সহকারী অধ্যাপক
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:২৯ অপরাহ্ণ
ইউএস-বাংলা টিকেট চেক ২০২৬: US-Bangla Airlines Ticket Check ও PNR দিয়ে বুকিং যাচাইয়ের নিয়ম
ঢাকা থেকে কক্সবাজার, চট্টগ্রাম বা সিলেট — অভ্যন্তরীণ রুটে যাতায়াতের জন্য ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স এখন লাখো যাত্রীর প্রথম পছন্দ। টিকিট কাটার পর অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন থেকে যায় — টিকিটটা আসল তো? বুকিং কনফার্ম তো? ফ্লাইটের তারিখ-সময় ঠিক আছে তো? বিশেষ করে এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কাটলে এই দুশ্চিন্তা আরও বাড়ে।
সুখবর হলো, ইউএস-বাংলার টিকিট ঘরে বসে মোবাইল দিয়েই যাচাই করা যায়। এই পোস্টে দেখাবো US-Bangla ticket check করার সব পদ্ধতি — অফিসিয়াল ওয়েবসাইট দিয়ে PNR চেক, মোবাইল অ্যাপ দিয়ে বুকিং দেখা, কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে টিকিট যাচাই, টিকিট কনফার্ম হয়েছে কিনা বোঝার উপায়, তথ্য না মিললে করণীয় এবং প্রবাসী ও নিয়মিত যাত্রীদের জন্য দরকারি টিপস। ইউএস-বাংলা টিকেট চেক নিয়ে এরপর আর কোথাও খুঁজতে হবে না।
ইউএস-বাংলা টিকেট চেক করতে যা যা লাগবে
টিকিট যাচাই করতে যাওয়ার আগেই হাতে যেসব তথ্য রাখবেন, সেগুলো গুছিয়ে নিন। সঠিক তথ্য না থাকলে বারবার চেষ্টা করেও বুকিং পাবেন না।
PNR বা বুকিং রেফারেন্স — এটাই টিকিট চেকের মূল চাবি। টিকিট বুকিং হলে এয়ারলাইন্সের সিস্টেমে আপনার নামে একটা রেকর্ড তৈরি হয়, সেটারই সংক্ষিপ্ত কোড হলো PNR (Passenger Name Record)। সাধারণত এটি কয়েক অক্ষরের একটি কোড হয়, যেমন: X7K9P2।
PNR কোথায় পাবেন:
· ই-টিকিটের PDF কপিতে "Booking Reference" বা "PNR" লেখার পাশে
· টিকিট কাটার পর মোবাইলে আসা কনফার্মেশন SMS-এ
· ইমেইলে পাঠানো বুকিং কনফার্মেশন মেসেজে
· এজেন্সির দেওয়া টিকিটের প্রিন্ট কপিতে
যাত্রীর নামের শেষাংশ (Last Name) — বুকিংয়ে নাম যেভাবে লেখা আছে, হুবহু সেভাবে। বানানে একটা অক্ষর এদিক-ওদিক হলেও বুকিং পাওয়া যাবে না।
১৩ সংখ্যার ই-টিকিট নম্বর (বিকল্প) — PNR না পেলে এটা দিয়ে চেষ্টা করা যায়। ই-টিকিটের PDF-এ "Ticket Number" লেখার পাশে এই নম্বর থাকে।
একটা ভুল ধারণা ভেঙে দিই: অনেকেই মনে করেন শুধু পাসপোর্ট নম্বর দিলেই ইউএস-বাংলার ওয়েবসাইটে টিকিট চেক করা যায়। বাস্তবে এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে শুধু পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সরাসরি বুকিং খোঁজার অপশন থাকে না। তবে চিন্তা নেই — পাসপোর্ট নম্বর বলে এজেন্সি বা ইউএস-বাংলার কাস্টমার কেয়ার থেকে PNR সংগ্রহ করে তারপর অনলাইনে চেক করতে পারবেন। নিচে পুরো প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে দিলাম।
