সহকারী অধ্যাপক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:২০ পূর্বাহ্ণ
সহযোগিতা,আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বের আলোয় সুন্দর পৃথিবী
|
|
সহযোগিতা,আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বের আলোয় সুন্দর পৃথিবী
(পারস্পরিক বিরোধিতা, হিংসা-বিদ্বেষ ও কপটতার পরিবর্তে সহযোগিতা, আন্তরিকতা, সরলতা ও বন্ধুত্বই হোক ব্যক্তি, সমাজ, দেশ ও বিশ্বের অগ্রগতির ভিত্তি)
মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর
মানুষ সামাজিক জীব। একা একা মানুষ তার জীবনের সব প্রয়োজন পূরণ করতে পারে না। পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা, ভালোবাসা ও বিশ্বাসের মধ্য দিয়েই মানুষের ব্যক্তিগত জীবন সুন্দর হয়, পরিবারে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়, সমাজে সম্প্রীতি গড়ে ওঠে এবং দেশ উন্নতির পথে এগিয়ে যায়। মানুষের জ্ঞান, মেধা, শ্রম ও সামর্থ্য যখন কল্যাণকর উদ্দেশ্যে একত্রিত হয়, তখন অসম্ভবকেও সম্ভব করা যায়।
কিন্তু এর বিপরীতে পারস্পরিক বিরোধিতা, হিংসা-বিদ্বেষ, অসহযোগিতা, শত্রুতা, কপটতা ও অকারণ প্রতিকূলতা মানুষের শক্তিকে বিভক্ত করে দেয়। যেখানে সহযোগিতার প্রয়োজন, সেখানে যদি প্রতিযোগিতার নামে পরস্পরকে নিচে নামানোর চেষ্টা চলে; যেখানে বন্ধুত্বের প্রয়োজন, সেখানে যদি সন্দেহ ও বিদ্বেষ জন্ম নেয়; যেখানে সত্য ও সরলতার প্রয়োজন, সেখানে যদি কপটতা জায়গা করে নেয়—তাহলে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের স্বাভাবিক অগ্রগতি বাধাগ্রস্ত হয়।
ইসলাম মানুষের মধ্যে বিভেদ ও বিদ্বেষ নয়; বরং ঈমান, তাকওয়া, ভ্রাতৃত্ব, ন্যায়, দয়া, সহযোগিতা ও উত্তম চরিত্র প্রতিষ্ঠার শিক্ষা দেয়। মহান আল্লাহ বলেন—
“তোমরা সৎকর্ম ও তাকওয়ার কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো; পাপ ও সীমালঙ্ঘনের কাজে একে অন্যকে সহযোগিতা করো না।”
— সূরা আল-মায়িদাহ, ৫:২
এই আয়াত মানবজীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ নৈতিক নীতি শিক্ষা দেয়—সহযোগিতা হবে কল্যাণে, সত্যে ও ন্যায়ের পথে; অন্যায়, জুলুম ও পাপের কাজে নয়।
বিরোধ নয়, সহযোগিতাই অগ্রগতির শক্তি
মানুষের মত, চিন্তা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। মতের পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু মতের পার্থক্য যেন পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ, অপমান বা শত্রুতায় পরিণত না হয়—এটাই সভ্যতার শিক্ষা।
একজনের জ্ঞান যেখানে সীমিত, অন্যজনের জ্ঞান সেখানে পরিপূরক হতে পারে। একজনের সামর্থ্য যেখানে শেষ, অন্যজনের সহযোগিতা সেখান থেকে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে। তাই পারস্পরিক সহযোগিতা মানুষের দুর্বলতাকে শক্তিতে এবং বিচ্ছিন্ন সামর্থ্যকে সম্মিলিত শক্তিতে পরিণত করে।
একটি পরিবারে স্বামী-স্ত্রী, সন্তান ও অভিভাবক যদি পরস্পরের প্রতি সহযোগী হন, তাহলে সীমিত সামর্থ্যের মধ্যেও শান্তিপূর্ণ জীবন গড়ে ওঠে। একটি প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারী যদি নিজ নিজ দায়িত্ব আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করেন, তাহলে প্রতিষ্ঠানের অগ্রগতি ত্বরান্বিত হয়। একটি সমাজে মানুষ যদি বিপদে একে অন্যের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে দুর্বল মানুষও সাহস পায়।
