সহকারী শিক্ষক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৫৯ পূর্বাহ্ণ
মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৫-২০২৬ আবেদন - গর্ভবতী ভাতা আবেদন ২০২৬
➡️এক ক্লিকে মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন করুন
➡️এক ক্লিকে গর্ভবতী ভাতা আবেদন করুন
দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের গর্ভবতী মায়েদের আর্থিক সহায়তা দিতে সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাতৃত্বকালীন ভাতা কর্মসূচি পরিচালনা করে আসছে। মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর ও সমাজসেবা অধিদপ্তর যৌথভাবে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে থাকে। গর্ভকালীন ও প্রসব-পরবর্তী সময়ে মা ও শিশুর পুষ্টি এবং স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই এই ভাতার মূল লক্ষ্য।
সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী এই কর্মসূচির নাম বদলে "মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি" রাখা হয়েছে, যদিও সাধারণ মানুষের কাছে এটি এখনও "মাতৃত্বকালীন ভাতা" বা "গর্ভবতী ভাতা" নামেই বেশি পরিচিত। এই লেখায় যোগ্যতা, কাগজপত্র, আবেদন প্রক্রিয়া, ভাতার হার এবং আবেদনের অবস্থা যাচাই করার নিয়মসহ সবকিছু বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হলো।
মাতৃত্বকালীন ভাতা ২০২৫ ২০২৬
এই কর্মসূচির আওতায় নির্বাচিত একজন উপকারভোগী প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণকালের যেকোনো একবার নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মাসিক ভাতা পান। আগে এই মেয়াদ ছিল ২৪ মাস, তবে সাম্প্রতিক কর্মসূচি অনুযায়ী এখন ৩৬ মাস পর্যন্ত ভাতা দেওয়ার কথা জানা যাচ্ছে। যেহেতু কর্মসূচির নাম, মেয়াদ এবং শর্তাবলি সময়ে সময়ে হালনাগাদ হচ্ছে, তাই আবেদনের আগে নিজের এলাকার মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সবচেয়ে সাম্প্রতিক তথ্য জেনে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
মাতৃত্বকালীন ভাতা আবেদন
মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন দুইভাবে করা যায়। প্রথমত, আবেদনকারী নিজে অনলাইনে প্রাথমিক তথ্য পূরণ করে সংরক্ষণ করতে পারেন, এরপর সেটি স্থানীয় প্রতিনিধির সুপারিশের অপেক্ষায় থাকে। দ্বিতীয়ত, সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা উদ্যোক্তার মাধ্যমে হার্ড কপিতে আবেদন জমা দিয়ে সেটি অনলাইনে এন্ট্রি করিয়ে নেওয়া যায়। বাস্তবে দ্বিতীয় পদ্ধতিটিই বেশি প্রচলিত, কারণ ইউপি বা পৌরসভার সুপারিশ ছাড়া কোনো আবেদনই চূড়ান্ত অনুমোদন পায় না।
আবেদন করার আগে নিজের বয়স, গর্ভকালীন সময় এবং পারিবারিক আয় সীমার মধ্যে কিনা তা একবার মিলিয়ে দেখে নিন, যাতে অকারণে সময় নষ্ট না হয়।
গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন
অনলাইন আবেদনের জন্য মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের এমআইএস পোর্টাল ব্যবহার করা হয়। ঠিকানা হলো 103.48.16.6:8080/LM-MIS/applicant/onlineRegistration। এই পেজে গেলে একটি সম্পূর্ণ ফরম দেখতে পাবেন, যেখানে অর্থবছর নির্বাচন করে জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, বাংলা ও ইংরেজি নাম, পিতা-মাতার নাম, স্বামীর নাম, জন্মস্থান, ধর্ম, মোবাইল নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতা, রক্তের গ্রুপ এবং বৈবাহিক তথ্য পূরণ করতে হয়। প্রবাসী বাংলাদেশি হলে "এনআরবি" ঘরে টিক দেওয়ার অপশনও রয়েছে।
ব্যক্তিগত তথ্যের পর বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা আলাদাভাবে দিতে হয়, দুটো ঠিকানা একই হলে "একই" বাটনে টিক দিলেই হয়ে যায়। ফরমে তারামার্ক (*) দেওয়া ঘরগুলো অবশ্যই পূরণ করতে হবে, নাহলে ফরম সাবমিট হবে না।
গর্ভবতী ভাতা অনলাইন আবেদন ফরম
