সিনিয়র শিক্ষক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৭:০০ অপরাহ্ণ
বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন আমাদের কী শেখাল, আমরা এখন কোথায়?
১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে শহীদ হয়েছিলেন ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা, বাবুলসহ অনেকে। আহত হন ৭৩ জন এবং ৫৯ জনকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের সবার স্মরণে প্রতি বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর দিনটি ‘শিক্ষা দিবস’ হিসেবে পালিতে হয়ে আসছে, তবে সরকারিভাবে দিনটি তেমন গুরুত্ব পায়নি কখনো। তৎকালীন স্বৈরশাসক আইয়ুব খান তার ক্ষমতা দখলের দুমাসের মাথায় ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দের ৩০ ডিসেম্বর এস এম শরীফের নেতৃত্বে গঠন করেন শরীফ কমিশনখ্যাত ‘শিক্ষা কমিশন’। ১৯৫৯ খ্রিষ্টাব্দের ২৬ আগস্ট কমিশনের পেশ করা প্রতিবেদনের প্রস্তাববনাগুলো ছিল শিক্ষা সংকোচনের পক্ষে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য শরীফ কমিশনের অর্থসংস্থান সম্পর্কিত প্রস্তাব ও মন্তব্য ছিল এরকম শিক্ষা সস্তায় পাওয়া সম্ভব নয়, অবৈতনিক প্রাথমিক স্কুল ও নামমাত্র বেতনের মাধ্যমিক স্কুল স্থাপনের জন্য সরকারের ওপর নির্ভর করাই জনসাধারণের রীতি। তাদের উপলব্ধি করতে হবে, অবৈতনিক শিক্ষার ধারণা বস্তত অবাস্তব কল্পনা মাত্র। শরীফ কমিশনের যে সুপারিশ বাষট্টির ছাত্র আন্দোলনকে তীব্রতর করে ও আশু কারণ হিসেবে দেখা দেয়, তা হলো দুই বছর মেয়াদি স্নাতক ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছর মেয়াদি করার সুপারিশ।
প্রস্তাবিত প্রতিবেদনে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে বেতন বর্ধিত করার প্রস্তাব ছিল। ২৭ অধ্যায়ে বিভক্ত শরীফ কমিশনের ওই প্রতিবেদনে প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চতর স্তর পর্যন্ত সাধারণ, পেশামূলক শিক্ষা, শিক্ষক প্রসঙ্গ, শিক্ষার মাধ্যম, পাঠ্যপুস্তক, হরফ সমস্যা, প্রশাসন, অর্থ বরাদ্দ, শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বিষয়ে বিস্তারিত সুপারিশ উপস্থাপন করা হয়। আইয়ুব সরকার এ রিপোর্টের সুপারিশ গ্রহণ এবং তা ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাস্তবায়ন করতে শুরু করে। শরীফ কমিশনের শিক্ষা সংকোচন নীতি কাঠামোতে শিক্ষাকে তিন স্তরে ভাগ করা হয়- প্রাথমিক, মাধ্যমিক উচ্চতর। ৫ বছরে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও ৩ বছরে উচ্চতর ডিগ্রি কোর্স এবং ২ বছরের স্নাতকোত্তর কোর্সের ব্যবস্থা থাকবে বলে প্রস্তাব করা হয়। উচ্চশিক্ষা ধনিক শ্রেণির জন্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এজন্য পাস নম্বর ধরা হয় শতকরা ৫০, দ্বিতীয় বিভাগ শতকরা ৬০ এবং প্রথম বিভাগের শতকরা ৭০।
এই কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার প্রস্তাব করে। শিক্ষকদের কঠোর পরিশ্রম করাতে ১৫ ঘণ্টা কাজের বিধান রাখা হয়েছিল। রিপোর্টের শেষে বর্ণমালা সংস্কারেরও প্রস্তাব ছিল। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলনের এবার ৬৪ বছর চলছে। মনে প্রশ্ন জাগছে যে, স্বাধীন বাংলাদেশে উপরোক্ত বিষয়গুলোর কতটা শান্তিপূর্ণ সমাধান হয়েছে অর্থাৎ শিক্ষাক্ষেত্রে জনমানুষের দাবি ও অধিকার কতটা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, শিক্ষার বাণিজ্যিকীকরণ, বৈষম্য ও মানের দিক থেকে আমরা কোথায় অবস্থান করছি সে হিসাব-নিকাশ করার দিন আজ। ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায় যে কোনো কর্তৃত্ববাদী সরকারই প্রথমেই শিক্ষায় হাত দেন। তারা সবাই শিক্ষাকে কেন জানি খুব ভয় পান। তাই শিক্ষার গলা টিপে ধরার চেষ্টা করেন। আমাদের দেশে দেখলাম পতিত সরকার এসেই একটি কারিকুলাম বানালো, সেই ২০০৯ থেকে শুরু করে ২০১২ খ্রিষ্টাব্দে চালু করল। সেই কারিকুলাম পুরোটা পরিবর্তন করে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দ থেকে আবার শুরু করল ‘অভিজ্ঞাতভিত্তিক কারিকুলাম’ যা ২০২২-এ চালু হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু কভিডের কারণে সেটি চালু করা হলো ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দে। সেই কারিকুলামের বাহ্যিক উদ্দেশ্য, বুলি এবং ভাবসাব এমনভাবে দেখানো শুরু হলো যে, এটি পৃথিবীর সেরা কারিকুলাম। আসলে সেটি ছিল পুরো জাতি ধ্বংসের কারিকুলাম। কোন শিক্ষার্থী কোন বিষয়ই শিখবে না শুধু বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করবেন আর স্কিল কেউ কেউ গেইন করবে, যা মানুষ সামাজিকভাবে এমনিতেই শিখে যায়। বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে যে, শিক্ষিত হলে মানুষকে বশ করা মুশকিল। তাই অধীন করে রাখার একটি প্রচেষ্টা যা আইয়ুব সরকারও বাদ দেয়নি।
বাষট্টির আন্দোলন প্রথমদিকে উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির শিক্ষার্থীদের ইংরেজি ক্লাস বর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। জুলাই ধরে এভাবেই আন্দোলন চলে। ‘ডিগ্রি স্টুডেন্টস ফোরাম’ নামে সংগঠন পরে ‘ইস্ট পাকিস্তান স্টুডেন্টস ফোরাম’ নামে সংগঠিত হয়ে আন্দোলন চালাতে থাকে। তবে আন্দোলনের গুণগত পরিবর্তন আসে ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ১০ আগস্ট। এদিন বিকেলে ঢাকা কলেজ ক্যান্টিনে স্নাতক ও উচ্চ মাধ্যমিক উভয় শ্রেণির শিক্ষর্থীরা এক সমাবেশে মিলিত হন। এ সভার আগ পর্যন্ত ছাত্র সংগঠনগুলোর কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে কমিশনবিরোধী আন্দোলনের কোনো যোগসূত্র ছিল না। কেন্দ্রীয় নেতারা মনে করতেন, শুধু শিক্ষার দাবি নিয়ে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা অসম্ভব। তাই ১০ আগস্টের এই সভায় ১৫ আগস্ট সারা দেশে শিক্ষার্থীদের সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যা দেশব্যাপী ছাত্রসমাজের কাছে ব্যাপক সাড়া জাগায়। এরপর আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে ১০ সেপ্টেম্বর সচিবালয়ের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘটের সিদ্ধান্ত হয়। পূর্ব পাকিস্তান সরকার ১৪৪ ধারা জারি করে এক প্রেসনোটে শিক্ষার্থীদের অবস্থান ধর্মঘট থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানায় এবং পরিস্থিতি মারাত্মক হওয়ার হুমিক প্রদান করে। এমতাবস্থায় ১০ সেপ্টেম্বর কর্মসূচি প্রত্যাহার করা হলেও শিক্ষার্থীরা ১৭ সেপ্টেম্বর হরতালের ডাক দেন। ব্যাপক প্রচারের সঙ্গে চলতে থাকে পথসভা, খণ্ডমিছিল। ধীরে ধীরে অন্য পেশাজীবীরাও যোগ দেন আন্দোলনে। হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন, সভা-সমাবেশ ও মিছিল বের করা হয়, পুলিশের লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ আর গুলিবর্ষণ শুরু হয়, যা যে কোনো স্বৈরাচারী সরকারের পরিচিত খেলা।