হিংসা-বিদ্বেষ অগ্রগতির অন্তরায়
অন্যের ভালো দেখে আনন্দিত হওয়ার পরিবর্তে যদি কেউ হিংসা করে, তাহলে ক্ষতি শুধু অন্যের নয়—হিংসুকের নিজেরও হয়। হিংসা মানুষের অন্তরের প্রশান্তি নষ্ট করে, সম্পর্ক দুর্বল করে এবং পারস্পরিক আস্থা বিনষ্ট করে।
ইসলাম হিংসা ও বিদ্বেষ থেকে অন্তরকে পরিশুদ্ধ করার শিক্ষা দেয়। রাসুলুল্লাহ ﷺ পারস্পরিক হিংসা, বিদ্বেষ ও সম্পর্কচ্ছেদ থেকে সতর্ক করেছেন। একজন মুমিনের পরিচয় শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; তার চরিত্র, আচরণ ও মানুষের সঙ্গে সম্পর্কও তার ঈমানের সৌন্দর্যের অংশ।
তাই অন্যের সাফল্যে ঈর্ষান্বিত না হয়ে তার জন্য কল্যাণ কামনা করা, প্রয়োজন হলে সহযোগিতা করা এবং নিজের উন্নতির জন্য বৈধ ও পরিশ্রমী পথে এগিয়ে যাওয়া উচিত। অন্যকে নিচে নামিয়ে কেউ প্রকৃত অর্থে উপরে উঠতে পারে না।
আন্তরিকতা ও সরলতা—বিশ্বাসের ভিত্তি
মানুষের সম্পর্কের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হলো বিশ্বাস। আর বিশ্বাসের ভিত্তি হলো সত্যবাদিতা, আমানতদারি, আন্তরিকতা ও সরলতা।
কথায় এক, কাজে আরেক—এমন দ্বৈত আচরণ সম্পর্ককে দুর্বল করে। বাহ্যিক বন্ধুত্বের আড়ালে যদি স্বার্থ, প্রতারণা বা কপটতা লুকিয়ে থাকে, তাহলে সেই সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হয় না। বিপরীতে সত্যনিষ্ঠ ও আন্তরিক মানুষ অল্প কথা বলেও মানুষের হৃদয়ে গভীর আস্থা সৃষ্টি করতে পারেন।
আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন—
“হে মুমিনগণ! আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।”
— সূরা আত-তাওবাহ, ৯:১১৯
সত্যবাদিতা তাই শুধু ব্যক্তিগত গুণ নয়; এটি সুস্থ পরিবার, সুশৃঙ্খল প্রতিষ্ঠান, বিশ্বস্ত বন্ধুত্ব এবং সুন্দর সমাজের অন্যতম ভিত্তি।
বন্ধুত্ব হোক কল্যাণের পথে
বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। একজন ভালো বন্ধু বিপদের সময় পাশে দাঁড়ায়, ভুল হলে সংশোধন করে, কল্যাণের পথে উৎসাহ দেয় এবং অন্যায় থেকে সতর্ক করে।
ইসলাম এমন বন্ধুত্বকে উৎসাহিত করে, যা মানুষকে আল্লাহর আনুগত্য, ন্যায়, সত্য ও সৎকর্মের পথে এগিয়ে নেয়। বন্ধুত্ব যেন অন্ধ পক্ষপাতিত্বে পরিণত না হয়; বরং সত্য ও ন্যায়ের প্রতি সহযোগিতার মাধ্যম হয়।
বন্ধুর ভুলকে প্রশ্রয় দেওয়া প্রকৃত বন্ধুত্ব নয়। বরং ভালোবাসা ও প্রজ্ঞার সঙ্গে ভুল সংশোধনে সহযোগিতা করাই প্রকৃত কল্যাণকামিতা।
সহযোগিতা মানে দুর্বলকে শক্তি দেওয়া
সমাজে সবাই সমান সামর্থ্যের অধিকারী নয়। কেউ অর্থে শক্তিশালী, কেউ জ্ঞানে, কেউ শ্রমে, কেউ অভিজ্ঞতায়। কারও জীবনে সাময়িক বিপদ আসে, কেউ আবার দীর্ঘদিন অসহায় অবস্থায় থাকে।
এমন অবস্থায় সামর্থ্যবান মানুষের দায়িত্ব হলো দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানো। একজন ক্ষুধার্তকে খাদ্য দেওয়া, অসুস্থের খোঁজ নেওয়া, বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা, শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত মানুষকে সহযোগিতা করা—এসবই মানবিকতার প্রকাশ।
