Loading..

ব্লগ

রিসেট

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৩৬ পূর্বাহ্ণ

কষ্টের পাশে স্বস্তির বার্তা -মোঃ মুজিবুর রহমান

কষ্টের পাশে স্বস্তির বার্তা

(সূরা আল-ইনশিরাহর আলোকে দুঃখ থেকে আশার পথে, সংকট থেকে স্বস্তির পথে)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর

মানুষের জীবন কখনো সুখের, কখনো দুঃখের; কখনো স্বস্তির, কখনো সংকটের। জীবনের পথে এমন সময় আসে, যখন দুশ্চিন্তা হৃদয়কে ভারী করে, বিপদ মানুষকে দুর্বল করে এবং ভবিষ্যৎকে অন্ধকার মনে হয়। প্রিয়জনের বিচ্ছেদ, আর্থিক সংকট, রোগ-শোক, ব্যর্থতা, দায়িত্বের চাপ কিংবা নানা প্রতিকূলতা মানুষের মনে হতাশা সৃষ্টি করতে পারে। কিন্তু একজন মুমিনের জীবন হতাশার কাছে পরাজিত হওয়ার জন্য নয়। কারণ তার বিশ্বাসকষ্ট যত কঠিনই হোক, আল্লাহর রহমত তার চেয়েও ব্যাপক।

পবিত্র কুরআনের ৯৪তম সূরা আল-ইনশিরাহ বা আশ-শরাহ মাত্র আটটি আয়াতের একটি সংক্ষিপ্ত সূরা; কিন্তু এর শিক্ষা অত্যন্ত গভীর জীবনঘনিষ্ঠ। এই সূরায় মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় নবী মুহাম্মদ -কে সান্ত্বনা দিয়েছেন, তাঁর প্রতি নিজের অনুগ্রহ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন এবং কঠিন দায়িত্ব পালনের পথে তাঁকে আশাবাদী দৃঢ় থাকতে শিক্ষা দিয়েছেন। একই সঙ্গে এতে মুমিনদের জন্যও রয়েছে চিরন্তন আশার বার্তাকষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে।

আল্লাহর অনুগ্রহে হৃদয়ের প্রশান্তি

আল্লাহ বলেন

أَلَمْ نَشْرَحْ لَكَ صَدْرَكَ

অর্থ:আমি কি তোমার বক্ষ প্রশস্ত করে দিইনি?” — (সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:)

এখানে বক্ষ প্রশস্ত করা শুধু বাহ্যিক অর্থে নয়; বরং অন্তরকে ঈমান, হিকমত, জ্ঞান, ধৈর্য দায়িত্ব পালনের শক্তি দিয়ে প্রশস্ত করার অর্থও বহন করে। একজন মানুষ যখন আল্লাহর ওপর ঈমান রাখে, তাঁর ওপর ভরসা করে এবং তাঁর বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে, তখন কঠিন পরিস্থিতিতেও তার অন্তরে এক ধরনের প্রশান্তি জন্ম নেয়।

জীবনে সমস্যা থাকবেএটাই বাস্তবতা। কিন্তু সমস্যার মধ্যেও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস রাখা একজন মুমিনকে অন্যদের থেকে আলাদা করে। সে জানে, সে একা নয়; তার একজন রব আছেন, যিনি তার অবস্থা জানেন, তার দুঃখ জানেন এবং তার প্রার্থনা শুনতে সক্ষম।

দায়িত্বের ভার আল্লাহর সাহায্য

আল্লাহ বলেন

وَوَضَعْنَا عَنْكَ وِزْرَكَ ۝ الَّذِي أَنْقَضَ ظَهْرَكَ

অর্থ:আমি কি তোমার ওপর থেকে তোমার ভার নামিয়ে দিইনিযে ভার তোমার পিঠকে ন্যুব্জ করে দিয়েছিল?” — (সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:)

রাসুলুল্লাহ -এর ওপর অর্পিত দায়িত্ব ছিল অত্যন্ত মহান। তাঁকে তাওহীদের দাওয়াত দিতে হয়েছে, মানুষকে শিরক কুফর থেকে মুক্তির পথে ডাকতে হয়েছে এবং বিরোধিতা, নির্যাতন নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও আল্লাহর বার্তা পৌঁছে দিতে হয়েছে।

এখানে আমাদের জন্যও শিক্ষা রয়েছে। জীবনে দায়িত্ব যত বড়ই হোক, আল্লাহর সাহায্য চাইলে এবং সঠিক পথে অবিচল থাকলে মানুষ তা বহন করার শক্তি পেতে পারে। তাই দায়িত্বের চাপে ভেঙে না পড়ে আল্লাহর দিকে ফিরে যেতে হবে।

