সহকারী অধ্যাপক
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:৩৮ পূর্বাহ্ণ
কষ্টের পাশে স্বস্তির বার্তা
কষ্টের পাশে স্বস্তির বার্তা
(সূরা আল-ইনশিরাহর আলোকে দুঃখ থেকে আশার পথে, সংকট থেকে স্বস্তির পথে এক কাব্যগাথা)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
বিসমিল্লাহর নামে শুরু, দয়াময় পরওয়ারদিগার,
তাঁরই রহমত ঘিরে রাখে এই ধরার সংসার।
দুঃখ যদি আসে জীবনে, ভেঙো না আর মন,
আল্লাহর রহমত আছে—জাগুক নতুন ক্ষণ।
জীবনপথে সুখের সাথে দুঃখ আসে ভাই,
কখনো হাসি, কখনো চোখে অশ্রুধারা পাই।
কখনো পথ কণ্টকভরা, কখনো ফুলের মেলা,
মুমিন জানে—রবের হুকুমেই জীবন চলে ভেলা।
যখন মনে দুঃখ নামে, চারদিক হয় ভার,
চোখের কোণে অশ্রু জমে, নিঃশব্দ হাহাকার;
তখন তুমি ভয় পেয়ো না, রবকে ডেকো প্রাণে,
যিনি সবই জানেন তোমার—গোপন ও প্রকাশে।
আল্লাহ বলেন, “বক্ষ কি প্রশস্ত করিনি তোমার?”
রহমতেরই ছায়া নামে, দূর হয় আঁধার।
ঈমান দিয়ে অন্তর ভরে, জাগে নতুন আলো,
রবের স্মরণে দুঃখের রাত হয়ে ওঠে ভালো।
যে হৃদয়ে তাওহীদ জাগে, সে হৃদয় কি হারায়?
ঝড়ের মাঝেও আল্লাহর বান্দা আশার আলো পায়।
পৃথিবীর সব দরজা যদি বন্ধ হয়ে যায়,
রবের দরজা খোলা থাকে—বান্দা ফিরে যায়।
জীবন যখন ভারী হয়ে পিঠে বোঝা চাপে,
দুশ্চিন্তার কালো মেঘে মনটি কাঁদে চুপে;
মনে রেখো, তোমার রবই বোঝা জানেন ভালো,
তাঁর সাহায্য এলে আবার জীবন হবে আলো।
যে বোঝাতে নুয়ে পড়ে যায় ক্লান্ত পথিক প্রাণ,
রহমতেরই ছায়ায় পায় সে শক্তি ও সম্মান।
তাই বিপদে ভেঙো না মন, হারিয়ো না আশা,
আল্লাহরই সাহায্য চেয়ে করো তাঁরই ভাষা।
দুঃখ যদি দীর্ঘ হয় আর রাত যদি যায় বাড়ি,
সবর নিয়ে থেকো তুমি, রবের কাছে ভারী।
মানুষ যতই দূরে সরে, রব তো দূরে নন,
তাঁর জ্ঞানেই ঘেরা থাকে তোমার জীবন-মন।
মানুষ চায় নাম-যশ, চায় সবার মুখে মান,
কেউ বা চায় সম্পদ দিয়ে গড়তে নিজের স্থান;
কিন্তু সত্য মর্যাদা যে আল্লাহরই দান,
তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনেই জীবনের সম্মান।
“আমি তোমার স্মরণকে করেছি সমুন্নত”—বাণী,
রাসুল ﷺ-এর মর্যাদা তাই জগৎজুড়ে জানি।
শাহাদাতে তাঁরই নামের সাথে রবের নাম,
দরুদ পড়ে মুমিন পায় হৃদয়ভরা শান্তিধাম।
তাই মানুষের বাহবা পেতে অন্যায় কোরো না,
লোকদেখানো কাজের পথে নিজেকে হারিও না।
রবের কাছে গ্রহণযোগ্য হও—এই হোক পরিচয়,
আল্লাহ যাকে মর্যাদা দেন, তারই সত্য জয়।
শোনো মুমিন, কুরআনের সেই আশার বাণী—
কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে—ভুলে যেও না জানি।
একই বাণী দুবার এসে জাগায় আশার গান,
দুঃখের শেষে রহমতেরই খুলবে নতুন দ্বার।
কষ্ট মানেই শেষ নয়, থেমে যাওয়া নয়,
বিপদ মানেই জীবনের সব আলো নিভে নয়।
আজকে যদি আঁধার নামে, কালকে আলো আসবে,
সবর আর সৎ প্রচেষ্টায় পথটি খুলে যাবে।
স্বস্তি মানে শুধু নয় দুনিয়ার সুখ-সামগ্রী,
আল্লাহর সন্তুষ্টিই তো মুমিনের মূল ধনভাণ্ডারী।
কখনো দুঃখ দূর হয়, কখনো মেলে ধৈর্য,
কখনো আখিরাতে মেলে উত্তম প্রতিদান অশেষ।
তাই বিপদে বলো তুমি—“রব, তুমি আছো পাশে,
তোমার রহমতের আশায় থাকি ভালোবাসায়।”
চোখে যদি অশ্রু থাকে, অন্তরে রাখো আশা,
আল্লাহর রহমত থেকে যেন না যায় ভালোবাসা।
হতাশার কালো ছায়া যখন ঘিরে ধরে মন,
বলবে তুমি—“আমার রবই আছেন সর্বক্ষণ।”
আল্লাহর রহমত সীমাহীন, দয়া তাঁর অফুরান,
তাঁরই দিকে ফিরে এসে শান্ত করো প্রাণ।
ব্যর্থ হলে থেমো না তুমি, আবার করো শুরু,
একটি ভুলে জীবনজুড়ে হয় না মানুষ দূর।
আজ যে পথে হোঁচট খেলো, কাল সে পথেই জয়,
চেষ্টা যদি সত্য হয় আর রবের সাহায্য রয়।
কাঁদতে পারো, দুঃখ পেতে পারো, মানুষ তুমি ভাই,
কিন্তু রবের রহমতের প্রতি সন্দেহ রেখো নাই।
অশ্রু থাকুক চোখের কোণে, আশা থাকুক প্রাণে,
সিজদাতে যে শান্তি মেলে—খুঁজে নাও সে টানে।
একটি কাজ শেষ হলে আরেক কাজে যাও,
সময়কে আর অলসতার অন্ধকারে নাও।
অবসর পেলে পরিশ্রমে নিজেকে রাখো ব্যস্ত,
সৎ কাজে যে সময় কাটায়, তার জীবন হয় ধন্য।
শিক্ষার্থী জ্ঞান অর্জনে রাখুক দৃঢ় মন,
শিক্ষক যেন জ্ঞান-নৈতিকতায় গড়েন মানবজন।
কর্মজীবী সততা দিয়ে পালন করুক কাজ,
পিতা-মাতা সন্তানেরে দিন আদর্শ সাজ।
সমাজে যে যার সাধ্য অনুযায়ী দাও কল্যাণ,
অন্যের দুঃখ লাঘব করা মহৎ মানবদান।
সময় হলো আমানত, নষ্ট কোরো না ভাই,
যে সময়কে মূল্য দেয়, সফলতার পথে যায়।
তাওয়াক্কুল মানে নয় যে বসে থাকা চুপ,
চেষ্টা ছাড়া সফলতার স্বপ্ন থাকে শুধু রূপ।
বৈধ পথে চেষ্টা করো, দোয়া করো প্রাণে,
ফলাফলটা ছেড়ে দাও আল্লাহরই জ্ঞানে।
কৃষক বীজ বুনে আগে, জমি করে চাষ,
সেচ দিয়ে সে অপেক্ষা করে—রব দেবেন ফসলের সুবাস।
শিক্ষার্থী পড়ে, চেষ্টা করে, রাত জাগে প্রয়োজনে,
দোয়া করে ফলটি চায় মহান আল্লাহর সনে।
অসুস্থ হলে চিকিৎসা নাও, আরোগ্য চাও রবের কাছে,
উপায় অবলম্বন করো, বিশ্বাস রেখো তাঁরই মাঝে।
চেষ্টা তোমার দায়িত্ব, ফল তাঁরই হাতে,
এই বিশ্বাসে এগিয়ে চলো জীবনপথের সাথে।
ঘরের মানুষ কষ্ট পেলে কোমল কথা বলো,
রাগের আগুন বাড়িয়ে দিয়ে সম্পর্ক কেন জ্বালো?
