Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:০৯ পূর্বাহ্ণ

ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক ২০২৬ - E Passport Check Bangladesh অনলাইনে করার নিয়ম

👉 এক ক্লিকে ই পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করুন

👉 ই পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করুন এক ক্লিকে

👉 E Passport Check in Bangladesh






































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































































পাসপোর্টের জন্য আবেদন করে ফেলেছেন, বায়োমেট্রিকও দিয়ে এসেছেন — এখন মনের মধ্যে একটাই প্রশ্ন ঘুরছে: পাসপোর্টটা আসলে কোন পর্যায়ে আছে? তৈরি হলো কিনা, নাকি কোথাও আটকে আছে? কয়েক বছর আগেও এই প্রশ্নের উত্তর পেতে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে লাইনে দাঁড়াতে হতো। এখন আর সেই ঝামেলা নেই। ঘরে বসে মোবাইল ফোন দিয়েই ই পাসপোর্ট চেক করা যায় — মাত্র দুই মিনিটে জেনে নেওয়া যায় আপনার পাসপোর্ট স্ট্যাটাস কী।


এই পোস্টে ধাপে ধাপে দেখাবো কীভাবে অনলাইনে e passport check bangladesh করবেন, প্রতিটি স্ট্যাটাসের অর্থ কী, স্ট্যাটাস কোথাও আটকে থাকলে কী করবেন, SMS দিয়ে চেক করার উপায়, বিদেশে থাকা প্রবাসীদের জন্য বিশেষ নোট, আর পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় কী কী লাগবে। পাসপোর্ট স্ট্যাটাস নিয়ে এরপর আর অন্য কোথাও খুঁজতে হবে না।


ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক কী এবং কেন করবেন


ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক মানে আপনার পাসপোর্ট আবেদনটি বর্তমানে কোন ধাপে আছে, সেটা অনলাইনে দেখে নেওয়া। তথ্য যাচাই, পুলিশ ভেরিফিকেশন, অনুমোদন, প্রিন্টিং, মান নিয়ন্ত্রণ — প্রতিটি ধাপ শেষ হলে সিস্টেমে স্ট্যাটাস আপডেট হয়।


নিয়মিত স্ট্যাটাস চেক করলে পাসপোর্ট তৈরি হলেই জানতে পারবেন — অফিসের SMS-এর অপেক্ষায় বসে থাকতে হবে না। আবেদন কোথাও আটকে থাকলে তাড়াতাড়ি ধরা পড়ে, ফলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়। আর নিজেই অফিসিয়াল তথ্য দেখতে পারলে ভুয়া দালালের খপ্পরে পড়ার ঝুঁকিও কমে।


অনলাইনে ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করার নিয়ম


অনলাইনে পাসপোর্ট স্ট্যাটাস দেখা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, আর যতবার খুশি চেক করা যায়। নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন।


ধাপ ১: অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে যান

মোবাইল বা কম্পিউটারের ব্রাউজারে যান বাংলাদেশ সরকারের অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে — www.epassport.gov.bd। মনে রাখবেন, পাসপোর্টের তথ্য শুধু অফিসিয়াল পোর্টালেই দেখবেন। গুগলে সার্চ দিয়ে আসা অচেনা কোনো সাইটে আপনার Application ID বা জন্মতারিখ দেবেন না। পোর্টালের মেনু বা বাটনের নাম সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে, তাই ঠিক নাম না মিললেও ঘাবড়াবেন না — পোর্টালের ভেতরে "স্ট্যাটাস" জাতীয় অপশন খুঁজুন।


ধাপ ২: Check Status বা Application Status অপশনে ক্লিক করুন

পোর্টালের মেনু থেকে Check Status (কোথাও Application Status নামেও থাকতে পারে) অপশনে যান। এখানেই পাসপোর্ট ট্র্যাকিংয়ের ফর্ম পাবেন।


ধাপ ৩: Application ID বা Online Registration ID দিন

ফর্মের প্রথম ঘরে আপনার Application ID অথবা Online Registration ID লিখুন। দুটোর যেকোনো একটা দিলেই চলবে। এই নম্বরগুলো পাবেন পাসপোর্ট অফিস থেকে দেওয়া ডেলিভারি স্লিপ বা আবেদনের রসিদে।