যা লাগবে | কোথায় পাবেন | কেন দরকার |
PNR / বুকিং রেফারেন্স | ই-টিকিট PDF, SMS, ইমেইল, এজেন্সি | বুকিং খুঁজে বের করার মূল কোড |
নামের শেষাংশ (Last Name) | টিকিটে যেভাবে লেখা | বুকিং মিলিয়ে দেখার জন্য |
১৩ সংখ্যার টিকিট নম্বর | ই-টিকিটে "Ticket Number"-এর পাশে | PNR না থাকলে বিকল্প উপায় |
পাসপোর্ট নম্বর | আপনার পাসপোর্ট | এজেন্সি/হটলাইনে পরিচয় যাচাইয়ে |
অনলাইনে ইউএস-বাংলা টিকিট চেক করার ধাপ (ওয়েবসাইট)
ইউএস-বাংলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকেই টিকিট যাচাই করা সবচেয়ে নিরাপদ। মোবাইলের ব্রাউজার দিয়েই করা যায়, কম্পিউটার লাগে না।
ধাপ ১: ইউএস-বাংলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে যান
গুগলে "US-Bangla Airlines" লিখে সার্চ করে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে ঢুকুন। সতর্কতা: নামের সাথে মিলিয়ে ভুয়া সাইট বানিয়ে প্রতারণার ঘটনা ঘটে, তাই গুগলের ভেরিফাইড অফিসিয়াল লিংক থেকে ঢুকবেন। কোনো অচেনা "টিকেট চেক" সাইটে PNR বা পাসপোর্ট নম্বর দেবেন না।
ধাপ ২: বুকিং ব্যবস্থাপনার অপশনে ক্লিক করুন
হোমপেজে বুকিং দেখা বা পরিচালনার অপশন থাকে (সাধারণত Manage Booking বা My Booking নামে)। সেখানে ক্লিক করুন।
ধাপ ৩: PNR ও নামের শেষাংশ লিখুন
PNR কোড এবং টিকিটে যেভাবে নাম লেখা আছে, সেই নামের শেষাংশ হুবহু লিখে সাবমিট করুন। ইংরেজিতে লিখুন, আর বড়-ছোট হাতের অক্ষর নিয়ে চিন্তা করবেন না — তবে বানান হুবহু হতে হবে।
ধাপ ৪: বুকিংয়ের সব তথ্য মিলিয়ে নিন
বুকিং পাওয়া গেলে নিচের প্রতিটা তথ্য টিকিটের কপির সাথে মিলিয়ে দেখুন:
· যাত্রীর নামের বানান — পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে হুবহু মিলছে কিনা
· ফ্লাইট নম্বর — টিকিটের ফ্লাইট নম্বরের সাথে মিলছে কিনা
· যাত্রার তারিখ ও সময় — দিন-তারিখ ঠিক আছে কিনা
· রুট — কোথা থেকে কোথায় যাচ্ছেন (যেমন: ঢাকা থেকে কক্সবাজার)
· বুকিং স্ট্যাটাস — Confirmed বা Ticketed লেখা আছে কিনা
· ব্যাগেজের তথ্য — কত কেজি লাগেজ নেওয়া যাবে
ধাপ ৫: প্রমাণ হিসেবে সংরক্ষণ করুন
বুকিংয়ের পেজের স্ক্রিনশট নিয়ে মোবাইলে রেখে দিন, প্রয়োজনে প্রিন্টও করে রাখুন। যাত্রার দিন বা পরে কোনো ঝামেলা হলে এটা কাজে লাগবে।
মনে রাখুন: PNR দিয়ে বুকিং পাওয়া মানেই টিকিট ঠিক আছে — তবে স্ট্যাটাসটাও দেখতে হবে। শুধু বুকিং খুঁজে পেলেই নিশ্চিন্ত হবেন না; "Confirmed" বা "Ticketed" লেখা আছে কিনা সেটা নিশ্চিত করুন। স্ট্যাটাসের মানে নিচে বিস্তারিত বলছি।
মোবাইল অ্যাপ দিয়ে ইউএস-বাংলা টিকিট চেক
যারা নিয়মিত ইউএস-বাংলায় যাতায়াত করেন — ব্যবসায়ী, চাকরিজীবী, কক্সবাজার-সিলেটগামী পর্যটক — তাদের জন্য মোবাইল অ্যাপ সবচেয়ে সুবিধাজনক।