মহান আল্লাহ ন্যায় ও ইহসানের নির্দেশ দিয়েছেন। তাই মানুষের কল্যাণে সহযোগিতা শুধু সামাজিক সৌজন্য নয়; এটি ইসলামী নৈতিকতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
পরিবারে সহযোগিতা ও আন্তরিকতার প্রয়োজন
একটি শান্তিপূর্ণ সমাজের ভিত্তি হলো শান্তিপূর্ণ পরিবার। পরিবারে যদি প্রত্যেকে শুধু নিজের অধিকার নিয়ে ব্যস্ত থাকে কিন্তু অন্যের দায়িত্বের কথা ভুলে যায়, তাহলে অশান্তি তৈরি হয়।
স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান, দায়িত্ববোধ ও সহযোগিতা; বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের শ্রদ্ধা; সন্তানদের প্রতি অভিভাবকের মমতা; ভাই-বোনের মধ্যে ভালোবাসা—এসব পরিবারকে সুন্দর করে।
পরিবারের সদস্যরা যদি একে অপরের সীমাবদ্ধতা বুঝতে শেখে, ক্ষমা করতে শেখে এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সহযোগিতা করে, তাহলে অনেক ছোট সমস্যা বড় সংঘাতে রূপ নেওয়ার আগেই সমাধান হয়ে যায়।
সমাজে সম্প্রীতির প্রয়োজন
একটি সমাজ তখনই উন্নত হয়, যখন সেখানে মানুষ পরস্পরের নিরাপত্তা, সম্মান ও কল্যাণের প্রতি সচেতন থাকে। প্রতিবেশীর কষ্টে উদাসীন না থাকা, বিপদে পাশে দাঁড়ানো, অসহায়কে সহযোগিতা করা এবং অন্যের সম্মান রক্ষা করা সামাজিক দায়িত্বের অংশ।
কোনো মানুষের মত, পেশা, আর্থিক অবস্থা বা সামাজিক অবস্থান ভিন্ন হতে পারে; কিন্তু তার মানবিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ থাকা উচিত। মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু শত্রুতা নয়; প্রতিযোগিতা থাকতে পারে, কিন্তু বিদ্বেষ নয়; সমালোচনা থাকতে পারে, কিন্তু অপমান নয়।
দেশের উন্নয়নে ঐক্য ও সহযোগিতা
একটি দেশের অগ্রগতি শুধু অর্থসম্পদ দিয়ে হয় না। মানুষের সততা, দক্ষতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা, পারস্পরিক আস্থা এবং সহযোগিতার সংস্কৃতি দেশের প্রকৃত শক্তি।
শিক্ষক যদি জ্ঞান ও নৈতিকতা দিয়ে প্রজন্ম গড়ে তোলেন, কৃষক যদি খাদ্য উৎপাদন করেন, শ্রমিক যদি শ্রম দেন, চিকিৎসক যদি সেবা দেন, উদ্যোক্তা যদি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেন, প্রশাসক যদি দায়িত্বশীলভাবে কাজ করেন—তাহলে প্রত্যেকের সম্মিলিত অবদানেই দেশ এগিয়ে যায়।
দেশের উন্নয়নের জন্য তাই পরস্পরকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দেখার পরিবর্তে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন এবং সামগ্রিক কল্যাণে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।
বিশ্বের জন্যও একই শিক্ষা
আজকের পৃথিবী পরস্পরনির্ভরশীল। একটি দেশের সিদ্ধান্ত অন্য দেশের অর্থনীতি, পরিবেশ, নিরাপত্তা ও মানুষের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই বিশ্বে শান্তি ও মানবকল্যাণ প্রতিষ্ঠার জন্য পারস্পরিক সম্মান, ন্যায়, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজন।
যুদ্ধ, সংঘাত, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসা মানুষের জীবন, সম্পদ ও ভবিষ্যৎ ধ্বংস করে। বিপরীতে শিক্ষা, বিজ্ঞান, চিকিৎসা, দারিদ্র্য বিমোচন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও মানবকল্যাণে পারস্পরিক সহযোগিতা পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে পারে।