ধাপ ৪: জন্মতারিখ নির্বাচন করুন

আবেদন করার সময় যে জন্মতারিখ দিয়েছিলেন, ঠিক সেটাই এখানে বসান। একদিন এদিক-ওদিক হলেও রেকর্ড পাওয়া যাবে না।


ধাপ ৫: ক্যাপচা পূরণ করুন

"I am human" ঘরে টিক দিন বা দেখানো ক্যাপচাটি পূরণ করুন। এটা করা হয় যাতে স্বয়ংক্রিয় বট দিয়ে কেউ তথ্য তুলতে না পারে।


ধাপ ৬: Check বোতামে ক্লিক করুন

সব তথ্য ঠিকঠাক দিয়ে Check বোতামে চাপ দিলেই স্ক্রিনে আপনার পাসপোর্টের বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যাবে — ইংরেজিতে লেখা থাকবে, যেমন "Enrolment in Process" বা "Ready for Delivery"। নিচের টেবিল থেকে জেনে নিন কোন স্ট্যাটাসের মানে কী।


Application ID ও Online Registration ID কোথায় পাবেন


স্ট্যাটাস চেকের জন্য সবচেয়ে জরুরি জিনিস হলো সঠিক আইডি নম্বর। অনেকেই এখানে গুলিয়ে ফেলেন, তাই বিষয়টা পরিষ্কার করে নিই।


Application ID — অনলাইনে আবেদন সাবমিট করার পর যে রসিদ বা ডেলিভারি স্লিপ পেয়েছেন, সেখানেই এই নম্বরটা লেখা থাকে। পাসপোর্ট অফিসে বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন যে স্লিপটা হাতে পান, সেটাই ডেলিভারি স্লিপ। এই স্লিপটা পাসপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত যত্নে রাখুন।


Online Registration ID (OID) — অনলাইনে আবেদন ফর্ম পূরণের সময় তৈরি হওয়া রেজিস্ট্রেশন নম্বর। আবেদনের কনফার্মেশন পেজ বা ইমেইলে এটা পাওয়া যায়।


Enrollment ID — পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি তোলা ও আঙুলের ছাপ (বায়োমেট্রিক) দেওয়ার সময় যে নম্বর দেওয়া হয়। SMS-এর মাধ্যমে চেক করতে গেলে সাধারণত এই নম্বরটাই লাগে।


ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে ফেললে আতঙ্কিত হবেন না। জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন — তারা রেকর্ড দেখে আপনার আবেদন শনাক্ত করতে পারবে। তবে এতে সময় নষ্ট হয়, তাই স্লিপের একটা ছবি তুলে মোবাইলে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।


ই-পাসপোর্টের প্রতিটি স্ট্যাটাসের অর্থ


স্ট্যাটাস চেক করার পর ইংরেজিতে একটা ধাপের নাম দেখাবে। নিচের টেবিলে প্রতিটি স্ট্যাটাসের বাংলা অর্থ দেওয়া হলো। মনে রাখবেন, পোর্টালে স্ট্যাটাসের ঠিকঠাক শব্দবিন্যাস সময়ের সঙ্গে কিছুটা বদলাতে পারে — তবে ধাপগুলো সাধারণত এই ক্রমেই থাকে।


স্ট্যাটাস

অর্থ

Application Submitted

অনলাইনে আবেদন জমা হয়েছে। এখনো পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে কাগজপত্র ও বায়োমেট্রিক দেওয়া বাকি।

Appointment Scheduled

পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার তারিখ ও সময় নির্ধারিত হয়েছে। ওই দিনে গিয়ে ছবি, আঙুলের ছাপ ও কাগজপত্র জমা দিতে হবে।

Enrolment in Process

অফিসে আপনার আবেদনপত্র ও কাগজপত্র যাচাই করা হচ্ছে। কাগজ ঠিক থাকলে এই ধাপ সাধারণত কয়েকদিনে শেষ হয়।

