সহকারী শিক্ষক
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:১৪ অপরাহ্ণ
নুসরাতের ছোট্ট উদ্যোগ
নুসরাতের ছোট্ট উদ্যোগ
নুসরাত খুব ভালো মেয়ে। সে লেখাপড়ায় বেশ ভালো এবং স্বভাবেও ভীষণ ভদ্র ও নম্র। সহপাঠীদের প্রতিও তার সবসময় আন্তরিকতা ও মমতা ছিল।
একদিন নুসরাত দেখল, তার সহপাঠী জামিলা চুপচাপ বসে আছে। অন্য দিনের মতো সে কারও সঙ্গে কথা বলছে না। মুখটাও কেমন মলিন। নুসরাতের মনে হলো, নিশ্চয়ই জামিলার মন খারাপ।
সে জামিলার কাছে গিয়ে মায়াভরা কণ্ঠে বলল,
— “জামিলা, তোমার মন খারাপ কেন?”
জামিলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল,
— “আজ আমাদের ঘরে কোনো খাবার নেই। তাই সকালে খেয়েও আসতে পারিনি। সঙ্গে টিফিনও আনতে পারিনি।”
জামিলার কথা শুনে নুসরাতের খুব কষ্ট হলো। সে এক মুহূর্তও দেরি না করে নিজের টিফিনের অর্ধেক জামিলার হাতে তুলে দিল।
নুসরাতের এই ছোট্ট কাজটি দেখে আরও কয়েকজন সহপাঠী এগিয়ে এল। তারাও নিজেদের খাবার জামিলার সঙ্গে ভাগ করে নিল।
সবাই জামিলাকে বলল,
— “জামিলা, তুমি যেদিন খাবার নিয়ে আসতে পারবে না, সেদিন আমাদের খাবার তোমার সঙ্গে ভাগ করে খাব। তোমার জন্য খাবার দেব। তুমি কোনো ভয় পেয়ো না। তোমার যদি অন্য কোনো সমস্যা থাকে, সেটাও আমাদের বলতে পারো।”
জামিলার চোখে তখন আনন্দের জল। সে বুঝতে পারল, সে একা নয়। তার পাশে দাঁড়ানোর মতো বন্ধু আছে।
নুসরাতের ছোট্ট উদ্যোগটি শুধু জামিলার পেটের ক্ষুধাই মেটাল না, বরং তার মনে সাহস ও ভরসাও তৈরি করল। একটি ছোট্ট ভালো কাজ যে কত বড় পরিবর্তন আনতে পারে, নুসরাত সেদিন তারই উদাহরণ সৃষ্টি করল।
শিক্ষা:
অন্যের কষ্ট বুঝে তার পাশে দাঁড়ানোই সত্যিকারের মানবিকতা। আমাদের সামান্য সহযোগিতাও একজন মানুষের মনে বড় আনন্দ ও সাহস এনে দিতে পারে।
১৪
২৪ মন্তব্য