ইসলামের শিক্ষা মানুষের কল্যাণ, ন্যায় ও শান্তির প্রতি আহ্বান জানায়। তাই পৃথিবীকে সুন্দর করতে হলে মানুষের হৃদয়েও সৌন্দর্য সৃষ্টি করতে হবে।
সহযোগিতার সঙ্গে ন্যায়বিচারও জরুরি
তবে সহযোগিতা মানে অন্যায়কে সমর্থন করা নয়। ইসলাম অন্ধ পক্ষপাতিত্বের শিক্ষা দেয় না। কোনো ব্যক্তি, বন্ধু, আত্মীয় বা গোষ্ঠীর প্রতি ভালোবাসা থাকলেও অন্যায়কে অন্যায় বলতে হবে।
ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে নিজের বিরুদ্ধেও সত্য কথা বলার শিক্ষা কুরআনে এসেছে। তাই প্রকৃত সহযোগিতা হলো সত্য ও ন্যায়ের সহযোগিতা; প্রকৃত বন্ধুত্ব হলো কল্যাণের বন্ধুত্ব; প্রকৃত আন্তরিকতা হলো এমন আন্তরিকতা, যা মানুষকে অন্যায় থেকে দূরে রাখে।
আমাদের করণীয়
সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে হলে পরিবর্তনের অপেক্ষা না করে প্রত্যেককে নিজের জায়গা থেকে শুরু করতে হবে।
আমরা—
- অন্যের সাফল্যে হিংসা না করে আনন্দিত হব;
- ভুল বোঝাবুঝি হলে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করব;
- সত্য কথা বলব এবং আমানত রক্ষা করব;
- অকারণে কারও সমালোচনা, অপমান বা নিন্দা করব না;
- বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়াব;
- বন্ধু ও সহকর্মীর কল্যাণ কামনা করব;
- মতভেদকে শত্রুতায় পরিণত করব না;
- অন্যায় কাজে কাউকে সহযোগিতা করব না;
- ক্ষমা, ধৈর্য ও সহনশীলতার চর্চা করব;
- নিজের অধিকার যেমন বুঝব, তেমনি অন্যের অধিকারও সম্মান করব;
- পরিবার, সমাজ ও দেশের কল্যাণে নিজের দায়িত্ব আন্তরিকভাবে পালন করব।
উপসংহার
মানুষের শক্তি শুধু তার ব্যক্তিগত সামর্থ্যে নয়; মানুষের প্রকৃত শক্তি তার সম্মিলিত কল্যাণচিন্তা ও পারস্পরিক সহযোগিতায়। হিংসা মানুষকে বিচ্ছিন্ন করে, বিদ্বেষ হৃদয়কে কঠিন করে, কপটতা বিশ্বাস নষ্ট করে এবং শত্রুতা উন্নতির পথ রুদ্ধ করে। বিপরীতে সহযোগিতা মানুষকে কাছে আনে, আন্তরিকতা বিশ্বাস সৃষ্টি করে, সরলতা সম্পর্ককে নির্মল করে এবং বন্ধুত্ব জীবনকে সমৃদ্ধ করে।
আমরা যদি পারস্পরিক বিরোধিতার পরিবর্তে সহযোগিতা, হিংসা-বিদ্বেষের পরিবর্তে ভালোবাসা, অসহযোগিতার পরিবর্তে সহমর্মিতা, শত্রুতার পরিবর্তে সৌহার্দ্য এবং কপটতার পরিবর্তে সত্য ও সরলতাকে বেছে নিই—তবে ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও দেশ আরও সুন্দর ও সমৃদ্ধ হতে পারে।
প্রত্যেকে যদি নিজের অন্তর থেকে পরিবর্তনের সূচনা করে, নিজের আচরণে সত্য, আমানতদারি, ক্ষমা, সহমর্মিতা ও সহযোগিতার প্রকাশ ঘটায়, তাহলে ধীরে ধীরে সেই ইতিবাচক পরিবর্তন পরিবার থেকে সমাজে, সমাজ থেকে দেশে এবং দেশ থেকে বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
আসুন—বিভেদের দেয়াল নয়, সহযোগিতার সেতু গড়ে তুলি;
বিদ্বেষের আগুন নয়, ভালোবাসার আলো জ্বালাই;
কপটতার মুখোশ নয়, সত্য ও সরলতার সৌন্দর্য ধারণ করি।
আল্লাহ আমাদের অন্তরকে হিংসা-বিদ্বেষ থেকে পবিত্র করুন, সত্য ও ন্যায়ের পথে অটল রাখুন এবং পারস্পরিক সহযোগিতা, আন্তরিকতা, ভ্রাতৃত্ব ও মানবকল্যাণের মাধ্যমে একটি শান্তিপূর্ণ ও সুন্দর সমাজ গড়ে তোলার তৌফিক দান করুন। আমিন।
১
১ মন্তব্য