Pending SB/DSB Police Clearance

পুলিশ ভেরিফিকেশন চলছে। নতুন আবেদনে সাধারণত বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা — দুই জায়গাতেই থানা-পুলিশের মাধ্যমে যাচাই হয়।

Pending for AD/DD Approval (Final Approval)

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালক বা উপ-পরিচালকের অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে। অনুমোদন পেলেই আবেদন প্রিন্টের জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

Pending for Backend Verification

কেন্দ্রীয় সিস্টেমে আপনার তথ্য যাচাই করা হচ্ছে — নাম, ঠিকানা, জন্মতারিখ ঠিক আছে কিনা, আগে কোনো পাসপোর্টের সঙ্গে অমিল আছে কিনা।

Approved

আবেদন অনুমোদিত হয়েছে। এখন প্রিন্টিংয়ের জন্য পাঠানো হবে।

Pending for Print Queue

প্রিন্টিং শাখায় ছাপার অপেক্ষায় আছে। বইয়ের মজুত ও মেশিনের অবস্থার ওপর এই ধাপের সময় নির্ভর করে।

Printing in Process / Printing Succeeded

পাসপোর্ট ছাপা হচ্ছে বা সফলভাবে ছাপা হয়ে গেছে। ছাপার পর মান নিয়ন্ত্রণ (QC) শাখায় পাঠানো হয়।

QC Succeed, Ready for Dispatch

মান যাচাই শেষ। এখন পাসপোর্টটি আপনার আঞ্চলিক অফিসে পাঠানোর জন্য প্রস্তুত।

Passport is Ready, Pending for Issuance

পাসপোর্ট আপনার অফিসে পৌঁছানোর পথে বা পৌঁছে গেছে। সংগ্রহের জন্য প্রায় প্রস্তুত।

Ready for Delivery / Passport Issued

পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য প্রস্তুত, অথবা ইতিমধ্যে ডেলিভারি দেওয়া হয়েছে।


এই তালিকা দেখে বুঝতেই পারছেন, "Pending" মানেই খারাপ কিছু নয় — বেশিরভাগ "Pending" স্ট্যাটাসই স্বাভাবিক প্রক্রিয়ার অংশ। তবে কোনো একটা ধাপে অস্বাভাবিক বেশি সময় আটকে থাকলে সেটা খেয়াল করা দরকার।


পাসপোর্ট স্ট্যাটাস আটকে থাকলে করণীয়


অনেকের অভিযোগ — স্ট্যাটাস সপ্তাহের পর সপ্তাহ একই জায়গায় আটকে আছে। নিচের টেবিলে দেখুন কোন ধাপে কতদিন পর চিন্তা করা উচিত, আর তখন কী করবেন।


আটকে থাকা স্ট্যাটাস

কখন উদ্বিগ্ন হবেন

করণীয়

Enrolment in Process

৫–৭ কর্মদিবসের বেশি

সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসের হেল্পডেস্কে যোগাযোগ করুন। কাগজপত্রে কোনো ত্রুটি আছে কিনা জেনে নিন।

Pending Police Clearance

১০–১২ দিনের বেশি

আপনার থানায় যোগাযোগ করুন। অনেক সময় তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করে প্রয়োজনীয় কাগজ (NID-এর ফটোকপি, ঠিকানার প্রমাণ) জমা দিলে কাজ দ্রুত হয়।

Pending for Final Approval

২ সপ্তাহের বেশি

আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে AD/DD শাখায় খোঁজ নিন। পুলিশ রিপোর্ট অফিসে পৌঁছেছে কিনা, সেটা নিশ্চিত করুন।

Pending for Backend Verification

৭ দিনের বেশি

সাধারণত নিজে নিজেই ঠিক হয়। তবে দীর্ঘদিন থাকলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন — তথ্যে অমিল থাকলে সংশোধনের নির্দেশনা পাবেন।

Printing / Print Queue

২–৩ সপ্তাহের বেশি

এটা কেন্দ্রীয় প্রিন্টিং শাখার কাজ, আঞ্চলিক অফিসে খোঁজ নিলে বর্তমান অবস্থা জানা যায়।

