সহকারী অধ্যাপক
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৫০ পূর্বাহ্ণ
বয়স্ক ভাতার আবেদন ২০২৬: অনলাইনে আবেদন, যোগ্যতা, কত টাকা ও টাকা কবে পাবেন
➡️এক ক্লিকে বয়স্ক ভাতার আবেদন করুন
➡️অনলাইনে বয়স্ক ভাতার আবেদন করুন
বাবা-মা বা পরিবারের বয়স্ক সদস্যের জন্য সরকারি সহায়তা খুঁজছেন? বাংলাদেশ সরকারের সমাজসেবা অধিদপ্তর ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর থেকে দরিদ্র ও অসহায় বয়স্ক নাগরিকদের জন্য বয়স্ক ভাতা দিয়ে আসছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে এই ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসে ৭০০ টাকা করা হয়েছে, আর ৯০ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য ১,০০০ টাকা। এই পোস্টে জানবেন কারা বয়স্ক ভাতা পাবেন, অনলাইনে বয়স্ক ভাতার আবেদন করার নিয়ম, কী কী কাগজ লাগবে, আবেদন চেক করার উপায় এবং টাকা কবে পাবেন — সব এক জায়গায়।
কার জন্য এই গাইড
এই গাইডটি মূলত তিন ধরনের পাঠকের জন্য — যিনি নিজে বয়স্ক ভাতার জন্য আবেদন করতে চান, যিনি বাবা-মা বা পরিবারের প্রবীণ সদস্যের পক্ষে আবেদন করে দিতে চান, এবং যিনি ইতিমধ্যে আবেদন করেছেন কিন্তু বয়স্ক ভাতা আবেদন চেক বা টাকা কবে পাবেন তা জানতে চান। গ্রামের পাশাপাশি শহরের পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন এলাকার বাসিন্দারাও এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারেন — শুধু সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হওয়ার শর্তটি পূরণ করতে হবে।
অনেকে মনে করেন বয়স্ক ভাতা পেতে "চেনাজানা" লাগে। বাস্তবে নীতিমালায় যোগ্যতা ও অগ্রাধিকারের মানদণ্ড স্পষ্ট করে দেওয়া আছে, আর এখন অনলাইন আবেদন ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থা থাকায় পুরো প্রক্রিয়া আগের চেয়ে অনেক স্বচ্ছ। সঠিক তথ্য দিয়ে আবেদন করলে যোগ্য ব্যক্তির বাদ পড়ার কারণ নেই।
এক নজরে বয়স্ক ভাতা
বিষয় | তথ্য |
কর্মসূচির নাম | বয়স্ক ভাতা (Old Age Allowance Bangladesh) |
চালু হয় | ১৯৯৭-৯৮ অর্থবছর |
বাস্তবায়নকারী | সমাজসেবা অধিদপ্তর, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় |
মাসিক ভাতা (২০২৬-২৭) | ৭০০ টাকা (৯০+ বয়সীদের ১,০০০ টাকা) |
আবেদনের মাধ্যম | অনলাইন (dss.bhata.gov.bd) |
উপকারভোগী (২০২৬-২৭) | প্রায় ৬২ লাখ |
বয়স্ক ভাতা কারা পাবেন: যোগ্যতার শর্ত
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী বয়স্ক ভাতা পেতে হলে নিচের সব শর্ত পূরণ করতে হবে:
শর্ত | বিস্তারিত |
নাগরিকত্ব | বাংলাদেশের নাগরিক ও সংশ্লিষ্ট এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে |
বয়স (পুরুষ) | সর্বনিম্ন ৬৫ বছর |
বয়স (মহিলা) | সর্বনিম্ন ৬২ বছর |
পরিচয়পত্র | জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বা জন্ম নিবন্ধন নম্বর থাকতে হবে |
আয়সীমা | বার্ষিক গড় আয় ১০,০০০ টাকার বেশি নয় (অত্যন্ত দরিদ্র হতে হবে) |
নির্বাচন | উপজেলা/ইউনিয়নের বাছাই কমিটি কর্তৃক নির্বাচিত হতে হবে |
বয়স নির্ধারণের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র, জন্ম নিবন্ধন সনদ বা এসএসসি/সমমান পরীক্ষার সনদ দেখা হয়। কোনো কাগজে বয়স নিয়ে সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট বাছাই কমিটির সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত বলে গণ্য হবে।
কারা অগ্রাধিকার পাবেন
আবেদনকারী বেশি হলে নীতিমালা অনুযায়ী নিচের ক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় — সবচেয়ে বয়স্ক ব্যক্তি, শারীরিকভাবে অক্ষম বা পঙ্গু ব্যক্তি, নিঃস্ব-উদ্বাস্তু-ভূমিহীন (এই ক্রমে), বিধবা-তালাকপ্রাপ্তা-বিপত্নীক-নিঃসন্তান বা পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ব্যক্তি। জমির ক্ষেত্রে বসতবাড়ি বাদে অন্য জমির পরিমাণ ০.৫ একর বা তার কম হলে ভূমিহীন হিসেবে গণ্য করা হয়।
