সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট রিনিউ করার নিয়ম - ই-পাসপোর্ট রি-ইস্যু করার নিয়ম (E Passport Renew)
👉 এক ক্লিকে ই পাসপোর্ট রিনিউ করুন
👉 এক ক্লিকে ই পাসপোর্ট রিনিউ আবেদন করুন
👉 অনলাইনে ই পাসপোর্ট রিনিউ আবেদন করার নিয়ম দেখুন
বিদেশ ভ্রমণ, পড়াশোনা, চাকরি কিংবা হজ — যে কাজেই পাসপোর্ট লাগুক, এর মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে সব পরিকল্পনাই আটকে যায়। অনেকেরই প্রশ্ন থাকে: পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে নাকি পরে রিনিউ করবো? অনলাইনে কীভাবে আবেদন করবো? কী কী কাগজ লাগবে? ফি কত? এই গাইডে পাসপোর্ট রিনিউ (আনুষ্ঠানিক নাম: রি-ইস্যু) নিয়ে যাবতীয় প্রশ্নের উত্তর ধাপে ধাপে দেওয়া হয়েছে, যেন একবার পড়েই পুরো প্রক্রিয়া বুঝে নিতে পারেন।
কখন পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু করতে হয়
পাসপোর্ট অফিসে একে "রিনিউ" না বলে "রি-ইস্যু" (Re-issue) বলা হয়। নিচের যেকোনো একটি কারণেই রি-ইস্যুর আবেদন করা যায় —
পরিস্থিতি | কী করবেন |
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে বা শেষের দিকে | মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই অনলাইনে রি-ইস্যুর আবেদন করুন |
পাসপোর্টের পাতা শেষ হয়ে গেছে | নতুন পাসপোর্টের জন্য রি-ইস্যু আবেদন; চাইলে ৬৪ পৃষ্ঠার বই নিতে পারেন |
পাসপোর্ট হারিয়ে গেছে | থানায় জিডি (GD) করে জিডির কপিসহ রি-ইস্যুর আবেদন করুন |
পাসপোর্ট ক্ষতিগ্রস্ত বা ছিঁড়ে গেছে | ক্ষতিগ্রস্ত পাসপোর্টসহ রি-ইস্যুর আবেদন করুন |
নাম, ঠিকানা বা অন্য তথ্য বদলাতে চান | উপযুক্ত প্রমাণপত্রসহ তথ্য সংশোধনের আবেদন হিসেবে রি-ইস্যু করুন |
MRP থেকে ই-পাসপোর্টে যেতে চান | পুরোনো MRP-এর তথ্য দিয়ে রি-ইস্যু আবেদন করুন |
একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য: ভ্রমণের পরিকল্পনা থাকলে মেয়াদ শেষ হওয়ার অপেক্ষা করবেন না। বেশিরভাগ দেশ ভিসা বা প্রবেশের জন্য পাসপোর্টে কমপক্ষে ৬ মাসের মেয়াদ চায়। তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ৬ মাস আগে রিনিউর আবেদন করাই নিরাপদ। মেয়াদ থাকা অবস্থায়ও রি-ইস্যুর আবেদন করা যায় — এতে কোনো বাধা নেই।
MRP থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর
বাংলাদেশে এখন নতুন পাসপোর্ট মানেই ই-পাসপোর্ট। আপনার হাতে যদি পুরোনো মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট (MRP) থাকে, তাহলে রিনিউ মানেই MRP থেকে ই-পাসপোর্টে রূপান্তর। এক্ষেত্রে অনলাইন আবেদনের সময় "Converting MRP to e-Passport" বা রি-ইস্যু অপশন বেছে নিন।
