সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৬ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে: ই-পাসপোর্টের সম্পূর্ণ কাগজপত্রের তালিকা (২০২৬)
👉 এক ক্লিকে দেখুন পাসপোর্ট করতে কি কি লাগে
👉 ই পাসপোর্ট করতে কী কী কাগজপত্র লাগে দেখতে ক্লিক করুন
👉 বাংলাদেশের ই পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজের তালিকা দেখুন
বিদেশে পড়াশোনা, চাকরি, চিকিৎসা কিংবা ভ্রমণ — যেকোনো প্রয়োজনে এখন পাসপোর্ট ছাড়া ভাবাই যায় না। বাংলাদেশে এখন সব নতুন পাসপোর্টই ই-পাসপোর্ট হিসেবে দেওয়া হয়, আর আবেদন শুরু করা যায় ঘরে বসেই অনলাইনে। কিন্তু অনেকেরই সবচেয়ে বড় দ্বিধা থাকে — পাসপোর্ট করতে ঠিক কোন কোন কাগজপত্র লাগে?
এই গাইডে প্রাপ্তবয়স্ক, শিশু, শিক্ষার্থী, সরকারি চাকরিজীবী ও প্রবাসীদের জন্য আলাদা আলাদা প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা, ফি-এর ক্যাটাগরি, বায়োমেট্রিকের নিয়ম এবং অনলাইনে আবেদনের ধাপগুলো এক জায়গায় তুলে ধরা হলো। যারা ইংরেজিতে খুঁজছেন, তাদের জন্য বলি — এটি বাংলাদেশের ই-পাসপোর্টের (passport requirements Bangladesh) সবচেয়ে হালনাগাদ বাংলা চেকলিস্ট।
পাসপোর্ট করতে কী কী লাগে
প্রথমে মূল তালিকাটা দেখে নিন, বিস্তারিত নিচে আলোচনা করা হয়েছে।
কাগজপত্র | কাদের জন্য |
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) | ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সীদের জন্য |
ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন সনদ | ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য (২০ বছরের নিচে NID না থাকলে) |
অনলাইন আবেদনের সামারি ও রেজিস্ট্রেশন ফরমের প্রিন্ট কপি | সবার জন্য বাধ্যতামূলক |
ফি পরিশোধের রশিদ (এ-চালান/ই-চালান বা অনলাইন পেমেন্ট স্লিপ) | সবার জন্য বাধ্যতামূলক |
পুরনো পাসপোর্ট (যদি থাকে) | রি-ইস্যু/নবায়নের ক্ষেত্রে |
ঠিকানার প্রমাণ (ইউটিলিটি বিল, চেয়ারম্যান সনদ) | প্রয়োজন অনুযায়ী |
পেশার প্রমাণপত্র | শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, পেশাজীবীদের জন্য |
কাবিননামা | বিবাহিত আবেদনকারীর ক্ষেত্রে |
GO/NOC | সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য |
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
যাদের বয়স ১৮ বছর বা তার বেশি, তাদের নতুন ই-পাসপোর্টের আবেদনে নিচের কাগজপত্রগুলো লাগে।
পরিচয়ের প্রমাণ (বাধ্যতামূলক)
জাতীয় পরিচয়পত্র (NID): আসল কার্ড ও ফটোকপি সঙ্গে নিন। ২০ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে NID ছাড়া আবেদন গ্রহণ করা হয় না।
জন্ম নিবন্ধন সনদ: যাদের NID এখনো হয়নি (বিশেষ করে ১৮–২০ বছর বয়সী), তাদের ক্ষেত্রে অনলাইন যাচাইকৃত জন্ম নিবন্ধন সনদ গ্রহণ করা হয়।
মনে রাখবেন, NID বা জন্ম নিবন্ধনে যে নাম, জন্ম তারিখ ও বাবা-মায়ের নাম আছে, অনলাইন ফরমে হুবহু একই তথ্য দিতে হবে। এক অক্ষরের অমিলও পরে ভোগান্তির কারণ হয়।