কারা বয়স্ক ভাতা পাবেন না
নিচের যেকোনো একটি প্রযোজ্য হলে আবেদন বাতিল হবে:
সরকারি চাকরি থেকে পেনশন পান এমন ব্যক্তি
দুঃস্থ মহিলা হিসেবে ভিজিডি (VGD) কার্ডধারী
অন্য কোনোভাবে নিয়মিত সরকারি অনুদান বা ভাতা পেয়ে থাকলে
কোনো বেসরকারি সংস্থা বা সমাজকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত আর্থিক সহায়তা পেলে
বয়স্ক ভাতা কত টাকা (২০২৬-২৭ অর্থবছর)
অর্থ মন্ত্রণালয়ের ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারির সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছর (জুলাই ২০২৬ থেকে) থেকে ভাতার নতুন হার কার্যকর হয়েছে:
শ্রেণি | মাসিক ভাতা |
সাধারণ বয়স্ক ভাতাভোগী | ৭০০ টাকা |
৯০ বছর বা তার বেশি বয়সী | ১,০০০ টাকা |
এর আগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভাতা ছিল মাসে ৬৫০ টাকা। অর্থাৎ বর্তমানে সাধারণ উপকারভোগীরা প্রতি মাসে ৭০০ টাকা করে পাচ্ছেন। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ৬২ লাখ বয়স্ক নাগরিক এই ভাতার আওতায় আসছেন, যাদের মধ্যে ২ লাখ ৫ হাজার জন ৯০ ঊর্ধ্ব এবং মাসে ১,০০০ টাকা হারে পাবেন।
নোট: সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী ভাতার পরিমাণ পরিবর্তন হতে পারে। সর্বশেষ তথ্যের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইট (dss.gov.bd) দেখুন।
বয়স্ক ভাতার আবেদন করতে কী কী লাগবে
অনলাইনে বয়স্ক ভাতার আবেদন করার আগে নিচের কাগজপত্র ও তথ্য হাতের কাছে রাখুন:
জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর ও জন্ম তারিখ
সচল মোবাইল নম্বর (নিজের নামে নিবন্ধিত হলে ভালো)
পাসপোর্ট সাইজের ছবি
বর্তমান ঠিকানা (ইউনিয়ন/পৌরসভা/ওয়ার্ড)
ব্যাংক হিসাব নম্বর বা মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ/বিকাশ) নম্বর — ভাতার টাকা পেতে
পারিবারিক তথ্য (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
অনলাইনে বয়স্ক ভাতার আবেদন করার নিয়ম (ধাপে ধাপে)
সমাজসেবা অধিদপ্তরের অনলাইন পোর্টাল dss.bhata.gov.bd থেকে ঘরে বসেই বয়স্ক ভাতার আবেদন করা যায়। ধাপগুলো:
ধাপ ১: dss.bhata.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে "Online Application" বা "অনলাইন আবেদন" অপশনে ক্লিক করুন।
ধাপ ২: ভাতার তালিকা থেকে "বয়স্ক ভাতা" নির্বাচন করুন।
ধাপ ৩: আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) নম্বর ও জন্ম তারিখ লিখে "যাচাই" বাটনে ক্লিক করুন। তথ্য সঠিক হলে পরের ধাপে যাওয়া যাবে।
ধাপ ৪: আবেদন ফরমে ব্যক্তিগত তথ্য, ঠিকানা, মোবাইল নম্বর, ব্যাংক/মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবের তথ্য সঠিকভাবে পূরণ করুন।
ধাপ ৫: প্রয়োজনীয় ছবি আপলোড করে ফরমটি ভালোভাবে যাচাই করে "সাবমিট" করুন।
ধাপ ৬: আবেদন সফল হলে একটি ট্র্যাকিং/রেফারেন্স নম্বর পাবেন — এটি সংরক্ষণ করে রাখুন। এই নম্বর দিয়েই পরে বয়স্ক ভাতা আবেদন চেক করা যাবে।
আবেদনের পর সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন/উপজেলা বাছাই কমিটি আবেদন যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করে। তাই আবেদন করলেই সঙ্গে সঙ্গে ভাতা পাওয়া যায় না — নির্বাচিত হওয়ার পর তালিকাভুক্ত হতে হয়।
অফলাইনে বয়স্ক ভাতার আবেদন করার নিয়ম
ইন্টারনেট ব্যবহারে অসুবিধা হলে অফলাইনেও আবেদন করা যায়। এজন্য:
সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা উপজেলা সমাজসেবা অফিস থেকে বয়স্ক ভাতা আবেদন ফরম সংগ্রহ করুন
ফরমটি সঠিক তথ্য দিয়ে পূরণ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করুন
