সহকারী শিক্ষক
১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:৩৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
আমাদের মাদ্রাসার দশম শ্রেণির ছাত্র আশরাফুল সারাক্ষণ সোশ্যাল মিডিয়া ও অনলাইনে থাকতে খুব ভালোবাসত। একদিন সে তার ফেসবুক আইডিতে একটি লোভনীয় বিজ্ঞাপন দেখতে পেল। মাত্র কয়েক ক্লিকেই একটি জনপ্রিয় স্মার্টফোন উপহার পাওয়া যাবে! কৌতূহলী হয়ে আশরাফুল সেখানে ক্লিক করতেই একটি ভুয়া লগইন পেজ চলে এল, যেখানে তার ইমেল ও পাসওয়ার্ড চাওয়া হলো। পুরস্কারের মোহে সে কোনো কিছু না ভেবেই নিজের তথ্যগুলো সেখানে বসিয়ে দিল।
এর ঠিক দু’দিন পর আশরাফুল মাদ্রাসায় এসে চরম বিপদে পড়ল। সে দেখল, তার অ্যাকাউন্ট থেকে তার বন্ধুদের কাছে অদ্ভুত ও অপ্রাসঙ্গিক বার্তা যাচ্ছে এবং কেউ যেন তার আইডির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সে ঘাবড়ে গেলে তার মাদ্রাসার আইসিটি শিক্ষক মাসুদ স্যার তাকে সান্ত্বনা দিলেন এবং বললেন, এটি একধরণের ফিশিং (Phishing) বা প্রতারণার ফাঁদ।
স্যার আশরাফুল একা একা এই সমস্যার সমাধান না করে পুরো ক্লাসের সামনে বিষয়টি নিয়ে একটি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিলেন। স্যার একটি বিশেষ ওয়ার্কশপ আয়োজন করলেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা মিলে সাইবার সচেতনতার ওপর কয়েকটি ছোট দল তৈরি করল।
আশরাফুল নিজেই সবার সামনে তার ভুলের কথা স্বীকার করে বলল, "পাসওয়ার্ড কাউকে দেওয়া কত বড় বোকামি, তা আমি হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছি। আমরা কেউ যেন অনলাইন সুরক্ষায় অসচেতন না হই।"
শিক্ষার্থীদের এই দলগত কার্যক্রমের মাধ্যমে মাদ্রাসার সবাই বুঝতে পারল যে, সাইবার দুনিয়ায় একটুখানি সচেতনতা ও সতর্কতা না থাকলে কত বড় বিপদে পড়তে হয়। সেদিন থেকেই মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মিলে একটি ‘সাইবার সচেতনতা ক্লাব’ গড়ে তুলল, যেন আর কেউ এমন ডিজিটাল প্রতারণার শিকার না হয়।
১৪
২৪ মন্তব্য