সহকারী শিক্ষক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ
চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম - সরকারি ও বেসরকারি আবেদনপত্রের সঠিক ফরম্যাট (নমুনাসহ)
➡️এক ক্লিকে চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম দেখুন
➡️সরকারি ও বেসরকারি আবেদনপত্রের সঠিক ফরম্যাট দেখুন
➡️নমুনাসহ চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম
চাকরির বিজ্ঞপ্তি দেখার পর সবার আগে যে কাজটি করতে হয়, সেটি হলো দরখাস্ত লেখা। অনেক যোগ্য প্রার্থী শুধু দরখাস্তটা ঠিকমতো লিখতে না পারার কারণে শুরুতেই বাদ পড়ে যান। নিয়োগকর্তা আপনার সিভি পড়ার আগেই দরখাস্তের দিকে তাকান — এটাই আপনার প্রথম পরিচয়। তাই চাকরির দরখাস্ত লেখার নিয়ম জানা প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীর জন্য জরুরি।
এই পোস্টে আমরা ধাপে ধাপে দেখব — চাকরির আবেদনপত্রের সঠিক গঠন ও ফরম্যাট কেমন হবে, দরখাস্তে কোন কোন তথ্য অবশ্যই থাকতে হবে, সরকারি ও বেসরকারি চাকরির দরখাস্তের পার্থক্য কী, কভার লেটার কখন লিখতে হয়, আর শেষে পাবেন বাংলা ও ইংরেজিতে রেডিমেড তিনটি নমুনা দরখাস্ত।
চাকরির দরখাস্ত মানে কী, কেন এত গুরুত্বপূর্ণ
চাকরির দরখাস্ত বা job application letter হলো নিয়োগকর্তার কাছে লেখা একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি, যেখানে আপনি নির্দিষ্ট পদের জন্য নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতা প্রকাশ করেন। সিভিতে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার তালিকা থাকে, কিন্তু দরখাস্তে থাকে আপনার উদ্দেশ্য — কেন আপনি এই চাকরিটা চান, আর কেন আপনিই এই পদের জন্য উপযুক্ত।
বাংলাদেশে সরকারি চাকরিতে সাধারণত নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হয়, তবে অনেক ক্ষেত্রে — বিশেষ করে স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, এনজিও ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে — হাতে লেখা বা টাইপ করা দরখাস্তই আবেদনের মূল মাধ্যম। একটি গোছানো, ভুলহীন দরখাস্ত নিয়োগকর্তার মনে আপনার সম্পর্কে ইতিবাচক ধারণা তৈরি করে।
চাকরির দরখাস্তের সঠিক গঠন ও ফরম্যাট
একটি পূর্ণাঙ্গ চাকরির আবেদনপত্রে সাধারণত ৮টি অংশ থাকে। নিচের ক্রমটা মনে রাখুন — এটাই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত job application letter format:
প্রেরকের ঠিকানা ও যোগাযোগ: উপরে ডান পাশে আপনার নাম, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর ও ইমেইল।
তারিখ: ঠিকানার নিচে দরখাস্ত লেখার তারিখ।
প্রাপকের ঠিকানা: বাম পাশে নিয়োগকর্তার নাম, পদবি, প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা।
বিষয়: কোন পদের জন্য আবেদন করছেন, এক লাইনে স্পষ্ট করে লিখুন।
সম্বোধন: "জনাব/মহোদয়" বা ইংরেজিতে "Dear Sir/Madam"।
মূল বক্তব্য (৩টি অনুচ্ছেদ): প্রথম অনুচ্ছেদে কোন বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করছেন; দ্বিতীয় অনুচ্ছেদে আপনার শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা; তৃতীয় অনুচ্ছেদে কেন আপনি উপযুক্ত এবং সাক্ষাৎকারের অনুরোধ।
সমাপনী: "বিনীত নিবেদক" বা "Sincerely" লিখে নাম।
স্বাক্ষর ও সংযুক্তি: হাতে স্বাক্ষর করুন; নিচে সংযুক্ত কাগজপত্রের তালিকা দিন।
