Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৫:০৪ পূর্বাহ্ণ

পরনিন্দা ও সম্পদের মোহ পেরিয়ে আত্মশুদ্ধির পথে -মোঃ মুজিবুর রহমান

পরনিন্দা ও সম্পদের মোহ পেরিয়ে আত্মশুদ্ধির পথে

(সূরা আল-হুমাযাহর আলোকে মানবচরিত্র, সম্পদের মোহ, পরনিন্দা ও আখিরাতের জবাবদিহি)

মোঃ মুজিবুর রহমান
সহকারী অধ্যাপক
মোজাদ্দেদীয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসা, কালিয়াকৈর, গাজীপুর।

মানুষকে আল্লাহ তাআলা বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান ও নৈতিক বোধ দিয়ে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। মানুষের সৌন্দর্য শুধু তার বাহ্যিক রূপে নয়; বরং তার চরিত্র, কথা, কাজ, আমানতদারি, বিনয়, সত্যবাদিতা ও মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মধ্যেই তার প্রকৃত মর্যাদা নিহিত। একজন মানুষ তার জ্ঞান, সম্পদ ও সামাজিক অবস্থানের মাধ্যমে সম্মান অর্জন করতে পারে; কিন্তু সেই সম্মান তখনই স্থায়ী ও কল্যাণময় হয়, যখন তার অন্তর আল্লাহভীতি ও উত্তম চরিত্রে আলোকিত থাকে।

পবিত্র কুরআনের ১০৪ নম্বর সূরা আল-হুমাযাহ অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত হলেও মানবজীবনের জন্য গভীর ও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। মাত্র নয়টি আয়াতে এই সূরায় এমন কিছু মানুষের চরিত্র ও পরিণতির কথা তুলে ধরা হয়েছে, যারা অন্যকে উপহাস, নিন্দা ও হেয় করে, সম্পদ জমায় এবং সম্পদের হিসাব করতে করতে মনে করে যে তার সম্পদই তাকে নিরাপদ ও স্থায়ী করে রাখবে। সূরাটি মানুষকে সতর্ক করে দেয়—দুনিয়ার সম্পদ, বাহ্যিক মর্যাদা ও মানুষের ওপর প্রভাব কোনো কিছুই মৃত্যুকে ঠেকাতে পারে না; প্রকৃত সফলতা নির্ভর করে ঈমান, সৎকর্ম, তাকওয়া ও সুন্দর চরিত্রের ওপর।

পরনিন্দা ও উপহাস—একটি ভয়াবহ চারিত্রিক ব্যাধি

সূরার শুরুতেই আল্লাহ তাআলা বলেন—

“প্রত্যেক পরনিন্দাকারী ও দোষারোপকারীর জন্য দুর্ভোগ।”

এখানে মানুষের এমন একটি ভয়াবহ আচরণের প্রতি সতর্ক করা হয়েছে, যা ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজের শান্তি নষ্ট করে। কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষ আলোচনা করা, তার সম্মান ক্ষুণ্ন করা, তাকে নিয়ে বিদ্রূপ করা, তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করা কিংবা ইঙ্গিত-ইশারায় তাকে অপমান করা—এসব মানুষের মর্যাদাকে আঘাত করে।

পরনিন্দা কখনো শুধু কয়েকটি কথার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। একটি কটু কথা একটি সম্পর্ক ভেঙে দিতে পারে, একটি অপমান একটি হৃদয়কে দীর্ঘদিন কষ্ট দিতে পারে এবং একটি মিথ্যা বা অতিরঞ্জিত বক্তব্য বহু মানুষের মধ্যে ভুল ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। তাই মুমিনের জিহ্বা হতে হবে সংযত, সত্যনিষ্ঠ ও কল্যাণমুখী।

ইসলাম মানুষকে অন্যের দোষ খুঁজে বেড়ানোর পরিবর্তে নিজের সংশোধনের দিকে মনোযোগ দিতে শিক্ষা দেয়। কারণ অন্যের ত্রুটি নিয়ে ব্যস্ত থাকা সহজ, কিন্তু নিজের অন্তরের অহংকার, হিংসা, লোভ, ক্রোধ ও কুপ্রবৃত্তি সংশোধন করা কঠিন। প্রকৃত আত্মশুদ্ধি হলো—মানুষ অন্যকে ছোট করার আগে নিজের অবস্থার দিকে তাকাবে।