অনলাইন ফরমে মূলত তিনটি অংশ থাকে — ব্যক্তিগত তথ্য, বর্তমান ঠিকানা এবং স্থায়ী ঠিকানা। ব্যক্তিগত তথ্যের অংশে অর্থবছর বেছে নেওয়াটা সবার আগে করতে হয়, কারণ এর ওপর ভিত্তি করেই সিস্টেম পরবর্তী ধাপগুলো সাজায়। এরপর জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও জন্ম তারিখ দিলে সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে আবেদনকারীর কিছু তথ্য যাচাই করে নেয়।
ফরম পূরণ শেষে তথ্য সংরক্ষণ করলে একটি অস্থায়ী আবেদন নম্বর তৈরি হয়। এই নম্বরটি স্ক্রিনশট নিয়ে বা লিখে রাখা জরুরি, কারণ পরবর্তীতে আবেদনের অবস্থা যাচাই করতে এটি লাগবে।
গর্ভবতী কার্ড করতে কি কি লাগে
আবেদনের সময় সাধারণত নিচের কাগজপত্রগুলো প্রয়োজন হয়:
আবেদনকারী মহিলার জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে প্রাপ্ত গর্ভকালীন সেবা কার্ড, যাকে সংক্ষেপে ANC কার্ড বলা হয়
আল্ট্রাসনোগ্রাম রিপোর্ট, যা গর্ভাবস্থার প্রমাণ হিসেবে কাজ করে
আবেদনকারীর নিজের নামে ব্যাংক একাউন্ট বা রকেট একাউন্ট, যেখানে ভাতার টাকা জমা হবে
সচল একটি মোবাইল নম্বর, যেটি এসএমএস যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করা হবে
স্বামীর জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন সনদের ফটোকপি
কিছু ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ বা ওয়ার্ড কাউন্সিলরের কাছ থেকে নাগরিক সনদও চাওয়া হতে পারে, তাই এটিও আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা ভালো।
গর্ভবতী কার্ড করার নিয়ম
গর্ভবতী কার্ড বা মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড পেতে হলে প্রথমে উপরের কাগজপত্রগুলো সংগ্রহ করে নিজ ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয় অথবা উপজেলা তথ্যকেন্দ্রে (তথ্যআপা) যোগাযোগ করতে হবে। সেখান থেকে ফরম সংগ্রহ করে সঠিকভাবে পূরণ করার পর তা জমা দিতে হয়।
জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তথ্য যাচাই করে অনলাইনে এন্ট্রি করেন। এরপর নির্দিষ্ট এলাকার সব আবেদনকারীর তালিকা থেকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজিয়ে যোগ্য প্রার্থী নির্বাচন করা হয়। অস্বচ্ছল, ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী এবং দিনমজুর পরিবারের মহিলারা ভাতা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পান।
মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদন করার নিয়ম
সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সহজভাবে বুঝতে হলে ধাপে ধাপে দেখে নেওয়া যাক:
প্রথমে প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র জোগাড় করে ফেলুন, যাতে পরবর্তী ধাপে দৌড়াদৌড়ি করতে না হয়। এরপর ইউনিয়ন পরিষদ বা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন কিংবা অনলাইন পোর্টাল থেকে নিজেই ফরম পূরণ করে সংরক্ষণ করুন।
তথ্য সংরক্ষণ করার পরের ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ — সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা পৌরসভার সুপারিশ ছাড়া কোনো আবেদন এগোবে না। তাই আবেদন জমা দেওয়ার পর অবশ্যই ইউপি কার্যালয়ে গিয়ে বিষয়টি জানিয়ে আসুন, যাতে উদ্যোক্তা সময়মতো অনলাইনে সুপারিশ পাঠিয়ে দেন। সুপারিশ হয়ে গেলে সমাজসেবা বা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মাঠ পর্যায়ে তথ্য যাচাই করেন, এরপর জেলা বা উপজেলা কমিটি চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করে।
মাতৃত্বকালীন ভাতা কত টাকা 2026
