সহকারী প্রধান শিক্ষক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
পাসপোর্ট সংশোধন করার নিয়ম - নাম, জন্ম তারিখ, ঠিকানা পরিবর্তনের সম্পূর্ণ নিয়ম
👉 এক ক্লিকে ই পাসপোর্ট সংশোধন করুন
👉 এক ক্লিকে ই পাসপোর্ট সংশোধন আবেদন করুন
👉 অনলাইনে ই পাসপোর্ট সংশোধন আবেদন করার নিয়ম দেখুন
পাসপোর্টে নিজের নাম, জন্ম তারিখ বা অন্য কোনো তথ্য ভুল এসেছে? কিংবা বিয়ের পর পদবি বদলে গেছে, এনআইডি সংশোধন করেছেন — এখন পাসপোর্টটাও ঠিক করতে হবে? চিন্তা নেই, passport correction in Bangladesh এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ এবং নিয়মও পরিষ্কার।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগ ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে পাসপোর্ট সংশোধনের (re-issue বা information correction) নিয়ম ঠিক করে দিয়েছে। সেই বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশে বা প্রবাসে — সব বাংলাদেশি নাগরিকের পাসপোর্ট তথ্য অবশ্যই তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে নিতে হবে। অর্থাৎ সংশোধনের ক্ষেত্রে মূল ভিত্তি হলো আপনার NID কার্ড।
এই গাইডে জেনে নিন — কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়, কী কী কাগজপত্র লাগবে, অনলাইনে আবেদন করার ধাপে ধাপে প্রক্রিয়া, আনুমানিক ফি, এবং আবেদন আটকে গেলে কী করবেন। প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য আলাদা নোটও আছে শেষের দিকে।
কোন কোন তথ্য সংশোধন করা যায়
পাসপোর্টে প্রায় সব ব্যক্তিগত তথ্যই সংশোধনযোগ্য, তবে শর্ত হলো — সংশোধিত তথ্যটি আপনার NID বা জন্ম নিবন্ধনের তথ্যের সঙ্গে মিলতে হবে। নিচের তালিকাটা দেখে নিন:
তথ্য | সংশোধন করা যায়? | শর্ত/মন্তব্য |
নিজের নাম (বানান/পদবি) | হ্যাঁ | NID বা শিক্ষা সনদ অনুযায়ী |
বাবা-মায়ের নাম | হ্যাঁ | NID অনুযায়ী |
জন্ম তারিখ | হ্যাঁ | NID-এর তারিখই হবে চূড়ান্ত |
ঠিকানা | হ্যাঁ | বর্তমান ঠিকানার প্রমাণসহ |
বৈবাহিক অবস্থা | হ্যাঁ | নিকাহনামা/বিবাহ সনদ বা তালাকনামা লাগতে পারে |
পেশা | হ্যাঁ | সাধারণত অতিরিক্ত প্রমাণ ছাড়াই |
ধর্ম | হ্যাঁ | NID-এর তথ্য অনুযায়ী |
জাতীয়তা | না | সাধারণত সংশোধনযোগ্য নয়, বিশেষ ক্ষেত্রে নতুন আবেদন লাগে |
কিছু বিষয়ে একটু সতর্ক থাকতে হবে। জন্ম তারিখ সংশোধনের ক্ষেত্রে সবচেয়ে কঠোর যাচাই হয় — এখানে শুধু NID নয়, JSC/SSC/HSC/Dakhil সনদের মতো শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটও চাওয়া হতে পারে। আর জাতীয়তা বা পরিবারের সদস্য যোগ/বিয়োগের মতো বড় পরিবর্তন সাধারণ সংশোধন আবেদনে হয় না; এ জন্য নতুন করে আবেদন করার দরকার হতে পারে।
আরেকটা জরুরি কথা: যদি আপনার NID-তেই তথ্য ভুল থাকে, তাহলে আগে NID সংশোধন করুন। পাসপোর্ট সংশোধনে NID-এর তথ্যই চূড়ান্ত ধরা হয়, তাই NID ঠিক না করে পাসপোর্ট ঠিক করা যাবে না।