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের সহায় হয়ে থাকো,
ভুল হলে ক্ষমা চেয়ে ভালোবাসা রাখো।
সন্তান যখন ভুল করে, অপমান কোরো না,
ভালোবাসার শিক্ষায় তাকে সঠিক পথে আনো না।
বৃদ্ধ পিতা-মাতার মুখে ফুটাও হাসির ফুল,
তাঁদের প্রতি সদাচরণে পূর্ণ হোক জীবনের মূল।
প্রতিবেশী যদি বিপদে পড়ে, পাশে গিয়ে দাঁড়াও,
তার অশ্রুর এক ফোঁটাকে ভালোবাসায় মুছাও।
আজ যে মানুষ কষ্টে আছে, কাল সে পেতে পারে স্বস্তি,
তোমার হাতেই হতে পারে তার জীবনের বৃষ্টির বৃষ্টি।
পরীক্ষাতে ফল কম হলে ভেঙো না হৃদয়,
একটি ফলেই জীবনের সব মূল্য হয় না ক্ষয়।
কঠিন বিষয় সহজ হবে অধ্যবসায় করে,
জ্ঞান অর্জন করো তুমি নিষ্ঠা ধরে ধরে।
শিক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা রেখো, সময়কে দাও মান,
সততা আর শিষ্টাচারে গড়ো নিজের প্রাণ।
শুধু নম্বর নয়—চরিত্র হোক তোমার বড়,
জ্ঞান-আমল-মানবতায় জীবন হোক সুন্দর।
কুরআনের শিক্ষা নাও, সুন্নাহর পথে চলো,
সত্য কথা বলো সদা, মিথ্যা থেকে সরে চলো।
অহংকারকে দূরে রেখে বিনয় হৃদয়ে ধরো,
নিজে ভালো হয়ে অন্যকেও ভালো পথে চলো।
কাজের মাঝে চাপ আসবে, সমালোচনা হবে,
সব পরিশ্রমের ফল যে সঙ্গে সঙ্গে না-ও রবে।
তবু তুমি দায়িত্বটাকে আমানত মনে নাও,
সততারই সুন্দর পথে নিজের জীবন সাজাও।
মানুষ যদি প্রশংসা না করে, তবু কাজ করে যাও,
আল্লাহ দেখেন—এই বিশ্বাস হৃদয়জুড়ে রাখো।
হালাল পথে উপার্জন করো, হারাম থেকে দূর,
সৎ কর্মের পথেই মানুষ হয় সত্যিকারের নূর।
প্রথম কথা—রবের ওপর রাখো দৃঢ় বিশ্বাস,
দ্বিতীয় কথা—দোয়া করে চাও তাঁরই আশ্বাস।
তৃতীয় কথা—বৈধ পথে করো যতটুকু চেষ্টা,
চতুর্থ কথা—সবর ধরে পেরিয়ে যাও সব কষ্ট।
পঞ্চম কথা—সময়কে দাও কল্যাণের কাজে,
ষষ্ঠ কথা—সফল হলে শুকরিয়া দাও সাজে।
এই ছয়টি পথের আলো হৃদয়ে যদি জ্বলে,
দুঃখের রাত পেরিয়ে মানুষ আশার পথে চলে।
কিছু কষ্ট মানুষকে দেয় জীবনেরই জ্ঞান,
কিছু দুঃখ ভেঙে দেয় তার অহংকারের মান।
কিছু বিপদ ফিরিয়ে আনে রবের দরবারে,
কিছু অশ্রু শান্তি আনে সিজদারই দ্বারে।
যে মানুষ সুখে ভুলে যায় নিজের রবের কথা,
দুঃখ এসে শেখায় তাকে জীবনেরই ব্যথা।
সম্পদ দিয়ে সব হয় না, ক্ষমতাও নয় সব,
শেষ আশ্রয় মহান আল্লাহ—তিনি পরম রব।
তাই বিপদ এলে শুধু “কেন?” বলো না আর,
ভাবো—“কী শিক্ষা পেলাম? কী আমার দরকার?”