আবেদন সংক্রান্ত কাগজ
অনলাইন আবেদনের সামারি (Application Summary): ফরম পূরণ শেষে যে সারাংশ পাওয়া যায়, সেটির প্রিন্ট কপি।
রেজিস্ট্রেশন ফরম: অনলাইনে পূরণ করা পূর্ণ আবেদন ফরমের প্রিন্ট (সাধারণত কয়েক পৃষ্ঠার হয়)।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট শিডিউল: পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার তারিখ ও সময়ের স্লিপ — যেখানে অ্যাপয়েন্টমেন্ট সিস্টেম চালু আছে সেখানে লাগে।
ফি পরিশোধের রশিদ: ব্যাংকের এ-চালান/ই-চালান অথবা অনলাইন পেমেন্টের স্লিপ। অফলাইনে এ-চালানের মাধ্যমে ফি জমা দেওয়াকে অনেকে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করেন।
ঠিকানার প্রমাণ
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ: বিদ্যুৎ বিল, গ্যাস বিল বা পানির বিলের কপি। ভাড়া বাসায় থাকলে বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ঠিকানার প্রত্যয়নপত্র রাখতে পারেন।
স্থায়ী ঠিকানার প্রমাণ: NID-এর ঠিকানার সঙ্গে মিল না থাকলে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলরের দেওয়া নাগরিকত্ব সনদ লাগতে পারে।
পেশা অনুযায়ী অতিরিক্ত কাগজ
পেশা | যা লাগতে পারে |
শিক্ষার্থী | শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রত্যয়নপত্র বা শেষ পরীক্ষার সনদ |
বেসরকারি চাকরিজীবী | অফিসের পরিচয়পত্র (আইডি কার্ড) বা নিয়োগপত্র |
সরকারি চাকরিজীবী | অনাপত্তিপত্র (NOC) বা সরকারি আদেশ (GO) |
চিকিৎসক/প্রকৌশলী/পেশাজীবী | সংশ্লিষ্ট পেশাগত সনদপত্র |
ব্যবসায়ী | ট্রেড লাইসেন্সের কপি |
শিশু ও ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিশেষ নিয়ম
অপ্রাপ্তবয়স্কদের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে কিছু বাড়তি কাগজপত্র লাগে:
জন্ম নিবন্ধন সনদ: ইংরেজি সংস্করণসহ অনলাইন যাচাইকৃত ডিজিটাল জন্ম নিবন্ধন বাধ্যতামূলক।
বাবা-মায়ের NID: পিতা ও মাতা — দুজনের জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি লাগে।
ছবি (৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য): ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে পাসপোর্ট সাইজের ও 3R সাইজের ম্যাট পেপারে রঙিন ছবি সঙ্গে নিতে হয়। ৬ বছরের বেশি বয়সীদের ছবি পাসপোর্ট অফিসেই তোলা হয়।
মেয়াদ: ১৮ বছরের কম বয়সীদের পাসপোর্টের মেয়াদ সর্বোচ্চ ৫ বছর হয়; ১০ বছরের মেয়াদি পাসপোর্ট শুধু প্রাপ্তবয়স্করা পান।
বিবাহিত, তালাকপ্রাপ্ত বা বিধবা আবেদনকারীর ক্ষেত্রে
বিবাহিত হলে: কাবিননামা বা নিকাহনামার কপি সঙ্গে রাখুন। স্বামী/স্ত্রীর নাম পাসপোর্টে যুক্ত করতে চাইলে এটি লাগে।
তালাকপ্রাপ্ত হলে: তালাকনামার কপি লাগতে পারে, বিশেষ করে বৈবাহিক অবস্থার তথ্য হালনাগাদ করতে।
বিধবা হলে: স্বামীর মৃত্যু সনদের কপি প্রয়োজন হতে পারে।
সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য NOC ও GO
সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান বা রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাসপোর্ট করতে হলে সাধারণ কাগজপত্রের পাশাপাশি অনাপত্তিপত্র (NOC) অথবা সরকারি আদেশ (GO) লাগে। সরকারি কাজে বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে GO-এর ভিত্তিতে অফিসিয়াল পাসপোর্টও ইস্যু করা হয়। NOC নেওয়ার নিয়ম প্রতিষ্ঠানভেদে আলাদা হতে পারে, তাই আগে নিজের দপ্তর থেকে জেনে নিন।
NID বা জন্ম নিবন্ধনে ভুল থাকলে আগে যা করবেন
পাসপোর্টের আবেদনে সবচেয়ে বেশি আটকে যায় তারা, যাদের NID বা জন্ম নিবন্ধনে নামের বানান, জন্ম তারিখ বা বাবা-মায়ের নামে ভুল আছে। কারণ পাসপোর্টে ঠিক সেই তথ্যই ছাপা হয় যা NID/জন্ম নিবন্ধনে আছে — পাসপোর্ট অফিস নিজে থেকে কিছু বদলায় না।
তাই আবেদনের আগে এই তিনটি জিনিস মিলিয়ে নিন:
NID-এর তথ্য: নিজের নাম, জন্ম তারিখ, বাবা ও মায়ের নাম — সব ঠিক আছে কি না দেখুন।
জন্ম নিবন্ধন: অনলাইনে যাচাই করা যায় কি না নিশ্চিত হোন; হাতে লেখা পুরনো সনদে কাজ হবে না, ডিজিটাল সংস্করণ লাগবে।
শিক্ষা সনদ: সার্টিফিকেটের নামের বানান NID-এর সঙ্গে মিলিয়ে নিন, কারণ ভবিষ্যতে ভিসা বা বিদেশে ভর্তির সময় এই অমিল বড় সমস্যা তৈরি করে।
ভুল পেলে আগে নির্বাচন কমিশন অফিসে গিয়ে NID সংশোধন করুন, তারপর পাসপোর্টের আবেদন করুন। ভুল তথ্য দিয়ে পাসপোর্ট করে ফেললে পরে সংশোধন করা অনেক বেশি ঝামেলার ও সময়সাপেক্ষ।
প্রবাসীদের জন্য পাসপোর্টের কাগজপত্র
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, কুয়েত, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশে বসবাসরত বাংলাদেশিরা সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেট থেকে পাসপোর্ট সেবা নিতে পারেন। সাধারণত যা লাগে:
বর্তমান পাসপোর্টের কপি (নবায়নের ক্ষেত্রে মূল পাসপোর্টসহ)
NID বা জন্ম নিবন্ধন সনদের কপি
সংশ্লিষ্ট দেশের বৈধ ভিসা/ইকামা/রেসিডেন্স পারমিটের কপি
অনলাইনে পূরণ করা আবেদন ফরমের প্রিন্ট
নির্ধারিত ফি পরিশোধের রশিদ
দূতাবাসভেদে কাগজপত্রের তালিকায় কিছু পার্থক্য থাকতে পারে, তাই আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট মিশনের ওয়েবসাইট বা নোটিশ বোর্ড থেকে সর্বশেষ তালিকা মিলিয়ে নিন।
ছবি ও বায়োমেট্রিক সংক্রান্ত নিয়ম
ই-পাসপোর্টের একটি বড় সুবিধা হলো — আবেদনের সঙ্গে কোনো ছবি সংযুক্ত করতে হয় না এবং কাগজপত্র সত্যায়নেরও প্রয়োজন নেই। পাসপোর্ট অফিসে এনরোলমেন্টের দিন আপনার:
ডিজিটাল ছবি তোলা হয়
দশ আঙুলের ছাপ নেওয়া হয়
চোখের আইরিশ স্ক্যান করা হয়
তবে ছবি তোলার দিন সাদা পোশাক এড়িয়ে যাওয়া ভালো, আর চশমা পরা থাকলে ছবির সময় খুলে রাখতে বলা হতে পারে। ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে আগে থেকে তোলা ছবি নিয়ে যেতে হয়, যেটা উপরে বলা হয়েছে।
ই-পাসপোর্ট ফি: ক্যাটাগরি অনুযায়ী