যেসব ক্ষেত্রে সংশোধন সহজে হয় না
সব ভুলই একইভাবে ঠিক করা যায় না। কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত যাচাই, বিশেষ অনুমতি, এমনকি নতুন আবেদনও লাগতে পারে:
জাতীয়তা পরিবর্তন: এটা সাধারণ সংশোধনের আওতায় পড়ে না। জাতীয়তা সংক্রান্ত পরিবর্তনে সম্পূর্ণ নতুন আবেদন ও বিশেষ প্রক্রিয়া লাগে।
পরিবারের সদস্য যোগ বা বাদ: স্বামী/স্ত্রী বা সন্তানের তথ্য যোগ-বিয়োগ সাধারণ re-issue দিয়ে হয় না বলে বিভিন্ন গাইডে উল্লেখ আছে — এ ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসের পরামর্শ নিন।
জন্ম তারিখে বড় ব্যবধান: NID ও পাসপোর্টের জন্ম তারিখে বড় পার্থক্য থাকলে আবেদন অতিরিক্ত যাচাইয়ের মুখে পড়ে। সব শিক্ষা সনদ ও জন্ম নিবন্ধন প্রস্তুত রাখুন।
ছবি বা স্বাক্ষর: ছবি পরিবর্তন সংশোধন আবেদনে হয় না — নতুন ছবি তুলতে হয় বায়োমেট্রিকের সময়, আর সেটা স্বাভাবিক re-issue প্রক্রিয়ার অংশ।
পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে: এটা সংশোধন নয়, ডুপ্লিকেট ইস্যুর আবেদন — সঙ্গে জিডি (সাধারণ ডায়েরি) কপি লাগতে পারে।
এই ধরনের জটিল ক্ষেত্রে সরাসরি পাসপোর্ট অফিসে গিয়ে সহকারী পরিচালকের সঙ্গে কথা বলাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
কাগজপত্র প্রস্তুত রাখাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। কোন সংশোধনের জন্য কী কী প্রমাণপত্র লাগে, এক নজরে দেখে নিন:
সংশোধনের ধরন | প্রয়োজনীয় প্রমাণপত্র |
নাম সংশোধন | NID কপি, জন্ম নিবন্ধন (অপ্রাপ্তবয়স্ক হলে), শিক্ষা সনদ (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), হলফনামা (এফিডেভিট) |
জন্ম তারিখ সংশোধন | NID কপি, JSC/SSC/HSC/Dakhil বা সমমানের শিক্ষা সনদ, অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য জন্ম নিবন্ধন |
ঠিকানা পরিবর্তন | NID কপি, বর্তমান ঠিকানার প্রমাণ (বিদ্যুৎ বিল, ভাড়ার চুক্তিপত্র ইত্যাদি) |
বৈবাহিক অবস্থা | নিকাহনামা/বিবাহ সনদ, তালাক হলে তালাকনামা |
সাধারণ কাগজপত্র (সবার জন্য) | পুরনো পাসপোর্টের কপি, NID কপি, লিখিত আবেদনপত্র, অঙ্গীকারনামা (undertaking) |
একটা বিষয় খেয়াল রাখুন — অফিসিয়াল নির্দেশনায় সংশোধনের পক্ষে একটি হলফনামা (affidavit) বা অঙ্গীকারনামা জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এতে ঘোষণা থাকবে যে, সংশোধনের ফলে ভবিষ্যতে কোনো আইনি জটিলতা হলে তার দায়িত্ব আবেদনকারীর। এই অঙ্গীকারনামার নমুনা পাসপোর্ট অফিস বা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে পাওয়া যায় বলে জানানো হয়েছে।