ইংরেজিতে চাকরির দরখাস্তের ফরম্যাট নমুনা
উপরের ছবিতে একটি standard job application letter sample-এর গঠন দেখুন — ঠিকানা, তারিখ, প্রাপকের বিবরণ, মূল বক্তব্য ও সমাপনীর ক্রমটা খেয়াল করুন। বাংলায় লিখলেও এই একই ক্রম অনুসরণ করবেন।
দরখাস্তে যেসব তথ্য অবশ্যই থাকতে হবে
তথ্য | কেন দরকার | উদাহরণ |
পদের নাম ও বিজ্ঞপ্তি সূত্র | নিয়োগকর্তা বুঝবেন কোন পদের আবেদন | "সহকারী শিক্ষক পদে, দৈনিক ইত্তেফাকের ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী" |
শিক্ষাগত যোগ্যতা | পদের ন্যূনতম যোগ্যতা মিলিয়ে দেখা হয় | এসএসসি, এইচএসসি, স্নাতক — পাসের সাল ও ফলাফলসহ |
অভিজ্ঞতা (যদি থাকে) | অভিজ্ঞ প্রার্থীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় | "২ বছর মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত" |
যোগাযোগের ঠিকানা | সাক্ষাৎকারের ডাক পাঠাতে | মোবাইল নম্বর ও ইমেইল ঠিকানা |
জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর | সরকারি চাকরিতে পরিচয় যাচাইয়ে | NID নম্বর (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) |
সংযুক্ত কাগজপত্রের তালিকা | কী কী কাগজ দিলেন তার হিসাব | সিভি, সনদপত্রের ফটোকপি, ছবি |
একটা কথা মনে রাখবেন — দরখাস্তে কখনো মিথ্যা তথ্য দেবেন না। যোগ্যতা বা অভিজ্ঞতা বাড়িয়ে লিখলে সাক্ষাৎকারে বা যাচাইয়ে ধরা পড়ে যাবেন।
সরকারি বনাম বেসরকারি চাকরির দরখাস্তের পার্থক্য
বিষয় | সরকারি চাকরির দরখাস্ত | বেসরকারি চাকরির দরখাস্ত |
ভাষা | বেশিরভাগ ক্ষেত্রে বাংলা | বাংলা বা ইংরেজি — বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী |
ফরম | প্রায়ই নির্ধারিত আবেদন ফরম (যেমন বিপিএসসি, বিভিন্ন অধিদপ্তর) | সাধারণত ফরম নেই; নিজে দরখাস্ত লিখতে হয় |
সম্বোধন | "বরাবর, মহাপরিচালক/সচিব..." — পদবি উল্লেখ বাধ্যতামূলক | "Dear Hiring Manager" বা প্রতিষ্ঠান প্রধান |
সংযুক্তি | সত্যায়িত ফটোকপি, ব্যাংক ড্রাফট/পে-অর্ডার | সিভি, সনদপত্রের ফটোকপি; ড্রাফট সাধারণত লাগে না |
পাঠানোর মাধ্যম | ডাকযোগে বা সরাসরি, নির্ধারিত ঠিকানায় | ইমেইল, অনলাইন পোর্টাল বা সরাসরি |
কভার লেটার | ফরম পূরণ করলেই চলে | সিভির সাথে cover letter প্রায় বাধ্যতামূলক |
সরকারি চাকরিতে নির্ধারিত ফরম থাকলে ফরমের নির্দেশনা হুবহু মানুন। আর যেখানে ফরম নেই — যেমন বেসরকারি স্কুল, মাদ্রাসা বা কোম্পানি — সেখানে নিচের নমুনা অনুযায়ী নিজে দরখাস্ত লিখুন।
কভার লেটার কী? কখন লিখতে হয়
কভার লেটার হলো সিভির সাথে পাঠানো সংক্ষিপ্ত পরিচিতিমূলক চিঠি। চাকরির দরখাস্ত আর কভার লেটার মূলত একই জিনিসের দুই রূপ — পার্থক্য শুধু দৈর্ঘ্যে। দরখাস্ত একটু বিস্তারিত হয়, আর job application letter with resume পাঠালে কভার লেটার হয় সংক্ষিপ্ত — মাত্র ৩-৪ অনুচ্ছেদে কেন আপনি উপযুক্ত, সেটাই থাকে।
বেসরকারি চাকরি, এনজিও, মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি বা অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ইমেইলের বডিতে অথবা আলাদা পেজে কভার লেটার লিখে সিভি সংযুক্ত (attach) করে পাঠাতে হয়। নিচে নমুনা ৩-এ একটি ready cover letter দেওয়া আছে।
কভার লেটারের নমুনা
নমুনা ১: বাংলায় চাকরির দরখাস্ত (শিক্ষক/সরকারি পদ)
তারিখ: ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বরাবর