শরীফ কমিশনে পাঁচ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা চালুর প্রস্তাব করা হয়, যা এখনো বিদ্যমান। দুই বছরের ডিগ্রি কোর্সকে তিন বছর করার প্রস্তাব করা হয় আর স্নাতকোত্তর দুই বছরের। আমাদের স্নাতক কোর্স কিন্তু এখন তিন ও চার বছরের এবং বিশেষায়িতগুলো পাঁচ বছরের। পাবলিক পরীক্ষা পাস নম্বর ধরা হয়েছিল শতকরা ৫০, দ্বিতীয় বিভাগ শতকরা ৬০ এবং প্রথম বিভাগ শতকরা ৭০ নম্বর। এখনকার গ্রেডিং পদ্ধতি অনেকটাই এ নম্বরের সঙ্গে তুলনায়। এখন ৭০ শতাংশ নম্বর পাওয়া মানে তেমন কিছু না। এই কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বায়ত্তশাসনের পরিবর্তে পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ করা, ছাত্র-শিক্ষকদের কার্যকলাপের ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখার প্রস্তাব করা হয়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কি প্রকৃত অর্থে কখনো স্বায়ত্তশাসন ভোগ করেছে, এখনো কি করছে? প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সস্তায় এবং রাষ্ট্র পরিচালনা না করার ইঙ্গিত ছিল বাষট্টির আন্দোলনে, কারণ তাতে মান থাকবে না। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষা বলা যায় রাষ্ট্র পরিচালিত; কিন্ত এর কোনো মান নেই বললেই চলে। তাই, ব্যক্তিপর্যায়ে বা সংস্থা পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো মানের দিকে থেকে এগিয়ে। মাধ্যমিকেও প্রায় একই অবস্থা। রাষ্ট্র পরিচালিত কিংবা রাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট বিদ্যালয়গুলোতে মান নিয়ে প্রশ্ন বহু পুরোনো। অথচ প্রাইভেট বা সংস্থা পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষা প্রদানের ধরন এবং সার্বিক মান রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলোর তুলনায় অনেকটাই সন্তোষজনক। এ হিসাবগুলো আমাদের কষতে হবে এবং যুগের চাহিদা, রাষ্ট্রের কল্যাণ ও জনগণের চাহিদা অনুযায়ী শিক্ষাকে কীভাবে পরিচালিত করা যায়, সে পদ্ধতি বের করতে হবে।
স্বাধীন বাংলাদেশে ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের কুদরত-এ খুদা শিক্ষানীতির প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ রেখেই একটি মোটামুটি গ্রহণযোগ্য শিক্ষানীতি ২০১০ খ্রিষ্টাব্দে তৈরি করা হয়েছিল; কিন্তু সেটির মৌলিক দিক বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ শিক্ষানীতিতে তিন স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা প্রবর্তনের লক্ষ্যে ৮ বছরের প্রাথমিক শিক্ষা প্রস্তাব করা হয়। আর দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ৪ বছরের মাধ্যমিক শিক্ষা। এরপর উচ্চশিক্ষা স্তর শুরু, বিদায় নেবে উচ্চ মাধ্যমিক; কিন্তু এত বছরেও ওইসব প্রস্তাব পাস হয়নি। একজন শিক্ষার্থীর কাঙ্ক্ষিত দক্ষতা অর্জন থেকে প্রায় নব্বই শতাংশ শিক্ষার্থী অনেক দূরে অবস্থান করে যদিও তারা সবাই পাবলিক পরীক্ষায় পাস করে। জ্ঞাননির্ভর অগ্রসর চিন্তার সমাজ তৈরির লক্ষ্য ছিল বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন কিন্তু তার কতখানি অর্জিত হলো? শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির লক্ষ্য ছিল এলিট শ্রেণি তৈরি। আমরা দেখতে পাই যে, দেশে এখনো বিরাজ করছে বৈষম্যমূলক শিক্ষা এবং এই বৈষম্য কিছু কিছু ক্ষেত্রে তীব্রতর। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন শিক্ষানীতিবিরোধী সংগ্রাম হলেও এর নেপথ্যে লুকিয়ে ছিল ছাত্রসমাজের স্বাধিকার অর্জনের তীব্র বাসনা। এই আন্দোলনের পথ পরিক্রমায়ই এসেছে মহান একাত্তর তথা আমাদের বহুল প্রতীক্ষিত স্বাধীনতা কিন্তু শিক্ষার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে আমরা পৌঁছতে পেরেছি কি?
