Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৪৮ পূর্বাহ্ণ

চিকিৎসার অভাবে ছোটবেলায় বাবা মারা যান। সংসারে তখন এক বিধবা মা
চিকিৎসার অভাবে ছোটবেলায় বাবা মারা যান। সংসারে তখন এক বিধবা মা, তিন যমজ ছেলে আর এক মেয়ে। সামনে ছিল অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ। কিন্তু সেই অনিশ্চয়তাকে হার মানিয়েছেন মা আর্জিনা বেগম এবং তাঁর তিন ছেলে।
বগুড়ার ধুনট উপজেলার বথুয়াবাড়ি গ্রামের স্কুলশিক্ষক গোলাম মোস্তফা ২০০৯ সালে মারা যান। তখন তাঁর তিন যমজ ছেলে মফিউল হাসান, শাফিউল ইসলাম ও রাফিউল হাসানের বয়স মাত্র ছয় বছর। স্বামীকে হারিয়ে চার সন্তানকে নিয়ে কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি হন আর্জিনা বেগম।
সংসার চালানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনা থামতে দেননি তিনি। কৃষিজমিতে আবাদ করেছেন, স্বামীর রেখে যাওয়া জমি বন্ধক রেখেছেন, এমনকি ছেলেদের পড়াশোনার খরচ জোগাতে প্রায় চার বিঘা জমি বিক্রিও করেছেন। মায়ের সেই ত্যাগ বৃথা যায়নি।
তিন ভাই একইসঙ্গে বড় হয়েছেন, একই স্কুল-কলেজে পড়েছেন এবং এসএসসি ও এইচএসসি দুটিতেই পেয়েছেন জিপিএ-৫। এরপর শুরু হয় তাঁদের মেডিকেলে পড়ার স্বপ্নপূরণের পালা।
মফিউল হাসান ২০২৩ সালে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। পরের বছর শাফিউল ইসলাম দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজে এবং রাফিউল হাসান নোয়াখালীর আব্দুল মালেক মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পান। অর্থাৎ তিন যমজ ভাই এখন তিনটি আলাদা মেডিকেল কলেজে চিকিৎসক হওয়ার পথে।
গল্পটির সবচেয়ে আবেগের জায়গাটা এখানেই।
ছেলেদের সাফল্যে মা আর্জিনা বেগম আনন্দিত। কিন্তু আনন্দের পাশাপাশি তাঁর দুশ্চিন্তাও আছে। তিন ছেলের মেডিকেল পড়ার খরচ কীভাবে চালাবেন, মেয়ের ভবিষ্যৎ কীভাবে নিশ্চিত করবেন, সেই চিন্তা এখনো তাঁকে তাড়া করে।
তিন ভাইও জানেন, তাঁদের এই সাফল্যের পেছনে শুধু মেধা নয়, মায়ের বিসর্জন আছে। শাফিউলের ভাষায়, বাবা বেঁচে থাকলে হয়তো তাঁদের এই সাফল্যে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। এখন মা-ই তাঁদের কাছে বাবার অভাব পূরণ করছেন।
আমাদের সমাজে অনেক সন্তান সামান্য অভাব এলেই পড়াশোনা ছেড়ে দেয়। অথচ এই মা নিজের জমি বিক্রি করে সন্তানদের স্বপ্ন কিনেছেন। আর তিন ছেলে প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে গ্রামের ঘরের সন্তানরাও দেশের সেরা চিকিৎসক হওয়ার পথে হাঁটতে পারে।
একজন মায়ের কাছে সন্তানের সাফল্য হয়তো পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। আর্জিনা বেগম তাঁর সম্পদের বড় অংশ জমিতে রেখে আসেননি, রেখে দিয়েছেন তিনটি স্বপ্নের মধ্যে।
একদিন হয়তো মফিউল, শাফিউল আর রাফিউল তিনজনই সাদা অ্যাপ্রন পরে মানুষের জীবন বাঁচাবেন। সেদিন তাঁদের সাফল্যের গল্পে সবচেয়ে বড় নামটি থাকবে তাঁদের মায়ের।
কারণ তিন ভাই মেডিকেলে সুযোগ পাননি শুধু। একজন মা তাঁর সন্তানদের জন্য যে স্বপ্ন দেখেছিলেন, সেটিই ধীরে ধীরে বাস্তব হয়ে উঠেছে।
মন্তব্য করুন

ব্লগ