মনে রাখবেন, পুলিশের বিশেষ শাখা (Special Branch) ও অন্যান্য গোয়েন্দা সংস্থা আপনার দেওয়া তথ্য যাচাই করতে পারে — বিশেষ করে নাম বা জন্ম তারিখের মতো সংবেদনশীল সংশোধনে।
অনলাইনে সংশোধনের আবেদন করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
পুরনো হাতে লেখা ফরমের যুগ শেষ। MRP হোক বা e-passport — সংশোধনের আবেদন এখন অনলাইনেই করতে হবে। ই-পাসপোর্ট পোর্টালে (epassport.gov.bd) আপনার NID অনুযায়ী সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন ফরম পূরণ করুন। সংশোধন বা re-issue আবেদন বলে ফরমের "ID Documents" অংশে পুরনো পাসপোর্টের তথ্য অবশ্যই উল্লেখ করবেন।
আবেদনের ধাপগুলো:
প্রথমে প্রয়োজনীয় সব প্রমাণপত্র সংগ্রহ করুন — NID কপি অবশ্যই লাগবে। এর পাশাপাশি শিক্ষা সনদ, জন্ম নিবন্ধন বা অন্য সহায়ক কাগজ জোগাড় করে রাখুন।
হলফনামা (এফিডেভিট) তৈরি করুন। নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে সংশোধন সংক্রান্ত হলফনামা করিয়ে নিন, যেখানে ভবিষ্যতের আইনি জটিলতার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা থাকবে।
ই-পাসপোর্ট পোর্টালে অনলাইন আবেদন করুন। সব তথ্য NID-এর তথ্য অনুযায়ী দিন — এখানে ভুল করার সুযোগ নেই।
পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকের (AD) বরাবর সংশোধনের জন্য একটি লিখিত আবেদনপত্র তৈরি করুন।
নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন। ফি চালানের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয় — নিচের ফি অংশে বিস্তারিত আছে।
অনলাইন আবেদনের প্রিন্ট কপি, ফি'র চালান, লিখিত আবেদন, হলফনামা ও অঙ্গীকারনামাসহ সব কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত পাসপোর্ট অফিসে জমা দিন।
অফিসে বায়োমেট্রিক তথ্য (ছবি, আঙুলের ছাপ) দিন এবং আবেদনের স্ট্যাটাস অনলাইনে নিয়মিত চেক করুন।
পাসপোর্ট প্রস্তুত হলে নোটিফিকেশন পাবেন — তখন ডেলিভারি স্লিপ নিয়ে সংশোধিত পাসপোর্ট সংগ্রহ করুন।
অফলাইন বিকল্প: পাসপোর্ট অফিসে সরাসরি আবেদন
অনলাইনে আবেদনই এখন মানদণ্ড, তবে পাসপোর্ট অফিসে গিয়েও সংশোধনের আবেদন জমা দেওয়া যায়। এ ক্ষেত্রে re-issue / information alteration ফরম (অনেক জায়গায় DIP Form 2 নামে পরিচিত) ব্যবহার করা হয় — ফরমটি ইংরেজি বড় হাতের অক্ষরে পূরণ করতে হয় এবং সঙ্গে প্রাসঙ্গিক প্রমাণপত্র সংযুক্ত করতে হয়। ফরমে "বর্তমান পাসপোর্টের তথ্য" ও "প্রত্যাশিত সংশোধন" — দুটো ঘরই স্পষ্টভাবে পূরণ করুন। অস্পষ্ট হাতের লেখা বা অসম্পূর্ণ ফরম আবেদন ফেরত যাওয়ার অন্যতম কারণ।
সংশোধনের আবেদনে যে ভুলগুলো এড়িয়ে চলুন
অনেক আবেদন অযথা দেরি হয় কিছু এড়ানো-যোগ্য ভুলের কারণে। এগুলো মাথায় রাখুন:
NID না মিলিয়ে আবেদন করা: আবেদনের প্রতিটি তথ্য NID-এর সঙ্গে অক্ষরে অক্ষরে মিলিয়ে নিন। একটা বানানের অমিলও আপত্তির কারণ হতে পারে।