দীর্ঘদিন ধরে মাসিক ৮০০ টাকা হারে এই ভাতা দেওয়া হয়ে আসছিল। সরকারি সূত্র অনুযায়ী বর্তমান কর্মসূচিতে উপকারভোগী প্রতি মাসে ৮০০ টাকা হারে মোট ৩৬ মাস পর্যন্ত ভাতা পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে কিছু সূত্রে ২০২৫-২৬ অর্থবছর থেকে হার বাড়িয়ে ৮৫০ টাকা করার কথাও শোনা যাচ্ছে। যেহেতু ভাতার হার ও মেয়াদ বাজেট বরাদ্দের ওপর নির্ভরশীল এবং সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হতে পারে, তাই সঠিক ও সবচেয়ে হালনাগাদ হারটি নিজের এলাকার মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর বা সমাজসেবা কার্যালয়ে একবার যাচাই করে নেওয়াই ভালো।
ভাতার অর্থ পরিশোধের পদ্ধতিটি এমন — বাজেট বরাদ্দ অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকে একটি কেন্দ্রীয় হিসাবে অর্থ জমা করা হয়। এরপর জেলা বা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারের যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত মাদার একাউন্ট থেকে প্রত্যেক উপকারভোগীর নিজের একাউন্টে টাকা পাঠানো হয়। সাধারণত ছয় মাস পরপর একসাথে টাকা ছাড় করা হয়ে থাকে।
ভোটার আইডি কার্ড সংশোধন করতে কি কি লাগে
মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদনে এনআইডি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি কাগজ, তাই কার্ডের তথ্যে কোনো ভুল থাকলে আবেদনের আগেই তা সংশোধন করে নেওয়া উচিত। নাম, জন্ম তারিখ বা ঠিকানায় ভুল থাকলে সাধারণত শিক্ষাগত সনদ, জন্মনিবন্ধন সনদ বা পাসপোর্টের মতো সহায়ক প্রমাণপত্র দিয়ে services.nidw.gov.bd পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করা যায়। এনআইডিতে সঠিক তথ্য না থাকলে মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদনও প্রত্যাখ্যাত হতে পারে, তাই এই ধাপটি অবহেলা না করাই ভালো।
মা ও শিশু অধিদপ্তর ভাতা ২০২৫ আবেদন
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত এই কর্মসূচির আবেদন সংক্রান্ত সব তথ্য dwamcbp.gov.bd এই পোর্টালেই পাওয়া যায়। "dwamcbp" মূলত Department of Women Affairs Maternity and Child Benefit Program এর সংক্ষিপ্ত রূপ। এই পোর্টালে গিয়ে লগইন করলে আবেদনকারী তালিকা, অগ্রাধিকার তালিকা এবং সুপারিশের অবস্থা দেখা যায়।
উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তারা এই পোর্টাল ব্যবহার করে আবেদনকারী তালিকাকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সাজাতে পারেন, যেখানে নির্দিষ্ট নির্বাচনযোগ্যতা অনুসারে প্রতিটি আবেদনকারীর নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর, জন্ম তারিখ, মোবাইল নম্বর এবং সিস্টেম সুপারিশকৃত স্ট্যাটাস একসাথে দেখা যায়। এই তালিকা থেকেই "মাঠ পর্যায়ে যাচাইয়ের জন্য পাঠান" অপশনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে পাঠানো হয়।
মাতৃত্ব ভাতা আবেদন
মাতৃত্ব ভাতা এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা — দুটো নামেই মূলত একই কর্মসূচিকে বোঝানো হয়। আবেদন প্রক্রিয়া, যোগ্যতা ও কাগজপত্র একই থাকে। অনেকেই সংক্ষেপে "মাতৃত্ব ভাতা" বলে সার্চ করেন, তবে অফিসিয়াল নথিপত্রে "মাতৃত্বকালীন ভাতা" বা হালনাগাদ নামে "মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি" শব্দটিই ব্যবহৃত হয়।
মা ও শিশু ভাতা আবেদন
মা ও শিশু ভাতা মূলত দুটি পর্যায়ে ভাগ করা যায় — গর্ভকালীন সময়ে মাতৃত্বকালীন ভাতা এবং সন্তান জন্মের পর শিশু ভাতা। দুটোই একই কর্মসূচির অংশ এবং একই দপ্তরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তবে শিশু ভাতার জন্য নতুন করে আবেদন প্রয়োজন হয় না যদি গর্ভাবস্থায় ইতিমধ্যে মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য নিবন্ধিত থাকা হয় — সন্তান জন্মের পর সংশ্লিষ্ট কার্যালয় থেকে হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে দেওয়া হয়।
গর্ভবতী ভাতার আবেদন ফরম