প্রধান শিক্ষক
আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
মিরপুর, ঢাকা-১২১৬
বিষয়: সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদে নিয়োগের জন্য আবেদন।
জনাব,
বিনীত নিবেদন এই যে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকায় প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি থেকে জানতে পারলাম যে, আপনার প্রতিষ্ঠানে সহকারী শিক্ষক (বাংলা) পদে একজন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। উক্ত পদের জন্য আমি নিজেকে একজন যোগ্য প্রার্থী মনে করে এই দরখাস্ত পেশ করছি।
আমি ২০২২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছি (সিজিপিএ ৩.৬৫)। এছাড়া জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএড ডিগ্রি সম্পন্ন করেছি। গত দুই বছর ধরে আমি একটি বেসরকারি স্কুলে বাংলা বিষয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছি, ফলে শ্রেণি-পাঠদানে আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা রয়েছে।
আমার শিক্ষাগত যোগ্যতা, প্রশিক্ষণ ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে আমাকে উক্ত পদে নিয়োগ দিলে আমি আমার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করব বলে আশ্বাস দিচ্ছি। সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হয়ে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ পেলে কৃতজ্ঞ থাকব।
বিনীত নিবেদক
(স্বাক্ষর)
নাম: মোঃ রফিকুল ইসলাম
পিতার নাম: মোঃ করিম উদ্দিন
ঠিকানা: বাড়ি-১২, রোড-৫, মিরপুর-১০, ঢাকা
মোবাইল: 01XXXXXXXXX
ইমেইল: [email protected]
সংযুক্তি:
জীবনবৃত্তান্ত (সিভি)
সকল শিক্ষাগত সনদপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি
অভিজ্ঞতা সনদপত্র
জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি
সদ্য তোলা ২ কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি
টিপস: মাদ্রাসার চাকরির দরখাস্ত লিখতে হলেও এই একই কাঠামো ব্যবহার করুন — শুধু প্রাপকের জায়গায় "সুপার/মুহতামিম" এবং প্রতিষ্ঠানের নাম বসিয়ে নিন।
নমুনা ২: ইংরেজিতে job application letter (বেসরকারি কোম্পানি)
Date: 24 September 2026
To
The HR Manager
ABC Technologies Ltd.
Gulshan, Dhaka-1212
Subject: Application for the post of Marketing Officer.
Dear Sir/Madam,
With reference to your job advertisement published in bdjobs.com on 18 September 2026, I would like to apply for the position of Marketing Officer in your esteemed organization.
I have completed my BBA in Marketing from North South University in 2023 with a CGPA of 3.55. For the last one and a half years, I have been working as a Junior Marketing Executive at XYZ Group, where my responsibilities include client communication, campaign planning, and sales reporting. This experience has given me practical knowledge of the field.
I am confident that my educational background and work experience make me a suitable candidate for this position. I would be grateful for an opportunity to discuss my qualifications further in an interview. My resume is attached herewith for your kind consideration.