ফি নির্ভর করে পাসপোর্টের পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪), মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর) এবং ডেলিভারির ধরনের ওপর। ডেলিভারির তিনটি ক্যাটাগরি আছে — সাধারণ (রেগুলার), জরুরি (এক্সপ্রেস) ও অতি জরুরি (সুপার এক্সপ্রেস)। নিচের অঙ্কগুলো আনুমানিক; ফি মাঝেমধ্যে পরিবর্তন হয়, তাই জমা দেওয়ার আগে epassport.gov.bd থেকে সর্বশেষ ফি যাচাই করে নিন।
৪৮ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ফি (আনুমানিক)
মেয়াদ | সাধারণ | জরুরি | অতি জরুরি |
৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
৬৪ পৃষ্ঠার ই-পাসপোর্ট ফি (আনুমানিক)
মেয়াদ | সাধারণ | জরুরি | অতি জরুরি |
৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা |
১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
সাধারণ ডেলিভারিতে পাসপোর্ট পেতে সাধারণত প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে, আর জরুরি ও অতি জরুরি ক্যাটাগরিতে সময় অনেক কম। তবে পুলিশ ভেরিফিকেশনসহ পুরো প্রক্রিয়া অফিস ও এলাকাভেদে কিছুটা এদিক-সেদিক হতে পারে। সুপার এক্সপ্রেস সুবিধা সব আঞ্চলিক অফিসে নাও থাকতে পারে।
অনলাইনে পাসপোর্টের আবেদন ফরম পূরণের ধাপ
কাগজপত্র গুছিয়ে নেওয়ার পর অনলাইন আবেদন করুন এভাবে:
অ্যাকাউন্ট খুলুন: ই-পাসপোর্টের অফিসিয়াল পোর্টালে (epassport.gov.bd) ইমেইল দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করুন।
ফরম পূরণ করুন: ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, পেশা, জরুরি যোগাযোগ ও গ্যারান্টরের তথ্য দিন। NID/জন্ম নিবন্ধনের সঙ্গে হুবহু মিলিয়ে লিখুন।
পাসপোর্টের ধরন বাছুন: পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারি ক্যাটাগরি (সাধারণ/জরুরি/অতি জরুরি) নির্বাচন করুন।
ফি পরিশোধ করুন: অনলাইন পেমেন্ট অথবা ব্যাংকে এ-চালানের মাধ্যমে ফি জমা দিন এবং রশিদ সংরক্ষণ করুন।
প্রিন্ট নিন: আবেদনের সামারি, রেজিস্ট্রেশন ফরম ও অ্যাপয়েন্টমেন্ট স্লিপ প্রিন্ট করুন।
অফিসে যান: নির্ধারিত তারিখে সব কাগজপত্রের মূল কপি ও ফটোকপি নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে ছবি ও বায়োমেট্রিক দিন।
পুলিশ ভেরিফিকেশন: নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়; ভেরিফিকেশনের সময় চাওয়া কাগজপত্র হাতের কাছে রাখুন।
ডেলিভারি: এসএমএস বা অনলাইনে স্ট্যাটাস দেখে নির্ধারিত তারিখে পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
পুলিশ ভেরিফিকেশন: কী হয় ও কী প্রস্তুত রাখবেন
নতুন পাসপোর্টের আবেদনের পর পুলিশের বিশেষ শাখা (SB) আপনার দেওয়া ঠিকানা যাচাই করে। এ সময় পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমান ঠিকানায় এসে বা থানায় ডেকে নিচের বিষয়গুলো দেখতে পারেন:
NID বা জন্ম নিবন্ধনের মূল কপি
বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ (বিদ্যুৎ বিল, বাড়ি ভাড়ার চুক্তিপত্র)
নাগরিকত্ব সনদ (প্রয়োজনে)