দরিদ্র মায়ের জন্য মাতৃত্বকাল ভাতা মঞ্জুরির আবেদন ফরমের একটি নির্ধারিত পিডিএফ কপি রয়েছে, যা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যায়। যাদের কাছে ইন্টারনেট সুবিধা সীমিত বা যারা সরাসরি হাতে লিখে আবেদন করতে চান, তাদের জন্য এই প্রিন্ট করা ফরমটি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়েও পাওয়া যায়।
ফরমে সাধারণত আবেদনকারীর ব্যক্তিগত তথ্য, স্বামীর তথ্য, ঠিকানা, গর্ভকালীন তথ্য এবং প্রয়োজনীয় সংযুক্তির জন্য একটি তালিকা থাকে। ফরম পূরণের পর নির্ধারিত সংযুক্তিসহ জেলা বা উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দিতে হয়।
গর্ভকালীন সেবা কার্ড pdf
গর্ভকালীন সেবা কার্ড বা ANC কার্ড পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর থেকে সংগ্রহ করতে হয়। এটি মূলত গর্ভবতী মায়ের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য লিপিবদ্ধ রাখার জন্য ব্যবহৃত হয় এবং মাতৃত্বকালীন ভাতার আবেদনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক ডকুমেন্ট হিসেবে কাজ করে। স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে এই কার্ড সংগ্রহ করা যায়, এবং অনেক এলাকায় এর একটি পিডিএফ ফরম্যাটও পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায়।
গর্ভবতী ভাতা পাওয়ার নিয়ম
গর্ভবতী হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ভাতা পাওয়া যায় না, বিষয়টি অনেকেই ভুল বোঝেন। ভাতাভোগী নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্থানীয় নির্বাচন কমিটি একাধিক মানদণ্ড বিবেচনা করে সীমিত সংখ্যক উপকারভোগী চূড়ান্ত করে। অর্থাৎ আবেদন করা মানেই ভাতা পাওয়ার নিশ্চয়তা নয়।
ভাতা পাওয়ার জন্য মূল শর্তগুলো হলো — বয়স ২০ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে হওয়া, জাতীয় পরিচয়পত্র থাকা, গর্ভকালীন সময় চার থেকে ছয় মাস বা ১৬ থেকে ২৬ সপ্তাহের মধ্যে হওয়া, শুধুমাত্র প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হওয়া, এবং পরিবার আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়া। অস্বচ্ছল, ভূমিহীন, প্রতিবন্ধী ও দিনমজুর পরিবারের মহিলারা অগ্রাধিকার পান।
মাতৃত্বকালীন ভাতা নীতিমালা
এই কর্মসূচির নীতিমালা অনুযায়ী প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় একটি নির্দিষ্ট কোটা বা বরাদ্দ থাকে, যার মধ্যে থেকেই উপকারভোগী নির্বাচন করা হয়। আবেদনকারীর সংখ্যা বরাদ্দকৃত কোটার চেয়ে বেশি হলে সবচেয়ে অসচ্ছল ও অগ্রাধিকারযোগ্য প্রার্থীদের বেছে নেওয়া হয়। নীতিমালার পূর্ণাঙ্গ পিডিএফ কপি মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত থাকে, যেখানে যোগ্যতা, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও ভাতা বিতরণের প্রতিটি খুঁটিনাটি নিয়ম বিস্তারিতভাবে লেখা আছে।
মাতৃত্বকালীন ভাতা চেক ২০২৪
আবেদন জমা দেওয়ার পর তার অবস্থা জানার সুযোগ রয়েছে। আবেদনটি বাতিল হয়েছে, গ্রহণযোগ্য হয়েছে, সুপারিশ পেয়েছে নাকি চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে তা নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সার্চ করে দেখা যায়। ইউপি উদ্যোক্তা বা সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত কর্মকর্তার মাধ্যমেও এই তথ্য জানা সম্ভব।
পুরনো বছরের আবেদনের ক্ষেত্রেও একই পদ্ধতিতে অবস্থা যাচাই করা যায়, তবে দীর্ঘদিন আগের আবেদনের রেকর্ড কখনো কখনো সিস্টেম আপডেটের কারণে খুঁজে পেতে সময় লাগতে পারে। এমন হলে সরাসরি সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা কার্যালয়ে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে ভালো সমাধান।
শিশু ভাতা অনলাইন আবেদন 2025