পূরণ করা ফরম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান/মেম্বার বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে জমা দিন
জমার রসিদ বা স্বীকৃতি সংরক্ষণ করুন
অনলাইন ও অফলাইন — দুই মাধ্যমের আবেদনই একই বাছাই কমিটির মাধ্যমে যাচাই হয়। তবে অনলাইনে আবেদন করলে ট্র্যাকিং সুবিধা পাওয়া যায় বলে সেটিই সুবিধাজনক।
বয়স্ক ভাতা বনাম অন্যান্য সামাজিক ভাতা
অনেকে বয়স্ক ভাতার সঙ্গে অন্য ভাতা গুলিয়ে ফেলেন। পার্থক্যটা জেনে রাখুন:
ভাতা | কারা পান | মাসিক পরিমাণ (২০২৬-২৭) |
বয়স্ক ভাতা | ৬৫+ পুরুষ / ৬২+ মহিলা দরিদ্র প্রবীণ | ৭০০ টাকা (৯০+ হলে ১,০০০) |
বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা | বিধবা বা স্বামী কর্তৃক নিগৃহীতা নারী | ৭০০ টাকা (৯০+ হলে ১,০০০) |
প্রতিবন্ধী ভাতা | প্রতিবন্ধী ব্যক্তি | ৯০০ টাকা (৯০+ হলে ১,০০০) |
একজন ব্যক্তি একসঙ্গে একাধিক ভাতা পেতে পারেন না — যেকোনো একটির জন্য আবেদন করতে হবে।
বয়স্ক ভাতা আবেদন চেক ও ট্র্যাকিং করার নিয়ম
আবেদনের অবস্থা জানতে dss.bhata.gov.bd সাইটের "আবেদন ট্র্যাকিং" (Application Tracking) অপশনে যান। সেখানে আপনার ট্র্যাকিং নম্বর বা NID নম্বর দিয়ে বয়স্ক ভাতা আবেদন যাচাই করতে পারবেন — আবেদনটি গৃহীত হয়েছে কি না, যাচাইয়ের কোন পর্যায়ে আছে, তা দেখা যাবে।
এছাড়া বয়স্ক ভাতা অনলাইন চেক করতে চাইলে একই পোর্টালের তালিকা/সার্চ অপশন ব্যবহার করা যায়।
বয়স্ক ভাতার টাকা কবে দেবে ও কীভাবে পাবেন
বয়স্ক ভাতার টাকা সাধারণত প্রতি মাসের ভিত্তিতে উপকারভোগীর নিজ নামের ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং (নগদ) হিসাবে পাঠানো হয়। নীতিমালা অনুযায়ী মাত্র ১০ টাকায় ভাতাভোগীদের নিজ নামে ব্যাংক হিসাব খোলার ব্যবস্থা রয়েছে।
"বয়স্ক ভাতা কবে দিবে" — এ নিয়ে নির্দিষ্ট তারিখ প্রতি মাসে একই থাকে না; সাধারণত মাসের নির্দিষ্ট সময়ে ধাপে ধাপে টাকা ছাড় করা হয়। টাকা না পেলে প্রথমে নিজের মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব চেক করুন, তারপর ইউনিয়ন পরিষদ বা উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করুন।
মোবাইল নম্বর পরিবর্তন করতে হলে সংশ্লিষ্ট সমাজসেবা অফিসে গিয়ে আবেদন করে নম্বর হালনাগাদ করতে হয় — নইলে ভাতার টাকা পুরনো নম্বরে যেতে পারে।
বয়স্ক ভাতার তালিকায় নাম আছে কি না দেখার নিয়ম
আপনার এলাকার বয়স্ক ভাতার তালিকা দেখতে:
dss.bhata.gov.bd পোর্টালের তালিকা/রিপোর্ট অংশে জেলা-উপজেলা-ইউনিয়ন নির্বাচন করে তালিকা দেখুন
অথবা সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ অফিসের নোটিশ বোর্ডে প্রকাশিত তালিকা দেখুন
উপজেলা সমাজসেবা অফিসেও তালিকা সংরক্ষিত থাকে
বয়স্ক ভাতা আবেদনের শেষ তারিখ
বয়স্ক ভাতার অনলাইন আবেদন সাধারণত অর্থবছরের নির্দিষ্ট সময়ে নেওয়া হয়। প্রতি বছর সমাজসেবা অধিদপ্তর বা উপজেলা প্রশাসন থেকে আবেদনের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়। ২০২৫ ও ২০২৬ সালের আবেদন চক্রের শেষ তারিখ জানতে dss.bhata.gov.bd অথবা আপনার উপজেলা সমাজসেবা অফিসের নোটিশ দেখুন — সময় পার হয়ে গেলে পরের চক্রের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
আবেদনের সময় সাধারণ ভুল ও সতর্কতা
NID নম্বর বা জন্ম তারিখ ভুল লিখলে যাচাই ব্যর্থ হবে — NID কার্ড হাতে নিয়ে লিখুন
অন্যের মোবাইল নম্বর দেবেন না; ওটিপি ও টাকার নোটিফিকেশন ওই নম্বরেই যাবে
ভুয়া তথ্য দিয়ে আবেদন করলে বাছাইয়ে বাদ পড়বেন এবং ভবিষ্যতে অযোগ্য হতে পারেন
আবেদনের নামে কেউ টাকা চাইলে দেবেন না — সরকারি ভাতার আবেদন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে
দালালের মাধ্যমে নয়, নিজে বা পরিবারের কারো সাহায্যে আবেদন করুন
বয়স্ক ভাতা নিয়ে সচরাচর জিজ্ঞাসা
বয়স্ক ভাতা কত টাকা?