গীবত ও অপমানের ভয়াবহতা

পরনিন্দা মানুষের পারস্পরিক বিশ্বাস নষ্ট করে। পরিবারে ভাই-বোনের মধ্যে, সমাজে প্রতিবেশীর মধ্যে, কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের মধ্যে কিংবা বন্ধুত্বের সম্পর্কে পরনিন্দা বিষের মতো কাজ করে।

কেউ যখন অন্যের অনুপস্থিতিতে তার এমন কোনো বিষয় আলোচনা করে, যা সে শুনলে অপছন্দ করবে, তখন তা গীবতের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আর যদি সেই কথাটি সত্য না হয়, তাহলে তা আরও গুরুতর অন্যায়—অপবাদ। তাই একজন সচেতন মুসলমানকে কথা বলার আগে ভাবতে হবে—

আমি যা বলছি, তা কি সত্য?
এটি কি প্রয়োজনীয়?
এতে কি কারও সম্মান ক্ষুণ্ন হবে?
আল্লাহ কি আমার এই কথায় সন্তুষ্ট হবেন?

এই কয়েকটি প্রশ্ন মানুষের জিহ্বাকে বহু অনিষ্ট থেকে রক্ষা করতে পারে।

অন্যকে ছোট করে কেউ বড় হতে পারে না

কিছু মানুষ নিজের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করার জন্য অন্যকে ছোট করে। কারও পোশাক, চেহারা, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষা, পেশা, পরিবার কিংবা সামাজিক অবস্থান নিয়ে হাসাহাসি করে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে চায়। কিন্তু এটি প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব নয়; বরং চরিত্রের দুর্বলতার প্রকাশ।

মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি তার সম্পদ বা বাহ্যিক অবস্থান নয়। আল্লাহর কাছে মর্যাদার ভিত্তি হলো তাকওয়া। তাই অন্যকে হেয় করার পরিবর্তে একজন মুমিনের উচিত মানুষের প্রতি সম্মান, সহমর্মিতা ও সৌজন্য প্রদর্শন করা।

সম্পদ—আল্লাহর নিয়ামত, অহংকারের উপকরণ নয়

সূরার পরবর্তী আয়াতে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে সম্পদ সঞ্চয় করে এবং তা বারবার গণনা করে। এখানে সম্পদ অর্জনকে নিজে নিন্দা করা হয়নি; বরং সম্পদের প্রতি এমন মোহ ও অহংকারকে নিন্দা করা হয়েছে, যা মানুষকে আল্লাহর স্মরণ, মানুষের অধিকার ও আখিরাতের জবাবদিহি থেকে গাফেল করে দেয়।

ইসলাম বৈধ উপায়ে সম্পদ উপার্জনকে নিষিদ্ধ করেনি। বরং হালাল উপার্জন, পরিশ্রম, ব্যবসা-বাণিজ্য, দান-সদকা এবং মানুষের উপকারকে উৎসাহিত করেছে। কিন্তু সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সম্পদ মানুষের জীবনের উদ্দেশ্য হয়ে যায় এবং মানুষ মনে করতে থাকে—অর্থ, বাড়ি, জমি, ব্যবসা, পদমর্যাদা ও সামাজিক প্রভাবই তার প্রকৃত নিরাপত্তা।

সম্পদ আল্লাহর দেওয়া আমানত। তাই সম্পদের সঙ্গে দায়িত্বও জড়িত। নিজের প্রয়োজন পূরণ করার পাশাপাশি যাকাত আদায়, অভাবী মানুষের সহায়তা, আত্মীয়ের হক আদায় এবং কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করা সম্পদের সঠিক ব্যবহারের অংশ।

সম্পদ মানুষকে চিরস্থায়ী করতে পারে না

সূরায় বলা হয়েছে—

“সে মনে করে যে তার সম্পদ তাকে চিরস্থায়ী করে রাখবে।”

