সহকারী অধ্যাপক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:১৫ পূর্বাহ্ণ
সৃষ্টিজগতের আনুগত্যে শিক্ষা - মোঃ মুজিবুর রহমান
|
|
সৃষ্টিজগতের আনুগত্যে শিক্ষা
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।
সকল প্রশংসা আল্লাহর, সৃষ্টির যিনি রব,
তাঁর হুকুমে জেগে ওঠে বিশ্বভুবন সব।
তাঁর ইশারায় সূর্য হাসে, চাঁদে জাগে আলো,
তাঁর বিধানে রাত পেরিয়ে সকাল করে ভালো।
আকাশজুড়ে নক্ষত্ররাজি, নিয়মে চলে পথ,
পৃথিবী ঘোরে আপন কক্ষে, নেই তো কোনো ক্ষত।
সাগর, নদী, পাহাড়, বন, ফুলের মধুর হাসি—
সবই যেন স্রষ্টার কুদরত, তাঁরই ভালোবাসি।
নীল আকাশের বিশাল ছায়া, মেঘের ভেলা ভাসে,
সূর্য উঠে পূর্ব দিগন্তে, সোনার আলো হাসে।
চাঁদটি রাতে মৃদু হেসে ছড়ায় রুপালি আলো,
তারার মেলা জানিয়ে দেয়—স্রষ্টা কত ভালো।
দিনের শেষে রাত যে নামে, আবার ভোরের গান,
এই নিয়মে বিশ্ব চলে, মহান রবের দান।
ঋতু বদলায়, ফুল ফোটে, ফলে ভরে ডাল,
তাঁর বিধানে জীবন পায় নতুন রঙের কাল।
কোথাও নেই বিশৃঙ্খলা, নেই তো নিয়মহীন,
সবকিছুরই নির্ধারিত পথ, নির্ধারিত দিন।
সৃষ্টি যেন নীরব ভাষায় আমাদেরই কয়—
“স্রষ্টার বিধান মেনে চলো, তাতেই কল্যাণময়।”
সূর্য ওঠে নির্ধারিত নিয়ম মেনে প্রতিদিন,
আলো দিয়ে জাগিয়ে তোলে ঘুমিয়ে থাকা দিন।
নিজের পথে চলে সে যেন রবের দেওয়া বিধান,
কখনো বলে না—“আমি নিজেই নিজের অধিপান।”
তার তাপেতে শস্য ফলে, প্রাণে জাগে প্রাণ,
আলো দিয়ে বিশ্ব ভরে—এও রবের দান।
সূর্যের এই নিয়ম দেখে মানুষ, ভাবো মন—
কেন তবে অবাধ্য হবে রবেরই বিধান?
চাঁদও চলে নির্ধারিত পর্যায়েরই পথে,
আলো ছড়ায় রাতের বুকে নীরবতার সাথে।
কখনো পূর্ণ, কখনো ক্ষীণ—রবেরই নির্ধারিত,
তার চলনে সময় গণে মানুষ হয় উপকৃত।
চাঁদ যেন বলে—“নিজের ইচ্ছায় নয়,
রবের বিধান মেনে চলাতেই কল্যাণময়।”
মানুষ যদি বুদ্ধি পেয়ে ভুলে যায় সে রব,
তবে তারই অন্তরজুড়ে জন্ম নেয় অন্ধকারের রব।
আকাশজুড়ে তারার মেলা, কত অগণন তারা,
কে দিয়েছে তাদের সবার এমন পথের ধারা?
নিয়ম মেনে জ্বলছে তারা, নিজ নিজ অবস্থানে,
স্রষ্টার কুদরত ফুটে ওঠে মহাকাশের গানে।
মানুষ ভাবে—“আমি বড়, জ্ঞান আমারই বেশি,”
আকাশ দেখে বুঝতে শেখো, অহংকারটা খুঁজি?
বিশাল এই বিশ্বজুড়ে মানুষ কত ক্ষুদ্র,
রবের সামনে মাথা নত করাই জ্ঞানীর মুদ্রা।
পাহাড় দাঁড়িয়ে দৃঢ় হয়ে রবের হুকুম মেনে,
বৃক্ষ দোলে বাতাস পেয়ে সবুজ পাতার টানে।
পাখি উড়ে নীল আকাশে, প্রাণী চলে পথে,
সবাই যেন রবের দেওয়া নিয়ম মেনে রথে।
ফুল ফোটে তার নির্ধারিত সৌরভ নিয়ে হাসে,
ফল পাকে ঠিক সময়মতো, ঋতুর আপন বাসে।
মৌমাছি যায় ফুলের কাছে মধুর সন্ধানে,
সৃষ্টির মাঝে রবের হিকমত জাগে প্রাণে প্রাণে।
ক্ষুদ্র পিঁপড়া পথ চলে তার আপন নিয়ম ধরে,
পাখি ছানা লালন করে মায়ার ডানা মেলে।
জীবনজুড়ে কত শিক্ষা ছড়িয়ে আছে চারি—
স্রষ্টার হুকুম মানার মাঝে কল্যাণ আছে ভারী।
হে মানুষ, তুমি জ্ঞান পেয়েছ, পেয়েছ বিবেকবোধ,
পেয়েছ সত্য-মিথ্যা চেনার আলোকিত প্রভোধ।
তোমার হাতে দায়িত্ব আছে, আছে বেছে নেওয়ার পথ,
তাই তো তোমার আনুগত্যে রয়েছে বিশেষ অর্থ।
সূর্য-চন্দ্র সৃষ্টিগত নিয়ম মেনে চলে ঠিক,
মানুষ কেন প্রবৃত্তির কাছে হবে তবে নতশির?