ভেরিফিকেশনের সময় নিজে উপস্থিত থাকা ভালো, আর সব কাগজের মূল কপি হাতের কাছে রাখুন। ঠিকানা ভুল দিলে বা যাচাইয়ে গরমিল পেলে আবেদন আটকে যেতে পারে — তাই ফরম পূরণের সময় ঠিকানা খুব সাবধানে লিখুন। রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে তথ্যে কোনো পরিবর্তন না থাকলে সাধারণত নতুন করে ভেরিফিকেশন লাগে না।
নতুন আবেদন বনাম রি-ইস্যু: পার্থক্য কোথায়
বিষয় | নতুন আবেদন | রি-ইস্যু / নবায়ন |
পুরনো পাসপোর্ট | লাগে না | মূল পাসপোর্ট ও ডেটা পেজের ফটোকপি বাধ্যতামূলক |
পুলিশ ভেরিফিকেশন | বাধ্যতামূলক | তথ্য অপরিবর্তিত থাকলে সাধারণত লাগে না |
কাগজপত্র | পূর্ণ তালিকা | মূলত NID, আবেদন ফরম, ফি-রশিদ ও পুরনো পাসপোর্ট |
মেয়াদ শেষের আগে আবেদন | প্রযোজ্য নয় | মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নবায়নের আবেদন করা যায় |
রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে নাম, জন্ম তারিখ বা অন্য কোনো তথ্য সংশোধন করতে চাইলে সংশোধনের পক্ষে প্রমাণপত্র (যেমন সংশোধিত NID) জমা দিতে হয়। বড় ধরনের সংশোধনে হলফনামা (affidavit) চাওয়া হতে পারে।
আবেদনে গ্যারান্টর ও জরুরি যোগাযোগের তথ্য
অনলাইন ফরমে দুটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ থাকে যা অনেকে হালকাভাবে নেন:
জরুরি যোগাযোগ (Emergency Contact): এমন একজন আত্মীয় বা পরিচিত ব্যক্তির নাম, সম্পর্ক ও মোবাইল নম্বর দিন যার সঙ্গে সবসময় যোগাযোগ করা যায়। সাধারণত বাবা, মা, ভাই-বোন বা স্বামী/স্ত্রীর তথ্য দেওয়া হয়।
গ্যারান্টর/রেফারেন্স: কিছু ক্ষেত্রে এমন একজন পরিচিত ব্যক্তির তথ্য চাওয়া হয় যিনি আপনাকে চেনেন। তার নাম, ঠিকানা ও ফোন নম্বর আগে থেকে জেনে রাখুন।
এই তথ্যগুলো ভুল বা অসম্পূর্ণ থাকলে পরে যোগাযোগে সমস্যা হয়, তাই ফরম জমা দেওয়ার আগেই নম্বরগুলো যাচাই করে নিন।
পাসপোর্ট দ্রুত পেতে চাইলে যা করবেন
সঠিক ডেলিভারি ক্যাটাগরি বেছে নিন — জরুরি প্রয়োজনে এক্সপ্রেস বা সুপার এক্সপ্রেসে আবেদন করুন।
ফরমে কোনো ভুল রাখবেন না; ভুল মানেই অতিরিক্ত সময়।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের জন্য আগে থেকে প্রস্তুত থাকুন, যাতে রিপোর্ট দ্রুত জমা হয়।
এনরোলমেন্টের দিন সব মূল কাগজ ও ফটোকপি এক ফাইলে গুছিয়ে নিয়ে যান — কাগজ খোঁজাখুঁজিতে অফিসে সময় নষ্ট হয়।
আবেদনের স্ট্যাটাস অনলাইনে নিয়মিত দেখুন; "ready for issuance" দেখালে দেরি না করে সংগ্রহ করুন।
আবেদনের সময় যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
নামের বানানে ডট, হাইফেন বা কমা ব্যবহার করবেন না — NID-তে যেমন আছে, ঠিক তেমনই লিখুন।
NID ও জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে ফরমের তথ্যের অমিল রাখবেন না।
ফি জমা দেওয়ার আগে ফরম ভালোভাবে যাচাই করুন; পেমেন্টের পর বড় সংশোধনে লিখিত আবেদন বা হলফনামা লাগতে পারে।
দালালের মাধ্যমে না করে নিজে অনলাইনে আবেদন করুন — প্রক্রিয়াটি এখন বেশ সহজ।
পুরনো পাসপোর্ট থাকলে সেটি গোপন করবেন না; রি-ইস্যুর ক্ষেত্রে পুরনো পাসপোর্টের তথ্য দিতেই হবে।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পাসপোর্ট করতে কি ছবি লাগে?
