সহকারী শিক্ষক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০১:১৭ পূর্বাহ্ণ
ই পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম ২০২৬ - E Passport Check Online
➡️এক ক্লিকে ই পাসপোর্ট চেক করুন
➡️E Passport Check করুন অনলাইনে
নতুন পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার পর সবচেয়ে বড় প্রশ্ন থাকে একটাই — পাসপোর্টটা এখন কোন ধাপে আছে, কবে হাতে পাব। সৌভাগ্যক্রমে বাংলাদেশে ই পাসপোর্ট চেক করার পুরো প্রক্রিয়াটা এখন ঘরে বসেই কয়েক মিনিটে সেরে ফেলা যায়। শুধু অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি (OID) আর জন্ম তারিখ হাতের কাছে থাকলেই হয়। এই লেখায় ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে কীভাবে অনলাইনে ও এসএমএসে পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করবেন, ডেলিভারি স্লিপ দিয়ে কীভাবে যাচাই করবেন, এবং চেক করার পর স্ট্যাটাসগুলোর মানে কী দাঁড়ায়।
পাসপোর্ট চেক করতে কী কী লাগবে
পাসপোর্ট চেকিং করার নিয়ম আসলে খুবই সহজ, তবে শুরুতেই দুটো তথ্য হাতের কাছে রাখা দরকার।
অ্যাপ্লিকেশন আইডি অথবা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি (OID)। অনলাইনে আবেদন করলে আবেদন শেষে যে অ্যাপ্লিকেশন সামারি কপি পাওয়া যায়, তার ওপরে বারকোডের নিচে এই নম্বরটা লেখা থাকে। আর সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে আবেদন করলে ডেলিভারি স্লিপেও একই নম্বর দেওয়া থাকে।
আবেদনকারীর জন্ম তারিখ, যেটা আবেদন ফরমে দেওয়া হয়েছিল।
এই দুটো তথ্য মিলিয়ে দিলেই যেকোনো সময়, যেকোনো জায়গা থেকে পাসপোর্ট স্ট্যাটাস দেখা যায়। ইন্টারনেট সংযোগ থাকা একটা মোবাইল বা কম্পিউটার হলেই কাজ চলে যায়, বাড়তি কোনো সফটওয়্যার লাগে না।
অনলাইনে পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম
ই পাসপোর্ট অনলাইন চেক করার জন্য সরকারি ওয়েবসাইট হলো epassport.gov.bd। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করলেই পাসপোর্ট চেক অনলাইনে করে ফেলতে পারবেন।
ব্রাউজারে গিয়ে সরাসরি https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status লিংকে ভিজিট করুন, অথবা www epassport gov bd লিখে সার্চ করে হোমপেজ থেকে Check Status মেনুতে যান।
পেজে থাকা বক্সে আপনার অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা অনলাইন রেজিস্ট্রেশন আইডি (OID) লিখুন। যেমন ধরুন নম্বরটা এমন হতে পারে — 4122-000075823।
এরপর জন্ম তারিখ সিলেক্ট করুন।
নিচে থাকা "I am human" বক্সে টিক দিয়ে ক্যাপচা পূরণ করুন।
সবশেষে Check বাটনে ক্লিক করলেই স্ক্রিনে পাসপোর্ট অ্যাপ্লিকেশনের বর্তমান স্ট্যাটাস দেখতে পাবেন।
তথ্য সঠিক দিলে সাথে সাথে জানা যায় পাসপোর্ট কোন ধাপে আছে — প্রিন্টিং, পুলিশ ভেরিফিকেশন, নাকি ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত। এটাই মূলত e passport check online delivery জানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।
পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম
অনেকেই মনে করেন পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে পাসপোর্ট চেক করা যায়, কিন্তু বাস্তবে ব্যাপারটা একটু আলাদা। পাসপোর্ট নম্বর তখনই তৈরি হয়, যখন পাসপোর্টটা প্রিন্ট হয়ে ইস্যু হয়ে যায়। আবেদন করার পর যতক্ষণ পাসপোর্টটা হাতে না পাচ্ছেন, ততক্ষণ পাসপোর্ট নম্বর থাকে না — তখন কাজ করে শুধু অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা OID। তাই passport check by passport number বলতে আসলে বোঝানো হয় এই অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা OID দিয়ে চেক করাকে, যেটা উপরে দেখানো পদ্ধতিতেই করতে হয়। পাসপোর্টটা হাতে পাওয়ার পর প্রকৃত পাসপোর্ট নম্বরটা পাসপোর্টের ভেতরের পাতায় ছাপা অবস্থায় পাবেন।
এসএমএস দিয়ে পাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক
ইন্টারনেট না থাকলেও চিন্তার কিছু নেই, মোবাইলের মেসেজ অপশন থেকেই পাসপোর্ট হয়েছে কিনা চেক করা যায়।
মোবাইলের মেসেজ অপশনে যান।
লিখুন — START EPP তারপর একটা স্পেস দিয়ে আপনার অ্যাপ্লিকেশন আইডি। যেমন: START EPP 4122-000075823
এই মেসেজটি পাঠিয়ে দিন 16445 নম্বরে।
কিছুক্ষণের মধ্যেই ফিরতি এসএমএসে পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে দেওয়া হবে।
এসএমএস পাঠাতে সাধারণ চার্জ কাটা হয়, তাই মোবাইলে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স আছে কিনা দেখে নিন। এই পদ্ধতি বিশেষভাবে কাজে লাগে যারা প্রবাসে থাকেন বা ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য নয় এমন জায়গা থেকে ই পাসপোর্ট চেক করতে চান।
ডেলিভারি স্লিপ দিয়ে পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম
সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিয়ে আবেদন করলে অফিস থেকে একটা ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হয়। এই স্লিপের ওপরে ডান পাশে বারকোডের নিচে অথবা উপরের বাম কোণায় অ্যাপ্লিকেশন আইডি নম্বরটা লেখা থাকে। ডেলিভারি স্লিপ দিয়ে পাসপোর্ট চেক করতে এই নম্বরটাই ব্যবহার করতে হবে — অনলাইন পোর্টালে বা এসএমএসে যেভাবে অ্যাপ্লিকেশন আইডি ব্যবহার করার কথা উপরে বলা হয়েছে, ঠিক একইভাবে। আলাদা কোনো পদ্ধতি নেই, স্লিপটাই মূলত আপনার আইডির উৎস।
পুরাতন এমআরপি পাসপোর্ট চেক করার নিয়ম
যাদের এখনো ই পাসপোর্ট নয়, পুরনো এমআরপি (মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট) আছে, তাদের চেক করার পোর্টালটা আলাদা। mrp passport check online করতে হলে যেতে হবে passport.gov.bd/OnlineStatus.aspx পেজে। সেখানে Enrolment ID এবং জন্ম তারিখ দিয়ে, ক্যাপচা পূরণ করে Search বাটনে ক্লিক করলেই এমআরপি পাসপোর্টের অবস্থা জানা যাবে। মনে রাখা দরকার, ই পাসপোর্ট আর এমআরপি পাসপোর্ট চেক করার সিস্টেম দুটো সম্পূর্ণ আলাদা, তাই ভুল পোর্টালে গেলে তথ্য পাওয়া যাবে না।
চেক করার পর স্ট্যাটাসের মানে কী
পাসপোর্ট চেক করার পর স্ক্রিনে বিভিন্ন রকম মেসেজ দেখাতে পারে। প্রতিটার অর্থ ভিন্ন —
