প্রভাষক
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৮:৫২ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
শঙ্খচিলের মাছ শিকারের একটি ছবি তুলতে তিনি ঘুরেছেন একই পুকুরপাড়ে প্রায় সাত মাস। আর একটি ইগলকে মাছ শিকারের মুহূর্তে ক্যামেরাবন্দি করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে প্রায় চার বছর। সঞ্জয় কুমার পেশায় একজন শিক্ষক। বদলগাছীর দেউলিয়া শেরেবাংলা উচ্চবিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞানের সহকারী শিক্ষক হিসাবে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ক্লাস নেন। তবে শ্রেণিকক্ষের বাইরে তার আরেকটি জগৎ-পাখি, প্রকৃতি আর ক্যামেরা।
ভোর হলেই ক্যামেরা হাতে মোটরসাইকেলে বেরিয়ে পড়েন গ্রামের মেঠোপথে। কখনো জলাভূমির পাশে, কখনো পুকুরপাড়, আবার কখনো নৌকায় চড়ে খুঁজে বেড়ান পাখি। স্কুল ছুটির পরও একই ব্যস্ততা। শুক্র ও শনিবার ছুটির দিন হলে দিনের বড় একটি সময় কাটে প্রকৃতির মধ্যে। শৈশব থেকেই ছবি তোলার প্রতি আগ্রহ সঞ্জয়ের। তখন হাতে ছিল ফিল্ম ক্যামেরা। প্রকৃতি, ফুল ও মানুষের ছবি তুলতেন। পরে মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা হয়ে একসময় হাতে ওঠে ডিএসএলআর। ২০১৫ খ্রিষ্টাব্দের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন আলোকচিত্রীর পাখি ও বন্যপ্রাণীর ছবি দেখে তার আগ্রহ আরও গভীর হয়। শুরু হয় পাখির খোঁজে ছুটে চলা। তার তোলা প্রথম পাখির ছবি ছিল কমলা দামা বা কমলা ফুলি-ইংরেজিতে যাকে বলা হয় ‘Orange-headed Thrush’। এরপর পেরিয়ে গেছে প্রায় এক দশক।
এ সময়ের মধ্যে নওগাঁ জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে প্রায় ১৩০ প্রজাতির পাখির ছবি ক্যামেরাবন্দি করেছেন তিনি। তবে সব পাখির গল্প এক নয়। তার কাছে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য পাখিগুলোর একটি লাল-মাথা টিয়া বা হীরামন। বাংলাদেশে এ পাখি বেশ বিরল হলেও বদলগাছীর নিজ গ্রাম দোনইলে প্রায় একই সময়ে প্রতিবছরই দেখা মেলে বলে জানান সঞ্জয়।
২
৪ মন্তব্য