রবের দেওয়া জীবন পেয়ে রবকে যদি ভুলো,
তবে নিজের আসল পথটি তুমি কীভাবে খুঁজে পাবে বলো?
আল্লাহ বলেন—তাঁর দিকে সবকিছুরই ফেরত,
তাঁরই হাতে সৃষ্টি-জগতের শুরু এবং শেষের হুকুম।
তাই মুমিনের জীবন হবে রবের প্রতি নত,
ঈমান, তাকওয়া, সৎকর্মে জীবন হবে পবিত্র।
সালাত হবে জীবনের আলো, সত্য হবে ভাষা,
আমানত হবে হৃদয়ের ধন, মুছে যাবে হতাশা।
হারাম ছেড়ে হালাল পথে চলবে দৃঢ় পায়ে,
মানুষ তখন শান্তি খুঁজে রবের বিধান ছায়ায়।
যে মহাকাশ নিয়ম মেনে চলে অবিরত,
মানুষের জীবনও হোক তেমনি সুশৃঙ্খল ও সুন্দর।
সময় গেলে ফিরে আসে না—সময় অমূল্য ধন,
সময়েরই সদ্ব্যবহার গড়বে সুন্দর জীবন।
সালাতের সময়, কাজের সময়, দায়িত্বেরও কাল,
নিয়ম মেনে চললে জীবন হয় সুন্দর ও বিশাল।
অলসতা আর বিশৃঙ্খলা জীবন করে ক্ষয়,
শৃঙ্খলার পথে চললে মানুষ সম্মানময় হয়।
আকাশ যত বিশাল দেখি, তত বুঝি ক্ষুদ্র,
পৃথিবীর বুকে মানুষ শুধু ক্ষণিকেরই যাত্রী।
ধন-সম্পদ, পদ-মর্যাদা সবই ক্ষণস্থায়ী,
আজ যে রাজা, কাল সে হবে মাটিরই যাত্রী।
তাই কেন অহংকার করি, কেন করি গর্ব?
যে প্রাণ দিলেন, জীবন দিলেন—তাঁরই তো সব।
জ্ঞান যদি অহংকার আনে, সে জ্ঞান নয় আলো,
জ্ঞান তো সেই, যা মানুষকে করে সত্যিই ভালো।
বাতাস দিলেন, পানি দিলেন, দিলেন খাদ্য-শস্য,
সূর্যের আলো, চাঁদের জ্যোতি—সবই তাঁরই দান।
চোখের আলো, প্রাণের স্পন্দন, হৃদয়ের যে ধ্বনি,
প্রতিটি নিয়ামত স্মরণ করে বলি—“আলহামদুলিল্লাহ” ধ্বনি।
শুকরিয়া শুধু মুখের কথা নয় যে কেবল,
নিয়ামতের সঠিক ব্যবহারেই শুকরিয়ার ফল।
অপচয় ছেড়ে সংযমী হও, নষ্ট কোরো না দান,
রবের দেওয়া আমানতের প্রতি রাখো সম্মান।
আল্লাহর হুকুম মানা মানে শুধু কথা নয়,
মানুষেরও হক আদায় করা ঈমানেরই পরিচয়।
প্রতারণা নয়, সত্যের পথে চলবে দৃঢ় হয়ে,
অন্যায়ের কাছে মাথা নত করবে না ভয় পেয়ে।
অসহায়ের পাশে দাঁড়াও, মজলুমের দুঃখ বোঝো,
অন্যের চোখের অশ্রু মুছে ভালোবাসা খোঁজো।
এতিম, দরিদ্র, প্রতিবেশী—সবার হক দাও,
মানবতার সুন্দর পথে নিজের জীবন সাজাও।
মা-বাবাকে সম্মান দাও, তাদের কষ্ট বোঝো,
সন্তানের প্রতি স্নেহ দিয়ে দায়িত্বটুকু করো।
স্বামী-স্ত্রী পরস্পরের অধিকার রাখো মনে,
ভালোবাসা, ক্ষমা, মমতা রাখো ঘরের কোণে।
আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করো ভালোবেসে,
বিরোধ এলে ক্ষমা করো সত্যের পথের শেষে।
পরিবারে যদি তাকওয়া আর সততা জাগে,
শান্তির ফুল ফুটবে তখন প্রতিটি ঘরের বাগে।
একজন মুমিন একা নয়—সমাজেরও অংশ,
তার চরিত্রে ফুটে ওঠে ঈমানেরই রং।
সত্য বলো, ন্যায় করো, আমানত রেখো ঠিক,
অন্যের সম্পদ, অন্যের মান—রক্ষা করো নৈতিক।
ঘুষ, প্রতারণা, জুলুম ছেড়ে ন্যায়ের পথে চলো,
বিদ্বেষ ভুলে ভালোবাসার প্রদীপ মনে জ্বালো।
যেখানে অন্যায় দেখবে, সেখানে ন্যায় চাও,
শান্তি, কল্যাণ, সৌহার্দ্যের সমাজ গড়ে দাও।
এই পৃথিবী আল্লাহর দেওয়া আমানতেরই স্থান,
গাছ লাগিয়ে সবুজ করো, রক্ষা করো প্রাণ।
নদী, খাল আর জলাধারকে দূষণ থেকে বাঁচাও,
অকারণে প্রাণীকুলের জীবন নষ্ট কোরো না, চাও।
বৃক্ষ দেয় ছায়া, ফল ও অক্সিজেনের দান,
প্রকৃতিকে রক্ষা করা দায়িত্বেরই জ্ঞান।
সৃষ্টিকে ভালোবাসা মানে স্রষ্টাকে ভোলা নয়,
বরং তাঁর দেওয়া আমানত রক্ষা করাই কর্তব্য হয়।
আকাশ দেখে প্রশ্ন জাগে—কে সাজাল এই ধরণি?
