প্রভাষক
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৫৭ অপরাহ্ণ
অন্তরের পরিশুদ্ধতা-ই হেদায়েতের মূলমন্ত্র; শুধু জ্ঞান নয়
অনেক মুসলিম মাঝে মাঝে বড় আফসোস করে বলেন, ঐ লোকটা এত বিশাল জ্ঞানের অধিকারী। জ্ঞানের সকল শাখায় তাঁর মোটামুটি ভালোই বিচরণ। ধর্মীয় জ্ঞানের দিক থেকেও অনেকে তাঁর ধারে কাছেও না। তারপরও তিনি কেনো অন্তরে ধর্মবিদ্বেষ লালন করেন বিশেষ করে ইসলামোফোব। অথচ তিনি যদি হেদায়াতপ্রাপ্ত হতেন তাহলে কতোই না উত্তম হতো। কিন্তু তাঁরা উপলব্ধি করতে পারেন না যে, হেদায়াত আল্লাহ তালা কারো জ্ঞান ভান্ডারের উপর কিংবা ক্ষমতা ও ধন-সম্পদের উপর ভিত্তি করে দেন না। নবুওয়ত প্রাপ্তির পর বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) যখন সত্যের দাওয়াত প্রচার করা শুরু করলেন তখন স্বগোত্রের লোকজন যারা তাঁকে ছোটকাল থেকে দেখে তাঁর চারিত্রিক মাধুর্যতায় আকৃষ্ট হয়ে আল-আমীন তথা বিশ্বাসী/সত্যবাদী উপাধি দিয়েছিলো তারাই তাঁর বিরোধিতা করা শুরু করলো। তাদের মধ্যে অত্যন্ত প্রতাপশালী দু’জন ব্যক্তি আবু জাহেল এবং উমর ইবনুল খাত্তাব অন্যতম। আবু জাহেলের প্রকৃত নাম আমর ইবনে হিশাম এবং তার উপাধি “আবু আল হাকাম” ছিলো তথা “জ্ঞানীদের জনক”। কারণ তিনি গভীর জ্ঞানের মানুষ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কুরাইশের প্রবীণ নেতাদের মধ্যে দক্ষতা, যোগ্যতা ও উপলব্ধির জন্য তারা তার মতামতকে বিশ্বাস করতেন ও প্রাধান্য দিতেন এবং সভার একজন অভিজাত সদস্য হিসেবে তার উপর নির্ভর করতেন। এমনকি ত্রিশ বছর বয়সেই তিনি দার-আন-নাদ্বায় অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলেন, যদিও এই গোপন সম্মেলনে প্রবেশের বয়স ছিল কমপক্ষে চল্লিশ বছর। সেই আবু আল হাকাম স্বজ্ঞানে ও সুস্থ মস্তিষ্কে সত্যকে শুধু অস্বীকার-ই করে নাই বরং তা প্রচারে চরম বিরোধিতা শুরু করে। বিশ্বনবীর কথা ও কাজে অনুপ্রাণিত হয়ে তাঁর দাওয়াতে মানুষ যখন এক আল্লাহতে বিশ্বাস করে ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় নেয়া শুরু করে তখন কাফেররা মানুষদেরকে সত্যবিমুখ করার জন্য হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নামে অনেক অপপ্রচার চালানো শুরু করলো। আর এসকল অপপ্রচারের মূল ইন্ধনদাতা ছিলো আবু আল হাকাম। হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) এর নবুয়াত লাভ ও ইসলাম প্রচার প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তিনি ইসলামের ঘোর বিরোধিতা ও ইসলাম অনুসারীদের অকথ্য নির্যাতন শুরু করেন। তার এধরনের কর্মকান্ড সত্য প্রচারে বাঁধা তৈরি করলেও মানুষকে সত্যবিমুখ করতে পারলো না। অতএব বিশ্বনবী তাকে “আবু জাহল” তথা “অজ্ঞতার জনক” হিসাবে উল্লেখ করেছেন এবং ইতিহাসে তিনি এ নামেই পরিচিত হলেন।