এটি মানুষের একটি গভীর ভ্রান্ত ধারণার প্রতি সতর্কতা। পৃথিবীর কোনো সম্পদ মানুষকে অমর করতে পারে না। সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিও মৃত্যুর অধীন। সবচেয়ে ক্ষমতাবান মানুষও মৃত্যুর সামনে অসহায়। বড় বাড়ি, বিপুল অর্থ, জমিজমা, ব্যবসা কিংবা সামাজিক পরিচিতি—কোনোটিই মানুষের জীবনকে অনন্ত করতে পারে না।

মৃত্যু মানুষের দুনিয়ার জীবনের সমাপ্তি ঘটায় এবং তাকে আখিরাতের জবাবদিহির দিকে নিয়ে যায়। তাই সম্পদ থাকা অপরাধ নয়; বরং সম্পদের প্রতি এমন আসক্তি, যা মানুষকে আল্লাহকে ভুলিয়ে দেয় এবং অন্যের অধিকার নষ্ট করতে প্ররোচিত করে, সেটিই ভয়াবহ বিপদ।

সম্পদের হিসাবের সঙ্গে আমলের হিসাবও মনে রাখতে হবে

মানুষ প্রতিদিন টাকা-পয়সার হিসাব রাখে। কত আয় হলো, কত ব্যয় হলো, কত জমা হলো—এসব হিসাব করতে সে যত্নবান। কিন্তু একজন মুমিনের আরও একটি হিসাব রাখা প্রয়োজন—আজ আমি কতটি ভালো কাজ করেছি? কাকে কষ্ট দিয়েছি? কার হক নষ্ট করেছি? কার উপকার করেছি? আমার কথায় কেউ কষ্ট পেয়েছে কি না? আমি আল্লাহর ফরজ দায়িত্বগুলো ঠিকভাবে পালন করেছি কি না?

দুনিয়ার হিসাব মানুষকে সাময়িকভাবে উপকৃত করতে পারে; কিন্তু আখিরাতের হিসাব নির্ধারণ করবে মানুষের চূড়ান্ত পরিণতি। তাই সম্পদ গণনার পাশাপাশি আমলও মূল্যায়ন করতে হবে।

হুতামাহ—ভয়াবহ পরিণতির সতর্কবার্তা

সূরা আল-হুমাযাহ মানুষের সামনে আখিরাতের কঠিন পরিণতির চিত্র তুলে ধরে। আল্লাহ তাআলা বলেন, তাকে হুতামাহ-তে নিক্ষেপ করা হবে। এরপর প্রশ্ন করা হয়েছে—“তুমি কি জানো হুতামাহ কী?”

হুতামাহ অর্থ এমন এক পিষ্টকারী বা চূর্ণকারী আগুন, যার ভয়াবহতা মানুষের কল্পনার বাইরে। এরপর বলা হয়েছে—

“এটি আল্লাহর প্রজ্জ্বলিত আগুন, যা হৃদয়ের ওপর পর্যন্ত পৌঁছে যাবে।”

এই বর্ণনা মানুষের অন্তরকে নাড়া দেয়। কারণ মানুষ বাহ্যিক আগুনের সামান্য উত্তাপেই কষ্ট পায়; অথচ আখিরাতের শাস্তির ভয়াবহতা দুনিয়ার আগুনের সঙ্গে তুলনীয় নয়। তাই কুরআনের এই সতর্কবার্তা মানুষের অন্তরে আল্লাহভীতি সৃষ্টি করে এবং অন্যায় থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানায়।

অন্তরের রোগ থেকেই অনেক অন্যায়ের জন্ম

সূরা আল-হুমাযাহর একটি গভীর শিক্ষা হলো—মানুষের বাহ্যিক আচরণের পেছনে অন্তরের অবস্থা বড় ভূমিকা রাখে। হিংসা থেকে পরনিন্দা জন্ম নিতে পারে, অহংকার থেকে মানুষ অন্যকে তুচ্ছ করতে পারে, আর সম্পদের মোহ থেকে মানুষের অন্তরে আত্মগর্ব ও অবহেলার সৃষ্টি হতে পারে।