২০২৬-২৭ অর্থবছর থেকে সাধারণ উপকারভোগীরা মাসে ৭০০ টাকা এবং ৯০ বছর বা তার বেশি বয়সীরা মাসে ১,০০০ টাকা পান।
বয়স্ক ভাতা পেতে বয়স কত হতে হবে?
পুরুষদের সর্বনিম্ন ৬৫ বছর এবং মহিলাদের সর্বনিম্ন ৬২ বছর হতে হবে।
বয়স্ক ভাতা চালু হয় কত সালে?
১৯৯৭-৯৮ অর্থবছরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের আওতায় বয়স্ক ভাতা কর্মসূচি চালু হয়।
পেনশন পেলে কি বয়স্ক ভাতা পাওয়া যাবে?
না। সরকারি চাকরি থেকে পেনশনভোগীরা বয়স্ক ভাতার জন্য অযোগ্য।
বয়স্ক ভাতার আবেদন ফরম কোথায় পাবো?
অনলাইনে dss.bhata.gov.bd থেকে আবেদন করা যায়; অফলাইন ফরম উপজেলা সমাজসেবা অফিস বা ইউনিয়ন পরিষদে পাওয়া যায়।
আবেদন করার পর কতদিনে ভাতা পাবো?
বাছাই কমিটির যাচাই ও চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের পর ভাতা চালু হয় — এতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে। আবেদন ট্র্যাকিং দিয়ে অবস্থা জানা যায়।
NID না থাকলে কি আবেদন করা যাবে?
জন্ম নিবন্ধন নম্বর দিয়েও আবেদন করা যায়, তবে NID থাকলে যাচাই দ্রুত হয়। NID না থাকলে আগে NID করে নেওয়াই ভালো।
ভাতার টাকা কি নগদে তোলা যায়?
ভাতার টাকা ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল ব্যাংকিং হিসাবে আসে — সেখান থেকে এজেন্ট পয়েন্ট বা এটিএম থেকে তোলা যায়।
এক পরিবারের দুজন কি ভাতা পেতে পারেন?
যোগ্যতা পূরণ করলে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই আলাদাভাবে আবেদন করে ভাতা পেতে পারেন।
বয়স্ক ভাতা কি প্রতি বছর নবায়ন করতে হয়?
আলাদা করে নবায়নের দরকার হয় না, তবে উপকারভোগীর তথ্য (বেঁচে থাকা, ঠিকানা) নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়। মৃত্যু হলে ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।
গুরুত্বপূর্ণ লিংক ও যোগাযোগ
অনলাইন আবেদন ও ট্র্যাকিং: dss.bhata.gov.bd
সমাজসেবা অধিদপ্তর: dss.gov.bd
উপজেলা সমাজসেবা অফিস: আপনার উপজেলার সমাজসেবা কর্মকর্তার কার্যালয়
ইউনিয়ন পরিষদ: সংশ্লিষ্ট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান/সচিব
কোনো সমস্যা হলে সরাসরি উপজেলা সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করুন — তারাই আবেদন যাচাই ও তালিকাভুক্তির দায়িত্বে থাকে।
শেষ কথা
বয়স্ক ভাতা দরিদ্র প্রবীণ নাগরিকদের জন্য সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। যোগ্যতা থাকলে dss.bhata.gov.bd থেকে অনলাইনে আবেদন করুন, সঠিক কাগজপত্র দিন এবং ট্র্যাকিং নম্বর সংরক্ষণ করুন। ভাতার পরিমাণ বা নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে, তাই আবেদনের আগে সমাজসেবা অধিদপ্তরের সর্বশেষ নোটিশ দেখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
৪
৭ মন্তব্য