না। ৬ বছরের বেশি বয়সীদের ছবি পাসপোর্ট অফিসেই তোলা হয়। শুধু ৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য আগে থেকে তোলা রঙিন ছবি নিয়ে যেতে হয়।
পাসপোর্ট করতে কাগজপত্র সত্যায়ন করতে হয় কি?
না। ই-পাসপোর্ট আবেদনে কোনো কাগজপত্র সত্যায়নের প্রয়োজন নেই।
NID ছাড়া কি পাসপোর্ট করা যায়?
১৮ বছরের কম বয়সীরা জন্ম নিবন্ধন দিয়ে করতে পারেন। তবে ২০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য NID বাধ্যতামূলক।
পুলিশ ভেরিফিকেশন কি সবার জন্য লাগে?
নতুন পাসপোর্টের ক্ষেত্রে পুলিশ ভেরিফিকেশন বাধ্যতামূলক। তবে তথ্য পরিবর্তন ছাড়া নবায়নের ক্ষেত্রে সাধারণত ভেরিফিকেশন লাগে না।
১০ বছরের মেয়াদি পাসপোর্ট কারা পাবেন?
১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী সব বাংলাদেশি নাগরিক ১০ বছর মেয়াদি ই-পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারেন।
পাসপোর্ট পেতে কতদিন লাগে?
ডেলিভারি ক্যাটাগরি অনুযায়ী সময় ভিন্ন হয় — সাধারণে সবচেয়ে বেশি, অতি জরুরিতে সবচেয়ে কম। সঠিক সময়সীমা জানতে অফিসিয়াল পোর্টাল দেখুন, কারণ এটি পরিবর্তনশীল।
পুরনো MRP পাসপোর্ট থাকলে কী হবে?
MRP পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হলে বা রি-ইস্যু করলে এখন ই-পাসপোর্টই দেওয়া হয়। পুরনো পাসপোর্টের তথ্য নতুন আবেদনে যুক্ত করতে হয়, তাই সেটি সঙ্গে রাখুন।
অনলাইনে ফি দেওয়া কি নিরাপদ?
হ্যাঁ, অফিসিয়াল পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইন পেমেন্ট করা যায়। তবে অনেক আবেদনকারী ব্যাংকের এ-চালানের মাধ্যমে ফি জমা দিতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। যেভাবেই দিন, রশিদটি যত্নে সংরক্ষণ করুন।
পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় কী লাগে?
ডেলিভারি স্লিপ (এনরোলমেন্টের সময় দেওয়া রশিদ) ও NID-এর মূল কপি নিয়ে নির্ধারিত অফিসে যান। নিজে না যেতে পারলে কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী প্রতিনিধির মাধ্যমে সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকতে পারে — আগে অফিস থেকে জেনে নিন।
সব মিলিয়ে, কাগজপত্র ঠিকঠাক গুছিয়ে নিলে পাসপোর্টের আবেদন মোটেও জটিল কিছু নয়। এই তালিকা ধরে একে একে কাগজ সংগ্রহ করুন, অনলাইনে ফরম পূরণ করুন, আর নির্ধারিত দিনে অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিয়ে আসুন। ফি বা নিয়মে কোনো পরিবর্তন এলে সর্বশেষ তথ্যের জন্য সবসময় অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টাল যাচাই করে নিন।
১
২ মন্তব্য