মর্যাদা সুনামের প্রকৃত উৎ

আল্লাহ বলেন

وَرَفَعْنَا لَكَ ذِكْرَكَ

অর্থ:আর আমি তোমার জন্য তোমার স্মরণকে সমুন্নত করেছি। — (সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:)

রাসুলুল্লাহ -এর নাম আল্লাহর নামের সঙ্গে ইসলামের শাহাদাতে উচ্চারিত হয়। আজ পৃথিবীর অসংখ্য মানুষ তাঁর প্রতি দরুদ সালাম পাঠ করে। এটি আল্লাহর পক্ষ থেকে তাঁর জন্য এক মহান সম্মান।

এই আয়াত আমাদের শেখায়প্রকৃত মর্যাদা মানুষের হাতের সম্পদ নয়; মর্যাদার চূড়ান্ত মালিক আল্লাহ। তাই মানুষের প্রশংসা পাওয়ার জন্য অন্যায় পথে চলা, অহংকার করা বা লোকদেখানো কাজ করা উচিত নয়। বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করাই হওয়া উচিত জীবনের প্রধান লক্ষ্য।

কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি

সূরা আল-ইনশিরাহর সবচেয়ে আশাব্যঞ্জক ঘোষণা

فَإِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا ۝ إِنَّ مَعَ الْعُسْرِ يُسْرًا

অর্থ:নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। নিশ্চয়ই কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। — (সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:)

একই কথা পরপর দুবার উল্লেখ করে আল্লাহ মুমিনের হৃদয়ে আশার শক্তি সৃষ্টি করেছেন। আয়াতের শিক্ষা হলোকষ্ট চিরস্থায়ী নয়। বিপদের সময় আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না।

তবে এর অর্থ এই নয় যে, প্রত্যেক কষ্টের পর অবশ্যই আমাদের পছন্দমতো পার্থিব ফল আসবে। বরং মুমিন বিশ্বাস করেআল্লাহ তাঁর বান্দার জন্য যা নির্ধারণ করেন, তাতে হিকমত রয়েছে। কখনো তিনি সংকট দূর করেন, কখনো নতুন পথ খুলে দেন, কখনো ধৈর্য ঈমানের মাধ্যমে বান্দাকে উন্নত করেন এবং কখনো আখিরাতে এর উত্তম প্রতিদান দেন।

সুতরাং কষ্টের সময় বলতে হবেআমার রব আমাকে দেখছেন; আমি তাঁর রহমত থেকে নিরাশ হব না।

দুঃখের সময় হতাশা নয়

হতাশা মানুষের শক্তি কেড়ে নেয়। হতাশ মানুষ সমস্যার সমাধানের পথ দেখতে পায় না। কিন্তু ইসলাম মানুষকে হতাশ হতে শেখায় না। আল্লাহ বলেন

আল্লাহর রহমত থেকে তোমরা নিরাশ হয়ো না। — (সূরা আয-যুমার, ৩৯:৫৩)

অতএব বিপদে পড়ে নিজেকে শেষ মনে করা, আল্লাহর রহমত সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা করা কিংবা চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া মুমিনের পথ নয়।

দুঃখ আসবে, চোখে পানি আসতে পারে, মন ভারী হতে পারেএগুলো মানুষের স্বাভাবিক অনুভূতি। কিন্তু দুঃখের মধ্যেও আল্লাহর ওপর বিশ্বাস হারানো যাবে না। কান্না থাকতে পারে, কিন্তু আশা হারানো যাবে না; কষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু ইবাদত ছেড়ে দেওয়া যাবে না।

অবসর মানেই অলসতা নয়

আল্লাহ বলেন

فَإِذَا فَرَغْتَ فَانْصَبْ

অর্থ:অতএব যখন অবসর পাও, তখন পরিশ্রমে নিয়োজিত হও। — (সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:)

ইসলাম অলসতাকে উৎসাহিত করে না। একজ মুমিনের জীবন দায়িত্ব, পরিশ্রম, ইবাদত কল্যাণকর কাজের সঙ্গে যুক্ত। একটি দায়িত্ব শেষ হলে অন্য কল্যাণকর দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।

ছাত্রের দায়িত্ব হলো জ্ঞান অর্জন করা; শিক্ষকের দায়িত্ব হলো জ্ঞান নৈতিকতা শিক্ষা দেওয়া; পিতামাতার দায়িত্ব সন্তানকে সঠিকভাবে গড়ে তোলা; কর্মজীবীর দায়িত্ব হলো সততার সঙ্গে কাজ করা; সমাজের প্রত্যেক মানুষের দায়িত্ব হলো নিজের সাধ্য অনুযায়ী কল্যাণে অংশ নেওয়া।

অতএব সময়কে অবহেলা না করে তা সৎ উপকারী কাজে ব্যবহার করতে হবে।

সব আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্র আল্লাহ

সূরার শেষ আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন

وَإِلَىٰ رَبِّكَ فَارْغَبْ

অর্থ:আর তোমার রবের প্রতিই মনোনিবেশ করো। — (সূরা আল-ইনশিরাহ, ৯৪:)