Passport is Ready দীর্ঘদিন

SMS না পেলে ২–৩ কর্মদিবস অপেক্ষা করে

অফিসে গিয়ে ডেলিভারি স্লিপ দেখিয়ে খোঁজ নিন। কখনো কখনো SMS না এলেও পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছে যায়।


মনে রাখবেন, শুক্র-শনিবার ও সরকারি ছুটি কর্মদিবস হিসেবে ধরা হয় না। আর ভর্তি মৌসুম বা হজের আগে-পরে আবেদনের চাপ বেশি থাকে — তখন সব ধাপেই একটু বেশি সময় লাগা স্বাভাবিক।


দালালের মাধ্যমে "দ্রুত করিয়ে দেওয়ার" প্রলোভনে পা দেবেন না — টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার ঘটনা প্রায়ই শোনা যায়। অফিসিয়াল পথেই সমস্যার সমাধান করুন।


SMS-এর মাধ্যমে পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক


ইন্টারনেট না থাকলে বা পোর্টালে ঢুকতে সমস্যা হলে মোবাইলে SMS পাঠিয়েও স্ট্যাটাস জানা যায়। বিভিন্ন তথ্যসূত্রে প্রচলিত ফরম্যাটটি হলো: মেসেজ অপশনে গিয়ে MRP লিখে একটা স্পেস দিয়ে আপনার Enrollment ID লিখে পাঠিয়ে দিন নির্ধারিত নম্বরে (বিভিন্ন সূত্রে 6969 নম্বরের কথা বলা হয়েছে)। কিছুক্ষণের মধ্যে ফিরতি SMS-এ আপনার পাসপোর্টের বর্তমান অবস্থা জানিয়ে দেওয়া হয়।


তবে সতর্কতা: SMS সেবার ফরম্যাট, নম্বর বা চার্জ বদলাতে পারে — তাই পাঠানোর আগে অফিসিয়াল পোর্টাল থেকে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করে নিন। নির্ভরযোগ্য ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য অনলাইন পোর্টালেই চেক করা সবচেয়ে ভালো।


প্রবাসীদের জন্য বিশেষ নোট: বিদেশ থেকে স্ট্যাটাস চেক


সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, কুয়েত, ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা বাংলাদেশিরা স্থানীয় বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে পাসপোর্টের আবেদন করেন। আপনাদের জন্য কয়েকটা জরুরি নোট:


অনলাইনে চেক করা যায়: দূতাবাসে আবেদন করলেও স্ট্যাটাস দেখার পদ্ধতি একই। দূতাবাস থেকে দেওয়া রসিদে থাকা Application ID বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে চেক করুন। পোর্টালটি বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যায়।


সময় বেশি লাগতে পারে: বিদেশে আবেদন করা পাসপোর্ট সাধারণত ঢাকায় প্রিন্ট হয়ে আবার সংশ্লিষ্ট দূতাবাসে পাঠানো হয়। এই আসা-যাওয়ার কারণে দেশে আবেদনের তুলনায় ডেলিভারিতে বেশি সময় লাগা স্বাভাবিক।


দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ: স্ট্যাটাস দীর্ঘদিন আটকে থাকলে বা "Ready for Delivery" দেখানোর পরও খবর না পেলে দূতাবাসের পাসপোর্ট উইং বা কনস্যুলার শাখায় যোগাযোগ করুন। অনেক দূতাবাসের নিজস্ব হটলাইন বা ফেসবুক পেজে নোটিশ দেওয়া হয় — সেগুলোতে চোখ রাখুন।


সংগ্রহের সময়: পাসপোর্ট আনতে যাওয়ার সময় পুরনো পাসপোর্ট (যদি থাকে), দূতাবাসের রসিদ ও পরিচয়পত্র সঙ্গে নিন। দূতাবাসভেদে নিয়মে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে, তাই যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ওয়েবসাইট বা নোটিশ দেখে নিন।


পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় যা যা লাগবে


"Ready for Delivery" বা "Passport is Ready" স্ট্যাটাস দেখলেই বুঝবেন পাসপোর্ট অফিসে পৌঁছে গেছে। সংগ্রহ করতে যাওয়ার সময় এগুলো সঙ্গে রাখুন:


