Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:০৮ অপরাহ্ণ

শাপলা পাতা মাছ (Stingray)

শাপলা পাতা মাছ (Stingray / Ray Fish)

​শাপলা পাতা মাছ হলো তরুণাস্থিযুক্ত (Cartilaginous) সামুদ্রিক ও উপকূলীয় মাছের একটি প্রজাতি। দেখতে গোলাকার বা ডিশের মতো চ্যাপ্টা এবং জাতীয় ফুল শাপলার পাতার মতো আকৃতির হওয়ায় বাংলায় একে ‘শাপলা পাতা মাছ’ বা ‘পাতা মাছ’ বলা হয়। ইংরেজি ভাষায় একে ‘স্টিংরে’ (Stingray) নামে ডাকা হয়।


​শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য:

​আকৃতি: এদের শরীর চ্যাপ্টা ও বৃত্তাকার। পাখনার দুই পাশ ছড়ানো থাকে, যা সাঁতার কাটার সময় ঢেউয়ের মতো দোলে।


​চোখ ও ফুলকা: এদের চোখগুলো মাথার উপরের অংশে থাকে, যার সাহায্যে তারা কাদা বা বালুর নিচে লুকিয়ে থেকেও চারপাশ দেখতে পায়। শ্বাসনালী ও ফুলকা শরীরের নিচের অংশে অবস্থিত।


​লেজ ও বিষাক্ত কাঁটা: লেজটি সরু ও চাবুকের মতো লম্বা। লেজের গোড়ায় বা মাঝামাঝি অংশে একটি বা একাধিক ধারালো, বিষাক্ত কাঁটা (Stinger) থাকে। আত্মরক্ষার সময় এরা লেজ দিয়ে আঘাত করে প্রতিপক্ষকে আহত বা বিষাক্ত করতে পারে।


​ত্বক: এদের ত্বক বেশ শক্ত ও অমসৃণ। কিছু প্রজাতির গায়ে গোল গোল ছোপ ছোপ দাগ বা নকশা থাকে।


​বাসস্থান ও স্বভাব:

​বাসস্থান: শাপলা পাতা মাছ সাধারণত সমুদ্র, নদীর মোহনা এবং অগভীর উপকূলীয় অঞ্চলে বাস করে। সুন্দরবনের নদী ও খাঁড়ির কাদা বা বালুময় তলদেশে এদের প্রচুর পরিমাণে দেখা যায়।


​জীবনযাপন: এরা বেশিরভাগ সময় নদী বা সমুদ্রের তলদেশের কাদা ও বালুর নিচে শরীর ঢেকে আত্মগোপন করে থাকে।


​খাদ্যাভ্যাস: এরা মূলত শিকারি মাছ। কাদা ও বালুর নিচে থাকা ছোট মাছ, চিংড়ি, কাঁকড়া ও সামুদ্রিক শামুক-ঝিনুক খেয়ে বেঁচে থাকে।


​গুরুত্ব ও সতর্কতা:

​খাদ্য হিসেবে: বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চল (যেমন—কক্সবাজার, পটুয়াখালী, সুন্দরবন সংলগ্ন এলাকা) এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শাপলা পাতা মাছের মাংস বেশ জনপ্রিয়।


​বিপদ ও ঝুঁকি: দুর্ঘটনাবশত জলের নিচে এদের গায়ে পা পড়লে বা এরা হুমকির মুখে পড়লে লেজের বিষাক্ত কাঁটা দিয়ে আঘাত করতে পারে। এদের কাঁটার বিষ অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক এবং কখনো কখনো বিপজ্জনক হতে পারে।

মন্তব্য করুন

ব্লগ