একটা বিষয় মনে রাখুন: MRP থেকে ই-পাসপোর্টে গেলে আপনাকে অবশ্যই স্বশরীরে পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে নতুন করে ছবি, আঙুলের ছাপ ও স্বাক্ষর (বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট) দিতে হবে। তবে আপনার যদি আগেই ই-পাসপোর্ট থাকে, তাহলে সাধারণত একই বায়োমেট্রিক তথ্য পুনরায় ব্যবহার করে রি-ইস্যু হয়ে যায়, যদিও পাসপোর্ট অফিস চাইলে আবারও এনরোলমেন্ট নিতে পারে।
অনলাইনে পাসপোর্ট রিনিউ আবেদনের ধাপ
পুরো আবেদন অনলাইনেই শুরু হয় — অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (DIP-এর ওয়েবসাইট)। ধাপগুলো নিচে দেওয়া হলো:
অ্যাকাউন্ট তৈরি ও লগইন: ই-পাসপোর্ট পোর্টালে গিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট খুলুন (ইমেইল দিয়ে) অথবা আগের অ্যাকাউন্টে লগইন করুন।
রি-ইস্যু নির্বাচন: "Apply Online" বা নতুন আবেদন অপশনে গিয়ে আবেদনের ধরন হিসেবে Re-issue (নতুন আবেদন নয়) সিলেক্ট করুন। এখানেই মেয়াদ শেষ, তথ্য পরিবর্তন, হারানো — কারণটি বেছে নিন।
তথ্য পূরণ: পুরোনো পাসপোর্ট নম্বর, জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর, জন্মতারিখ, ঠিকানা ও যোগাযোগের তথ্য সঠিকভাবে দিন। NID-এর তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে লিখুন, কারণ অমিল থাকলে আবেদন আটকে যেতে পারে।
ফি পরিশোধ: মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর), পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪) ও ডেলিভারির ধরন অনুযায়ী ফি পরিশোধ করুন। অনলাইন পেমেন্ট (কার্ড, মোবাইল ব্যাংকিং) অথবা ব্যাংক চালানের মাধ্যমে ফি দেওয়া যায়।
অ্যাপয়েন্টমেন্ট বুকিং: ফি জমা দেওয়ার পর পাসপোর্ট অফিস ও তারিখ (এনরোলমেন্ট স্লট) বেছে নিন। আবেদনের প্রিন্ট কপি (Application Summary) ডাউনলোড করে রাখুন।
বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট: নির্ধারিত দিনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে পাসপোর্ট অফিসে যান। সেখানে ছবি তোলা, আঙুলের ছাপ ও ডিজিটাল স্বাক্ষর নেওয়া হবে। শেষে একটি ডেলিভারি স্লিপ দেওয়া হবে — এটি যত্নে রাখুন।
ডেলিভারি: পাসপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে আপনার মোবাইলে এসএমএস আসবে। ডেলিভারি স্লিপ ও পুরোনো পাসপোর্ট দেখিয়ে নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন। চাইলে অনলাইনে আবেদনের স্ট্যাটাসও দেখা যায়।
পাসপোর্ট রিনিউ করতে যেসব কাগজপত্র লাগে
নতুন পাসপোর্ট আর রিনিউ — দুই ক্ষেত্রেই প্রায় একই কাগজ লাগে, শুধু রিনিউতে পুরোনো পাসপোর্টের কপি অতিরিক্ত দিতে হয়। অফিসে যাওয়ার আগে নিচের তালিকা মিলিয়ে নিন:
নং | কাগজপত্র | মন্তব্য |
১ | অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি (Application Summary) | রঙিন প্রিন্ট নিলে ভালো |
২ | জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা অনলাইন জন্মনিবন্ধন সনদ | মূল কপি সঙ্গে রাখুন |
৩ | পুরোনো পাসপোর্টের তথ্যপৃষ্ঠার ফটোকপি | রিনিউর ক্ষেত্রে আবশ্যক |
