Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১২:৩০ পূর্বাহ্ণ

প্ল্যাংক স্কেলের রহস্য

প্ল্যাঙ্ক স্কেলের রহস্য: যেখানে সবকিছু ভেঙে পড়ে

প্ল্যাঙ্ক স্কেলের রহস্য: যেখানে সবকিছু ভেঙে পড়ে

যদি বলি, বিগ ব্যাংয়ের পর পর ঠিক কী হয়েছে, সে সবই আমরা শুধু তত্ত্বীয়ভাবে জানি, বিশ্বাস করবেন? যদি বলি, সেখানে আমাদের তাকানো নিষেধ, এ যেন এক মহাজাগতিক দুর্ভেদ্য দেয়াল—মানতে চাইবেন সে কথা?

প্রশ্নটা আরেকটু স্পষ্টভাবে করি। দূর অতীতে, মহাবিশ্বের সূচনার পর পর—সেই শুরুতে ঠিক কী হয়েছিল? উত্তর: কেউ জানে না।

বিজ্ঞানীরা যখন টেলিস্কোপে চোখ রেখে তাকান, বহু দূর অতীত দেখতে পান তাঁরা। জেমস ওয়েব নভোদুরবিন খুঁজে চলেছে মহাবিশ্বের প্রথম আলো। বিগ ব্যাংয়ের অবশেষ হিসেবে মহাবিশ্বের প্রথম আলোর ম্লান চিহ্ন বা ছাপ চারপাশে সবখানে দেখতে পাই আমরা। এই ছাপের নাম কসমিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড রেডিয়েশন বা সিএমবি। এই ছাপ, মহাবিশ্বের প্রথম আলো কিংবা আমাদের তত্ত্বীয় দৃষ্টিসীমা—সবকিছু একটা পর্যায়ে গিয়ে থমকে যায়। এ যেন এক রহস্যময় পর্দা, যে পর্দার ওপারে তাকানো নিষেধ।

কৃষ্ণবস্তুর বিকিরণ ব্যাখ্যায় একটা সূত্র প্রণয়ন করেন জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেম ভিন। ভিনের সূত্রটি ক্ষুদ্র তরঙ্গদৈর্ঘ্যের সঙ্গে নিখুঁতভাবে মিলে গেল। কিন্তু দেখা গেল, দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণের ব্যাখ্যায় সূত্রটি কাজ করছে না।এই পর্দার ওপারের জগৎটিই প্ল্যাঙ্ক স্কেলের জগৎ। যেখানে একসঙ্গে মিলেমিশে যায় আপেক্ষিকতা তত্ত্ব ও কোয়ান্টাম বলবিদ্যা। একসঙ্গে একীভূতভাবে থাকে মহাবিশ্বের চারটি মৌলিক বল। মহাবিশ্বের সূচনা, কোয়ার্ক-লেপটনের মতো মৌলিক কণা মিলে মিলে প্রথম হাইড্রোজেন বা মৌলিক পদার্থের সৃষ্টি—এই সবকিছু হয়েছে এই পর্দার ওপারে। যা এই বিশ্বের কেউ দেখেনি। কোনো যন্ত্র দিয়ে তা দেখা সম্ভব নয়।

কেন? চলুন, প্ল্যাঙ্ক স্কেলের রহস্যময় জগতে কল্পরথে চড়ে উঁকি দেওয়া যাক।

মন্তব্য করুন