কে দিল আলো, কে দিল প্রাণ, কে দিল জীবনী?
সাগরের ঢেউ, পাহাড়শ্রেণি, নদীর স্রোতধারা—
সবই যেন বলে চলে—“স্রষ্টা আছেন সারা।”
তাই জ্ঞান অর্জন করো, সত্যকে চিনে নাও,
সৃষ্টির মাঝে স্রষ্টার কুদরত উপলব্ধি পাও।
জ্ঞান যেন তোমাকে করে বিনয়ী ও সৎ,
যে রব এই বিশ্ব গড়েছেন নিখুঁত নিয়মে,
একদিন তাঁর কাছেই ফিরতে হবে আমাদের সবাইকে।
দুনিয়ার জীবন ক্ষণিকের, আখিরাত চিরস্থায়ী,
কাজের হিসাব দিতে হবে—কেউ হবে না দায়মুক্তি পাই।
তাই আজই নিজেকে গড়ো, সময় থাকতে ভাই,
গুনাহ ছেড়ে তওবার পথে ফিরে এসো তাই।
নেক আমলের পাথেয় নিয়ে চলো সঠিক পথে,
আল্লাহর রহমত কামনা করো বিনীত অন্তরেতে।
সৌরজগত ঘুরছে আজও রবের দেওয়া পথে,
আকাশ-জমিন স্থির রয়েছে তাঁরই হুকুম সাথে।
সূর্য-চন্দ্র, তারকা, পাহাড়, বৃক্ষ, প্রাণীকুল,
সবই যেন শেখায় মানুষ—রবের হুকুমই মূল।
তুমি কেন তবে অবাধ্য হবে, হে জ্ঞানী মানব?
কেন নিজের প্রবৃত্তিকে করবে জীবনের রব?
জীবন যখন তাঁরই দান, প্রাণ যখন তাঁর,
তাঁর বিধানে জীবন গড়াই সৌভাগ্য মানুষের।
অহংকার নয়—বিনয় নাও,
অন্যায় ছেড়ে ন্যায়ই চাও,
মিথ্যা ছেড়ে সত্যই বলো,
অন্ধকারে আলো জ্বালো।
নফসকে দাও সত্যের বাঁধন,
হৃদয় ভরাও ঈমান-সাধন,
হকের পথে অটল থাকো,
রবের হুকুম মেনে চলো।
হে মহান রব, সৃষ্টিজগতের তুমি একক স্রষ্টা,
তোমার কুদরত অপরিসীম, তুমি পরম দাতা।
তোমার সৃষ্টি দেখে যেন তোমাকেই স্মরণ করি,
তোমার দেওয়া বিধান মেনে সুন্দর জীবন গড়ি।
অহংকার থেকে বাঁচাও মোদের, সত্যের পথে রাখো,
জুলুম, অন্যায়, মিথ্যা থেকে পবিত্র করে রাখো।
মানুষের হক আদায় করে জীবন করি ধন্য,
ঈমান, তাকওয়া, নেক আমলে করো জীবন পূর্ণ।
আকাশ-জমিনের আনুগত্য থেকে শিক্ষা নিতে দাও,
তোমার হুকুম মেনে চলার শক্তি অন্তরে দাও।
দুনিয়াতে কল্যাণ দাও, আখিরাতে নাজাত,
তোমার রহমতের ছায়ায় দিও চিরশান্তির স্থান।
হে আল্লাহ, তোমার সন্তুষ্টিই হোক জীবনের লক্ষ্য,
তোমার আনুগত্যেই ফুটুক জীবনের সত্য সৌন্দর্য।
তোমার পথে চলার তাওফিক দাও প্রতিক্ষণ—
ঈমানের আলোয় ভরে দাও আমাদের জীবন।
আমিন।
১
২ মন্তব্য