৪ | ফি পরিশোধের রসিদ | অনলাইন পেমেন্ট স্লিপ বা ব্যাংক চালান |
৫ | পেশার প্রমাণপত্র | চাকরির আইডি, ট্রেড লাইসেন্স ইত্যাদি |
৬ | সরকারি চাকরিজীবীদের NOC বা GO | প্রযোজ্য ক্ষেত্রে |
৭ | থানার জিডির কপি | পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে |
৮ | তথ্য সংশোধনের প্রমাণপত্র | নাম/ঠিকানা বদলাতে চাইলে |
মনে রাখবেন, NID-এর নাম, জন্মতারিখ ও ঠিকানার সঙ্গে আবেদনের তথ্য হুবহু মিলতে হবে। অমিল থাকলে আগে NID সংশোধন করে নিন, নইলে পাসপোর্ট অফিসে অযথা ঘোরাঘুরি হবে।
পাসপোর্ট রিনিউ ফি (আনুমানিক)
পাসপোর্ট রিনিউ করতে নতুন পাসপোর্টের সমান ফিই দিতে হয় — আলাদা কোনো "রিনিউ ফি" নেই। ফি নির্ভর করে তিনটি বিষয়ের ওপর: পাসপোর্টের মেয়াদ (৫ বা ১০ বছর), পৃষ্ঠা সংখ্যা (৪৮ বা ৬৪) এবং ডেলিভারির ধরন (সাধারণ, জরুরি, অতি জরুরি)। নিচের তালিকাটি বিভিন্ন অনলাইন সূত্র থেকে পাওয়া আনুমানিক হার — ফি সময়ে সময়ে বদলাতে পারে, তাই আবেদনের আগে অবশ্যই অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টাল বা পাসপোর্ট অধিদপ্তরের (DIP) ওয়েবসাইটে হালনাগাদ ফি যাচাই করে নিন।
ডেলিভারির ধরন | ৪৮ পৃষ্ঠা (৫ বছর) | ৪৮ পৃষ্ঠা (১০ বছর) | ৬৪ পৃষ্ঠা (৫ বছর) | ৬৪ পৃষ্ঠা (১০ বছর) |
সাধারণ (রেগুলার) | ৪,০২৫ টাকা | ৫,৭৫০ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,০৫০ টাকা |
জরুরি (এক্সপ্রেস) | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,০৫০ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
অতি জরুরি (সুপার এক্সপ্রেস) | ৮,৬২৫ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা | ১২,০৭৫ টাকা | ১৩,৮০০ টাকা |
সাধারণ ডেলিভারিতে পাসপোর্ট পেতে সাধারণত ১৫–২১ কর্মদিবস, জরুরিতে ৭–১০ কর্মদিবস এবং অতি জরুরিতে ২–৩ কর্মদিবস লাগতে পারে — তবে এটি আনুমানিক সময়; ভিড় ও যাচাই প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে সময় কমবেশি হতে পারে। দ্রুত পাসপোর্ট দরকার হলে এক্সপ্রেস ডেলিভারি নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ, বিশেষ করে ভিসা বা ফ্লাইটের তারিখ ঘনিয়ে এলে।
রি-ইস্যু বনাম নতুন আবেদন: মূল পার্থক্য
অনেকেই অনলাইন ফরম পূরণের সময় ভুল করে "New Application" সিলেক্ট করে ফেলেন, অথচ পুরোনো পাসপোর্ট থাকলে সঠিক অপশন হলো "Re-issue"। দুটোর পার্থক্য জেনে রাখুন:
বিষয় | নতুন আবেদন | রি-ইস্যু (রিনিউ) |
কখন প্রযোজ্য | জীবনে প্রথম পাসপোর্ট | পুরোনো পাসপোর্ট আছে |
পুরোনো পাসপোর্টের তথ্য | দিতে হয় না | পাসপোর্ট নম্বর দিতে হয় |
পুলিশ ভেরিফিকেশন | সাধারণত হয় | তথ্য অপরিবর্তিত থাকলে সাধারণত লাগে না |
ফি | পূর্ণ ফি | একই পূর্ণ ফি (আলাদা রিনিউ ফি নেই) |
বায়োমেট্রিক | অবশ্যই দিতে হয় | MRP থেকে হলে অবশ্যই; ই-পাসপোর্ট থেকে হলে অনেক সময় এড়ানো যায় |