এটি সূরাটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। মানুষ দুনিয়ায় অনেক কিছুর প্রত্যাশা করেসম্পদ, সম্মান, সফলতা, নিরাপত্তা, ভালোবাসা সুখ। কিন্তু এসবের চূড়ান্ত মালিক মানুষ নয়; সবকিছুর মালিক আল্লাহ।

তাই প্রয়োজনের সময় মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া বৈধ উপায় হতে পারে, কিন্তু হৃদয়ের চূড়ান্ত নির্ভরতা থাকতে হবে আল্লাহর ওপর। দোয়া করতে হবে তাঁর কাছে, সাহায্য চাইতে হবে তাঁর কাছে, বিপদে আশ্রয় নিতে হবে তাঁর কাছে এবং সফল হলে কৃতজ্ঞ হতে হবে তাঁর কাছে।

তাওয়াক্কুল মানে চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া নয়

সূরা আল-ইনশিরাহ আমাদের আশা দেয়, কিন্তু অলসতা শেখায় না। আল্লাহর ওপর ভরসা মানে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকা নয়। বরং মুমিন প্রয়োজনীয় বৈধ উপায় অবলম্বন করবে, আন্তরিকভাবে চেষ্টা করবে এবং ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেবে।

কৃষক জমি প্রস্তুত করবে, বীজ বপন করবে, সেচ দেবে; তারপর ফলনের জন্য আল্লাহর ওপর নির্ভর করবে। শিক্ষার্থী পড়াশোনা করবে, পরিশ্রম করবে, দোয়া করবে; তারপর ফলাফল আল্লাহর হাতে ছেড়ে দেবে। অসুস্থ ব্যক্তি চিকিৎসা গ্রহণ করবে এবং আরোগ্য আল্লাহর কাছে চাইবে।

এটাই ভারসাম্যপূর্ণ তাওয়াক্কুলচেষ্টা আমার, ফলাফল আল্লাহর হাতে।

পারিবারিক সামাজিক জীবনে সূরাটির শিক্ষা

সূরা আল-ইনশিরাহ শুধু ব্যক্তিগত দুঃখের সময় সান্ত্বনা দেয় না; এটি পরিবার সমাজের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে।

পরিবারে কারও মন ভেঙে গেলে তাকে আরও কষ্ট না দিয়ে সান্ত্বনা দেওয়া উচিত। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে মতভেদ হলে রাগের পরিবর্তে ধৈর্য, পারস্পরিক সম্মান সুন্দর কথাবার্তার প্রয়োজন। সন্তান ভুল করলে তাকে অপমান না করে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া উচিত। প্রতিবেশী বিপদে পড়লে তাকে সহযোগিতা করা উচিত।

কারণ আমরা জানি নাআজ যে মানুষটি কষ্টে আছে, আগামীকাল হয়তো আল্লাহ তার জন্য স্বস্তির দরজা খুলে দেবেন। আর সেই স্বস্তির পথে আমরা যদি সামান্য সহায়তার কারণ হতে পারি, সেটিও আল্লাহর পক্ষ থেকে আমাদের জন্য বড় সৌভাগ্য।

শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ শিক্ষা

শিক্ষার্থীদের জীবনে ব্যর্থতা আসতে পারে। পরীক্ষায় আশানুরূপ ফল নাও হতে পারে, কোনো বিষয় কঠিন মনে হতে পারে, অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা থাকতে পারে, পারিবারিক সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু একটি ব্যর্থতা জীবনের শেষ নয়।

সূরা আল-ইনশিরাহ শিক্ষার্থীকে বলেকষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে। তাই ব্যর্থ হলে নতুন করে চেষ্টা করতে হবে। সময়কে মূল্য দিতে হবে, শিক্ষকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে, নিয়মিত পড়তে হবে, আল্লাহর কাছে দোয়া করতে হবে এবং নিজের চরিত্র সুন্দর করতে হবে।

শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল নয়জ্ঞান, আমল, সততা, শিষ্টাচার মানবিকতা মিলেই একজন শিক্ষার্থীর প্রকৃত সাফল্য।

কর্মজীবীদের জন্য শিক্ষা

কর্মজীবনে নানা চাপ সমস্যা থাকতেই পারে। কখনো কাজের স্বীকৃতি আসে না, কখনো পরিশ্রমের তুলনায় ফল কম হয়, কখনো মানুষের সমালোচনা শুনতে হয়। তখন হতাশ না হয়ে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করতে হবে।

সৎ উপার্জন, আমানতদারি, সময়নিষ্ঠা দায়িত্বশীলতা বজায় রেখে কাজ করা একজন মুমিনের কর্তব্য। মানুষের প্রশংসার চেয়ে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে বড় মনে করতে হবে।

বিপদের সময় কী করণীয়?