অন্যদিকে উমর মক্কার কুরাইশ বংশের বনু আদি গোত্রে জন্মগ্রহণ করেন। ইসলাম পূর্ব আরবে লেখাপড়ার রীতি বেশি প্রচলিত ছিল না। এরপরও তরুণ বয়সে উমর লিখতে ও পড়তে শেখেন। নিজে কবি না হলেও কাব্য ও সাহিত্যের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। কুরাইশ ঐতিহ্য অনুযায়ী তিনি তার কৈশোরে সমরবিদ্যা, অশ্বারোহণ ও কুস্তি শেখেন। তিনি দীর্ঘদেহী ও শারীরিকভাবে শক্তিশালী ছিলেন। কুস্তিগির হিসেবে তার খ্যাতি ছিল। এছাড়াও তিনি একজন সুবক্তা ছিলেন। তার বাবার পরে তিনি তার গোত্রের একজন বিরোধ মীমাংসাকারী হন। সর্বোপরি তিনি জাহেলি যুগ থেকেই সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সর্বদা সচেষ্ট থাকতেন। কিন্তু উমর ইবনে খাত্তাব না জেনে, না বুঝে শুধু অন্ধবিশ্বাস ও আনুগত্য থেকে সত্যের বিরোধিতা করতেন। আবু জাহেল ছিলেন তাঁর মামা যে কিনা আবু আল হাকাম” তথা “জ্ঞানীদের জনক”। সুতরাং তিনি যা বলতেন সবকিছুই চোখ বন্ধ করে তিনি শুধু বিশ্বাসই করতেন না বরং তা পালনে সদা সর্বদা সচেষ্ট থাকতেন। যেহেতু আবু আল হাকাম তথা জ্ঞানীদের জনক বলেছেন তাই জ্ঞানী ও বিচক্ষণ হওয়া সত্ত্বেও শক্তিশালী ও দৃঢ়চেতা উমর তা যাচাই-বাছাই না করেই অন্ধ অনুসরণ করতেন। সুতরাং দু’জন-ই ইসলাম প্রচারের পথে প্রচন্ড বাঁধার প্রাচীর হয়ে দেখা দিলেন।
যেহেতু তারা উভয়ই সত্যের পথে বাঁধা প্রদানে দৃঢ় প্রতীজ্ঞ ছিলেন এবং ইসলাম গ্রহণকারীদেরকে অপমান, অপদস্ত ও নির্যাতন করতেন তাই ইসলামের প্রচার ও প্রসার অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। এমতাবস্থায় বিশ্বনবী তাদের উভয়ের মধ্যে যে আল্লাহ তা’লার কাছে অত্যাধিক প্রিয় তাঁর হেদায়াতের জন্য দোয়া করলেন। আল্লাহ তালা উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) কে সত্য পথের পথিক হিসেবে কবুল করেন।
আল্লাহ তালা কেনো উভয়কে অথবা জ্ঞানীদের জনক (আবু আল হাকাম) তথা আবু জাহেলকে হেদায়াত না দিয়ে উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) কে সত্য পথের পথিক হিসেবে কবুল করলেন ?
মুসলমানদেরকে নির্যাতন-নিপীড়ন আবু জাহেল ও উমর উভয়েই করতেন বরং উমর শারীরিক নির্যাতন বেশি করতেন। তবে কেনো উমর আল্লাহ তালার কাছে বেশি প্রিয় হলেন ? কারণ এতদিন উমর ইবনে খাত্তাব কুফরিতে নিমজ্জিত ছিলেন অন্ধ আনুগত্য ও বিশ্বাস থেকে। তিনি সম্প্রদায়ের ঐক্য ধরে রাখার জন্য এ কাজগুলো করতেন। জাহেলি যুগ থেকেও তিনি এ বিষয়ে খুব সচেষ্ট ছিলেন যেনো কোরাইশদের মধ্যে কোনো ফাটল দেখা না দেয়। কোনো মারামারি কিংবা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা-হাঙ্গামা তৈরি না হয়। কিন্তু তা সত্ত্বেও একটি লক্ষ্যণীয় বৈশিষ্ট্যের আভাষ যেন প্রথম থেকেই তাঁর মধ্যে পরিলক্ষিত হতো। তাঁর হাবভাব দেখে মনে হতো যে, ভাবাবেগের দু’বিপরীতমুখী শক্তি যেন তাঁর অন্তর রাজ্যে পরস্পর পরস্পরের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত রয়েছে। একদিকে তিনি তাঁর পূর্ব পুরুষগণের অনুসৃত রীতিনীতি ও আচার অনুষ্ঠানের প্রতি অত্যন্ত শ্রদ্ধাশীল ছিলেন এবং মদ্যপান ও আমোদ প্রমোদের প্রতি তাঁর যথেষ্ট আসক্তি ছিল। অন্যদিকে মুসলিমদের ঈমান ও আকীদা এবং বিপদ আপদে তাঁদের ধৈর্য