হলফনামা বাদ দেওয়া: সংবেদনশীল সংশোধনে এফিডেভিট/অঙ্গীকারনামা না থাকলে আবেদন দুর্বল হয়ে যায়।
পুরনো পাসপোর্টের তথ্য না দেওয়া: অনলাইন ফরমের ID Documents অংশে পুরনো পাসপোর্টের নম্বর ও তথ্য অবশ্যই দিন — এটা না দিলে সিস্টেম আবেদনটিকে নতুন আবেদন ভেবে নিতে পারে।
ভুল ফি পরিশোধ: পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারি ধরন অনুযায়ী সঠিক ফি'র চালান কাটুন। ভুল ফির চালান নিয়ে গেলে অফিস থেকে ফেরত আসতে হবে।
ডকুমেন্টের অরিজিনাল না নেওয়া: ফটোকপি জমা দিলেও যাচাইয়ের জন্য অরিজিনাল কাগজ সঙ্গে রাখুন।
পাসপোর্ট সংশোধন ফি (আনুমানিক)
একটা ভালো খবর: সংশোধনের জন্য আলাদা কোনো "সংশোধন ফি" নেই। সংশোধন মানেই আসলে re-issue — অর্থাৎ নতুন পাসপোর্ট ইস্যুর সমান ফি দিতে হবে। প্রতিযোগী সাইটগুলোর তথ্য অনুযায়ী ফি সাধারণত ৪,০২৫ টাকা থেকে ১০,৩৫০ টাকার মধ্যে হয় (ভ্যাটসহ), যা পৃষ্ঠা সংখ্যা, মেয়াদ ও ডেলিভারির ধরনের ওপর নির্ভর করে।
পাসপোর্টের ধরন | মেয়াদ | সাধারণ ডেলিভারি (আনুমানিক) | জরুরি ডেলিভারি (আনুমানিক) |
৪৮ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | ৪,০২৫ টাকা | ৬,৩২৫ টাকা |
৪৮ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | ৫,৭৫০ টাকা | ৮,০৫০ টাকা |
৬৪ পৃষ্ঠা | ৫ বছর | ৬,৩২৫ টাকা | ৮,৬২৫ টাকা |
৬৪ পৃষ্ঠা | ১০ বছর | ৮,০৫০ টাকা | ১০,৩৫০ টাকা |
সতর্কতা: ফি'র এই অঙ্কগুলো আনুমানিক — সরকারি ফি যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। আবেদনের আগে epassport.gov.bd পোর্টালে বা পাসপোর্ট অফিস থেকে হালনাগাদ ফি জেনে নিন। ফি পরিশোধের চালান সংরক্ষণ করুন, কারণ আবেদন জমা দেওয়ার সময় এটা দেখাতে হয়।
আবেদন প্রক্রিয়ায় কত দিন লাগে
সাধারণ (regular) ডেলিভারিতে পাসপোর্ট পেতে সাধারণত কয়েক সপ্তাহ সময় লাগে, আর জরুরি (express) ডেলিভারিতে সময় কম। তবে সংশোধনের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে নাম বা জন্ম তারিখের মতো সংবেদনশীল পরিবর্তনে, পুলিশ ভেরিফিকেশন বা অতিরিক্ত যাচাইয়ের কারণে সময় বেশি লাগতে পারে। তাই হাতে পর্যাপ্ত সময় রেখে আবেদন করাই বুদ্ধিমানের কাজ — ভিসা বা ভ্রমণের ঠিক আগে আবেদন না করাই ভালো।
আবেদনের অগ্রগতি জানতে পাসপোর্ট পোর্টালের অনলাইন ট্র্যাকিং ব্যবহার করুন। আবেদনের স্লিপে থাকা নম্বর দিয়ে যেকোনো সময় স্ট্যাটাস দেখা যায়। স্ট্যাটাসে "pending for police verification" বা "pending for AD approval" জাতীয় বার্তা দেখালে বুঝবেন আবেদন যাচাই-প্রক্রিয়ায় আছে — এ অবস্থায় অফিসে গিয়ে তাড়াহুড়ো না করে কয়েক কর্মদিবস অপেক্ষা করাই ভালো, তবে দীর্ঘদিন একই স্ট্যাটাসে আটকে থাকলে পাসপোর্ট অফিসে যোগাযোগ করুন।
আবেদন বাতিল বা আপত্তি হলে করণীয়