দেশে সব ধরনের সরকার নির্বিশেষে শিক্ষার সমস্যা কিন্তু কাটেনি বরং বেড়েই চলেছে। শরীফ কমিশন প্রস্তাব করেছিল উচ্চশিক্ষা সবার জন্য নয়, উচ্চশিক্ষা কিনে নিতে হবে। অর্থাৎ যাদের অর্থনৈতিক সামর্থ্য থাকবে তারাই উচ্চ শিক্ষা নিতে পারবে; কিন্তু যাদের মেধা আছে, যারা মেধা দিয়ে দেশ ও জনগণকে সেবা প্রদান করতে পারবে তাদের জন্য উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সেই দায়িত্বের কথা শরীফ কমিশনে উল্লেখ ছিল না। তবে, উচ্চশিক্ষা অর্থের বিনিময়ে নিতে হবে, সামর্থ্যবানরাই উচ্চশিক্ষা গ্রহণের অধিকার রাখবে, এ ন্যাকেড কথাটি দেশের শিক্ষার্থীদের আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো অবস্থা হয়েছিল। এখন যদি আমরা উচ্চশিক্ষার দিকে তাকাই তাহলে কি চোখে পড়ে?
সস্তায় উচ্চশিক্ষা অর্থাৎ রাষ্ট্রপরিচালিত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো পরিণত হয়েছিল লাঠিয়াল বাহিনীর আখড়ায়। সব ধরনের শিক্ষার্থীদের সরকারি ছাত্র সংগঠনের পদতলে পুষ্প দেওয়া, তাদের কদমবুছি করা আর ইচ্ছায় অনিচ্ছায় দিনে রাতে তাদের মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করা বাধ্যতামূলক ছিল। জুলাই আন্দোলনের পরেও কি রাষ্ট্র পরিচালিত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে অস্ত্র ও লাঠির ঝনঝনানি ও মোহড়া কমেছে? কে নিয়ন্ত্রণ করবে এসব? এই প্রশ্ন নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে। উত্তর খুঁজে বের করতে হবে। অন্যদিকে সরকারি এসব প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কিংবা বিকল্প হিসেবে গড়ে উঠেছে এবং উঠছে সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ইতোমধ্যে তা সরকারি প্রতিষ্ঠানের দ্বিগুণ। এগুলোর মালিকপক্ষ ধনিক শ্রেণি, রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রকদের তথা ক্ষমতাবানদের আশীর্বাদপুষ্ট কারণ সাধারণ মানুষ এগুলো প্রতিষ্ঠা করতে পারবেন না কিংবা পারছেন না। বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, শরীফ কমিশন এবং উচ্চশিক্ষার বর্তমান বাস্তবতা কোনটি কোথায় গিয়ে দাঁড়াচ্ছে?
শুধু কি তাই, এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী সংগ্রহের জন্য অর্থাৎ অর্থোদ্ধারের জন্য নিচের দিকে শিক্ষার মান নিয়ে কোনো চিন্তা, কথা বলা বা কোন প্রচেষ্টা গ্রহণ থেকে ছলে-বলে-কৌশলে দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছিল সচেতনদের। এসব প্রতিষ্ঠানে যাতে যে কেউ আসতে পারে, তাই ‘শিক্ষার মান’ নামক বাঁধা সরিয়ে উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু সনদ অর্জন করতে পারে। শিক্ষার্থীরা কে কি পারুক আর না পারুক, সেদিকে না তাকিয়ে রাষ্ট্র পরিচালিত প্রতিষ্ঠান, যা শিক্ষা বোর্ড নামে পরিচিত প্রতিষ্ঠানগুলো পাসের হার ১০০ শতাংশে উন্নীত করার জন্য প্রতিযোগিতায় মেতেছিল এবং এখনো সে দৌড় যেন শেষ হয়নি। মাঝখান দিয়ে উধাও হয়েছে শিক্ষার মান নামক বিষয়টি। বোর্ডের মতো এসব উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কাগজ নিয়ে যখন বাজারে টিকতে পারছে না, এখন আবার কথা উঠছে বাজারের চাহিদার সঙ্গে উচ্চতার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিগ্রির মিল নেই। অতএব, বাজার অনুযায়ী শিক্ষা প্রদানের দৌড়ঝাপ শুরু হয়েছে। অর্থাৎ আমরা রাষ্ট্রীয় শিক্ষার লক্ষ্য এখনো স্থির করতে পারিনি। আজকে সেটিও ভালোভাব হিসাব করার দিন।
লেখক:মাছুম বিল্লাহ, দৈনিক শিক্ষাডটকম
ক্যাডেট কলেজের সাবেক শিক্ষক।
১
১ মন্তব্য