিথ্যার আবরণ।
তিনি আল্লাহর বান্দা রাসুল বিশ্বাস অন্তরে,
তাঁর সুন্নাহ অনুসরণ করো জীবনভর সাদরে।

রাসুল দেখেছেন জিবরাইলকে স্পষ্ট দিগন্তে,
ওহির সত্যতা ফুটে ওঠে সেই মহাসাক্ষ্যে।
কুরআন কোনো কল্পনা নয়, নয় কোনো ছল,
আল্লাহর পক্ষ থেকে নাজিল হওয়া সত্যেরই ফল।

শয়তানের কোনো বাণী নয় মহাপবিত্র গ্রন্থ,
এতে আছে হিদায়াত, সত্য, ন্যায় শান্তি অনন্ত।
যে হৃদয় কুরআনের আলো নিজের মাঝে নেয়,
অন্ধকারের পথ ছেড়ে সে সরল পথে যায়।

প্রশ্ন যেন আকাশ ভেদ করে হৃদয়ে এসে বাজে,
সুতরাং তোমরা কোথায় চলেছ?”—কুরআনের সেই সাজে।
কোথায় তোমার জীবনের পথ, কোথায় তোমার গন্তব্য?
দুনিয়ার মোহ, নাকি আখিরাতকোনটি তোমার লক্ষ্য?

তুমি কি ছুটছ সম্পদের পিছে, ভুলে রবের নাম?
তুমি কি গড়ছ শুধু দুনিয়া, ভুলে আখিরাতের দাম?
তুমি কি ক্ষমতার অহংকারে ভুলে গেছ সব হক?
তুমি কি নিজের প্রবৃত্তির কাছে হারিয়ে ফেলেছ বিবেক?

কোথায় চলেছ, হে মানুষ, একটু থেমে দেখো,
নিজের অন্তর খুলে নিয়ে নিজের হিসাব লেখো।
কী পেয়েছ, কী হারিয়েছ, কী পাঠালে পরপারে?
আজই যদি হিসাব করো, বাঁচবে অন্ধকারে।

কুরআন হলো উপদেশবিশ্বজগতের জন্য,
সত্যের পথে ডাকছে মানুষকে আপন মমতায় পূর্ণ।
যে ব্যক্তি চায় সরল পথে সত্যের সাথে চলতে,
তার সামনে কুরআন আছে আলোর পথ খুলতে।

সরল পথ মানে তাওহিদের পথে অবিচল থাকা,
আল্লাহর জন্য ইবাদত করে তাঁরই সন্তুষ্টি চাওয়া।
শিরক-কুফর থেকে বাঁচা, সত্যকে করা গ্রহণ,
হারাম ছেড়ে হালাল পথে গড়া পবিত্র জীবন।

ইনসাফ করা, সত্য বলা, জুলুম থেকে দূরে,
মানুষের হক ফিরিয়ে দেওয়া ভালোবাসার সুরে।
পিতা-মাতার সেবা করা, আত্মীয়তার মান,
অসহায়ের পাশে দাঁড়ানোএও ঈমানের প্রাণ।

বাবা যদি রবকে ভয় করে, সন্তান পায় শিক্ষা,
মা যদি নেক পথে চলে, ঘরে নামে দীক্ষা।
শিশুর চোখে বাবা-মায়ের জীবন যেন পাঠ,
তাই নিজের চরিত্র দিয়ে দাও তাদের হাতে পাঠ।

সন্তানকে শুধু সম্পদ দিও না, দাও ঈমানের আলো,
শুধু দুনিয়ার শিক্ষা নয়শেখাও ভালো-মন্দের ভালো।
সত্যবাদী হতে শেখাও, শেখাও ন্যায় দয়া,
কুরআন-সুন্নাহর পথে রাখো জীবনের মায়া।

ব্যবসায়ী যদি মনে রাখে রবের আদালত আছে,
প্রতারণা আর মিথ্যা ওজনে তার হাত থেমে যাবে কাছে।
শিক্ষক যদি মনে রাখে আমানতের হিসাব,
শিক্ষার্থীর অধিকার রক্ষায় হবে আন্তরিক জবাব।

কর্মকর্তা যদি জানে আল্লাহ সবই দেখেন,
ক্ষমতার অপব্যবহার থেকে নিজেকে তখন রাখেন।
ধনী যদি মনে রাখে সম্পদ আল্লাহর দান,
অসহায়ের অধিকার দিতে খুলে দেবে তার প্রাণ।

এভাবেই কিয়ামতের বিশ্বাস গড়ে সুন্দর সমাজ,
সত্য, ন্যায়, আমানত আর দয়ার হয় বিরাজ।

সময় চলে নদীর মতো, ফেরে না আর ফিরে,
গতকালের কোনো মুহূর্ত আসে না তো ফিরে।
আজকের দিনটি হাতে আছেএটাই বড় সুযোগ,
আজই তাওবা, আজই আমলকাল হয়তো নয় যোগ।

যৌবন যাবে, শক্তি যাবে, সৌন্দর্য যাবে ক্ষয়ে,
সম্পদ যাবে, খ্যাতি যাবে, জীবন যাবে লয়ে।
থাকবে শুধু আমলখাতা, থাকবে রবের বিচার,
তাই নেক আমল করে নাওএটাই জীবনের সার।

হে মানুষ, অন্তরটাকে একটু করে দেখো,
হিংসা, অহংকার, বিদ্বেষ কোথায় আছে লেখো।
কত গুনাহ অজান্তে আজ হৃদয়ের মাঝে বাস?
তাওবার জলে ধুয়ে ফেলো পাপের কালো দাগ।