অ্যাপ দিয়ে টিকিট চেকের নিয়ম:
· ইউএস-বাংলার অফিসিয়াল মোবাইল অ্যাপটি প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে ডাউনলোড করুন (ডেভেলপারের নাম মিলিয়ে নিন, যেন ভুয়া অ্যাপ না হয়)
· অ্যাপে PNR ও নামের শেষাংশ দিয়ে একবার বুকিং যোগ করে রাখুন
· এরপর থেকে অ্যাপ খুললেই বুকিংয়ের হালনাগাদ অবস্থা দেখতে পাবেন — বারবার PNR মনে রাখতে হবে না
· যাত্রার আগে অ্যাপ থেকেই অনলাইন চেক-ইন করে বোর্ডিং পাস নিয়ে রাখতে পারেন
সতর্কতা: প্লে স্টোরে "টিকেট চেক" বা "US Bangla ticket check" লিখে সার্চ দিলে যেসব অচেনা অ্যাপ আসে, সেগুলোতে PNR, পাসপোর্ট নম্বর বা জন্মতারিখ দেবেন না। শুধু এয়ারলাইন্সের অফিসিয়াল অ্যাপ ব্যবহার করুন। ব্যক্তিগত তথ্য ভুল হাতে গেলে অপব্যবহার হতে পারে।
হটলাইন ও কাস্টমার কেয়ারে ফোন করে টিকিট চেক
অনলাইনে করতে না পারলে বা ইন্টারনেট না থাকলে ফোনেই টিকিট যাচাই করা যায়। বয়স্ক যাত্রী বা যারা স্মার্টফোনে অভ্যস্ত নন, তাদের জন্য এটাই সহজ পথ।
ফোনে টিকিট চেক করার নিয়ম:
· ইউএস-বাংলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে দেওয়া হটলাইন বা কাস্টমার কেয়ার নম্বরে কল করুন (ওয়েবসাইটের "Contact Us" অংশে হালনাগাদ নম্বর পাবেন)
· হাতে PNR কোডটা রাখুন — ফোনে এটাই প্রথমে চাইবে
· যাত্রীর নাম বলুন; পরিচয় নিশ্চিত করতে পাসপোর্ট নম্বর বা মোবাইল নম্বর চাইতে পারে — এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া, ভয় পাবেন না
· টিকিট কনফার্ম কিনা, ফ্লাইটের সময়ে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করুন
ফোনে যা যা জিজ্ঞেস করে নেবেন:
· আমার টিকিট ইস্যু হয়েছে কিনা (শুধু বুকিং থাকলেই যথেষ্ট না)
· ফ্লাইটের সময়সূচিতে কোনো পরিবর্তন হয়েছে কিনা
· কত কেজি ব্যাগেজ নেওয়া যাবে
· অনলাইন চেক-ইন কখন থেকে করা যাবে
মনে রাখুন: এয়ারলাইন্স কখনো ফোনে আপনার ব্যাংক OTP বা বিকাশের পিন চাইবে না। ফোনে কেউ OTP চাইলেই বুঝবেন প্রতারক — সাথে সাথে কল কেটে দিন।
এছাড়া ইউএস-বাংলার নিকটস্থ সেলস অফিস বা এয়ারপোর্ট কাউন্টারে গিয়ে PNR বলেও বুকিং যাচাই করিয়ে নিতে পারেন।
টিকিট কনফার্ম হয়েছে কিনা বুঝবেন যেভাবে
বুকিং খুঁজে পেলেই কাজ শেষ না — স্ট্যাটাসটা ঠিকমতো বুঝতে হবে। বুকিংয়ের পেজে স্ট্যাটাস যেভাবে লেখা থাকে, তার মানে জেনে নিন:
স্ট্যাটাস | মানে | আপনার করণীয় |
Confirmed / OK | টিকিট নিশ্চিত, সিট বরাদ্দ আছে | নিশ্চিন্ত থাকুন, এটাই দেখতে চান |
Ticketed | পেমেন্ট সম্পন্ন, টিকিট ইস্যু হয়ে গেছে | সবচেয়ে নিরাপদ অবস্থা |
Waitlisted / On Request | সিট এখনো নিশ্চিত না | এমন টিকিট নিয়ে এয়ারপোর্টে যাবেন না; এজেন্সিকে দ্রুত কনফার্ম করতে বলুন |
Cancelled | বুকিং বাতিল হয়ে গেছে | এজেন্সি বা এয়ারলাইন্সের সাথে যোগাযোগ করে বিকল্প ব্যবস্থা করুন |