তাই শুধু বাহ্যিক আচরণ পরিবর্তন করলেই হবে না; অন্তরকেও পরিশুদ্ধ করতে হবে। অন্তরকে ঈমান, তাকওয়া, বিনয়, কৃতজ্ঞতা, দয়া ও আল্লাহর স্মরণে জীবন্ত রাখতে হবে।

জিহ্বার হেফাজত একজন মুমিনের বড় দায়িত্ব

মানুষের শরীরের ছোট একটি অঙ্গ জিহ্বা; কিন্তু এর মাধ্যমে অসংখ্য ভালো ও মন্দ কাজ সংঘটিত হতে পারে। জিহ্বা দিয়ে কুরআন তিলাওয়াত করা যায়, আল্লাহর জিকির করা যায়, সত্য কথা বলা যায়, মানুষের মনকে সান্ত্বনা দেওয়া যায়। আবার এই জিহ্বা দিয়েই মিথ্যা, গীবত, অপবাদ, কটুকথা ও অপমান করা সম্ভব।

তাই কথা বলার ক্ষেত্রে সংযম অত্যন্ত জরুরি। সব সত্য কথা সব সময় বলা প্রয়োজন হয় না; আবার কোনো কথা সত্য হলেও তা যদি অপ্রয়োজনীয়ভাবে কারও সম্মান নষ্ট করে, তবে তা বলা থেকে বিরত থাকা প্রজ্ঞার পরিচয়।

মুমিনের কথা হবে সত্য, সুন্দর, প্রয়োজনীয় ও কল্যাণকর।

সামাজিক জীবনে সূরা আল-হুমাযাহর শিক্ষা

বর্তমান যুগে সূরা আল-হুমাযাহর শিক্ষা আরও গুরুত্বপূর্ণ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, মোবাইল ফোন ও নানা ডিজিটাল মাধ্যমে মানুষ খুব সহজেই অন্যের সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারে। যাচাই না করে কোনো কথা ছড়িয়ে দেওয়া, কাউকে নিয়ে বিদ্রূপ করা, ব্যক্তিগত বিষয় প্রকাশ করা, অপমানজনক ছবি বা বক্তব্য প্রচার করা—এসব মানুষের সম্মান ও সামাজিক শান্তির জন্য ক্ষতিকর।

একজন দায়িত্বশীল মুসলমানের উচিত অনলাইনে ও অফলাইনে একই নৈতিকতা বজায় রাখা। বাস্তবে কাউকে যা বলা অন্যায়, পর্দার আড়ালে থেকেও তা বলা অন্যায়। মানুষের সামনে যেমন আল্লাহ আমাদের দেখেন, তেমনি একাকী অবস্থাতেও তিনি আমাদের কথা ও কাজ সম্পর্কে অবগত।

অর্থনৈতিক জীবনে ইসলামের ভারসাম্য

সূরা আল-হুমাযাহ আমাদের সম্পদের ব্যাপারে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি শিক্ষা দেয়। ইসলাম দারিদ্র্যকে আদর্শ বানায় না, আবার সম্পদকেও জীবনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বানাতে বলে না। বরং হালাল উপার্জন, পরিমিত ভোগ, দায়িত্বশীল সঞ্চয়, যাকাত, সদকা ও মানুষের কল্যাণ—এসবের মাধ্যমে সম্পদকে কল্যাণের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে শিক্ষা দেয়।

সম্পদ যদি মানুষের হাতে থাকে এবং হৃদয়ে আল্লাহর ভয় থাকে, তাহলে তা কল্যাণের উপকরণ হতে পারে। কিন্তু সম্পদ যদি মানুষের হৃদয়ের অধিপতি হয়ে যায়, তখন সেটিই তার জন্য পরীক্ষার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আত্মসমালোচনা ও তওবার প্রয়োজন

সূরা আল-হুমাযাহ কেবল অন্যের দোষ দেখার জন্য নয়; নিজের চরিত্র পরীক্ষা করার জন্যও। আমাদের প্রত্যেকের নিজেকে প্রশ্ন করা উচিত—

আমি কি কখনো কাউকে উপহাস করি?
আমি কি অন্যের দোষ নিয়ে আলোচনা করি?
আমি কি কারও অনুপস্থিতিতে তার সম্মান ক্ষুণ্ন করি?
আমি কি সম্পদকে জীবনের সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা মনে করি?
আমি কি সম্পদের কারণে অন্যের অধিকার ভুলে যাই?
আমি কি আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করি?
আমি কি আখিরাতের জবাবদিহির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি?