কারও হক যদি মেরে থাকো, ফিরিয়ে দাও তা,
কারও মনে কষ্ট দিলে চেয়ে নাও ক্ষমা।
মিথ্যার পথ ছেড়ে দাও, সত্যকে করো সাথি,
আল্লাহর দিকে ফিরে এসোতাঁর রহমতই বাতি।

সালাতকে আঁকড়ে ধরো, কুরআন পড়ো মন দিয়ে,
জীবনটাকে সাজাও তুমি রবের বিধান নিয়ে।
সুন্নাহর পথে চলতে শেখো, চরিত্র করো সুন্দর,
তবেই জীবন হবে আলোয় ভরা, অন্তর হবে নির্মল।

যে ব্যক্তি পাপে ডুবে গেছে, সে যেন না হয় হতাশ,
রবের দিকে ফিরে এলে দূর হবে মনের সর্বনাশ।
আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া নয়,
তাওবার মাধ্যমে ফিরে আসাই মুমিনের পরিচয়।

আজ যদি চোখে জল আসে, গুনাহ মুছে যায়,
সত্য তাওবা মানুষকে নতুন পথে নিয়ে যায়।
তাই শয়তানের কথা শুনে থেকো না আর দূরে,
রবের দিকে ফিরে এসো অশ্রুসিক্ত নূরে।

কোথায় চলেছ তুমিবল, কী তোমার গন্তব্য?
দুনিয়ার ক্ষণিক সুখ, নাকি জান্নাতের মহাসৌভাগ্য?
কী নিয়ে যাবে সঙ্গে তুমি মৃত্যুর ওপার পানে?
সম্পদ, পদ, প্রাসাদকিছুই যাবে না প্রাণে।

যাবে শুধু ঈমান তোমার, যাবে তোমার আমল,
সত্য কথা, সৎ চরিত্র, নেক কাজের সম্বল।
মানুষের হক রক্ষা যদি করো জীবনের পথে,
আল্লাহর রহমত চাইবে তখন কিয়ামতের ক্ষণে।

এসো তবে আজই আমরা পথটি করি শুদ্ধ,
কুরআনের আলোয় গড়ি জীবন নির্মল, বুদ্ধ।
শিরক ছেড়ে তাওহিদ ধরি, সত্য করি গ্রহণ,
সালাত, তাকওয়া, নেক আমলে সাজাই জীবন-মন।

অন্যায়ের পথ ছেড়ে দিই, জুলুম করি বর্জন,
মানুষের হক ফিরিয়ে দিই, করি সুন্দর আচরণ।
হারাম ছেড়ে হালাল ধরি, মিথ্যা ছেড়ে সত্য,
কুরআন-সুন্নাহর আলোয় গড়ি জীবনের পথ।

কিয়ামতের সেই দিনটি আসবে একদিন ঠিক,
দুনিয়ার সব মোহ তখন হবে অতি ক্ষীণ।
আমলনামা খুলবে সেদিনথাকবে না কোনো ছল,
তখন বুঝবে মানুষকী ছিল জীবনের ফল।

তাই আজই প্রশ্ন করো, হৃদয় খুলে ভাই
সুতরাং আমি কোথায় চলেছি? আমার গন্তব্য কোথায়?”

যদি ভুল পথে থাকো আজ, ফিরে এসো ঘরে,
রবের রহমত সীমাহীনতাঁরই দিকে ফিরে।
যদি নেক পথে থাকো তুমি, আরও দৃঢ় হও,
শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত সত্যের পথে রও।

হে আল্লাহ, তুমি রববিশ্বজগতের মহান পালনকর্তা,
তোমারই হাতে জীবন-মরণ, তুমি পরম দয়াময় কর্তা।
আমাদের অন্তরে দাও তাওহিদের দৃঢ় আলো,
কুরআন-সুন্নাহর পথে চলার তাওফিক দাও ভালো।

শিরক-কুফর, পাপ-পঙ্কিলতা থেকে রেখো দূরে,
তাওবার অশ্রু দাও আমাদের অন্তরেরই নূরে।
অন্যের হক নষ্ট না করি, জুলুম থেকে বাঁচি,
সত্য, ন্যায়, দয়া, আমানতজীবনে যেন রাখি।

যেদিন সূর্য গুটিয়ে যাবে, নক্ষত্র যাবে ঝরে,
যেদিন পাহাড় চলবে, সমুদ্র উঠবে ঘোরে,
যেদিন খুলবে আমলনামা, প্রকাশ পাবে সব,
সেদিন যেন রহমতের ছায়া দাও, হে বিশ্বজগতের রব।

জাহান্নামের আগুন থেকে আমাদের রক্ষা করো,
জান্নাতের পথে নেক আমলের তাওফিক ভরো।
শেষ নিঃশ্বাসে ঈমান দিও, কবুল করো প্রাণ,
তোমার সন্তুষ্টিই হোক আমাদের জীবনের মহান জ্ঞান।

হে আল্লাহ, আমাদের পথ সরল করো,
ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে নাও,
কুরআনের আলোয় জীবন সাজানোর তাওফিক দাও,
আখিরাতের জন্য উত্তম পাথেয় সঞ্চয়ের তাওফিক দাও,
কিয়ামতের কঠিন দিনে আমাদের হিসাব সহজ করো,
তোমার রহমতে জান্নাত দান করো।

আমিন

 

মন্তব্য করুন