Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:১৩ পূর্বাহ্ণ

বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে জলাশয়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মাছের প্রজনন, লালন-পালন ও উৎপাদন বৃদ্ধি করাকে পিসিকালচার বলে।

দশম শ্রেণির কৃষি শিক্ষা বিষয়ের পিসিকালচার (Pisciculture / মাছ চাষ) অধ্যায়ের উপর ভিত্তি করে তৈরি একটি ইনফোগ্রাফিক নির্দেশক:

পিসিকালচার (Pisciculture) বা মাছ চাষ

  • সংজ্ঞা: বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে জলাশয়ে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে মাছের প্রজনন, লালন-পালন ও উৎপাদন বৃদ্ধি করাকে পিসিকালচার বলে।
  • গুরুত্ব:
    • আমিষের চাহিদা পূরণ: আমাদের দৈনন্দিন প্রাণিজ আমিষের সিংহভাগ আসে মাছ থেকে।
    • অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান: আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বৈ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম উৎস।

মাছ চাষের পুকুরের স্তর ও খাদ্য বণ্টন

  • উপরের স্তর (Surface Layer):
    • প্রাকৃতিক খাদ্য: ফাইটোপ্লাঙ্কটন (উদ্ভিদকণা)।
    • উপযুক্ত মাছ: কাতলা, সিলভার কার্প।
  • মধ্যম স্তর (Column Layer):
    • প্রাকৃতিক খাদ্য: জুপ্লাঙ্কটন (প্রাণীকণা)।
    • উপযুক্ত মাছ: রুই।
  • নিম্ন স্তর (Bottom Layer):
    • প্রাকৃতিক খাদ্য: তলার জৈব পদার্থ, ছোট সামুক ও কীটাণু।
    • উপযুক্ত মাছ: মৃগেল, কার্পিও (কমন কার্প)।

কার্প জাতীয় মাছের মিশ্র চাষ (Polyculture)

  • মূল নীতি: পুকুরের বিভিন্ন স্তরের প্রাকৃতিক খাদ্যের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
  • সুবিধা:
    • স্থান ও খাদ্যের অপচয় হয় না।
    • মাছের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটে এবং মোট উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

পুকুর ব্যবস্থাপনার ৫টি মূল ধাপ

  1. পুকুর প্রস্তুতি: সেচ দিয়ে শুষ্ক করা, পাড় মেরামত ও জলজ আগাছা দমন।
  2. চুন ও সার প্রয়োগ: পানির PH ঠিক রাখতে চুন এবং প্রাকৃাতিক খাদ্য তৈরিতে জৈব ও অজৈব সার ব্যবহার।
  3. পোনা নির্বাচন ও ছাঁড়ন: সুস্থ, সতেজ ও রোগমুক্ত পোনা সঠিক ঘনত্বে পুকুরে ছাড়া।
  4. সম্পূরক খাদ্য প্রদান: চালের কুড়া, গম ভাঙা, খৈল ও বাণিজ্যিক ফিড সঠিক মাপে প্রয়োগ।
  5. মাছের স্বাস্থ্য রক্ষা ও আহরণ: নিয়মিত জাল টেনে রোগ পরীক্ষা করা এবং নির্দিষ্ট ওজনে মাছ আহরণ।


মন্তব্য করুন