আবেদনটা এখনো যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় আছে (Enrolment in process বা অনুরূপ বার্তা) — এর মানে আবেদন গ্রহণ হয়েছে, এখন যাচাই চলছে।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য অপেক্ষমাণ — এই ধাপে সময় একটু বেশি লাগতে পারে, বিশেষ করে স্থায়ী ও বর্তমান ঠিকানা আলাদা হলে।
প্রিন্টিং কিউতে আছে (Pending in print queue) — মানে পাসপোর্ট প্রিন্ট হওয়ার অপেক্ষায়।
প্রিন্ট সম্পন্ন হয়ে স্থানীয় অফিসের দিকে পাঠানো হয়েছে — সাধারণত ২৪ ঘণ্টা থেকে ৪-৫ দিনের মধ্যে স্থানীয় পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছায়।
ডেলিভারির জন্য প্রস্তুত (Ready for delivery) — এই বার্তা পেলে বুঝবেন পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে সংগ্রহ করার সময় হয়ে গেছে।
একটা তারিখ (Tentative Collection Date) দেখানো হতে পারে, যেটা মূলত একটা আনুমানিক সময়সীমা — এর মানে এই না যে ঠিক সেই দিনই পাসপোর্ট রেডি হয়ে যাবে, বরং এটা একটা প্রাথমিক ধারণা দেয়।
পাসপোর্ট চেক করার সময় তথ্য না পেলে করণীয়
মাঝেমধ্যে সঠিক তথ্য দেওয়ার পরও কোনো রেজাল্ট আসে না। এমন হলে এই কাজগুলো করে দেখুন —
অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা OID নম্বরটা আরেকবার মিলিয়ে দেখুন, একটা সংখ্যা ভুল হলেও রেজাল্ট আসবে না।
জন্ম তারিখ আবেদন ফরমে যেভাবে দেওয়া ছিল, ঠিক সেভাবেই দিন।
আবেদন করার পর অন্তত কয়েক দিন সময় দিন, একদম নতুন আবেদনের তথ্য সিস্টেমে আপডেট হতে কিছুটা সময় লাগে।
ওয়েবসাইট ব্যস্ত থাকলে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন।
তারপরও সমস্যা থেকে গেলে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়।
পাসপোর্ট রেডি হলে কীভাবে সংগ্রহ করবেন
স্ট্যাটাসে "রেডি ফর ডেলিভারি" দেখালে আবেদনকারীকে নিজে উপস্থিত হয়ে পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে হয় — অন্য কারও মাধ্যমে সংগ্রহ করার সুযোগ নেই। সাথে নিয়ে যেতে হবে ডেলিভারি স্লিপ এবং একটা বৈধ ছবিযুক্ত পরিচয়পত্র। যে পাসপোর্ট অফিসে আবেদন জমা দিয়েছিলেন, সাধারণত সেখান থেকেই সংগ্রহ করতে হয়। অফিসের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী সপ্তাহের কর্মদিবসগুলোতে ডেলিভারি কাউন্টার খোলা থাকে।
পাসপোর্ট কি অনলাইন থেকে ডাউনলোড করা যায়
এই প্রশ্নটা অনেকের মনেই আসে, কিন্তু উত্তরটা হলো না। e passport pdf download বা অনলাইন থেকে সরাসরি পাসপোর্ট কপি ডাউনলোড করার কোনো সুযোগ নেই। পাসপোর্ট একটা ফিজিক্যাল বুকলেট, যেটা পুলিশ ভেরিফিকেশনের পর প্রিন্ট হয়ে পাসপোর্ট অফিস থেকে সরাসরি আবেদনকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়। অনলাইনে যা ডাউনলোড করা যায় তা হলো আবেদনের সময়কার অ্যাপ্লিকেশন সামারি কপি বা পেমেন্ট রিসিট — মূল পাসপোর্ট নয়।
পাসপোর্ট চেক সংক্রান্ত সাহায্যের জন্য যোগাযোগ
