ফাতিহা (فاتحة) শব্দটি আরবি। অর্থ প্রারম্ভিকা, উপক্রমণিকা ও সূচনা ইত্যাদি। যেমন সূরাতুল ফাতিহা। কেননা, এ সূরা দ্বারা কুরআন মাজীদ আরম্ভ করা হয়েছে। তবে ফাতিহা শব্দ দ্বারা এখানে আলোচনা করা ও সাওয়াব পৌছানো বুঝানো হয়েছে। ইয়াজদাহম (يازدهم) শব্দটি ফার্সি। অর্থ এগার। হিজরি ৫৬১ সনের ১১ রবিউস সানি মাসে আব্দুল কাদের জ্বিলানী (রহঃ) ইন্তিকাল করেছেন। তাঁর স্মরণে বিশেষ এক শ্রেণীর লোক দিবসটি পালন করেন। সেজন্য এ দিবসটিকে ফাতিহায়ে ইয়াজদহম বলা হয়।
মৃত্যু দিবস সম্পর্কে মতানৈক্য।
আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) এর মৃত্যু দিবস সম্পর্কে ইতিহাসবিদদের মাঝে চরম মতানৈক্য রয়েছে। তাঁর জীবনী গ্রন্থ "তাফরীহুল খাতির ফি মানাকিবিশ শায়খ আবদুল কাদির’" গ্রন্থে ৮টি দিবসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে, রবিউস সানী মাসের সাত তারিখ, নয় তারিখ, দশ তারিখ, এগারো তারিখ, বার তারিখ, তের তারিখ, সাতের তারিখ ও আঠারো তারিখ। তবে গ্রন্থকার দশ তারিখকে প্রাধান্য দিয়েছেন।(ফাতাওয়া রাহীমিয়া ২/৭৬-৭৭)
মৃত্যুদিবস পালনের বিধান।
পীর হোক অথবা ওলী হোক কিংবা অন্য যে কেউ হোক, তাঁর জন্মদিবস আথবা মৃত্যুদিবস পালন করা ইসলাম পরিপন্থী কাজ। কেননা, এগুলো পালন করা ইসলাম কখনই অনুমোদন করে না । নবী-রাসূল, খুলাফায়ে রাশেদীন ও সাহাবায়ে কিরাম (রাঃ) আমাদের জন্য আদর্শ। তাঁদের কারো জন্মদিবস অথবা মৃত্যুদিবস পালন করার কোন নজীর নেই। তা হলে, পীরের মৃত্যুদিবস পালন করার বৈধতা কোথায়? এ ভ্রান্ত প্রথাটি কিছু ধর্মান্ধ ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্যই উদ্ভাবন করেছে। বর্তমান যুগেও কিছু মূর্খ লোক তাদেরই অনুসরণ করে চলছে।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে কেন?
আব্দুল কাদের জিলানী (রহঃ) নিঃসন্দেহে ইসলামের একজন আলোকবর্তিকা ছিলেন। কিন্ত তাঁর মৃত্যু দিবস উপলক্ষে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে কেন? অথচ আবু বকর (রাঃ), ওমর (রাঃ), ইমাম আবু হানিফা (রহঃ) ও ইমাম বুখারি (রহঃ) প্রমূখগনের মৃত্যু দিবস উপলক্ষ্যে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে না।
১
১ মন্তব্য