  • ডেলিভারি স্লিপ — আবেদনের সময় পাওয়া রসিদ। এটা ছাড়া পাসপোর্ট দেওয়া হয় না, তাই কোনোভাবেই হারাবেন না।

  • জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) — পরিচয় যাচাইয়ের জন্য লাগতে পারে।

  • পুরনো পাসপোর্ট — রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পুরনো পাসপোর্ট সঙ্গে নিতে হয়; অনেক সময় পুরনোটা বাতিল করে ফেরত দেওয়া হয়।


নিজে যেতে না পারলে প্রতিনিধির মাধ্যমে সংগ্রহের নিয়ম অফিসভেদে ভিন্ন হতে পারে — সাধারণত লিখিত অনুমতিপত্র চাওয়া হয়। যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট অফিস থেকে নিয়মটা জেনে নিন।


পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার সময় অফিসেই সব তথ্য মিলিয়ে দেখুন — নামের বানান, জন্মতারিখ, ছবি। কোনো ভুল চোখে পড়লে তখনই জানান, পরে সংশোধন করতে বাড়তি ঝামেলা ও সময় লাগে। সংগ্রহের সময় সাধারণত আঙুলের ছাপ বা স্বাক্ষর নেওয়া হয়, তারপর সিস্টেমে "Delivered" হিসেবে আপডেট হয়।


পাসপোর্ট ডেলিভারি পেতে কতদিন লাগে


পাসপোর্ট হাতে পেতে কতদিন লাগবে? নিচের সময়গুলো আনুমানিক — পুলিশ ভেরিফিকেশনের গতি, ছুটির দিন ও আবেদনের চাপে কমবেশি হতে পারে।


ডেলিভারির ধরন

আনুমানিক সময়

মন্তব্য

সাধারণ (Regular)

প্রায় ১৫ কর্মদিবস

বায়োমেট্রিক দেওয়ার দিন থেকে গণনা শুরু হয়।

জরুরি (Express)

প্রায় ৭ কর্মদিবস

জরুরি ফি দিয়ে আবেদন করলে দ্রুত প্রক্রিয়া হয়।

প্রবাসী আবেদন (দূতাবাস)

দেশের চেয়ে বেশি

প্রিন্ট হয়ে দূতাবাসে পৌঁছাতে অতিরিক্ত সময় লাগে।


এগুলো লক্ষ্যমাত্রা — গ্যারান্টি নয়। ভ্রমণের তারিখ ঠিক করার আগে হাতে যথেষ্ট সময় রাখুন।


সাধারণ সমস্যা ও দ্রুত সমাধান


স্ট্যাটাস চেক করতে গিয়ে যেসব সমস্যা সবচেয়ে বেশি হয়, সেগুলোর সমাধান একনজরে:


সমস্যা

সম্ভাব্য কারণ

সমাধান

"Record not found" বা "Invalid ID" দেখাচ্ছে

Application ID ভুল টাইপ হয়েছে

ডেলিভারি স্লিপ থেকে নম্বরটি হুবহু কপি করে আবার চেষ্টা করুন। শূন্য (0) আর অক্ষর O গুলিয়ে ফেলা খুবই সাধারণ ভুল।

জন্মতারিখ মিলছে না

আবেদনে ভিন্ন তারিখ দেওয়া ছিল

NID বা জন্মনিবন্ধনে যে তারিখ আছে, সেটা দিয়ে চেষ্টা করুন। তাও না মিললে অফিসে যোগাযোগ করুন।

ওয়েবসাইট খুলছে না

সার্ভার ব্যস্ত বা রক্ষণাবেক্ষণ চলছে

কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন। ভিন্ন ব্রাউজার বা মোবাইল ডেটা দিয়ে দেখুন।

ক্যাপচা আসছে না বা যাচাই হচ্ছে না

ব্রাউজার সমস্যা বা ধীর ইন্টারনেট

পেজ রিফ্রেশ করুন, ব্রাউজারের ক্যাশ পরিষ্কার করুন, অথবা অন্য ব্রাউজারে চেষ্টা করুন।

ডেলিভারি স্লিপ হারিয়ে গেছে

—

NID নিয়ে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যান। ভবিষ্যতের জন্য স্লিপের ছবি তুলে রাখুন।

একই স্ট্যাটাস অনেকদিন ধরে

স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বা কোথাও আটকে আছে

ওপরের "আটকে থাকলে করণীয়" টেবিল অনুযায়ী ব্যবস্থা নিন।


ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস নিয়ে প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন


প্রশ্ন: অনলাইনে ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করতে কি কোনো ফি লাগে?