ধারণের অসাধারণ ক্ষমতা দেখে তিনি হতবাক হয়ে যেতেন এবং সপ্রশংস দৃষ্টিতে তাঁদের দিকে চেয়ে থাকতেন। অধিকন্তু কোন কোন সময় জ্ঞানী ব্যক্তিগণের মতো তাঁর মনে তত্ত্ব-চিন্তার উদ্রেকও হতো। তিনি আপন খেয়ালে চিন্তা করতে থাকতেন নানা বিষয়, নানা কথা। কোন কোন সময় এটাও তাঁর মনে হতো যে, ইসলাম যে পথের সন্ধান দিচ্ছে, যে পথে চলার জন্য উদাত্ত আহবান জানাচ্ছে সম্ভবতঃ সেটাই উত্তম ও পবিত্রতম পথ। এ জন্য প্রায়শঃই তিনি দ্বিধা দ্বন্দ্বে ভুগতেন, কোন কোন সময় বিচলিত বোধ করতেন, কখনো বা নিরুৎসাহিত বোধ করতেন। এমতাবস্থায় যখন তিনি দেখলেন কিছু লোক নিজ সম্প্রদায় থেকে আলাদা/বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে তখন তিনি মূল কারণ অনুসন্ধান না করে শুধু দেখলেন যে কার কারণে এমনটি হচ্ছে। যাদের কারণে হচ্ছে তিনি তাদের উপর চড়াও হলেন এবং তাদের অনেককেই অত্যাচার নির্যাতন করতেন। এমনকি শেষপর্যায়ে কোরাইশদের গোপন বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যখন তিনি বিশ্বনবীকে হত্যা করতে রওয়ানা দেন তখন পথিমধ্যে বোন ও ভগ্নিপতির ইসলাম গ্রহনের সংবাদ পান। প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে জ্ঞানী ও বিচক্ষণ উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) যখন নিজে যাচাই-বাছাই করা শুরু করলেন তখন তিনি সত্যকে শুধু উপলব্ধিই করেন নাই বরং নিজেকে পরিশুদ্ধ করে সত্যের একজন অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিযুক্ত করলেন। তাঁর ইসলাম গ্রহণ মুসলমানদের মনে আনন্দের বন্যা বইয়ে দিলো। কারণ প্রতাপশালী ও প্রভাবশালী দৃঢ়চেতা উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) ইসলাম গ্রহণ করেই সকলকে লক্ষ্য করে বললেন যে, গোপনীয়তার আর কী প্রয়োজন ? সেই সত্তার শপথ যিনি আপনাকে (মুহাম্মদ সাঃ) সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, আমরা অবশ্যই গোপনীয়তা পরিহার করে বাইরে যাব।
আল্লাহ তালা মানুষকে একটা স্বাধীন ইচ্ছা শক্তি ও সত্য-মিথ্যা উপলব্ধি করার মতো জ্ঞান দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সুতরাং বদ্ধ ঘর থেকে বাহির হলে পুরস্কার আছে জানা সত্ত্বেও কেউ যদি ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রাখে তাহলে বাহিরে পুরস্কার বিতরণ করা হলেও তারা তা পাবে না। আবু জাহেল এবং তার মতো কিছু লোক সত্য জেনে ও বুঝে তার বিরোধিতা করতো। তাদের দিকে ইঙ্গিত করেই আল্লাহ তালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন -
“আল্লাহ তালা তাদের অন্তরে এবং তাদের কানে মোহর লাগিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের চোখসমূহে রয়েছে পর্দা এবং তাদের জন্য রয়েছে ভয়ানক শাস্তি।”
[সূরা আল বাক্বারা, আয়াত নং-৭]
এতে বুঝা যাচ্ছে যে, তাদের কর্ম-কাণ্ডই তাদের হৃদয়সমূহকে সীলমোহর মারার উপযুক্ত করে দিয়েছে। আর এ অর্থই কুরআনের অন্য এক আয়াতে উল্লিখিত হয়েছে-
“কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে জঙ ধরিয়েছে”।