একটা জরুরি পার্থক্য জেনে রাখুন: "বুকিং কনফার্ম" আর "টিকিট ইস্যু" এক জিনিস না। কেউ সিট রিজার্ভ করে টাকা না দিলেও বুকিং দেখা যেতে পারে, কিন্তু পেমেন্টের পর টিকিট ইস্যু না হলে সেই বুকিং বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই স্ট্যাটাসে "Ticketed" বা টিকিট নম্বর (১৩ সংখ্যার) আছে কিনা দেখুন — আসল ই-টিকিটে টিকিট নম্বর থাকবেই।
আরেকটা বিষয় — টিকিটে যাত্রীর নামের বানান পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের সাথে হুবহু মিলতে হবে। অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে জাতীয় পরিচয়পত্র, আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে পাসপোর্টের সাথে নাম মিলিয়ে দেখা হয়। নামের একটা অক্ষর ভুল থাকলেও বোর্ডিংয়ে সমস্যা হতে পারে। বুকিং চেক করার সময় নামের বানানটাও মিলিয়ে নিন।
টিকিটে তথ্য ভুল থাকলে বা না মিললে করণীয়
টিকিট চেক করতে গিয়ে সমস্যা দেখা দিলে ঘাবড়াবেন না। নিচের টেবিল দেখে বুঝে নিন সমস্যাটা কী এবং কী করবেন:
সমস্যা | সম্ভাব্য কারণ | সমাধান |
PNR দিলে "Booking not found" দেখাচ্ছে | PNR ভুল টাইপ হয়েছে, অথবা বুকিং বাতিল | PNR আবার মিলিয়ে লিখুন; টিকিটের PDF দেখে হুবহু কপি করুন। তাও না পেলে এজেন্সিকে ফোন করুন |
নামের বানান টিকিটের সাথে মিলছে না | টিকিটে নাম ভিন্নভাবে লেখা, অথবা আপনার ভুল | টিকিটের PDF দেখে হুবহু বানান লিখুন। টিকিটেই বানান ভুল থাকলে যাত্রার আগেই সংশোধন করান |
এজেন্সি PNR দিতে গড়িমসি করছে | প্রতারণার আশঙ্কা | PNR জানা আপনার অধিকার — জোরালোভাবে চান। না দিলে টাকা ফেরত চান |
স্ট্যাটাস Waitlisted দেখাচ্ছে | সিট কনফার্ম হয়নি | এজেন্সিকে দ্রুত কনফার্ম করতে বলুন; না হলে বিকল্প ফ্লাইট দেখুন |
ফ্লাইটের সময় বদলে গেছে | এয়ারলাইন্স সময়সূচি পরিবর্তন করেছে | এয়ারলাইন্স সাধারণত SMS/ইমেইলে জানায়; হটলাইনে ফোন করে নতুন সময় নিশ্চিত করুন |
একই PNR-তে পরিবারের সবার নাম নেই | আলাদা আলাদা বুকিং হয়েছে | প্রত্যেকের PNR আলাদা করে চেক করুন |
নামের বানান ভুল থাকলে দেরি করবেন না। ছোট ভুলও বোর্ডিংয়ের সময় বড় ঝামেলা করতে পারে। যাত্রার কয়েকদিন আগেই ইউএস-বাংলার কাস্টমার কেয়ার বা যে এজেন্সি থেকে টিকিট কিনেছেন, তাদের জানিয়ে সংশোধন করিয়ে নিন। সংশোধনের জন্য পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি লাগতে পারে।
প্রবাসী ও নিয়মিত যাত্রীদের জন্য দরকারি টিপস
দেশের ভেতরে যাতায়াতকারীদের জন্য:
· ঈদ, পূজা বা লম্বা ছুটির সময় কক্সবাজার, সিলেট রুটে টিকিটের চাহিদা বেড়ে যায়। টিকিট কাটার সাথে সাথেই PNR দিয়ে যাচাই করে নিন, যাত্রার দিনের জন্য ফেলে রাখবেন না।