উত্তর: না। অফিসিয়াল পোর্টালে স্ট্যাটাস চেক সম্পূর্ণ বিনামূল্যে, যতবার খুশি দেখতে পারেন। SMS-এ চেক করলে মোবাইল অপারেটর চার্জ কাটতে পারে।


প্রশ্ন: Application ID ছাড়া কি পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করা যায়?

উত্তর: না। Application ID, Online Registration ID বা Enrollment ID — এর যেকোনো একটা ছাড়া সিস্টেম আপনার আবেদন খুঁজে পাবে না। আইডি হারিয়ে গেলে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।


প্রশ্ন: "Pending for Backend Verification" মানে কি আমার আবেদনে সমস্যা আছে?

উত্তর: সাধারণত না — এটা রুটিন যাচাই। কয়েকদিনের মধ্যে নিজে নিজেই পরের ধাপে চলে যায়। এক সপ্তাহের বেশি আটকে থাকলে অফিসে খোঁজ নিন।


প্রশ্ন: পাসপোর্ট রি-ইস্যু করলে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়?

উত্তর: সাধারণত রি-ইস্যুতে নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না, তবে ঠিকানা বদলের মতো বড় পরিবর্তন থাকলে লাগতে পারে।


প্রশ্ন: "Ready for Delivery" দেখানোর কতদিন পর পাসপোর্ট আনতে যাবো?

উত্তর: স্ট্যাটাস দেখামাত্রই যেতে পারেন, তবে অনেক অফিস SMS পাঠায়। SMS না এলেও ২–৩ কর্মদিবস অপেক্ষা করে ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে অফিসে যান।


প্রশ্ন: বিদেশে বসে কি ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক করা যায়?

উত্তর: হ্যাঁ, যায়। অনলাইন পোর্টাল বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে ব্যবহার করা যায়। শুধু দরকার সঠিক Application ID ও জন্মতারিখ।


প্রশ্ন: স্ট্যাটাসে আমার নাম বা তথ্য ভুল দেখাচ্ছে, কী করবো?

উত্তর: দ্রুত সংশ্লিষ্ট পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন। প্রিন্টিংয়ের আগে ভুল ধরা পড়লে সংশোধন সহজ; ছাপা হয়ে গেলে সংশোধনে নতুন করে আবেদন করতে হতে পারে।

শেষ কথা

ই-পাসপোর্ট স্ট্যাটাস চেক এখন এতটাই সহজ যে অফিসে গিয়ে খোঁজ নেওয়ার দিন শেষ। Application ID আর জন্মতারিখ হাতে থাকলেই যেকোনো সময় জেনে নিতে পারবেন পাসপোর্ট কোন ধাপে আছে — ফলে অযথা দুশ্চিন্তা কমবে, আর কোথাও আটকে থাকলে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।


পাসপোর্ট-সংক্রান্ত আরও দরকারি গাইড আমাদের পাসপোর্ট ক্লাস্টারে পাবেন — ই-পাসপোর্ট আবেদনের নিয়ম, ফি ও ডেলিভারি সময়, ভুল তথ্য সংশোধন, আর পাসপোর্ট দিয়ে বিমানের টিকেট যাচাইয়ের মতো বিষয়। পাসপোর্ট হাতে পাওয়ার পর ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে সেগুলোও দেখে নিতে পারেন।


একটা কথা মনে রাখবেন: ফি, হটলাইন নম্বর বা প্রক্রিয়ার সময় সময়ের সঙ্গে বদলাতে পারে। তাই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের অফিসিয়াল পোর্টাল (epassport.gov.bd) থেকে হালনাগাদ তথ্য যাচাই করে নিন।

মন্তব্য করুন