ভুল অপশন সিলেক্ট করে ফেললে আবেদন বাতিল করে নতুন করে সঠিকভাবে আবেদন করতে হয় — এতে সময় ও ঝামেলা দুটোই বাড়ে। তাই ফরমের শুরুতেই এই ধাপে মনোযোগ দিন।
ফি পরিশোধের মাধ্যম
অনলাইন আবেদনের পর ফি দেওয়ার কয়েকটি উপায় আছে। ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ, নগদ, রকেটের মতো মাধ্যম) দিয়ে সরাসরি অনলাইনে পেমেন্ট করা যায়। চাইলে ব্যাংকে গিয়ে নির্ধারিত চালানের মাধ্যমেও ফি জমা দেওয়া যায় — সেক্ষেত্রে চালানের কপি এনরোলমেন্টের দিন সঙ্গে নিতে হবে।
একটি পরামর্শ: অনলাইন পেমেন্টের রসিদ বা চালানের কপি ডাউনলোড করে নিরাপদে সংরক্ষণ করুন। পেমেন্ট সফল না হলে আবেদন এগোবে না, আবার ডাবল পেমেন্ট হয়ে গেলেও ফেরত পেতে ঝামেলা হতে পারে। পেমেন্টের পর পোর্টালে আবেদনের স্ট্যাটাস "Payment Successful" দেখাচ্ছে কিনা নিশ্চিত হয়ে নিন।
তথ্য সংশোধনসহ রি-ইস্যু
নাম, পিতা-মাতার নাম, জন্মতারিখ, ঠিকানা বা বৈবাহিক অবস্থা বদলাতে চাইলে রি-ইস্যুর আবেদনের সঙ্গেই সংশোধনের আবেদন করা যায়। এক্ষেত্রে সংশোধনের পক্ষে উপযুক্ত প্রমাণপত্র জমা দিতে হয় — যেমন নাম সংশোধনে সংশোধিত NID, ঠিকানা পরিবর্তনে বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ।
মনে রাখবেন, বড় ধরনের তথ্য পরিবর্তন (যেমন জন্মতারিখ সংশোধন) হলে যাচাই প্রক্রিয়া কঠোর হয় এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনও হতে পারে। তাই সংশোধনের প্রয়োজন হলে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে আবেদন করুন। ছোটখাটো বানান ভুলের সংশোধন সাধারণত দ্রুত হয়ে যায়।
পাসপোর্ট অফিসে যাওয়ার দিনের চেকলিস্ট
এনরোলমেন্টের দিন যেন ফিরে আসতে না হয়, সেজন্য বের হওয়ার আগে এই তালিকা মিলিয়ে নিন:
অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি (Application Summary)
মূল NID বা জন্মনিবন্ধন সনদ
পুরোনো পাসপোর্ট (মূল কপি) ও এর ফটোকপি
ফি পরিশোধের রসিদ বা চালান
পেশার প্রমাণপত্র ও NOC (প্রযোজ্য হলে)
জিডির কপি (হারানো পাসপোর্টের ক্ষেত্রে)
একটি কলম — ফরমে স্বাক্ষরের কাজে লাগতে পারে
পোশাকের ব্যাপারেও একটু খেয়াল রাখুন: ছবি তোলার সময় সাদা পোশাক এড়িয়ে চলুন (ব্যাকগ্রাউন্ড সাদা হয়), আর মুখ ঢাকা কোনো পোশাক পরবেন না। নির্ধারিত সময়ের অন্তত ৩০ মিনিট আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
রি-ইস্যুর পর পুরোনো পাসপোর্টের কী হয়
নতুন পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় পুরোনো পাসপোর্টটি জমা দিতে হয়। অফিস সেটি বাতিল (cancelled সিল) করে ফেরত দিয়ে দেয় — ফেলে দেবেন না। পুরোনো পাসপোর্টে আগের ভিসা ও ভ্রমণের রেকর্ড থাকে, যা পরবর্তী ভিসা আবেদনে কাজে লাগে। অনেক দূতাবাস ভিসা ইন্টারভিউতে পুরোনো পাসপোর্ট দেখতে চায়, তাই বাতিল পাসপোর্টটি যত্নে সংরক্ষণ করুন।
হারানো পাসপোর্ট রিনিউ: জিডির নিয়ম