সন্তান জন্মের পর শিশু ভাতার সুবিধাও একই কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়। যারা গর্ভাবস্থায় মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য নিবন্ধিত ছিলেন, তাদের ক্ষেত্রে সন্তান জন্মের পর অতিরিক্ত নতুন আবেদনের প্রয়োজন সাধারণত হয় না, কারণ প্রথম নিবন্ধনের সময়ই পুরো মেয়াদের (৩৬ মাস) হিসাব রাখা হয়। তবে যারা আগে আবেদন করেননি এবং শিশুর বয়স নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে, তাদের জন্য আলাদা আবেদনের সুযোগ থাকতে পারে — এক্ষেত্রে স্থানীয় মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে যোগাযোগ করে সঠিক নিয়ম জেনে নেওয়া উচিত।
গর্ভবতী ভাতা আবেদন করতে কি কি লাগে
সংক্ষেপে বললে, আবেদনের জন্য মূল যে জিনিসগুলো প্রস্তুত রাখতে হবে তা হলো — নিজের জাতীয় পরিচয়পত্র, স্বামীর এনআইডি বা জন্মনিবন্ধন সনদ, গর্ভকালীন সেবা কার্ড (ANC কার্ড), আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট, নিজের নামে খোলা ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং একাউন্ট এবং সচল একটি মোবাইল নম্বর। এই কাগজপত্রগুলো একসাথে গুছিয়ে রাখলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে আবেদন জমা দিতে বেশি সময় লাগবে না।
মা ও শিশু অধিদপ্তর ভাতা ২০২৫
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এই কর্মসূচি তদারকি করে। জেলা পর্যায়ে জেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মূল দায়িত্বে থাকেন। কোনো এলাকায় আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে সমস্যা হলে সরাসরি এই কার্যালয়গুলোতে যোগাযোগ করা যায়।
গর্ভবতী ভাতা
সংক্ষেপে বলতে গেলে, গর্ভবতী ভাতা হলো বাংলাদেশ সরকারের একটি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, যার লক্ষ্য দরিদ্র সীমার নিচে থাকা গর্ভবতী মায়েদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা। এটি শুধু নগদ অর্থ সহায়তাই নয়, উপকারভোগীদের জন্য মাঝেমধ্যে প্রশিক্ষণ সেবারও ব্যবস্থা রাখা হয়, যাতে মা ও শিশুর সার্বিক স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিশ্চিত করা যায়।
গর্ভবতী ভাতা আবেদন ফরম
আবেদন ফরমে সাধারণত ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, স্বামীর তথ্য এবং গর্ভকালীন সময় সংক্রান্ত তথ্য পূরণ করতে হয়। ফরমের নিচের অংশে প্রয়োজনীয় সংযুক্তির তালিকা উল্লেখ থাকে, যেখানে জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি, ANC কার্ড ও আল্ট্রাসাউন্ড রিপোর্ট সংযুক্ত করার কথা বলা থাকে। ফরমটি সম্পূর্ণ পূরণ করে স্বাক্ষরসহ নির্ধারিত কার্যালয়ে জমা দিলেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
গর্ভকালীন সেবা কার্ড ডাউনলোড
গর্ভকালীন সেবা কার্ড সাধারণত সরাসরি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে সংগ্রহ করতে হয়, কারণ এতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার তথ্য হাতে লিখে হালনাগাদ করা হয়। তবে কার্ডের নমুনা কপি বা ফরম্যাট অনলাইনে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট থেকে দেখে নেওয়া যায়। মূল কার্ডটি পেতে হলে নিকটস্থ কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করতে হবে।
মাতৃত্বকালীন ভাতা অনলাইন চেক
আবেদনের অবস্থা অনলাইনে যাচাই করার জন্য নির্দিষ্ট পোর্টালে গিয়ে নিজের এনআইডি নম্বর ও মোবাইল নম্বর দিয়ে সার্চ করতে হয়। তবে যেহেতু ট্র্যাকিং পোর্টালের ঠিকানা মাঝেমধ্যে আপডেট হয়, তাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হলো নিজের ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা সমাজসেবা/মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে খোঁজ নেওয়া। এতে সময় বাঁচে এবং সঠিক তথ্যও পাওয়া যায়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় অনলাইন আবেদন
