সহকারী শিক্ষক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৯:২৪ অপরাহ্ণ
গড পার্টিকেল.........
হিগস বোসনকে জনপ্রিয়ভাবে- “গড পার্টিকেল” বলা হলেও এটি কোনো বৈজ্ঞানিক নাম নয়। লিওন লেডারম্যানের ১৯৯৩ সালের বইয়ের শিরোনাম থেকে নামটি প্রচলিত হয়। প্রকৃতপক্ষে এটি হিগস ক্ষেত্রের কোয়ান্টাম কণা।
মহাবিশ্বজুড়ে হিগস ক্ষেত্র নামের এক অদৃশ্য ক্ষেত্র ছড়িয়ে আছে। মহাবিশ্ব শুরুর উত্তপ্ত অবস্থা থেকে ঠান্ডা হওয়ার পর এই ক্ষেত্র অশূন্য মানে পৌঁছায়। মৌলিক কণাগুলো এই ক্ষেত্রের সঙ্গে বিভিন্ন মাত্রায় মিথস্ক্রিয়া করে ভর অর্জন করে। ইলেকট্রন, কোয়ার্ক, W ও Z বোসন এভাবে ভর পায়।
তবে শরীরের অধিকাংশ ভর সরাসরি হিগস ক্ষেত্র থেকে আসে না। প্রোটন ও নিউট্রনের ভেতরে কোয়ার্ক গ্লুয়নের মাধ্যমে শক্তিশালী নিউক্লীয় বলে আবদ্ধ থাকে। সেই আবদ্ধ ব্যবস্থার শক্তি ও গতিশক্তিই প্রোটন-নিউট্রনের মোট ভরের বড় অংশ তৈরি করে। আইনস্টাইনের E=mc² অনুযায়ী শক্তি ও ভর সম্পর্কিত। হিগস ক্ষেত্র মূলত মৌলিক কণার ভর নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।
হিগস ক্ষেত্রের প্রমাণ খুঁজতে CERN পরিচালিত LHC ব্যবহার করা হয়। সুইজারল্যান্ড-ফ্রান্স সীমান্তে প্রায় ১০০ মিটার নিচে ২৭ কিলোমিটার পরিধির এই কণা ত্বরকে প্রোটনকে উচ্চ শক্তিতে ত্বরান্বিত করে মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটানো হয়। হিগস বোসন অতি ক্ষণস্থায়ী; সরাসরি দেখা যায় না। বিজ্ঞানীরা তার ক্ষয়ের প্যাটার্ন বিশ্লেষণ করেন। ATLAS ও CMS পরীক্ষায় ২০১২ সালের ৪ জুলাই নতুন কণার সন্ধানের ঘোষণা আসে, যা হিগস বোসনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ২০১৩ সালে পিটার হিগস ও ফ্রাঁসোয়া ইংলার্ট নোবেল পান।
LHC নিয়ে ব্ল্যাক হোল আতঙ্ক ছড়িয়েছিল, কিন্তু মহাজাগতিক রশ্মির সংঘর্ষ LHC-এর চেয়ে বেশি শক্তিতে বিলিয়ন বছর ধরে ঘটছে; তাই বৈজ্ঞানিক প্রমাণে এই আশঙ্কা ভিত্তিহীন।
হিগস আবিষ্কার স্ট্যান্ডার্ড মডেলকে শক্তিশালী করেছে, তবে অন্ধকার পদার্থ, অন্ধকার শক্তি, নিউট্রিনোর ভর, মহাকর্ষের কোয়ান্টাম তত্ত্বসহ অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো বাকি। হিগস বোসনের ভর প্রায় ১২৫ গিগাইলেকট্রনভোল্ট। ২০১২ সালের আবিষ্কার গল্পের শেষ নয়, বরং নতুন গবেষণার দরজা খোলার মুহূর্ত।।
১
১ মন্তব্য