কখনো কখনো সংশোধনের আবেদন আটকে যায় বা আপত্তি (objection) আসে। এতে ঘাবড়ানোর কিছু নেই — বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কারণটা সহজ:
কাগজপত্রের অমিল: NID-এর তথ্যের সঙ্গে আবেদনের তথ্য না মিললে আপত্তি আসে। সমাধান — সঠিক তথ্য দিয়ে পুনরায় আবেদন করুন বা অফিসে গিয়ে সংশোধন করুন।
অসম্পূর্ণ ডকুমেন্ট: হলফনামা, শিক্ষা সনদ বা সহায়ক প্রমাণপত্র না থাকলে আবেদন ফেরত যেতে পারে। যা যা চাওয়া হয়েছে, সব জমা দিন।
যাচাইকালে সমস্যা: Special Branch যাচাইয়ে কোনো অসঙ্গতি ধরা পড়লে অতিরিক্ত কাগজ চাওয়া হতে পারে। ধৈর্য ধরে চাওয়া কাগজ সরবরাহ করুন।
আবেদন বাতিল হলে: কারণ জেনে নিন, ভুল শুধরে আবার আবেদন করুন। প্রয়োজনে পাসপোর্ট অফিসের সহকারী পরিচালকের সঙ্গে সরাসরি কথা বলুন।
একটা সাধারণ ভুল অনেকেই করেন — তাড়াহুড়ো করে আবেদনে আবার ভুল তথ্য দিয়ে ফেলা। আবেদন জমা দেওয়ার আগে ফরমের প্রতিটি ঘর NID-এর সঙ্গে মিলিয়ে দুবার দেখে নিন।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিশেষ নোট
সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, ওমান, কাতার, কুয়েত বা ইতালিতে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিরাও পাসপোর্ট সংশোধন করতে পারেন — দেশের বাইরের দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে। ২০২২-এর বিজ্ঞপ্তিতে প্রবাসীদের জন্যও একই নিয়ম প্রযোজ্য বলে স্পষ্ট করা হয়েছে।
দূতাবাসে আবেদনের সময় NID কপির পাশাপাশি নিচের যেকোনো একটি পরিচয়পত্রের কপিও লাগতে পারে:
Permanent Resident Card
Student ID Card
Job ID Card / Work Permit
Driving License
প্রবাসে থাকলে NID হাতে না থাকলেও অনেক দূতাবাস NID-এর অনলাইন কপি বা ভেরিফাইড তথ্য গ্রহণ করে — তবে আগে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের ওয়েবসাইট বা হটলাইন থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন। আর একটা পরামর্শ: পাসপোর্ট সংশোধনের পর আপনার ইকামা/রেসিডেন্স পারমিট, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও অন্যান্য অফিসিয়াল রেকর্ডেও তথ্য হালনাগাদ করতে ভুলবেন না, নয়তো পরে অমিল নিয়ে ঝামেলায় পড়তে পারেন।
দ্রুত মনে রাখার মতো টিপস
NID-ই সংশোধনের মূল ভিত্তি — আগে NID ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন।
সব কাগজপত্রের ফটোকপির পাশাপাশি অরিজিনাল সঙ্গে রাখুন, অফিসে দেখাতে হতে পারে।
হলফনামা ও অঙ্গীকারনামা ছাড়া সংবেদনশীল সংশোধনের আবেদন দুর্বল থাকে।
ফি ও প্রসেসিং সময় পরিবর্তনশীল — আবেদনের আগে অফিসিয়াল পোর্টাল (epassport.gov.bd) থেকে হালনাগাদ তথ্য জেনে নিন।
আবেদনের স্লিপ ও ফি'র চালান যত্ন করে সংরক্ষণ করুন; পাসপোর্ট সংগ্রহের সময় লাগবে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন
পাসপোর্টে নামের বানান ভুল হলে কী করবো?