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর এই অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া পরিচালনা করে। মন্ত্রণালয়ের মূল ওয়েবসাইট থেকে বিভিন্ন কর্মসূচির লিংক পাওয়া যায়, তবে মাতৃত্বকালীন ভাতার জন্য নির্দিষ্ট এমআইএস পোর্টালটিই ব্যবহার করতে হয়। কোনো কারণে মূল ওয়েবসাইট থেকে লিংক খুঁজে না পেলে সরাসরি নিজের উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে সঠিক লিংক ও নির্দেশনা জেনে নেওয়া যায়।
মাতৃত্ব ভাতা
আগেই বলা হয়েছে, মাতৃত্ব ভাতা মূলত মাতৃত্বকালীন ভাতারই আরেক নাম। সরকারি নথিতে "মাতৃত্বকালীন ভাতা" এবং সাম্প্রতিক সময়ে "মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি" নামটিই বেশি ব্যবহৃত হচ্ছে।
মাতৃত্বকালীন শিশু ভাতা তালিকা ইউনিয়ন
প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের অনলাইনে ভাতাভোগীদের তালিকা প্রকাশ করার সরকারি নির্দেশনা রয়েছে, যদিও বাস্তবে সব ইউনিয়ন নিয়মিতভাবে এটি হালনাগাদ করে না। কিছু ইউনিয়ন পরিষদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গিয়ে "মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগী তালিকা" নামে আলাদা পাতা খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। নিজের ইউনিয়নের তালিকা অনলাইনে না পেলে সরাসরি ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে গিয়ে তালিকা দেখতে চাওয়া যায়, যা প্রতিটি নাগরিকের জানার অধিকারের মধ্যে পড়ে।
গর্ভবতী কার্ড
গর্ভবতী কার্ড এবং মাতৃত্বকালীন ভাতা কার্ড একই জিনিস বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এই কার্ডের মাধ্যমেই ভাতাভোগীর তথ্য নিবন্ধিত থাকে এবং নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর ভাতার টাকা তার একাউন্টে জমা হয়।
সাধারণ জিজ্ঞাসা
গর্ভাবস্থার কত মাসে আবেদন করা যায়? গর্ভকালীন সময় চার থেকে ছয় মাস, অর্থাৎ ১৬ থেকে ২৬ সপ্তাহের মধ্যে আবেদন করার নিয়ম। এর আগে আবেদন সাধারণত গ্রহণযোগ্য হয় না।
তৃতীয় সন্তানের জন্য কি আবেদন করা যায়? সাধারণ নিয়মে যায় না, শুধুমাত্র প্রথম বা দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেই এই ভাতা পাওয়া যায়। তবে ব্যতিক্রমী পারিবারিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় কমিটি ভিন্নভাবে বিবেচনা করতে পারে।
স্বামী ও স্ত্রীর ভোটার এলাকা ভিন্ন হলে কোথা থেকে আবেদন করব? দুজনের যেকোনো একজনের ভোটার এলাকা থেকেই আবেদন করা যায়। যেখান থেকে নাগরিক সনদ পাওয়া সহজ হবে, সেই এলাকা বেছে নেওয়াই সুবিধাজনক।
একবার এই সুবিধা নিলে পরের সন্তানের সময় কি আবার আবেদন করা যাবে? না। জীবনে একবারই এই সুবিধা নেওয়া যায় — প্রথম বা দ্বিতীয় গর্ভধারণকালের যেকোনো একবার।
জাতীয় পরিচয়পত্র না থাকলে কি আবেদন করা যাবে? না। শুধু জন্মনিবন্ধন সনদ দিয়ে আবেদন গ্রহণযোগ্য নয়, এনআইডি অবশ্যই থাকতে হবে।
অনলাইনে আবেদন বন্ধ থাকলে কী করব? নির্দিষ্ট প্রান্তিক অনুযায়ী আবেদন গ্রহণ করা হয়, মাঝের সময়ে পোর্টাল সাময়িকভাবে বন্ধ থাকতে পারে। এই সময় ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে কাগজপত্র জমা দিয়ে রাখা যায়, যাতে পোর্টাল চালু হলে দ্রুত অনলাইন এন্ট্রি করা যায়।
শেষ কথা
মাতৃত্বকালীন ভাতা বা মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি দরিদ্র মায়েদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা। তবে ভাতার হার, মেয়াদ, আবেদনের সময়সূচি ও পোর্টালের ঠিকানা মাঝেমধ্যেই পরিবর্তিত হয় বলে এই লেখায় দেওয়া তথ্যকে একটি সাধারণ দিকনির্দেশনা হিসেবে দেখাই ভালো। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিজের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় বা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের কার্যালয়ে সরাসরি গিয়ে সর্বশেষ তথ্য যাচাই করে নিন। কোনো মধ্যস্বত্বভোগীকে টাকা না দিয়ে সরাসরি সরকারি চ্যানেলের মাধ্যমেই আবেদন সম্পন্ন করুন, যাতে প্রাপ্য সুবিধা সঠিক ও নিরাপদভাবে পান।
৭
৭ মন্তব্য