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে প্রথম কাজ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (GD) করা। জিডিতে পাসপোর্ট নম্বর, হারানোর স্থান ও তারিখ উল্লেখ করুন। এরপর রি-ইস্যুর আবেদনের সময় জিডির কপি জমা দিন এবং এনরোলমেন্টের দিন মূল কপি সঙ্গে নিন। জিডি ছাড়া হারানো পাসপোর্টের রি-ইস্যু আবেদন গ্রহণ করা হয় না।
দেশের বাইরে পাসপোর্ট হারালে স্থানীয় পুলিশের কাছে রিপোর্ট করে সেই রিপোর্টসহ নিকটস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে যোগাযোগ করুন — দূতাবাস জরুরি ভ্রমণ দলিল (ট্রাভেল পারমিট) বা নতুন পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে দেবে।
প্রবাসে থেকে পাসপোর্ট রিনিউ
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, কুয়েত, ইতালিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশ দূতাবাস ও কনস্যুলেটের মাধ্যমে পাসপোর্ট রি-ইস্যু করা যায়। প্রক্রিয়া দেশের মতোই — অনলাইনে আবেদন করে দূতাবাসে গিয়ে বায়োমেট্রিক এনরোলমেন্ট করতে হয়। তবে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন:
দূতাবাসভেদে ফি স্থানীয় মুদ্রায় নেওয়া হয় এবং দেশের ফি থেকে আলাদা হতে পারে — সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ওয়েবসাইট বা নোটিশ বোর্ডে হালনাগাদ ফি দেখে নিন।
অনেক দূতাবাসে আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিতে হয়; ওয়াক-ইন সুবিধা সব জায়গায় নেই।
দূতাবাসে পাসপোর্ট পৌঁছাতে ও প্রিন্ট হতে দেশের চেয়ে বেশি সময় লাগতে পারে, তাই মেয়াদ শেষ হওয়ার অনেক আগেই আবেদন করুন।
পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় পুরোনো পাসপোর্ট ও ডেলিভারি স্লিপ সঙ্গে নিন।
প্রবাসী ভাইবোনদের জন্য পরামর্শ: ইকামা/ভিসা নবায়ন বা দেশে ছুটিতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে পাসপোর্টের মেয়াদ আগেই দেখে নিন। মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নিয়ে ভিসা জটিলতায় পড়ার চেয়ে আগে থেকে রিনিউ করে রাখা অনেক সহজ।
রিনিউ আবেদনে যেসব ভুল এড়িয়ে চলবেন
NID-এর সঙ্গে তথ্যের অমিল: নামের বানান, জন্মতারিখ বা ঠিকানা না মিললে আবেদন আটকে যায়। আগে NID ঠিক করুন।
ভুল আবেদন ধরন: নতুন আবেদন (New Application) নয়, অবশ্যই Re-issue সিলেক্ট করুন। ভুল হলে পুরো আবেদন বাতিল করে আবার করতে হতে পারে।
পুরোনো পাসপোর্ট না নেওয়া: এনরোলমেন্টের দিন পুরোনো পাসপোর্ট সঙ্গে না নিলে কাজ হবে না।
শেষ মুহূর্তে আবেদন: ভিসা বা ফ্লাইটের ঠিক আগে রিনিউর চাপ নেবেন না — প্রসেসিং দেরি হলে পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।
দালালের খপ্পর: পুরো প্রক্রিয়া নিজে করা যায়; অফিসিয়াল ফির বাইরে কাউকে টাকা দেবেন না।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার কত দিন আগে রিনিউ করা যায়?
নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই — মেয়াদ থাকা অবস্থায়ও রি-ইস্যুর আবেদন করা যায়। তবে ভ্রমণ পরিকল্পনা থাকলে অন্তত ৬ মাস আগে আবেদন করাই ভালো।
MRP-এর মেয়াদ থাকতেও কি ই-পাসপোর্ট নেওয়া যাবে?
হ্যাঁ, যাবে। পুরোনো MRP-এর তথ্য দিয়ে রি-ইস্যু আবেদন করলে নতুন ই-পাসপোর্ট পাবেন। এক্ষেত্রে স্বশরীরে গিয়ে বায়োমেট্রিক দিতে হবে।
রিনিউতে কি পুলিশ ভেরিফিকেশন হয়?
সাধারণ রি-ইস্যুতে (তথ্য অপরিবর্তিত থাকলে) সাধারণত নতুন করে পুলিশ ভেরিফিকেশন লাগে না। তবে ঠিকানা পরিবর্তন বা তথ্য সংশোধন থাকলে ভেরিফিকেশন হতে পারে।
অনলাইনে ফি দেওয়ার পর আবেদন বাতিল হলে টাকা ফেরত পাবো?
ফি ফেরতের নিয়ম পরিস্থিতিভেদে ভিন্ন হতে পারে। এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্যের জন্য পাসপোর্ট অফিসের হেল্পডেস্ক বা অফিসিয়াল পোর্টালের নির্দেশনা দেখুন।
পুরোনো পাসপোর্টে কি ভিসা থাকলে সমস্যা হবে?
নতুন পাসপোর্ট নেওয়ার পর পুরোনো পাসপোর্টটি বাতিল (cancelled) করে ফেরত দেওয়া হয়। পুরোনো পাসপোর্টে বৈধ ভিসা থাকলে ভ্রমণের সময় দুটো পাসপোর্টই সঙ্গে রাখুন — অনেক দেশেই এটি গ্রহণযোগ্য, তবে যাত্রার আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নিয়ম জেনে নিন।
শিশুদের পাসপোর্টও কি একইভাবে রিনিউ হয়?
হ্যাঁ, প্রক্রিয়া একই — অনলাইনে রি-ইস্যুর আবেদন। শিশুর ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধন সনদ ও বাবা-মায়ের NID লাগে, আর ৬ বছরের কম বয়সী শিশুর সাধারণত আঙুলের ছাপ নেওয়া হয় না। শিশুদের পাসপোর্টের মেয়াদ ৫ বছর হয়।
এক্সপ্রেস ডেলিভারি নিলে কি নিশ্চিতভাবে নির্ধারিত দিনে পাসপোর্ট পাবো?
এক্সপ্রেস ও সুপার এক্সপ্রেসে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রসেসিং হয়, তবে যাচাই বা ভেরিফিকেশনে জটিলতা থাকলে সময় বাড়তে পারে। তাই জরুরি ভ্রমণের ক্ষেত্রে হাতে কিছু বাড়তি সময় রাখুন।
পাসপোর্ট রিনিউ বা রি-ইস্যু মোটেও জটিল প্রক্রিয়া নয় — অনলাইন আবেদন, একবার অফিসে গিয়ে বায়োমেট্রিক, আর ডেলিভারির অপেক্ষা। শুধু কাগজপত্র ঠিক রাখুন, NID-এর সঙ্গে তথ্য মিলিয়ে নিন, আর ফি ও সময়ের হালনাগাদ তথ্য অফিসিয়াল ই-পাসপোর্ট পোর্টালে যাচাই করে নিন। তাহলে কোনো ঝামেলা ছাড়াই নির্ধারিত সময়ে নতুন পাসপোর্ট হাতে পাবেন।
১
১ মন্তব্য