Loading..

ব্লগ

রিসেট

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৪০ পূর্বাহ্ণ

নগরায়ণের গ্রাসে জলাধার: শহর বাঁচানোর নিয়ম বনাম বাস্তবতা


জলাধার হ্রাস ও আবাসন সম্প্রসারণের পরিসংখ্যান: ঢাকার জলাভূমি সংকট নতুন নয়। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার মার্সি ও ইনান্ডেটেড লো-লাইং এলাকার পরিমাণ প্রায় ১৩৩ বর্গকিলোমিটার ছিল। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে তা প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটারে নেমে আসে—অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক হ্রাস পায়।

#জলাভূমি #বড়পুকুরিয়া #নগরায়ণ #দৈনিক শিক্ষা #দৈনিক শিক্ষা সংবাদ

নগরায়ণের দৃশ্যমান বৈশিষ্ট্যগুলোর একটি হলো নিম্নভূমি, পুকুর, হ্রদ, খাল, বিল ও জলাভূমি ভরাট করে আবাসিক ও বাণিজ্যিক স্থাপনা সম্প্রসারণ। বিশেষত দেশের প্রায় সব বিভাগীয় শহর ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় আবাসন শিল্পের সম্প্রসারণ এবং জলাধার হারানোর প্রবণতা যেন সমান্তরাল প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়েছে। অথচ একটি শহরের জলাধার কেবল খোলা জায়গা নয় বরং এগুলো শহরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বা ওয়াটার রিজার্ভার। ভূগর্ভস্থ পানি পুনর্ভরণের ক্ষেত্র, জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল, তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক, মাটির পুষ্টিচক্রের অংশ, প্রাণী-উদ্ভিদের খাদ্য গ্রহণের উৎস এবং জরুরি সময়ে অগ্নিনির্বাপণের জন্য পানির উৎস।

সাম্প্রতিক গবেষণায় ঢাকায় জলাধার সংকটের ভয়াবহতা স্পষ্ট হয়েছে। ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত ল্যান্ডসেট ভিত্তিক একটি গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা মহানগর এলাকার জলাধার ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের ২২ শতাংশ থেকে ২০২১ খ্রিষ্টাব্দে ৯ শতাংশে নেমে এসেছে। একই সময়ে বিল্ট-আপ এরিয়া প্রায় ২৮–৪৭ শতাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে। আরও দীর্ঘ সময়ের সরকারি গবেষণায় ১৭৭৬ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকা ও আশপাশের অঞ্চলে প্রায় ৩৮৩ বর্গকিলোমিটার জলাভূমি থাকলেও ২০২৫ খ্রিষ্টাব্দে তা মাত্র ৬৪ বর্গকিলোমিটারে নেমে এসেছে—প্রায় ৮৩ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এ পরিসংখ্যান নগর উন্নয়নের বর্তমান মডেল সম্পর্কে একটি মৌলিক প্রশ্ন সৃষ্টি করে যে, জলাধার ধ্বংস করেই কি আবাসন সম্প্রসারণ করতে হবে, নাকি জলাধার আবাসনশিল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিকল্পনায় অর্ন্তভুক্ত করতে হবে।

ideal College

জলাধার হ্রাস ও আবাসন সম্প্রসারণের পরিসংখ্যান: ঢাকার জলাভূমি সংকট নতুন নয়। ১৯৬৮ খ্রিষ্টাব্দে ঢাকার মার্সি ও ইনান্ডেটেড লো-লাইং এলাকার পরিমাণ প্রায় ১৩৩ বর্গকিলোমিটার ছিল। ২০০১ খ্রিষ্টাব্দে তা প্রায় ৬৭ বর্গকিলোমিটারে নেমে আসে—অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক হ্রাস পায়। একই সময়ে ইনল্যান্ড লেকের আয়তন ৫ দশমিক ১ থেকে ১ দশমিক ৮ বর্গকিলোমিটারে নেমে আসে। আরেকটি গবেষণায় ১৯৬০-২০০৮ সময়ে ঢাকার ওয়াটারবডিস প্রায় ৩২ দশমিক ৫৭ শতাংশ এবং লোল্যান্ডস প্রায় ৫২ দশমিক ৫৮ শতাংশ কমে যাওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। গবেষণাটি ল্যান্ড ফিলিং ও এনক্রোচম্যান্টকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

