Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৩৬ পূর্বাহ্ণ

ছাত্র আজমুল মৃ/ত্যুর ঘটনায় আসামির চাঞ্চল্যকর তথ্য


নির্যাতনের সময় কয়েকজন আজমুলের ওই কথিত স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হলে আতঙ্কে তিনি ভবনের চারতলার ছাদ থেকে তিনতলায় লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সে সময় পা পিছলে নিচে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি আসামির।

#খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় #ছাত্র #হত্যা

খুলনার নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির ছাত্র আয়মান মো. আজমুল হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। মামলার অন্যতম আসামি শেখ আসিফ হোসেন গ্রেফতার হওয়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, আজমুলকে মারধরের পাশাপাশি ভাত, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অপবাদ দিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি নেওয়া হয়েছিল।

গ্রেফতার আসিফের ভাষ্যমতে, নির্যাতনের সময় কয়েকজন আজমুলের ওই কথিত স্বীকারোক্তির ভিডিও ধারণ করেন। পরবর্তীতে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হলে আতঙ্কে তিনি ভবনের চারতলার ছাদ থেকে তিনতলায় লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সে সময় পা পিছলে নিচে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয় বলে দাবি আসামির।

ideal College

তবে আসামি আসিফের এই বক্তব্য কতটুকু সত্য, তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটির মূল রহস্য উদ্ঘাটনে রিমান্ডে পাওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাইসহ সব দিক বিবেচনায় রেখে বিস্তারিত তদন্ত চালানো হচ্ছে।

গতকাল বুধবার মধ্যরাতে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীর ভাটিয়াপাড়া গোলচত্বর এলাকা থেকে শেখ আসিফ হোসেনকে (২৮) গ্রেফতার করে এলিট ফোর্স এসআরবি-৬, স্পেশাল কোম্পানি ও ভাটিয়াপাড়া ক্যাম্পের যৌথ দল। তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী।

জিজ্ঞাসাবাদে আজমুলের মৃত্যুর ঘটনা সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে দাবি করেছে এসআরবি। এ নিয়ে গত দুদিনে মামলায় মোট চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী তিনজন ও একজন জুস বিক্রেতা।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আজমুলকে নির্যাতন ও তার মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে গ্রেফতার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে একাধিক তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এরই মধ্যে গ্রেফতার হওয়া হাবিব রিফাত ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।

এসআরবি সূত্রের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ জানিয়েছেন, গত শুক্রবার রাতে তিনি তার ব্যাচের সহপাঠীদের সঙ্গে দেখা করতে সংশ্লিষ্ট ভবনে যান। সেখানে আজমুলকে মারধরের সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে আজমুলকে ভবনের চারতলার ছাদে নিয়ে নির্যাতন করা হয় বলে আসিফের ভাষ্য। আজমুলের বিরুদ্ধে ভাত চুরি করে খাওয়া, মোবাইল ফোন ও টাকা চুরির অভিযোগ তোলা হয়। এসব অভিযোগ স্বীকার করতে তাকে চাপ দেওয়া হয় বলেও দাবি করেছেন আসিফ।

আসিফের দাবি, নির্যাতনের সময় উপস্থিত কয়েকজন আজমুলের বক্তব্যের ভিডিও ধারণ করেন। পরে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। তখন আজমুল চারতলার ছাদ থেকে তৃতীয় তলায় লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। সেখানে পা পিছলে নিচে পড়ে তার মৃত্যু হয়। তবে এসব তথ্য এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হয়নি। তদন্তে আসিফের বক্তব্যের সঙ্গে অন্যান্য সাক্ষ্য, আলামত ও ভিডিও ফুটেজ মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।

এসআরবি জানিয়েছে, জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ মেস ম্যানেজার মেহেদী এবং কৃষি ব্যাংকের খুলনার টাউন নওয়াপাড়া শাখার ক্যাশ অফিসার হাবিব রিফাতের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার দাবি করেছেন। আজমুলকে নির্যাতনের ঘটনায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে আসিফের ভাষ্য। তবে আজমুলকে হত্যার উদ্দেশ্য ছিল না বলেও দাবি করেছেন আসিফ।

এ ছাড়া খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা হলের সামনে থাকা ‘মা-বাবার দোয়া তানহা জুস কর্নার’-এর মালিক তারেক ওরফে রুবেল আজমুলকে বেশি মারধর করেছেন বলে আসিফের বক্তব্যে উঠে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। এসব তথ্যের স্বাধীন সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। তদন্তে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হচ্ছে।

এসআরবি সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে আসিফ দাবি করেছেন, একটি বেসরকারি ব্যাংকে তার চাকরি হয়েছিল। ২০ সেপ্টেম্বর তার কাজে যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে আজমুলের মৃত্যুর পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান। পরে অভিযান চালিয়ে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

আসিফ খুলনার পাইকগাছা উপজেলার সনাতনকাটি গ্রামের শেখ মিরাজের ছেলে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তাকে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার এসআরবি হাবিব রিফাত (৩০) ও তারেক ওরফে রুবেলকে (৩৫) গ্রেফতার করে। একই দিনে প্রতাপ সরকার (২৮) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। তাদের মধ্যে হাবিব রিফাত আদালতে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হরিণটানা থানার ওসি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, আজমুল হত্যা মামলায় গ্রেফতার হাবিব রিফাত আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৪-এর বিচারক ইব্রাহীম খলিল মাহিমের কাছে তিনি এ জবানবন্দি দেন।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের হল রোড-সংলগ্ন ইসলামনগর সড়কের একটি চারতলা ভবনের ছাদে আজমুলকে ভাত চুরির অভিযোগে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ভবন থেকে পড়ে তার মৃত্যু হয়। স্বজনদের দাবি, তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

Presidency University admission (300x250) 20-08-26

এ ঘটনায় গত শনিবার রাতে নিহত আজমুলের বাবা কুতুবউদ্দিন বাদী হয়ে হরিণটানা থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীসহ ২০ থেকে ২৫ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

#খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় #ছাত্র #হত্যা

মন্তব্য করুন

ব্লগ