· অনলাইনে টিকিট কাটলে পেমেন্টের পর ই-টিকিটের PDF সঙ্গে সঙ্গে ডাউনলোড করে রাখুন। শুধু SMS-এর ওপর ভরসা করবেন না।
· যাত্রার ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা আগে অনলাইন চেক-ইন করে বোর্ডিং পাস নিয়ে রাখলে এয়ারপোর্টে লাইনে দাঁড়ানোর ঝামেলা কমবে। (সঠিক সময় এয়ারলাইন্সভেদে বদলাতে পারে, টিকিটে বা ওয়েবসাইটে দেখে নিন।)
প্রবাসীদের জন্য:
· সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, কাতার, ওমান — যেখানেই থাকুন, ইউএস-বাংলার ওয়েবসাইট পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে ব্যবহার করা যায়। দেশের সময় আর প্রবাসের সময়ের পার্থক্য মাথায় রেখে ফ্লাইটের তারিখ-সময় মিলিয়ে নিন।
· দেশে থাকা আত্মীয়ের জন্য টিকিট কেটে দিলে PNR-টা তাকেও পাঠিয়ে দিন, যেন তিনিও নিজে যাচাই করতে পারেন।
· এজেন্সির মাধ্যমে টিকিট কাটলে টাকা দেওয়ার আগেই জিজ্ঞেস করুন — PNR কখন দেবেন? টিকিট ইস্যু হতে কতক্ষণ লাগবে? স্পষ্ট উত্তর না পেলে অন্য এজেন্সি দেখুন।
প্রতারণা থেকে বাঁচতে:
· ফেসবুকে "টিকেট চেক করে দেবো" বলে যারা PNR বা পাসপোর্টের ছবি চায়, তাদের কাছে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না।
· বাজারদরের চেয়ে অস্বাভাবিক কম দামে টিকিটের অফার মানেই প্রতারণার ফাঁদ। লোভে পড়ে টাকা দেবেন না।
· টাকা পরিশোধের রসিদ সবসময় সংরক্ষণ করুন — বিকাশ, নগদ বা ব্যাংক ট্রান্সফারের স্ক্রিনশট রাখুন।
· টিকিট কেনার আগে এজেন্সির ট্রেড লাইসেন্স ও অফিসের ঠিকানা যাচাই করুন।
ইউএস-বাংলা টিকেট চেক নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
প্রশ্ন: US-Bangla ticket check অনলাইনে কোথায় করবো?
উত্তর: ইউএস-বাংলার অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে গিয়ে বুকিং ব্যবস্থাপনার অপশনে (সাধারণত Manage Booking নামে থাকে) PNR ও নামের শেষাংশ দিয়ে চেক করুন। গুগলে সার্চ করে অফিসিয়াল সাইটে ঢুকবেন, কোনো অচেনা থার্ড-পার্টি সাইটে PNR দেবেন না।
প্রশ্ন: PNR ছাড়া কি ইউএস-বাংলা টিকিট চেক করা যায়?
উত্তর: PNR ছাড়া সরাসরি অনলাইনে চেক করা কঠিন। তবে ১৩ সংখ্যার ই-টিকিট নম্বর থাকলে সেটা দিয়েও চেষ্টা করতে পারেন। আর PNR না থাকলে যে এজেন্সি থেকে টিকিট কিনেছেন তার কাছে চান, অথবা ইউএস-বাংলার হটলাইনে ফোন করে পাসপোর্ট নম্বর বলে PNR সংগ্রহ করুন।
প্রশ্ন: শুধু পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে ইউএস-বাংলা টিকিট চেক করা যায়?
উত্তর: অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে শুধু পাসপোর্ট নম্বর দিয়ে সরাসরি চেক করার অপশন নেই। তবে পাসপোর্ট নম্বর বলে এজেন্সি বা কাস্টমার কেয়ার থেকে PNR নিয়ে তারপর অনলাইনে যাচাই করতে পারবেন।
প্রশ্ন: us bangla pnr check করতে গিয়ে "Booking not found" দেখাচ্ছে কেন?