রাজউক ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অঞ্চলের ১৯৯৫-২০২২ খ্রিষ্টাব্দের ওপর সাম্প্রতিক জিওস্পেশিয়াল গবেষণায় আরও উদ্বেগজনক চিত্র পাওয়া যায়। গবেষণায়—ওয়েটল্যান্ড এরিয়া-এর সামগ্রিক হ্রাস: ১৪০ দশমিক ৯২ বর্গকিলোমিটার; টেম্পোরারি ওয়েটল্যান্ড হ্রাস: ১৯ দশমিক ২৬ শতাংশ; পারমানেন্ট ওয়েটল্যান্ড হ্রাস: ৪৫ দশমিক ৮৩ শতাংশ; ওয়েটল্যান্ড ইকোসিস্টেম সার্ভিস ভ্যালু (ইএসভি) হ্রাস: প্রায় ২৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। ২০৩০ খ্রিষ্টাব্দ নাগাদ আরও প্রায় ২৭ দশমিক ১১ বর্গকিলোমিটার ওয়েটল্যান্ড হারানোর সম্ভাবনা—এমন পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ আবাসিক ও অন্যান্য বিল্ট-আপ ল্যান্ড-এর বৃদ্ধি শুধু জলাধারের জায়গা দখল করছে না; একই সঙ্গে জলাধার থেকে পাওয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি ধারণ, জীববৈচিত্র্য, গ্রাউন্ডওয়াটার রিচার্জ এবং মাইক্রোক্লাইমেট রেগুলেশন-এর মতো ইকোসিস্টেম সার্ভিসেস-এর অর্থনৈতিক মূল্যও কমাচ্ছে।

অধ্যাপক ড. মো. লোকমান হোসেনঅধ্যাপক ড. মো. লোকমান হোসেন

আবাসন ও জলাধার সংরক্ষণকে একই পরিকল্পনায় আনয়ন: নগরবাসীর আবাসনের প্রয়োজন এটা সত্য তাই বলে জলাধার ভরাট করে আবাসন নির্মাণ এ একটি ভ্রান্ত উন্নয়ন পরিকল্পনা। একটি জলাধার হারানোর তাৎক্ষণিক লাভ হলো জমি পাওয়া। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি ব্যয় হতে পারে জলাবদ্ধতা, বন্যা, পানি সংকট, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, বায়োডাইভার্সিটি লস এবং দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি।

Presidency University admission (300x250) 20-08-26

একটি গবেষণায় দেখা যায় বৃহত্তর ঢাকাতে ল্যান্ড ডেভেলপার্স কর্তৃক ফ্লাড-ফ্লো জোন ও ন্যাচারাল রিটেনশন পন্ড-এর ওপর ১০ হাজার ১২৮ দশমিক ৩৩ হেক্টর জমি হাউজিং ও রিলেটেড ডেভেলপমেন্ট-এ রূপান্তরের তথ্য পাওয়া যায়। এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত বিষয় হলো—জলাধারকে ভেক্যান্ট ল্যান্ড হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। এটি শহরের ন্যাচারাল ইনফ্রাস্ট্রাকচার হিসেবে বিবেচনায় নিতে হবে।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় শহুরের জলাধার: শহুরের পুকুর, খাল, বিল ও নিম্নভূমি মাছ, ব্যাঙ, কচ্ছপ, সাপ, জলচর পাখি, কীটপতঙ্গ, প্ল্যাঙ্কটন এবং অসংখ্য অণুজীবের আবাস হিসেবে কাজ করে। জলাধার ভরাট হলে—জলজ আবাস সরাসরি বিলুপ্ত হয় ফলে সকল ধরনের উদ্ভিদ বিলুপ্ত হয়; ব্রিডিং ও নার্সারি গ্রাউন্ড নষ্ট হয়; খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে; পাখি ও অ্যামফিবিয়ান-এর পপুলেশন কমে; ইকোলজিক্যাল কানেক্টিভিটি বিচ্ছিন্ন হয়; স্থানীয় জেনেটিক ডাইভারসিটি হ্রাস পায়। ঢাকার জলাধার নিয়ে গবেষণাগুলোতে ওয়েটল্যান্ড লস-এর সঙ্গে ইকোলজিক্যাল ডিগ্রেডেশন-এর পাশাপাশি ড্রেনেজ ভালনারেবিলিটি ও ওয়াটারলগিং-এর সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