[সূরা আল-মুতাফফিফীন, আয়াত নং-১৪]
এখানে বোঝানো হয়েছে যে, তাদের মন্দকাজ ও অহংকারই তাদের অন্তরে মরিচা আকার ধারণ করেছে। ইমাম তাবারী বলেন, গোনাহ যখন কোন মনের উপর অনবরত আঘাত করতে থাকে তখন সেটা মনকে বন্ধ করে দেয়। আর যখন সেটা বন্ধ হয়ে যায় তখন সেটার উপর সীলমোহর ও টিকেট এঁটে দেয়া হয়।
আবার আবু আল হাকাম তথা আবু জাহেল জ্ঞানীদের জনক এবং গোত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও আল্লাহ তালা তাকে সত্যের জন্য কবুল করলেন না। কারণ সে সবকিছু জেনে বুঝেই অস্বীকার করতো। আর উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) শুধু সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য সত্য প্রচারে বাঁধা দিতেন। সত্যকে উপলব্ধি না করে অন্ধ আনুগত্য থেকে তিনি এ কাজগুলো করতেন। সুতরাং কে সত্যের সন্ধানে আন্তরিক তা আল্লাহ তালা ভালোভাবে অবগত আছেন। তাই কে হেদায়েতের জন্য অধিক উপযুক্ত সে বিষয়ে আল্লাহ তালাই ভালো জানেন। এ বিষয়ে আল্লাহ তালা পবিত্র কুরআনে বলেছেন –
“তুমি যাকে পছন্দ করো, তাকে হেদায়াত করতে পারবে না, তবে আল্লাহ্ তা’আলা যাকে ইচ্ছা হেদায়াতের পথে আনয়ন করেন। কে সৎপথে আসবে, সে সম্পর্কে তিনিই অধিক অবগত আছেন’’।
(সূরা কাসাস, আয়াত নং-৫৬)
অতএব, মানুষ যাদেরকে জ্ঞানের ভান্ডার কিংবা শক্তিশালী মনে করে এবং তাদের হেদায়েত প্রাপ্তি না হওয়ায় আফসোস করে তাদের অনেকেই স্ব-জ্ঞানে ও সুস্থ মস্তিষ্কে সত্য প্রত্যাখান করে। সুতরাং মানুষের আশা আকাঙ্ক্ষার বিপরীতে সত্য প্রত্যাখ্যানকারীদের অবজ্ঞা ও অবহেলা সম্পর্কে আল্লাহ তালা পবিত্র কুরআনে বিশ্বাসীদের জানিয়ে দিয়েছেন।
আবু জাহেল স্ব-জ্ঞানে ও সুস্থ মস্তিষ্কে নিজেকে সত্য থেকে দূরে রাখতে চেয়েছে বিধায় আল্লাহ তালার পক্ষ থেকে সে হেদায়েতপ্রাপ্ত তো হয়-ই নাই বরং ইতিহাসে প্রতাপশালী জ্ঞানীদের জনক থেকে অজ্ঞতার জনকে পরিণত হয়েছে। অন্যদিকে সত্য উপলব্ধি করা মাত্রই নিজেকে পরিশুদ্ধ করে বিশ্বনবীকে হত্যা করতে আসা ব্যক্তি তথা উমর ইবনে খাত্তাব (রাঃ) ইতিহাসে সত্যের অন্যতম অতদ্র প্রহরীতে পরিনত হলেন। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) তাঁকে আল ফারুক উপাধি দেন, যার অর্থ সত্য ও মিথ্যার মধ্যে পার্থক্যকারী। এভাবেই যুগ যুগ ধরে আল্লাহ তালা সত্য সন্ধানী মানুষদেরকে হেদায়েতের অমিয় সুধা পান করান। আর জ্ঞানপাপীদেরকে ইহকাল ও পরকালে তাদের কর্মফল ভোগের জন্য ছেড়ে দেন।
* তথ্যসূত্রঃ
# আর-রাহীকুল মাখতূম, লেখক সফিউর রহমান মুবারকপুরী।
# তাফসিরে মা’আরেফুল কুরআন, মুহাম্মদ শফি উসমানি।
# তিরমিযী, উমার বিন খাত্তাব ২য় খন্ড ২০৯ পৃঃ।
# শাইখ মুহাম্মাদ গাযালীঃ ফিক্বহুস সীরাহ ৯২-৯৩ পৃঃ। তিনি উমার (রাঃ)-এর মানসিকতার দু’বিপরীতমুখী ধারা সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।
# ইবনে জাওযী- তারীখে উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) ৬-৭ পৃঃ।
# উইকিপিডিয়া।
১৪
২৪ মন্তব্য