উত্তর: সবচেয়ে সাধারণ কারণ PNR ভুল টাইপ করা। টিকিটের PDF দেখে হুবহু কপি করে আবার চেষ্টা করুন। তাও না পেলে হয় বুকিং বাতিল হয়েছে, নয়তো টিকিটটা ভুয়া — এজেন্সির সাথে দ্রুত যোগাযোগ করুন।
প্রশ্ন: টিকিটে নামের বানান ভুল হলে কী করবো?
উত্তর: যাত্রার আগেই ইউএস-বাংলার কাস্টমার কেয়ার বা টিকিট বিক্রেতা এজেন্সিকে জানিয়ে সংশোধন করান। পাসপোর্ট বা জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি লাগতে পারে। নামের ভুল নিয়ে এয়ারপোর্টে গেলে বোর্ডিং আটকে যেতে পারে।
প্রশ্ন: ইউএস-বাংলার ফ্লাইট দেরি হচ্ছে কিনা কীভাবে জানবো?
উত্তর: PNR দিয়ে বুকিং চেক করলেই হালনাগাদ সময় দেখা যাবে। এছাড়া অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের ফ্লাইট স্ট্যাটাস অপশনে ফ্লাইট নম্বর ও তারিখ দিয়ে বর্তমান অবস্থা দেখতে পারেন।
প্রশ্ন: অনলাইন চেক-ইন আর টিকেট চেক কি এক জিনিস?
উত্তর: না। টিকেট চেক মানে বুকিং সঠিক আছে কিনা যাচাই করা — টিকিট কাটার পর যেকোনো সময় করা যায়। অনলাইন চেক-ইন হলো যাত্রার ২৪-৪৮ ঘণ্টা আগে বোর্ডিং পাস নেওয়ার প্রক্রিয়া।
প্রশ্ন: এজেন্সি PNR দিতে চাইছে না, কী করবো?
উত্তর: PNR জানা আপনার অধিকার। জোরালোভাবে চান — বৈধ এজেন্সি কখনো PNR দিতে আপত্তি করে না। তারপরও না দিলে এটা প্রতারণার লক্ষণ; টাকা ফেরত চান এবং প্রয়োজনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সাহায্য নিন।
প্রশ্ন: টিকিটের PDF বা PNR হারিয়ে গেলে কী করবো?
উত্তর: চিন্তার কিছু নেই। যে এজেন্সি থেকে টিকিট কিনেছেন তার কাছে PNR চেয়ে নিন, অথবা ইউএস-বাংলার হটলাইনে ফোন করে নাম ও পাসপোর্ট নম্বর বলে বুকিং খুঁজে বের করুন। তারপর ওয়েবসাইট থেকে ই-টিকিট আবার ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।
প্রশ্ন: একই PNR-এ পরিবারের সবাই থাকলে কি আলাদা চেক করতে হবে?
উত্তর: না। একসাথে বুকিং হলে সবার একই PNR হয় — একবার চেক করলেই সব যাত্রীর নাম দেখা যাবে। আলাদা আলাদা টিকিট কাটা হলে প্রতিটার PNR আলাদা হবে।
শেষ কথা
ইউএস-বাংলার টিকিট হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই PNR দিয়ে অনলাইনে যাচাই করে নেওয়ার অভ্যাস করুন। মাত্র কয়েক মিনিটের এই যাচাই আপনাকে ভুয়া টিকিটের প্রতারণা থেকে বাঁচাবে, আর যাত্রার দিন নামের বানান বা সময় নিয়ে অপ্রত্যাশিত ঝামেলাও এড়াতে পারবেন। এই পোস্টটা শেয়ার করে রাখুন — যাদের শিগগিরই ফ্লাইট আছে, তাদের কাজে লাগবে।
আরও পড়ুন: পাসপোর্ট নাম্বার দিয়ে বিমানের টিকেট চেক করার নিয়ম | ফ্লাইট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম | অনলাইনে বিমানের টিকিট কাটার নিয়ম | বিমানের টিকিট সস্তায় পাওয়ার উপায় | এয়ারপোর্টে যাওয়ার আগে চেকলিস্ট
১৫
২৫ মন্তব্য