একটি মাটির উর্বরতা ও অণুজীব সংরক্ষণ: শহুরে জলাধারের তলদেশের সেডিমেন্ট একটি সক্রিয় সয়েল–ওয়াটার–মাইক্রোঅর্গানিজম ইন্টারফেস। এখানে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, শৈবাল এবং অন্যান্য অণুজীব মৃত উদ্ভিদ-প্রাণীর জৈব পদার্থ ভেঙে কার্বন, নাইট্রোজেন, ফসফরাস-সহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদানের সাইক্লিং-এ ভূমিকা রাখে। জলাধার ভরাটের ফলে মাটি শুধু পানি ধারণক্ষমতা হারায় না; একই সঙ্গে—সেডিমেন্ট মাইক্রোবিয়াল হ্যাবিট্যাট ধ্বংস হয়; ডিকম্পোজিশন প্রসেস পরিবর্তিত হয়; নিউট্রিয়েন্ট সাইক্লিং ব্যাহত হয়; গ্রাউন্ডওয়াটার রিচার্জ কমে; সয়েল ময়েশ্চার রিজিম পরিবর্তিত হয়। অন্যদিকে অতিরিক্ত সিউয়েজ, হেভি মেটালস, প্লাস্টিক ও কেমিক্যাল পলিউশন জলাধারের মাইক্রোবিয়াল কমিউনিটি-এর গঠন ও কার্যকারিতা পরিবর্তন করতে পারে। সুতরাং সংরক্ষণ নীতিতে শুধু জলাধারের আয়তন নয়, ওয়াটার কোয়ালিটি+সেডিমেন্ট কোয়ালিটি+মাইক্রোবিয়াল বায়োডাইভারসিটি পর্যবেক্ষণ অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন।

শহুরে বন্যা ও জলাবদ্ধতা প্রতিরোধ: বাংলাদেশের প্রায় সকল বিভাগীয় শহরের আশপাশের জলাধারগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইকোসিস্টেম সার্ভিস হলো স্টর্ম-ওয়াটার স্টোরেজ।

বর্ষায় অতিরিক্ত বৃষ্টির পানি প্রথমে জলাধার, নিম্নভূমি, পুকুর, দীঘি, লেক বা খালে সাময়িকভাবে জমা হতে পারে। এগুলো ভরাট হলে একই পানি সরাসরি সড়ক ও জনবসতিতে চলে আসে।

বিশ্বব্যাংকের আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট-এর নথিতে উল্লেখ রয়েছে ঢাকার বন্যার ঝুঁকির সঙ্গে র‍্যাপিড আরবানাইজেশন, আনকন্ট্রোল্ড ল্যান্ড ফিলিং, ওয়েটল্যান্ড লস, ড্রেনেজ অবস্ট্রাকশন ও লেক এনক্রোচমেন্ট-এর সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের বন্যায় ঢাকার প্রায় ৮৫শতাংশ এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়েছিল এবং প্রায় ৬০ শতাংশ নগরবাসী আক্রান্ত হয়েছিল।

অতএব, জলাধার সংরক্ষণ ড্রেনেজ ইনফ্রাস্ট্রাকচার-এর বিকল্প নয়, বরং প্রাকৃতিক ড্রেনেজ ইনফ্রাস্ট্রাকচারের প্রথম স্তর হিসেবে বিবেচিত।

অগ্নিকাণ্ডে শহুরে জলাধারের কৌশলগত গুরুত্ব: বাংলাদেশের শহরগুলোতে অগ্নিকাণ্ড একটি ক্রমবর্ধমান নগর-দুর্যোগ। ঘনবসতি, সরু রাস্তা এবং পর্যাপ্ত ফায়ার ওয়াটার সোর্স-এর অভাব অনেক ক্ষেত্রে উদ্ধারকাজ কঠিন করে তোলে। নিকটবর্তী পুকুর, দিঘি, খাল বা রিটেনশন পন্ড থাকলে সেগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে সেকেন্ডারি ফায়ার-ওয়াটার সোর্স হিসেবে ব্যবহার হতে পারে—বিশেষ করে এমন এলাকায় যেখানে পর্যাপ্ত ওয়াটারবডি নেই। তাই গুরুত্বপূর্ণ নগর জলাধারগুলোকে জিআইএস-এ “ইমার্জেন্সি ফায়ার ওয়াটার রিজার্ভিয়র” হিসেবে চিহ্নিত করা যেতে পারে। প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধারের ক্ষেত্রে—পানির ন্যূনতম গভীরতা; সারা বছর পানির প্রাপ্যতা; ফায়ার ইঞ্জিন এক্সেস; পাম্পিং পয়েন্ট; সংযোগকারী রাস্তা; আশপাশের সম্ভাব্য ফায়ার রিস্ক জোন ডিজিটালভাবে নথিভুক্ত করা প্রয়োজন। অর্থাৎ জলাধার সংরক্ষণ পরিবেশনীতি+নগর পরিকল্পনা+দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা+অগ্নিনির্বাপণ নীতি—চারটি ক্ষেত্রের যৌথ বিষয়।