Sincerely,
(Signature)
Tanvir Ahmed
House-8, Road-11, Banani, Dhaka
Mobile: 01XXXXXXXXX | Email: [email protected]
Enclosures:
Resume/CV
Photocopies of all academic certificates
Experience certificate
Copy of National ID card
Two recent passport-size photographs
ইংরেজিতে চাকরির আবেদনপত্রের নমুনা
উপরের ছবিতে দেখুন — একটি পূর্ণাঙ্গ application letter for employment-এ প্রেরকের ঠিকানা, প্রাপকের বিবরণ, পদের উল্লেখ, যোগ্যতার সংক্ষিপ্ত বর্ণনা ও সমাপনী কীভাবে সাজানো থাকে। ইংরেজি দরখাস্তে বানান ও গ্রামার নির্ভুল রাখা সবচেয়ে জরুরি।
নমুনা ৩: ইমেইলে পাঠানোর সংক্ষিপ্ত কভার লেটার
ইমেইলে আবেদন করলে আলাদা দরখাস্তের পেজ না বানিয়ে ইমেইলের বডিতেই সংক্ষিপ্ত কভার লেটার লিখুন। Subject লাইনে পদের নাম অবশ্যই উল্লেখ করুন।
Subject: Application for the post of Accounts Officer — Md. Kamal Hossain
Dear Hiring Manager,
I am writing to apply for the Accounts Officer position advertised on your company website. I hold a B.Com degree and have three years of experience in accounts management, including VAT, tax filing, and payroll processing.
I believe my skills closely match your requirements. My CV is attached for your review. I would welcome the chance to discuss this opportunity further.
Thank you for your time and consideration.
Best regards,
Md. Kamal Hossain
Mobile: 01XXXXXXXXX
এই simple job application letter ফরম্যাটটি এনজিও, ব্যাংক ও কর্পোরেট চাকরির আবেদনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
দরখাস্ত লেখার সময় যেসব ভুল সবাই করে
পদের নাম না লেখা: কোন পদের জন্য আবেদন, সেটা বিষয়ে বা প্রথম লাইনে না থাকলে দরখাস্ত বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
ভুল বানান ও ব্যাকরণ: একটা বানান ভুলও আপনার অযত্নের প্রমাণ দেয়। লেখা শেষে অন্তত দুবার পড়ুন।
অতিরিক্ত লম্বা দরখাস্ত: দরখাস্ত এক পৃষ্ঠার বেশি হওয়া উচিত নয়। অপ্রয়োজনীয় জীবনকাহিনি বাদ দিন।
যোগাযোগের নম্বর ভুল: মোবাইল নম্বরে একটা ডিজিট ভুল হলেই ডাক পাবেন না। নম্বর দুবার মিলিয়ে নিন।
স্বাক্ষর না করা: হাতে লেখা বা প্রিন্ট — দুই ক্ষেত্রেই নিচে স্বাক্ষর বাধ্যতামূলক।
একই দরখাস্ত সব জায়গায়: প্রতিটি পদের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী দরখাস্ত একটু বদলে নিন। "কপি-পেস্ট" দরখাস্ত ধরা পড়ে।
সংযুক্তির তালিকা না দেওয়া: কী কী কাগজ দিলেন, নিচে নম্বর দিয়ে লিখুন — এতে কাগজ হারানোর ঝামেলা কমে।
নিখুঁত দরখাস্তের ১০টি টিপস