যদি নিজের মধ্যে কোনো ত্রুটি পাওয়া যায়, তবে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। আন্তরিক তওবা, সংশোধন ও নেক আমলের মাধ্যমে মানুষ নিজেকে পরিবর্তন করতে পারে। আল্লাহ তাআলা বান্দার তওবা কবুল করেন—তাই ভুল বুঝতে পারলে দ্রুত ফিরে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ।

সূরা আল-হুমাযাহর সামগ্রিক শিক্ষা

সূরাটি আমাদের শেখায়—মানুষের প্রকৃত মর্যাদা সম্পদে নয়, চরিত্রে; মানুষের প্রকৃত নিরাপত্তা অর্থে নয়, আল্লাহর আনুগত্যে; মানুষের প্রকৃত শ্রেষ্ঠত্ব অন্যকে ছোট করার মধ্যে নয়, বরং নিজেকে সংশোধন ও মানুষের কল্যাণে নিয়োজিত করার মধ্যে।

পরনিন্দা মানুষের সম্মান নষ্ট করে, অহংকার মানুষকে অন্ধ করে, সম্পদের মোহ মানুষকে আখিরাত থেকে গাফেল করে এবং অন্যের অধিকার নষ্ট করা মানুষের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিপরীতে সত্যবাদিতা, বিনয়, সংযম, আমানতদারি, দয়া, তাকওয়া, দানশীলতা ও সৎকর্ম মানুষের জীবনকে সুন্দর ও কল্যাণময় করে।

উপসংহার

সূরা আল-হুমাযাহ ছোট একটি সূরা হলেও এর শিক্ষা মানুষের ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক জীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি আমাদের জিহ্বাকে সংযত করতে, অন্যের সম্মান রক্ষা করতে, সম্পদের মোহ থেকে বাঁচতে, অহংকার পরিহার করতে এবং আখিরাতের জবাবদিহির কথা স্মরণ করতে শিক্ষা দেয়।

জীবন ক্ষণস্থায়ী, সম্পদ অনিত্য, যৌবন ক্ষয়শীল এবং দুনিয়ার মর্যাদা অস্থায়ী। একদিন সব সম্পদ, পদ-পদবি ও পার্থিব পরিচয় পেছনে রেখে মানুষকে একাকী আল্লাহর সামনে দাঁড়াতে হবে। তখন মানুষের সঙ্গে থাকবে তার ঈমান, আমল ও চরিত্র।

তাই আসুন—
পরনিন্দার পরিবর্তে সত্য ও সুন্দর কথা বলি,
অপমানের পরিবর্তে সম্মান করি,
অহংকারের পরিবর্তে বিনয় ধারণ করি,
সম্পদের মোহের পরিবর্তে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি,
অন্যের হক নষ্ট না করে আমানত রক্ষা করি,
এবং দুনিয়ার জীবনের পাশাপাশি আখিরাতের স্থায়ী জীবনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করি।

আল্লাহ তাআলা আমাদের জিহ্বাকে গীবত ও কটুকথা থেকে, অন্তরকে অহংকার ও হিংসা থেকে এবং জীবনকে সম্পদের মোহ ও অন্যায়ের পথ থেকে হেফাজত করুন। তিনি আমাদের ঈমান, তাকওয়া, সুন্দর চরিত্র, হালাল উপার্জন, নেক আমল ও মানুষের হক আদায়ের তাওফিক দান করুন এবং আখিরাতের কঠিন শাস্তি থেকে রক্ষা করুন।

আমিন।

 

মন্তব্য করুন

ব্লগ