সূরা আল-ইনশিরাহর আলোকে বিপদের সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখা জরুরি

প্রথমতআল্লাহর ওপর ঈমান ভরসা রাখতে হবে।
দ্বিতীয়তদোয়া ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্টা করতে হবে।
তৃতীয়তসমস্যার বৈধ বাস্তবসম্মত সমাধানের জন্য চেষ্টা করতে হবে।
চতুর্থতধৈর্য ধারণ করতে হবে এবং হতাশ হওয়া যাবে না।
পঞ্চমতসময়কে অলসতায় নষ্ট না করে কল্যাণকর কাজে ব্যস্ত থাকতে হবে।
ষষ্ঠতসফলতা এলে অহংকার না করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে।

কষ্ট মানুষের জন্য শিক্ষাও হতে পারে

জীবনের প্রতিটি কষ্টকে শুধু শাস্তি হিসেবে দেখা ঠিক নয়। কোনো কোনো কষ্ট মানুষকে শিক্ষা দেয়, অহংকার ভাঙে, আল্লাহর দিকে ফিরিয়ে আনে, নিজের দুর্বলতা বুঝতে সাহায্য করে এবং জীবনের প্রকৃত মূল্য উপলব্ধি করায়।

কষ্টের সময় মানুষ বুঝতে পারেসম্পদ সবকিছু নয়, ক্ষমতা সবকিছু নয়, মানুষের প্রশংসাও সবকিছু নয়। শেষ পর্যন্ত প্রয়োজন আল্লাহর রহমত, তাঁর হেদায়াত এবং তাঁর সন্তুষ্টি।

তাই বিপদ এলে প্রশ্ন করা উচিতকেন আমার সঙ্গে এমন হলো?”—এর পাশাপাশি নিজেকে জিজ্ঞেস করা উচিতএই পরিস্থিতি থেকে আমি কী শিখতে পারি, এবং কীভাবে আল্লাহর আরও নিকটবর্তী হতে পারি?”

সূরাটির মূল জীবনদর্শন

সূরা আল-ইনশিরাহ যেন একজন বিপদগ্রস্ত মানুষকে বলে

তুমি একা নও।
তোমার কষ্ট আল্লাহ জানেন।
তোমার দায়িত্ব আল্লাহ জানেন।
তোমার অশ্রু আল্লাহ জানেন।
তোমার চেষ্টা আল্লাহ দেখেন।
তাই হতাশ হয়ো না।

কষ্ট তোমাকে থামিয়ে দেওয়ার জন্য নয়; বরং ধৈর্য, ঈমান সঠিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তোমাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগও হতে পারে। স্বস্তি এলে ভুলে যেও নাযিনি সংকটে তোমাকে সাহায্য করেছেন, তিনিই স্বস্তির সময়ও তোমার রব।

উপসংহার

সূরা আল-ইনশিরাহ একটি ছোট সূরা হলেও এর মধ্যে রয়েছে মানুষের জীবনের জন্য গভীর আশাবাদী শিক্ষা। এতে রয়েছে নবী -এর প্রতি আল্লাহর অনুগ্রহের স্মরণ, দায়িত্ব পালনে দৃঢ়তার শিক্ষা, কষ্টের সময় আশার বার্তা, পরিশ্রমের নির্দেশ এবং সর্বশেষে রবের প্রতি মনোনিবেশ করার আহ্বান।

জীবনে যত অন্ধকারই আসুক, মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর রহমতের আলো নিভে যায় না। তাই দুঃখে ধৈর্য, বিপদে দোয়া, কাজে চেষ্টা, সিদ্ধান্তে হিকমত, আচরণে উত্তম চরিত্র এবং অন্তরে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে।

মনে রাখতে হবে

কষ্টের সঙ্গে স্বস্তি রয়েছে,
অন্ধকারের পর আলো আসে,
সংকটের মধ্যেও আল্লাহর রহমতের দরজা খোলা থাকে।

তাই জীবন যত কঠিন হোক, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না। দায়িত্ব থেকে পালানো যাবে না। চেষ্টা ছেড়ে দেওয়া যাবে না। আর হৃদয়ের আকাঙ্ক্ষার চূড়ান্ত ঠিকানা হতে হবে একমাত্র মহান আল্লাহ।

হে আল্লাহ! আমাদের অন্তর প্রশস্ত করে দাও, দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য দাও, বিপদে সঠিক পথ দেখাও, আমাদের বৈধ প্রচেষ্টায় বরকত দাও, হতাশা থেকে রক্ষা করো এবং সব অবস্থায় তোমার ওপর ভরসা করার তাওফিক দাও। আমাদের দুনিয়া আখিরাতের কল্যাণ দান করো। আমিন।

 

মন্তব্য করুন