বিজ্ঞপ্তিটি মনোযোগ দিয়ে পড়ে পদের নাম, যোগ্যতা ও পাঠানোর ঠিকানা নোট করুন।
A4 সাইজের সাদা কাগজে লিখুন বা প্রিন্ট করুন; রঙিন কাগজ এড়িয়ে চলুন।
বাংলায় লিখলে শুদ্ধ চলিত ভাষা ব্যবহার করুন — সাধু ও চলিত মেশাবেন না।
তারিখ সবসময় ইংরেজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী লিখুন।
খামে পাঠালে খামের উপর পদের নাম ও বিজ্ঞপ্তি নম্বর লিখুন।
ছবি সদ্য তোলা (৬ মাসের মধ্যে) ও পাসপোর্ট সাইজের হওয়া উচিত।
ফটোকপি ঝাপসা হলে নতুন করে করুন — অস্পষ্ট কাগজ বাতিলের কারণ হয়।
ইমেইলে পাঠালে PDF ফরম্যাটে সিভি সংযুক্ত করুন, ছবি আলাদা ফাইলে নয়।
আবেদনের শেষ তারিখের অন্তত ৩-৪ দিন আগে পাঠানোর চেষ্টা করুন।
সম্ভব হলে অভিজ্ঞ কারো কাছ থেকে দরখাস্তটি একবার দেখিয়ে নিন।
দরখাস্তের সাথে সিভি সংযুক্ত করা প্রসঙ্গে
আজকাল প্রায় সব চাকরির আবেদনেই দরখাস্তের সাথে জীবনবৃত্তান্ত বা সিভি চাওয়া হয়। সিভিতে থাকে আপনার শিক্ষা, অভিজ্ঞতা, দক্ষতা ও রেফারেন্সের বিস্তারিত তালিকা, আর দরখাস্তে থাকে সংক্ষিপ্ত আবেদন। দুটো একসাথে পাঠালে নিয়োগকর্তা এক নজরেই আপনার পূর্ণাঙ্গ প্রোফাইল পান।
সিভি সাধারণত ২ পৃষ্ঠার মধ্যে রাখুন। ছবি, NID নম্বর, শিক্ষাগত যোগ্যতার টেবিল ও দুজন রেফারেন্স (নাম, পদবি, মোবাইল) সিভিতে রাখা ভালো অভ্যাস। সিভি লেখার বিস্তারিত নিয়ম নিয়ে আমাদের আলাদা পোস্ট আসছে।
সচরাচর জিজ্ঞাসা
প্রশ্ন: চাকরির দরখাস্ত বাংলায় লিখব না ইংরেজিতে?
উত্তর: বিজ্ঞপ্তি যে ভাষায়, দরখাস্ত সেই ভাষায় লিখুন। সরকারি, স্কুল-মাদ্রাসা ও স্থানীয় প্রতিষ্ঠানে বাংলা; মাল্টিন্যাশনাল, ব্যাংক, এনজিও ও অনলাইন জব পোর্টালে ইংরেজি নিরাপদ।
প্রশ্ন: হাতে লিখব না কম্পিউটারে টাইপ করে দেব?
উত্তর: বিজ্ঞপ্তিতে "স্বহস্তে লিখিত দরখাস্ত" বলা না থাকলে টাইপ করা দরখাস্তই ভালো — পরিষ্কার ও পেশাদার দেখায়। স্বহস্তে চাইলে পরিষ্কার হাতের লেখায় নীল/কালো কালিতে লিখুন।
প্রশ্ন: দরখাস্তের সাথে কী কী কাগজ দিতে হয়?
উত্তর: সাধারণত সিভি, শিক্ষাগত সনদের ফটোকপি, অভিজ্ঞতা সনদ, NID ফটোকপি ও পাসপোর্ট সাইজ ছবি। সরকারি চাকরিতে সাথে ব্যাংক ড্রাফট বা পে-অর্ডার লাগতে পারে — বিজ্ঞপ্তি দেখে নিন।
প্রশ্ন: লেকচারার পদের দরখাস্তে আলাদা কিছু লিখতে হয় কি?
উত্তর: কাঠামো একই থাকে। শুধু শিক্ষাগত ফলাফল (স্নাতক/স্নাতকোত্তরের সিজিপিএ), গবেষণা বা প্রকাশনা (যদি থাকে) এবং শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা একটু বিস্তারিত লিখুন।
প্রশ্ন: দরখাস্তের নমুনা PDF আকারে পাওয়া যাবে?
উত্তর: উপরের নমুনাগুলো কপি করে MS Word-এ বসিয়ে নিজের তথ্য দিয়ে সাজিয়ে নিন, তারপর PDF হিসেবে সেভ করে প্রিন্ট বা ইমেইলে পাঠাতে পারবেন।
১৫
২৫ মন্তব্য