NID বা শিক্ষা সনদে যে বানান আছে, সেই অনুযায়ী সংশোধনের আবেদন করুন। NID কপি, প্রয়োজনে শিক্ষা সনদ ও হলফনামাসহ অনলাইনে re-issue আবেদন করতে হবে।
জন্ম তারিখ সংশোধনে কি এফিডেভিট লাগে?
হ্যাঁ, জন্ম তারিখের মতো সংবেদনশীল সংশোধনে হলফনামা জমা দেওয়ার নির্দেশনা আছে। পাশাপাশি NID ও শিক্ষা সনদ (SSC/HSC বা সমমান) প্রমাণ হিসেবে লাগবে।
পাসপোর্ট সংশোধনে কি আলাদা ফি দিতে হয়?
না, সংশোধনের জন্য আলাদা কোনো ফি নেই। এটা re-issue হিসেবে গণ্য হয়, তাই নতুন পাসপোর্টের সমান ফি দিতে হবে।
বিয়ের পর পদবি বদলাতে চাইলে কী লাগবে?
নিকাহনামা বা বিবাহ সনদের কপিসহ আবেদন করুন। তবে মনে রাখবেন — NID-তেও পদবি হালনাগাদ থাকতে হবে, কারণ পাসপোর্টে NID-এর তথ্যই প্রতিফলিত হয়।
প্রবাস থেকে কি পাসপোর্ট সংশোধন করা যায়?
হ্যাঁ, যায়। সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটে আবেদন করতে পারবেন। NID কপির পাশাপাশি PR কার্ড, জব আইডি, স্টুডেন্ট আইডি বা ড্রাইভিং লাইসেন্সের মতো পরিচয়পত্র লাগতে পারে।
সংশোধনের পর কি পুরনো পাসপোর্ট বাতিল হয়ে যায়?
হ্যাঁ, সংশোধিত নতুন পাসপোর্ট ইস্যু হলে পুরনোটা বাতিল হয়ে যায়। তবে পুরনো পাসপোর্টে থাকা বৈধ ভিসার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের নিয়ম জেনে নিন — অনেক দেশে পুরনো পাসপোর্টের ভিসা নতুন পাসপোর্টের সঙ্গে বহন করা যায়।
MRP থেকে ই-পাসপোর্টে যাওয়ার সময় কি সংশোধন করা যাবে?
যাবে, এবং এটাই সবচেয়ে ভালো সুযোগ। MRP থেকে e-passport-এ রূপান্তরের সময়ই NID অনুযায়ী সব তথ্য সংশোধন করে নিন — আলাদা করে আরেকবার আবেদন করতে হবে না।
আবেদনে ভুল হলে কি নতুন করে আবেদন করা যায়?
হ্যাঁ, যায়। আবেদন জমা দেওয়ার পর ভুল ধরা পড়লে বা আপত্তি এলে কারণ জেনে সংশোধন করে পুনরায় আবেদন করতে পারবেন। তবে ফি'র চালান নতুন করে কাটতে হতে পারে — তাই প্রথমবারই নির্ভুল আবেদন করার চেষ্টা করুন।
সঠিক তথ্যসমৃদ্ধ পাসপোর্ট শুধু ভ্রমণের জন্যই নয় — ভিসা, চাকরি, ব্যাংকিং, এমনকি প্রবাসে রেসিডেন্সির ক্ষেত্রেও জরুরি। তাই পাসপোর্টে ভুল ধরা পড়ামাত্র দেরি না করে সংশোধনের আবেদন করুন, আর সব তথ্য NID-এর সঙ্গে মিলিয়ে নিন। শুভকামনা!
১
২ মন্তব্য