কীভাবে আজ রবের পথে আরও ফিরব আমি,
কীভাবে জীবন সাজাব—এই হোক অন্তরের বাণী।
তুমি একা নও—তোমার রব সবকিছুই জানেন,
তোমার চোখের অশ্রু দেখেন, মনের কথাও জানেন।
তোমার দুঃখ, তোমার চেষ্টা, তোমার নীরব ব্যথা,
কিছুই তাঁর অজানা নয়—তিনি জানেন সব কথা।
মানুষ হয়তো বুঝবে না তোমার অন্তর-ক্ষত,
রবের কাছে প্রকাশ্য তোমার প্রতিটি ক্ষণ।
তাই মানুষের দরজাতে অতিরিক্ত আশা নয়,
রবের দরজায় সিজদা করো—সেখানেই শান্তিময়।
পথ যদি আজ বন্ধ হয়, নতুন পথ খুঁজে নাও,
ঝড় যদি আজ তীব্র হয়, ধৈর্য ধরে যাও।
পা যদি ক্লান্ত হয়ে যায়, একটু থেমে চলো,
রবের ওপর ভরসা রেখে সামনে এগিয়ে চলো।
পড়ে গেলে উঠে দাঁড়াও, হেরে গেলে শেখো,
অন্ধকারে রবের নামের প্রদীপটি দেখো।
কষ্ট তোমার শত্রু নয়—শিক্ষাও হতে পারে,
সবর যদি সঙ্গী হয়, জয় আসবেই দ্বারে।
দুনিয়ার যত আকাঙ্ক্ষা, যত চাওয়া-পাওয়া,
সবকিছুরই সীমা আছে, সবই ক্ষণস্থায়ী ছায়া।
ধন-সম্পদ, মান-সম্মান, সৌন্দর্য, সুখ-ভোগ,
সবই একদিন ফুরিয়ে যাবে—থাকবে শুধু রব।
তাই হৃদয়ের চূড়ান্ত চাওয়া রাখো রবের তরে,
দোয়ার হাত উঠুক সদা তাঁরই দরবারে।
সুখে তাঁকে স্মরণ করো, দুঃখেও তাঁকে ডাকো,
প্রতিটি শ্বাসে রবের দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া রাখো।
কষ্টের সাথে স্বস্তি আছে—এ বিশ্বাস রাখো,
অন্ধকারের পরেই আলো—হৃদয়ে তা আঁকো।
সংকট যত গভীর হোক, রহমত তারও বড়,
আল্লাহরই দয়া পেলে কঠিন পথও সরল।
দুঃখে ধৈর্য, কাজে চেষ্টা, অন্তরে ঈমান,
সুন্দর চরিত্র, সৎ আমল—হোক জীবনের গান।
মানুষের হক আদায় করে, অন্যায় থেকে সরে,
রবের সন্তুষ্টি খুঁজে নাও জীবনের প্রতিটি ঘরে।
হতাশা নয়, আশা নিয়ে এগিয়ে চলো ভাই,
আল্লাহর রহমত ছাড়া আর কোনো আশ্রয় নাই।
কষ্ট যদি আসে জীবনে, কেঁদো—তবু হারিয়ো না আশা,
রবের রহমত ঘিরে রাখুক তোমার ভালোবাসা।
হে আল্লাহ, দাও আমাদের প্রশস্ত অন্তর-প্রাণ,
দুঃখে দাও ধৈর্য, বিপদে দাও ঈমান।
হতাশার অন্ধকারে দাও হেদায়াতের আলো,
তোমার স্মরণে আমাদের জীবন করো ভালো।
বৈধ পথে চেষ্টা করার তাওফিক দাও হে রব,
হারাম থেকে বাঁচিয়ে রেখো, ক্ষমা করো সব।
সুখে যেন শুকরিয়া করি, দুঃখে যেন সবর,
প্রতিটি অবস্থায় যেন থাকি তোমারই দরবারে।
পরিবারে দাও শান্তি, সমাজে দাও মায়া,
সত্য-ন্যায়ের পথে চলার দাও শক্তি ও ছায়া।
জ্ঞান দাও, আমল দাও, চরিত্র করো সুন্দর,
দুনিয়া ও আখিরাতে দাও কল্যাণের সাগর।
কষ্টের সাথে স্বস্তির যে প্রতিশ্রুতির বাণী,
হৃদয়ে আমাদের জাগিয়ে রেখো তারই নিশানি।
জীবনের শেষ নিঃশ্বাসে ঈমান রেখো অটুট,
তোমার সন্তুষ্টি হোক আমাদের জীবনের মূল লক্ষ্য।
**হে আল্লাহ, আমাদের অন্তর প্রশস্ত করে দাও,
দুঃখ-কষ্টে ধৈর্য দাও, বিপদে সঠিক পথ দেখাও;
বৈধ প্রচেষ্টায় বরকত দাও, হতাশা থেকে রক্ষা করো,
সব অবস্থায় তোমার ওপর ভরসা করার তাওফিক দাও।
দুনিয়া ও আখিরাতের কল্যাণ দাও—
আমিন, ইয়া রব্বাল আলামিন।
১
১ মন্তব্য