কোনো ধাপে আটকে গেলে বা তথ্য নিয়ে দ্বিধায় থাকলে সরাসরি পাসপোর্ট অধিদপ্তরের হেল্পলাইনে বা যে পাসপোর্ট অফিসে আবেদন করেছেন সেখানকার নির্ধারিত নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন। ওয়েবসাইটেও একটা কন্টাক্ট বা সাপোর্ট সেকশন থাকে, যেখান থেকে সমস্যাটা লিখে জানানো যায়। বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীদের জন্য সংশ্লিষ্ট দূতাবাস বা হাই কমিশনের পাসপোর্ট শাখাও যোগাযোগের একটা ভালো মাধ্যম।
প্রায়জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর
ই পাসপোর্ট চেক করার সরকারি ওয়েবসাইট কোনটি
সরকারি ওয়েবসাইট হলো epassport.gov.bd, আর সরাসরি স্ট্যাটাস চেক করার লিংক হলো https://www.epassport.gov.bd/authorization/application-status।
পাসপোর্ট চেক করতে কত টাকা লাগে
অনলাইনে পাসপোর্ট চেক করতে কোনো টাকা লাগে না। তবে এসএমএসের মাধ্যমে চেক করলে সাধারণ এসএমএস চার্জ কাটা হয়।
অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা OID কোথায় পাব
অনলাইনে আবেদন করলে অ্যাপ্লিকেশন সামারি কপিতে, আর সরাসরি অফিসে গিয়ে আবেদন করলে ডেলিভারি স্লিপে এই নম্বরটা পাওয়া যায়।
পাসপোর্ট হতে সাধারণত কত দিন সময় লাগে
সাধারণ প্রক্রিয়ায় সাধারণত কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পাসপোর্ট হাতে পাওয়া যায়। জরুরি প্রয়োজনে বাড়তি ফি দিয়ে দ্রুত ডেলিভারির অপশনও নেওয়া যায়, যেখানে সময় অনেকটাই কমে আসে। সঠিক সময়সীমা আবেদনের ধরন ও পুলিশ ভেরিফিকেশনের গতির ওপর নির্ভর করে।
পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ভিসা চেক করা যায় কি
ভিসা চেক আর পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক দুটো আলাদা সেবা। পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা জানতে epassport.gov.bd ব্যবহার করতে হয়, আর ভিসা সংক্রান্ত তথ্যের জন্য সংশ্লিষ্ট দেশের ইমিগ্রেশন বা ভিসা প্রসেসিং পোর্টাল দেখতে হয়।
বিএমইটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট চেক কি পাসপোর্ট চেকের মতো একই জিনিস
না, এটা আলাদা বিষয়। বিএমইটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট চেক মূলত বিদেশগামী কর্মীদের ছাড়পত্র সংক্রান্ত একটা যাচাই প্রক্রিয়া, যা পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা সিস্টেমের মাধ্যমে করা হয়।
মোবাইল দিয়ে কি পাসপোর্ট চেক করা যায়
হ্যাঁ, মোবাইলের ব্রাউজার দিয়ে ওয়েবসাইটে গিয়ে যেমন চেক করা যায়, তেমনি ইন্টারনেট ছাড়াই এসএমএসের মাধ্যমেও চেক করা যায়।
সারকথা
পাসপোর্ট চেক করার পুরো ব্যাপারটা আসলে দুটো তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে — অ্যাপ্লিকেশন আইডি বা OID, আর জন্ম তারিখ। এই দুটো হাতে থাকলে অনলাইনে epassport.gov.bd এ গিয়ে অথবা 16445 নম্বরে এসএমএস পাঠিয়ে যেকোনো সময় পাসপোর্টের সবশেষ অবস্থা জানা যায়। রেজাল্ট না এলে প্রথমে তথ্যগুলো আরেকবার মিলিয়ে দেখুন, তারপরও সমাধান না হলে পাসপোর্ট অফিসের সাথে সরাসরি যোগাযোগ করুন।
১৪
২৪ মন্তব্য