সাংবিধানিক দায়িত্ব: বাংলাদেশের সংবিধানের ১৮(ক) অনুচ্ছেদে পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য, জলাভূমি, বন ও বন্যপ্রাণীর নিরাপত্তা বিধানের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি জলাধার সংরক্ষণকে নিছক প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে সাংবিধানিক রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে পরিণত করেছে।

প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন: বাংলাদেশে প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণের জন্য প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২ হাজার রয়েছে। পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ব্যবস্থাপনা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ-সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু গবেষণালব্ধ তথ্য বলছে, আইন থাকা এবং কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করা এক বিষয় নয়। জলাধার রক্ষার ক্ষেত্রে ল্যান্ড ইউজ অ্যাপ্রুভাল এনভায়রনমেণ্টাল ক্লিয়ারেন্স জোনিং এবং মাঠপর্যায়ের এনফোর্সমেন্ট -এর মধ্যে সমন্বয় আরও শক্তিশালী হওয়া আবশ্যক।

রাজউক এর ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান ২০২২-২০৩৫: রাজউক তার আওতাধীন অঞ্চলের জন্য ইন্টিগ্রেটেড ডিটেইলড এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫ প্রণয়ন করেছে এবং বিভিন্ন মৌজা-এর জন্য বিস্তারিত ল্যান্ড-ইউজ ম্যাপ প্রকাশ করেছে। রাজউক -এর ড্যাপ কাঠামোতে ল্যান্ড-ইউজ জোনিং, ওয়াটার-বেসড পার্ক এবং বিভিন্ন এনভায়রনমেন্টাল প্ল্যানিং এলিমেন্ট অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। রাজউক -এর ড্যাপ প্ল্যানিং এরিয়া প্রায় ১ হাজার ৫২৮ বর্গকিলোমিটার। এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ড্যাপ-এর মানচিত্র যেন মাঠে বাস্তব ল্যান্ড-ইউজ কন্ট্রোল-এ রূপ নেয়।

বাংলাদেশের জলাধার ও নগর পরিবেশ সংরক্ষণে দেশিয় ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতার পরিমাণও উল্লেখযোগ্য।

বিশ্বব্যাংক: ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে বিশ্বব্যাংক ৩৭০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়নে মেট্রো ঢাকা ওয়াটার সিকিউরিটি অ্যান্ড রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম অনুমোদন করেছে। কর্মসূচির লক্ষ্য ছিল স্যানিটেশন ও সলিড-ওয়েস্ট ব্যবস্থাপনা উন্নত করা, পানি দূষণ কমানো এবং ঢাকা ও আশপাশের নদী-খাল পুনরুদ্ধার করা। এতে ৫ লাখ ৫০ হাজার মানুষ সেফলি ম্যানেজড স্যানিটেশন এবং ৫ লাখ মানুষ উন্নত সলিড-ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট ব্যবস্থাপনার সুবিধা পাওয়া। এ ছাড়া ২০২৪ খ্রিষ্টাব্দে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে পরিবেশগত স্থায়িত্ব, নগর উন্নয়ন ও ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স-এর জন্য মোট ৯০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সাহায্য দিয়েছে। এর আগে বিশ্বব্যাংক এর আরবান রেজিলিয়েন্স প্রজেক্ট-এ ১৭৩ মিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করা হয়েছিল, যার অন্যতম লক্ষ্য ছিল ঢাকা ও সিলেটে আরবান ডিজাস্টার রেসপন্স এবং রেজিলিয়েন্ট ইনফ্রাস্ট্রাকচার শক্তিশালী করা।

মন্তব্য করুন

ব্লগ